Madhyamik Question Papers

মাধ্যমিক ২০২৬ ইতিহাস প্রশ্নপত্রের সমস্ত উত্তর

History
Madhyamik 2026 History Answer

আপনি কি মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রশ্নের নির্ভুল সমাধান খুঁজছেন? তাহলে ঠিক জায়গাতেই এসেছেন। এই Article-এ আমরা দিচ্ছি ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ইতিহাস প্রশ্নপত্রের সম্পূর্ণ সঠিক উত্তর—সহজ ভাষায় ও গোছানোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

নিচে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রের প্রতিটি উত্তরের পরিষ্কার ও ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা দেওয়া আছে, যাতে পড়তে ও বুঝতে সুবিধা হয়। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য আগের বছরের প্রশ্ন ও উত্তর অনুশীলনের সেরা উপায়—এগুলো থেকেই প্রশ্নের ধরন ও উত্তর লেখার পদ্ধতি পরিষ্কার হয়।

MadhyamikQuestionPapers.com ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সব মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও নির্ভুল উত্তর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শেয়ার করে আসছে—তোমার প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করতে।

Download 2017 to 2024 All Subject’s Madhyamik Question Papers

View All Answers of Last Year Madhyamik Question Papers

যদি দ্রুত প্রশ্ন ও তার উত্তর খুঁজতে চান, তাহলে নিচের Table of Contents এর পাশে থাকা [!!!] এই চিহ্নটিতে ক্লিক করুন। এই পেজে থাকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর Table of Contents এ ক্রমানুসারে দেওয়া আছে। যে প্রশ্নের ওপর ক্লিক করবেন, সরাসরি তার উত্তরে চলে যেতে পারবেন।

Table of Contents

বিভাগ ‘ক’

১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো: ১ × ২০ = ২০

১.১ “লেটারর্স ফ্রম এ ফাদার টু হিজ ডটার” – গ্রন্থে মোট চিঠির সংখ্যা কটি?

(ক) ২০টি
(খ) ২৫টি
(গ) ৩০টি
(ঘ) ৫০টি

উত্তর: (গ) ৩০টি

১.২ ‘জীবন স্মৃতি’ গ্রন্থটি লিখেছেন –

(ক) বিপিনচন্দ্র পাল
(খ) সরলাদেবী চৌধুরানী
(গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর: (ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১.৩ রামমোহন রায় ‘ব্রহ্মসভা’ প্রতিষ্ঠা করেন –

(ক) ১৮১৫ খ্রিঃ
(খ) ১৮২০ খ্রিঃ
(গ) ১৮২৩ খ্রিঃ
(ঘ) ১৮২৮ খ্রিঃ

উত্তর: (ঘ) ১৮২৮ খ্রিঃ

১.৪ ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন –

(ক) শিবনাথ শাস্ত্রী
(খ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) উমেশচন্দ্র দত্ত
(ঘ) দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ

উত্তর: (গ) উমেশচন্দ্র দত্ত

১.৫ কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় –

(ক) ১৮২৫ খ্রিঃ
(খ) ১৮৩০ খ্রিঃ
(গ) ১৮৩৫ খ্রিঃ
(ঘ) ১৮৪০ খ্রিঃ

উত্তর: (গ) ১৮৩৫ খ্রিঃ

১.৬ ভারতে প্রথম উপনিবেশিক অরণ্য আইন প্রণীত –

(ক) ১৮৬৫ খ্রিঃ
(খ) ১৮৭০ খ্রিঃ
(গ) ১৮৭৮ খ্রিঃ
(ঘ) ১৮৮০ খ্রিঃ

উত্তর: (ক) ১৮৬৫ খ্রিঃ

১.৭ গয়ামুণ্ডা অন্যতম নেতা ছিলেন –

(ক) কোল বিদ্রোহের (১৮৩১-‘৩২)
(খ) সাঁওতাল বিদ্রোহের (১৮৫৫-‘৫৬)
(গ) মুণ্ডা বিদ্রোহের (১৮৯৯-১৯০০)
(ঘ) চুয়াড় বিদ্রোহের (১৯৯৮-‘৯৯)

উত্তর: (গ) মুণ্ডা বিদ্রোহের (১৮৯৯-১৯০০)

১.৮ উনিশ শতককে ‘সভা সমিতির যুগ’ বলেছেন –

(ক) ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার
(খ) ডিরোজিও
(গ) ডঃ সুরেন্দ্রনাথ সেন
(ঘ) ডঃ অনিল শীল

উত্তর: (ঘ) ডঃ অনিল শীল

১.৯ ‘বন্দেমাতরম’ সংগীতটি রচিত হয় –

(ক) ১৮৭০ খ্রিঃ
(খ) ১৮৭২ খ্রিঃ
(গ) ১৮৭৫ খ্রিঃ
(ঘ) ১৮৭৬ খ্রিঃ

উত্তর: (গ) ১৮৭৫ খ্রিঃ

১.১০ ‘ভারত সভা’ প্রতিষ্ঠিত হয় –

(ক) ১৮৬৭ খ্রিঃ
(খ) ১৮৭২ খ্রিঃ
(গ) ১৮৭৫ খ্রিঃ
(ঘ) ১৮৭৬ খ্রিঃ

উত্তর: (ক) ১৮৬৭ খ্রিঃ

১.১১ ‘বসুবিজ্ঞান মন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেন –

(ক) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
(খ) রাসবিহারী বসু
(গ) জগদীশচন্দ্র বসু
(ঘ) কাদম্বিনী বসু

উত্তর: (গ) জগদীশচন্দ্র বসু

১.১২ ভারতে ‘হাফটোন প্রিন্টিং’ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন –

(ক) পঞ্চানন কর্মকার
(খ) উপেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরী
(গ) চার্লস উইলকিন্স
(ঘ) সুকুমার রায়

উত্তর: (খ) উপেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরী

১.১৩ নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস-এর প্রথম সভাপতি ছিলেন –

(ক) মতিলাল নেহরু
(খ) তেজবাহাদুর সাপ্রু
(গ) বল্লভভাই প্যাটেল
(ঘ) লালা লাজপত রায়

উত্তর: (ঘ) লালা লাজপত রায়

১.১৪ বারদৌলি সত্যাগ্রহ আন্দোলন হয়েছিল –

(ক) মাদ্রাজে
(খ) মালাবার উপকূলে
(গ) পঞ্জাবে
(ঘ) গুজরাটে

উত্তর: (ঘ) গুজরাটে

১.১৫ ‘দেশপ্রাণ’ নামে পরিচিত ছিলেন –

(ক) যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত
(খ) রাসবিহারী বসু
(গ) চিত্তরঞ্জন দাশ
(ঘ) বীরেন্দ্রনাথ শাসমল

উত্তর: (ঘ) বীরেন্দ্রনাথ শাসমল

১.১৬ দু’-কড়ি বালা দেবী যুক্ত ছিলেন –

(ক) ছাত্র আন্দোলনে
(খ) নারী আন্দোলনে
(গ) বিপ্লবী আন্দোলনে
(ঘ) ভারত ছাড়ো আন্দোলনে

উত্তর: (গ) বিপ্লবী আন্দোলনে

১.১৭ কনকলতা বড়ুয়া শহীদ হন।

(ক) অসহযোগ আন্দোলনে
(খ) আইন-অমান্য আন্দোলনে
(গ) বিপ্লবী আন্দোলনে
(ঘ) ভারত ছাড়ো আন্দোলনে

উত্তর: (ঘ) ভারত ছাড়ো আন্দোলনে

১.১৮ দলিতদের ‘হরিজন’ আখ্যা দিয়েছিলেন –

(ক) জ্যোতিবা ফুলে
(খ) নারায়ন গুরু
(গ) ডঃ আম্বেদকর
(ঘ) গান্ধিজি

উত্তর: (ঘ) গান্ধিজি

১.১৯ ভারতীয় সেনাবাহিনী গোয়া দখল করেন –

(ক) ১৯৪৮ খ্রিঃ
(খ) ১৯৫৪ খ্রিঃ
(গ) ১৯৬১ খ্রিঃ
(ঘ) ১৯৭১ খ্রিঃ

উত্তর: (গ) ১৯৬১ খ্রিঃ

১.২০ হরি সিংহ রাজা ছিলেন –

(ক) জয়পুর রাজ্যের
(খ) কাশ্মীর রাজ্যের
(গ) পাতিয়ালা রাজ্যের
(ঘ) জুনাগড় রাজ্যের

উত্তর: (খ) কাশ্মীর রাজ্যের

বিভাগ ‘খ’

২. যে কোনো ষোলোটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্ততঃ একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে): ১৬ × ১ = ১৬

উপবিভাগ: ২.১

একটি বাক্যে উত্তর দাও:

(২.১.১) ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক্ত কে ছিলেন?

উত্তর: ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

(২.১.২) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিষ্টাব্দে ব্রাহ্মসমাজে যোগদান করেন?

উত্তর: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে ব্রাহ্মসমাজে যোগদান করেন।

(২.১.৩) ‘মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা’ কবে শুরু হয়।

উত্তর: মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে।

(২.১.৪) ‘মতুয়া’ ধর্মমতের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর: ‘মতুয়া’ ধর্মমতের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর।

উপবিভাগ: ২.২

ঠিক না ভুল নির্ণয় করো:

(২.২.১) বিপিনচন্দ্র পালের জীবনী মূলক গ্রন্থের নাম সত্তর বৎসর’।

উত্তর: ঠিক 

(২.২.২) প্রথম ভারতীয় শব ব্যবচ্ছেদকারী হলেন মধুসুদন দত্ত।

উত্তর: ভুল

(২.২.৩) গনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একজন ব্যঙ্গ চিত্রশিল্পী।

উত্তর: ভুল

(২.২.৪) জাতীয় শিক্ষা-পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে।

উত্তর: ঠিক 

উপবিভাগ: ২.৩

‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও: ১ × ৪ = ৪

‘ক’ স্তম্ভ‘খ’ স্তম্ভ
(২.৩.১) বল্লভভাই প্যাটেল(১) হায়দ্রাবাদ
(২.৩.২) ডঃ বি. আর. আম্বেদকর(২) ছাত্র আন্দোলন
(২.৩.৩) রসিদ আলি(৩) দলিত আন্দোলন
(২.৩.৪) মেজর জেনারেল জয়ন্তনাথ চৌধুরী(৪) বারদৌলি আন্দোলন

উত্তর: 

‘ক’ স্তম্ভ‘খ’ স্তম্ভ
(২.৩.১) বল্লভভাই প্যাটেল(৪) বারদৌলি আন্দোলন 
(২.৩.২) ডঃ বি. আর. আম্বেদকর(৩) দলিত আন্দোলন 
(২.৩.৩) রসিদ আলি(২) ছাত্র আন্দোলন
(২.৩.৪) মেজর জেনারেল জয়ন্তনাথ চৌধুরী(১) হায়দ্রাবাদ

উপবিভাগ: ২.৪

প্রদত্ত ভারতবর্ষের রেখা মানচিত্র নিম্নলিখিত স্থানগুলি চিহ্নিত ও নামাঙ্কিত করো: ১ × ৪ = ৪

(২.৪.১) ওয়াহাবি আন্দোলনের কেন্দ্র – বারাসাত
(২.৪.২) কোলবিদ্রোহের কেন্দ্র – রাঁচি
(২.৪.৩) মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) অন্যতম কেন্দ্র – ঝাঁসি
(২.৪.৪) মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) অন্যতম কেন্দ্র – দিল্লি

উত্তর:

উপবিভাগ: ২.৫

নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলির সঙ্গে সঠিক ব্যাখ্যাটি নির্বাচন করো: ১ × ৪ = ৪

(২.৫.১) বিবৃতি : এদেশে পাশ্চ্যত্য শিক্ষা বিস্তারে স্যার চার্লস উডের শিক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনামাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাখ্যা ১ : তিনি ছিলেন কাউন্সিল অব এডুকেশনের সভাপতি।

ব্যাখ্যা ২ : তিনি ছিলেন কোম্পানির বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি।

ব্যাখ্যা ৩ : তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের শিক্ষামন্ত্রী।

উত্তর: ব্যাখ্যা ২ : তিনি ছিলেন কোম্পানির বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি।

(২.৫.২) বিবৃতি : ভারতের ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকার অরণ্য আইন প্রবর্তন করেছিলেন।

ব্যাখ্যা ১ : এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল অরণ্যবাসীদের মঙ্গল সাধন করা।

ব্যাখ্যা ২ : এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা।

ব্যাখ্যা ৩ : এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ চরিতার্থ করা।

উত্তর: ব্যাখ্যা ৩ : এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ চরিতার্থ করা।

( ২.৫.৩) বিবৃতি : আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন এদেশে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার অন্যতম পথিকৃত।

ব্যাখ্যা ১ : তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও কারিগরি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা।

ব্যাখ্যা ২ : তিনি ছিলেন বিজ্ঞান বিষয়ে নোবেল পুরষ্কারজয়ী প্রথম ভারতীয়।

ব্যাখ্যা ৩ : তিনি ছিলেন বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস্-এর প্রতিষ্ঠাতা।

উত্তর: ব্যাখ্যা ৩ : তিনি ছিলেন বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস্-এর প্রতিষ্ঠাতা।

(২.৫.৪) বিবৃতি : মোপলা বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয় ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে।

ব্যাখ্যা ১ : এটি ছিল শিল্প শ্রমিকের বিদ্রোহ।

ব্যাখ্যা ২ : এটি ছিল সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহ।

ব্যাখ্যা ৩ : এটি ছিল একটি উপজাতীয় বিদ্রোহ।

উত্তর: ব্যাখ্যা ২ : এটি ছিল সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহ।

বিভাগ: ‘গ’

৩. দু’টি অথবা তিনটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যে কোনো ১১টি): ২ × ১১ = ২২

৩.১ আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে সরকারী নথিপত্রের সীমাবদ্ধতাগুলি কী?

উত্তর: সরকারি নথিপত্র আধুনিক ভারতের ইতিহাসচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও এতে শাসকদের পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়।
এছাড়া সাধারণ মানুষের ভূমিকা ও বহু তথ্যের অপ্রাপ্যতা থাকার কারণে এসব নথির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

৩.২ ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর: ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই বছরে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়, যা জাতীয় আন্দোলনের একটি বড় সাফল্য ছিল।

এছাড়া একই বছরে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়, যা ব্রিটিশ শাসনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

৩.৩ এদেশে শিক্ষা বিস্তারে খ্রিষ্টান মিশনারীদের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: এদেশে শিক্ষা বিস্তারে খ্রিষ্টান মিশনারীদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল খ্রিষ্টধর্মের প্রচার ও প্রসার করা।

শিক্ষার মাধ্যমে তারা ভারতীয় সমাজকে ধর্মান্তরিত করা এবং পাশ্চাত্য ভাবধারা বিস্তারের চেষ্টা করেছিল।

৩.৪ “সর্বধর্ম সমন্বয়” বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: সর্বধর্ম সমন্বয়” বলতে বোঝায়—সব ধর্মের মূল সত্য ও মানবিক মূল্যবোধকে সমানভাবে সম্মান করা এবং তাদের মধ্যে সহাবস্থান ও ঐক্যের ভাব গড়ে তোলা।

৩.৫ “বিপ্লব” বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: বিপ্লব বলতে বোঝায় বিদ্যমান শাসনব্যবস্থাকে বিধিবহির্ভূত ও প্রায়শই সশস্ত্র উপায়ে উৎখাত করে নতুন শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

৩.৬ ফরাজি আন্দোলন ব্যর্থ হল কেন?

উত্তর: ফরাজী আন্দোলনের ব্যর্থতার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ছিল পরবর্তী পর্যায়ে সংগঠিত নেতৃত্বের অভাব ও আন্দোলনের লক্ষ্য স্পষ্ট না থাকা।

এছাড়া ব্রিটিশ সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতার অভাব এই আন্দোলনের ব্যর্থতাকে ত্বরান্বিত করে।

৩.৭ ‘হিন্দু মেলা’ প্রতিষ্ঠার দুটি উদ্দেশ্য লেখো।

উত্তর: হিন্দু মেলা প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন এবং ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করা।

৩.৮ জাতীয়তাবাদের উন্মেষে ‘আনন্দ মঠ’ উপন্যাসটির কীরূপ ভূমিকা ছিল?

উত্তর: আনন্দ মঠ’ উপন্যাসটি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
এই উপন্যাসে দেশমাতৃকার বন্দনা ও আত্মত্যাগের আদর্শ তুলে ধরা হয়েছে, যা ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করে।
১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দের উত্তরবঙ্গের ফকির–সন্ন্যাসী আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসের ‘বন্দেমাতরম’ সংগীত জাতীয় চেতনা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

৩.৯ পঞ্চানন কর্মকার কে ছিলেন?

উত্তর: পঞ্চানন কর্মকার ছিলেন একজন বাঙালি উদ্ভাবক ও মুদ্রণশিল্পী।

তিনি চার্লস উইলকিন্সকে প্রথম বাংলা ছাপার অক্ষর (বাংলা টাইপ) তৈরিতে সহায়তা করেন।

৩.১০ বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভারতীয় যুবকদের মধ্যে কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক শিক্ষা প্রসারের জন্য, যাতে তারা স্বদেশি শিল্প ও আত্মনির্ভরতা গড়ে তুলতে পারে।

৩.১১ স্বদেশি আন্দোলনে বাংলার কৃষকরা কেন যোগ দেয়নি?

উত্তর: স্বদেশি আন্দোলনে বাংলার কৃষকরা যোগ দেয়নি, কারণ এতে খাজনা হ্রাস বা ভূমিস্বত্ব রক্ষার মতো কোনো কৃষিভিত্তিক কর্মসূচি ছিল না।

এছাড়া আন্দোলনটি ছিল মূলত শহরকেন্দ্রিক ও উচ্চবিত্ত নেতৃত্বাধীন, ফলে কৃষকদের জীবনসমস্যার সঙ্গে এর সরাসরি যোগ তৈরি হয়নি।

৩.১২ ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি কেন গঠিত হয়?

উত্তর: ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি গঠিত হয়েছিল শ্রমিক ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য।

এছাড়া শ্রমিক–কৃষকদের সংগঠিত করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

৩.১৩ ‘কার্লাইল সার্কুলার’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: কার্লাইল সার্কুলার’ বলতে বোঝায়—১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১০ই অক্টোবর বাংলার সরকারের মুখ্যসচিব আর. ডব্লিউ. কার্লাইল কর্তৃক জারি করা একটি নির্দেশনামা।

এর মাধ্যমে স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুমকি দেওয়া হয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির অনুদান ও স্বীকৃতি বাতিলের কথা বলা হয়।

৩.১৪ ‘দলিত’ কাদের বলা হয়?

উত্তর: দলিত’ বলতে সমাজের সেই সব মানুষকে বোঝায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে জাতিভিত্তিক বৈষম্য, অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বঞ্চনার শিকার হয়েছে।

৩.১৫ ‘ভারতভুক্তির দলিল’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ‘ভারতভুক্তির দলিল’ বলতে বোঝায় সেই আইনগত নথি, যার মাধ্যমে কোনো দেশীয় রাজ্য ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্মতি জানায় এবং তার প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগের ক্ষমতা ভারতের হাতে ন্যস্ত করে।

৩.১৬ ‘রাজ্যপুনর্গঠন কমিশন’ (১৯৫৩) কেন গঠিত হয়?

উত্তর: ‘রাজ্যপুনর্গঠন কমিশন’ (১৯৫৩) গঠিত হয়েছিল ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সীমা পুনর্নির্ধারণ ও ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখার জন্য।

বিভাগ: ‘ঘ’

৪. সাত বা আটটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও। (প্রতিটি উপ-বিভাগ থেকে অন্ততঃ ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে): ৪ × ৬ = ২৪

উপবিভাগ: ঘ.১

৪.১ উনিশ শতকে নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর সমাজ সংস্কার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল কেন?

উত্তর: উনিশ শতকে নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর সমাজসংস্কার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল নানা কারণে।

প্রথমত, এই গোষ্ঠীটি ছিল মূলত ইংরেজি শিক্ষিত শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ, ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি।

দ্বিতীয়ত, তারা পাশ্চাত্য ভাবধারাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করায় ভারতীয় সমাজ ও ধর্মীয় অনুভূতিকে অনেক সময় অবজ্ঞা করেছিল।

তৃতীয়ত, তাদের সংস্কারমূলক ধারণাগুলি ছিল হঠাৎ ও চরমপন্থী, যা সমাজ সহজে গ্রহণ করতে পারেনি।

চতুর্থত, নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর কোনো সংগঠিত আন্দোলন বা সুস্পষ্ট কর্মসূচি ছিল না।

পঞ্চমত, গ্রামবাংলায় তাদের প্রভাব খুবই সীমিত ছিল।

এছাড়া সমাজের রক্ষণশীল শক্তির বিরোধিতা এবং সাধারণ মানুষের সমর্থনের অভাবের কারণেও তাদের সংস্কার প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

৪.২ উনিশ শতকের নবজাগরণকে ‘সীমাবদ্ধ নবজাগরণ’ বলা হয় কেন?

উত্তর: পাশ্চাত্য সভ্যতা ও সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে উনিশ শতকের বাংলায় যে যুক্তিবাদী ও মানবতাবাদী চিন্তার জাগরণ দেখা দেয়, তাকে অনেক ঐতিহাসিক বাংলার নবজাগরণ বলে অভিহিত করেছেন। তবে এই নবজাগরণের ব্যপ্তি ও প্রভাব ছিল অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। ঐতিহাসিক ব্রমফিল্ডের মতে, এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন মূলত শহর কলকাতাকেন্দ্রিক মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক শ্রেণীর মানুষ। গ্রামবাংলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠী, মুসলমান সমাজ ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ওপর এর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।

ড. অশোক মিত্র একে ‘তথাকথিত নবজাগরণ’ বলে অভিহিত করেন এবং বিনয় ঘোষ একে ‘অতিকথা’ ও ‘ঐতিহাসিক প্রতারণা’ বলে উল্লেখ করেছেন। ড. অনিল শীল এই আন্দোলনকে ‘এলিটিস্ট আন্দোলন’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। নবজাগরণের নেতৃবৃন্দ ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অনুগত ছিলেন এবং কৃষক আন্দোলনের প্রতি উদাসীন ছিলেন। তবুও, এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলার নবজাগরণের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। এর ফলে সমাজ, ধর্ম, শিক্ষা, সাহিত্য ও রাজনীতিতে গভীর পরিবর্তন আসে এবং নবভারতের আবির্ভাব ত্বরান্বিত হয়।

উপবিভাগ: ঘ.২

৪.৩ উনিশ শতককে ‘সভা সমিতির যুগ’ বলা হয় কেন?

উত্তর: উনিশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে বাংলা ও ভারতের সমাজজীবনে নতুন রাজনৈতিক সচেতনতা দেখা দেয়। এই পরিবর্তনের ফলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও সভার জন্ম হয়, যা সমকালীন সমাজে মত প্রকাশের নতুন পথ খুলে দেয়। ইতিহাসবিদ অনিল শীল এই সময়কালকে সংগঠনকেন্দ্রিক রাজনীতির যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই পর্বে বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা, জমিদার সভা, ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন, হিন্দুমেলা, ইন্ডিয়ান লিগ ও ভারতসভা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। প্রথমে বাংলায় এই ধারা শুরু হলেও পরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে তা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এসব সংগঠন মূলত উচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত শ্রেণির নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল, তবুও এগুলি আঞ্চলিক ও সামাজিক দাবিদাওয়া তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে। সরকারের অন্যায় নীতির বিরোধিতা, জাতীয় চেতনার বিকাশ এবং রাজনৈতিক ঐক্য গঠনে এসব সভাসমিতির ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত এই ধারার পরিণতিতেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়, যদিও অনেকের মতে এগুলির গণতান্ত্রিক চরিত্র ছিল সীমাবদ্ধ।

৪.৪ বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভাকে প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলা হয় কেন?

উত্তর: যোগেশচন্দ্র বাগল বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভাকে ভারতের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেন তার কার্যধারা ও উদ্দেশ্যের কারণে। উনিশ শতকের তৃতীয় দশকে পাশ্চাত্য শিক্ষানীতির প্রভাবে যখন ইংরেজি ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তখন দেশীয় ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার প্রশ্নে বাঙালি সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতেই ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভার আত্মপ্রকাশ ঘটে। সভাটির মূল লক্ষ্য ছিল ভারতবাসীর ভাষাগত ও সামাজিক স্বার্থ রক্ষা করা এবং ব্রিটিশ শাসনের বিভিন্ন নীতির যৌক্তিক সমালোচনা করা। এখানে ধর্মীয় বিতর্কের পরিবর্তে প্রশাসনিক ও জনস্বার্থমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলত, যা একে সমসাময়িক অন্যান্য সংগঠন থেকে আলাদা করে তোলে। এমনকি সরকারের অন্যায় করনীতি ও ভূমি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও সভা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানায়। এই সব রাজনৈতিক চেতনা ও সক্রিয়তার জন্যই বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত।

উপবিভাগ: ঘ.৩

৪.৫ শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে ছাপা বই এর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: আঠারো শতকের শেষ দিক থেকে উনিশ শতকে শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে ছাপাখানার ছাপা বইয়ের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

ছাপাখানার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় পাঠ্যবই প্রকাশিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের সুযোগ পায় এবং শিক্ষার প্রসার ঘটে।

‘পীয়ারসনের বাক্যাবলী’, ‘বেঙ্গলী স্পেলিং বুক’, ‘গণিতঙ্ক’ প্রভৃতি গ্রন্থ শিক্ষাবিস্তারে সহায়ক হয়।

ছাপা বইয়ের ফলে শিশু শিক্ষারও অগ্রগতি ঘটে—বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ ও মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ‘শিশুশিক্ষা’ এর উদাহরণ।

এছাড়া কৃত্তিবাসী রামায়ণ, কাশীদাসী মহাভারত ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের মাধ্যমে গণশিক্ষার প্রসার ঘটে।

ছাপাখানার ফলে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে দেশীয় ভাষায় পাঠ্যপুস্তক রচনা ও বিতরণ সহজ হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও শ্রীরামপুর মিশনের মতো প্রতিষ্ঠান এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

সুতরাং বলা যায়, ছাপা বই শিক্ষাবিস্তারে গতি এনে আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি গড়ে তোলে।

৪.৬ বাংলা মুদ্রন শিল্পে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: ভূমিকা: বাংলায় ছাপাখানা ও তার বিকাশে মুদ্রাকর উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর (১৮৬৩-১৯১৫ খ্রি.) নেতৃত্বে এসেছিল এক বিপ্লব।

ছাপাখানার উন্নতি: উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী একজন শিশুসাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশনা ও ছাপাখানার প্রাথমিক জ্ঞান তার ছিল। তিনি যেভাবে ছাপাখানার উন্নতিসাধন করেন তা হল-

নিজস্ব ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা: তিনি নিজে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীকালে ‘ইউ এন রায় অ্যান্ড সন্স'(১৮৯৫ খ্রি.) নামে পরিচিত হয়।

হাফ-টোন ব্লকের প্রবর্তন: ‘এনগ্রেভিং’ পদ্ধতিতে মুদ্রণ ব্যবস্থার যে সীমাবদ্ধতাগুলি ছিল তিনি তা দূর করেন। এর পাশাপাশি তিনি রঙিন ও হাফ-টোন ব্লকের প্রবর্তন করে ভারতের তথা বিশ্বের মুদ্রণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে উন্নতিসাধন করেন।

নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন: তিনি সম্পূর্ণ দেশীয় উপাদানে গবেষণা করে রঙিন মুদ্রণের নানাপ্রকার ডায়াফর্ম যন্ত্র, স্ক্রিন অ্যাডজাস্টার যন্ত্র, ডুয়োটাইপ ও টিন্ট প্রসেস পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। উপেন্দ্রকিশোর উদ্ভাবিত স্ক্রিন অ্যাডজাস্টার যন্ত্রের নাম হয় ‘রে-স্ক্রিন অ্যাডজাস্টার’ এবং টিন্ট প্রসেস -এর নাম হয় ‘রে-টিন্ট সিস্টেম’।

পথপ্রদর্শক: উপেন্দ্রকিশোরের পরিকল্পনা অনুসরণ করে ব্রিটেনে বাণিজ্যিকভাবে ‘স্ক্রিন অ্যাডজাস্টিং মেশিন’ তৈরি করা হয়।

উপসংহার: এভাবে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত ইউ এন রায় অ্যান্ড সন্স’ ছাপাখানা ভারত ও বিশ্বে বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী হয়ে ওঠে

উপবিভাগ: ঘ.৪

৪.৭ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে বাংলার ছাত্র সমাজের কীরূপ ভূমিকা ছিল?

উত্তর: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকারের লর্ড কার্জনের নেতৃত্বে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ‘বঙ্গভঙ্গ’ নামে পরিচিত। এই বিভাজনের উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু-মুসলিম ঐক্য দুর্বল করা এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ রোধ করা। কিন্তু বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠে, যা ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। এই আন্দোলনে ছাত্রসমাজ এক মুখ্য ভূমিকা পালন করে এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী চেতনার উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা:

১. স্বরাজ ও স্বদেশি আন্দোলনে অংশগ্রহণ:

  • বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ‘স্বদেশি ও বয়কট’ আন্দোলন শুরু হয়, যার নেতৃত্বে ছাত্রসমাজ এক অগ্রণী ভূমিকা নেয়।
  • তারা ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করে দেশীয় দ্রব্যের প্রচার চালায় এবং জনসাধারণকে স্বদেশি পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করে।

২. ব্রিটিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্জন ও জাতীয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা:

  • ছাত্ররা ব্রিটিশ সরকার পরিচালিত স্কুল-কলেজ বর্জন করে জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন গড়ে তোলে।
  • সত্যেন্দ্রনাথ বসু, আশুতোষ চৌধুরী ও রাজেন্দ্রনাথ লাহিড়ীর মতো ছাত্রনেতারা জাতীয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
  • ১৯০৬ সালে ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ গঠিত হয় এবং পরবর্তীকালে জাতীয় কলেজ, বঙ্গীয় জাতীয় বিদ্যালয়, কলকাতা জাতীয় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

৩. বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন:

  • ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল, সভা ও পিকেটিং (ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ঘেরাও) কর্মসূচি পালন করে।
  • তারা শহর ও গ্রামে গিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করে।

৪. বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ:

  • অনেক ছাত্র সশস্ত্র বিপ্লবী দলে যোগ দেয় এবং ব্রিটিশ সরকারকে দুর্বল করার জন্য বোমা বিস্ফোরণ, গুপ্তহত্যা ও অস্ত্র সংগ্রহে অংশ নেয়।
  • যুগান্তর ও অনুশীলন সমিতি নামে বিপ্লবী সংগঠন গড়ে ওঠে, যার নেতৃত্বে ছিলেন অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্র ঘোষ, রাসবিহারী বসু, ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী প্রমুখ।
  • ১৯০৮ সালে ক্ষুদিরাম বসু মুজাফফরপুরে ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার প্রচেষ্টা চালান, যা ছাত্র বিপ্লবীদের অন্যতম প্রধান ঘটনা।

৫. বয়কট আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ:

  • ছাত্ররা ব্রিটিশ তৈরি কাপড়, চিনি, নুন, বিদেশি পণ্য ব্যবহার বন্ধ করে এবং স্বদেশি শিল্পের বিকাশে অনুপ্রেরণা দেয়।
  • তারা বিভিন্ন মেলায় গিয়ে স্বদেশি দ্রব্যের প্রচার চালাত এবং লোকেদের বিদেশি পণ্য ব্যবহার না করার আহ্বান জানাত।

৬. ব্রিটিশ প্রশাসনের দমন ও ছাত্রদের আত্মত্যাগ:

  • ছাত্রদের আন্দোলন দমন করতে ব্রিটিশ সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়।
  • বহু ছাত্র গ্রেফতার, বহিষ্কার ও অত্যাচারের শিকার হয়।
  • বিপ্লবী ছাত্ররা ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে নিহত হন বা ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে বাধ্য হন।

ছাত্রসমাজ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে কেবল সক্রিয়ভাবেই অংশ নেয়নি, বরং জাতীয়তাবাদের বীজ রোপণ করেছিল। তাদের ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলে এই আন্দোলন এত ব্যাপকতা লাভ করে যে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ছাত্রসমাজ পরবর্তী জাতীয় আন্দোলনগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তুত হয় এবং ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রগামী শক্তিতে পরিণত হয়।

৪.৮ দলিত আন্দোলনে ডঃ আম্বেদকরের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: ড. বি. আর. আম্বেদকর (১৮৯১–১৯৫৬) মহারাষ্ট্রের মাহার সম্প্রদায়ের এক অস্পৃশ্য পরিবারে জন্ম নিয়ে ভারতীয় দলিত আন্দোলনের দিশা আমূল বদলে দেন। ব্যক্তিগত জীবনে বৈষম্য, অপমান ও বঞ্চনার তীব্র অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দলিতদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯২০-এর দশক থেকে মাহার সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে তিনি সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং দলিতদের জলাশয় ও মন্দিরে প্রবেশাধিকার, প্রশাসনিক ক্ষমতায় অংশগ্রহণের মতো দাবিকে সামনে আনেন। ১৯২৭ সালে মনুস্মৃতি দাহের মাধ্যমে হিন্দু সমাজের অনাচারের প্রতিবাদ জানান। ১৯৩১ সালে ভোটাধিকার প্রশ্নে গান্ধিজির সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তীব্র হয় এবং পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর প্রসঙ্গ ওঠে। ১৯৩২ সালে পুনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তিনি সন্তুষ্ট হননি। ফলে তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট লেবার পার্টি ও পরে ১৯৪২ সালে সর্বভারতীয় তপশিলি ফেডারেশন গঠন করেন। স্বাধীনতার পর সংবিধান প্রণেতা হিসেবে দলিতদের অধিকার সুরক্ষিত করেন এবং ১৯৫১ সালে ভারতের প্রথম আইনমন্ত্রী হন।

বিভাগ: ‘ঙ’

৫. পনেরো-ষোলোটি বাক্যে যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ১ × ৮ = ৮

৫.১ মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) চরিত্র বিশ্লেষণ করো। ৮

উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের চরিত্র –

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত ভারতীয় বিদ্রোহটি ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও এর প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে আজও ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। ঘটনার দেড়শো বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এই বিদ্রোহকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে—সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ বিদ্যমান। ফলে ইতিহাসচর্চায় এই বিদ্রোহ নানা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্লেষিত হয়েছে। একদল ঐতিহাসিক এই আন্দোলনকে কেবলমাত্র একটি সামরিক বিদ্রোহ হিসেবেই দেখেছেন। তাঁদের মতে, সেনাবাহিনীতে কর্মরত ভারতীয় সিপাহিদের অসন্তোষই ছিল বিদ্রোহের মূল কারণ। সাধারণ মানুষের ভূমিকা ছিল সীমিত এবং আন্দোলনের পেছনে কোনো সর্বভারতীয় লক্ষ্য বা সুসংগঠিত পরিকল্পনা ছিল না। বিদ্রোহীরা বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছিল এবং নেতৃত্বের মধ্যেও ঐক্যের অভাব ছিল। উপরন্তু বহু দেশীয় রাজা, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং কিছু যোদ্ধা জাতিগোষ্ঠী ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ অবলম্বন করেছিল। এই যুক্তির ভিত্তিতেই চার্লস রেকস, জন লরেন্স, দাদাভাই নৌরজি প্রমুখ ঐতিহাসিক এই বিদ্রোহকে ‘সিপাহি বিদ্রোহ’-এর বেশি কিছু মানতে চাননি।

অন্যদিকে কিছু চিন্তাবিদ এই আন্দোলনকে বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের মতে, যদিও বিদ্রোহের সূচনা সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে হয়েছিল, কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ জনগণ ব্যাপকভাবে এতে যুক্ত হয়। হিন্দু-মুসলিম ঐক্য, বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিসর এবং বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশ সরকারের সর্বাত্মক সামরিক উদ্যোগ প্রমাণ করে যে এটি নিছক সেনা অসন্তোষ ছিল না। কার্ল মার্কসের মতে, ইউরোপীয়রা যাকে সামরিক বিদ্রোহ বলে মনে করেছিল, বাস্তবে তা ছিল একটি জাতীয় প্রতিরোধ আন্দোলন।

এ ছাড়াও বিপ্লবী নেতা বিনায়ক দামোদর সাভারকার ১৮৫৭ সালের ঘটনাকে ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, এই বিদ্রোহের মধ্য দিয়েই প্রথমবারের মতো ভারতের নানা শ্রেণি ও সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেমেছিল। তাই তিনি একে ‘স্বাধীনতার প্রথম সংগ্রাম’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে মার্কসবাদী ঐতিহাসিকদের একাংশ এই বিদ্রোহকে সামন্তশ্রেণির প্রতিক্রিয়াশীল আন্দোলন বলে মনে করেন। তাঁদের যুক্তি অনুযায়ী, ইংরেজ শাসনে ক্ষমতা ও প্রভাব হারানো রাজা ও সামন্তপ্রভুরাই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁরা ব্রিটিশ প্রশাসন ও পাশ্চাত্য প্রভাবের বিরুদ্ধে পুরনো ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। ড. আর. সি. মজুমদারের মতে, এই আন্দোলন ছিল মূলত অবক্ষয়মান সামন্ততন্ত্রের শেষ প্রচেষ্টা।

সবশেষে বলা যায়, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ কোনো একক আদর্শ বা নির্দিষ্ট পরিকল্পনার দ্বারা পরিচালিত হয়নি। এর মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি, স্বার্থ ও মতাদর্শের সংমিশ্রণ ঘটেছিল। তাই ঐতিহাসিক সি. এ. বেইলির বক্তব্য যথার্থ—১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ একটি একক আন্দোলন নয়, বরং বহু আন্দোলনের সমষ্টি।

৫.২ এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ডেভিড হেয়ার এবং ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের ভূমিকা আলোচনা করো। ৫ + ৩ = ৮

উত্তর: এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ডেভিড হেয়ারের ভূমিকা— 

ডেভিড হেয়ার ছিলেন এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম প্রধান অগ্রদূত ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তি। তিনি বিশ্বাস করতেন যে আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ভারতীয় সমাজের কুসংস্কার দূর হবে এবং বৌদ্ধিক ও সামাজিক অগ্রগতি সম্ভব হবে।

১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা পরবর্তীকালে বাংলার নবজাগরণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এই কলেজ থেকে বহু বিশিষ্ট মনীষী ও সমাজসংস্কারক তৈরি হন।

১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে ডেভিড হেয়ার ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি এবং ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন, যার মাধ্যমে ইংরেজি ভাষা, বিজ্ঞান ও আধুনিক বিষয়ের পাঠ্যবই রচনা ও বিতরণ সহজ হয়।

তিনি দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রদের শিক্ষার জন্য আর্থিক সাহায্য করতেন এবং বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে উৎসাহ দিতেন।

ডেভিড হেয়ারের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলায় পাশ্চাত্য যুক্তিবাদ, বিজ্ঞানমনস্কতা ও আধুনিক শিক্ষার শক্ত ভিত গড়ে ওঠে, যা উনিশ শতকের সমাজসংস্কার আন্দোলনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের ভূমিকা— 

ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন ছিলেন এদেশে নারীশিক্ষার পথিকৃৎ। তিনি মনে করতেন, সমাজের প্রকৃত উন্নতির জন্য নারীশিক্ষা অপরিহার্য।

এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীকালে বেথুন কলেজে উন্নীত হয়।

তার উদ্যোগে মেয়েদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসার লাভ করে এবং নারীশিক্ষা ভারতীয় সমাজে ধীরে ধীরে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে বলা যায়, ডেভিড হেয়ার ও ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন—এই দুই মনীষীর প্রচেষ্টায় এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তার ঘটে। ডেভিড হেয়ার আধুনিক শিক্ষার ভিত গড়ে তুললে, বেথুন নারীশিক্ষার মাধ্যমে সেই শিক্ষাকে সম্পূর্ণতা দেন।

৫.৩ উনিশ শতকে কৃষক আন্দোলনে বাবা রামচন্দ্রের ভূমিকা কীরূপ ছিল? একা আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। ৩ + ৫

উত্তর: উনিশ শতকে কৃষক আন্দোলনে বাবা রামচন্দ্রের ভূমিকা

কৃষক আন্দোলনে বাবা রামচন্দ্র একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন।
তিনি অযোধ্যা অঞ্চলে কৃষকদের সংগঠিত করে জমিদারদের শোষণ, বেআইনি খাজনা ও বেগারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলেন।
ধর্মীয় ভাষা ও নৈতিক আদর্শের মাধ্যমে তিনি কৃষকদের মধ্যে ঐক্য ও সচেতনতা সৃষ্টি করেন।

একা আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

একা আন্দোলন উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা অঞ্চলে কৃষকদের দ্বারা সংগঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষক আন্দোলন।
এই আন্দোলনে কৃষকরা পবিত্র গ্রন্থ স্পর্শ করে শপথ নিত যে তারা অন্যায় খাজনা দেবে না এবং জমিদারদের শোষণ মেনে নেবে না।
বাবা রামচন্দ্র এই আন্দোলনের প্রধান সংগঠক ছিলেন।
আন্দোলনটি ছিল মূলত অহিংস ও নৈতিক আদর্শভিত্তিক।
একটি বৃহৎ অঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে একা আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


MadhyamikQuestionPapers.com এ আপনি আরও বিভিন্ন বছরের প্রশ্নপত্রের উত্তরও পেয়ে যাবেন। আপনার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কেমন লাগলো, তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আরও পড়ার জন্য, জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য MadhyamikQuestionPapers.com এর সাথেই থাকুন।

Tag Post :
Share This :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *