Madhyamik Question Papers

MadhyamikQuestionPapers Website Logo

মাধ্যমিক ২০১৯ বাংলা প্রশ্নপত্রের সমস্ত উত্তর

Bengali
Madhyamik 2019 Bengali Answer

আপনি কি মাধ্যমিকের বাংলা প্রশ্নপত্রের উত্তর খুঁজছেন? এই আর্টিকেলে আপনি ২০১৯ সালের মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নপত্রের সঠিক উত্তরগুলো পাবেন।

নিচে ২০১৯ সালের প্রশ্নপত্রের প্রতিটি উত্তর সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন ও উত্তরপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

MadhyamikQuestionPapers.com ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সব মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর বিনামূল্যে আপলোড করে আসছে।

Download 2017 to 2024 All Subject’s Madhyamik Question Papers

View All Answers of Last Year Madhyamik Question Papers

যদি দ্রুত প্রশ্ন ও উত্তর খুঁজতে চান, তাহলে নিচের Table of Contents এর পাশে থাকা [!!!] চিহ্নে ক্লিক করুন। এই পেজে থাকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর Table of Contents-এ ধারাবাহিকভাবে সাজানো আছে। যে প্রশ্নে ক্লিক করবেন, সরাসরি তার উত্তরে পৌঁছে যাবেন।

Table of Contents

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:

১.১ তপনের মেসোমশাই কোন্ পত্রিকায় তপনের লেখা ছাপানোর কথা বলেছিলেন?-

(ক) ধ্রুবতারা
(খ) শুকতারা
(গ) সন্ধ্যাতারা
(ঘ) রংমশাল

সঠিক উত্তর: (গ) সন্ধ্যাতারা

১.২ নদেরচাঁদকে পিষিয়া দিয়া চলিয়া গেল-

(ক) ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার
(খ) ৫ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার
(গ) ৭ নং আপ প্যাসেঞ্জার
(ঘ) ৫ নং আপ প্যাসেঞ্জার

সঠিক উত্তর: (ক) ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার

১.৩ অপূর্বর পিতার বন্ধু হলেন

(ক) জগদীশবাবু
(খ) রামদাস
(গ) নিমাইবাবু
(ঘ) গিরীশ মহাপাত্র

সঠিক উত্তর: (গ)নিমাইবাবু

১.৪ “যেখানে ছিল শহর/সেখানে ছড়িয়ে রইল” কী ছড়িয়ে রইল?-

(ক) পায়ের দাগ
(খ) কাঠকয়লা
(গ) গোলাপি গাছ
(ঘ) প্রাচীন জলতরঙ্গ

সঠিক উত্তর: (খ) কাঠকয়লা

১.৫ “আদিম যুগে স্রষ্টার কার প্রতি অসন্তোষ ছিল?

(ক) দয়াময় দেবতার প্রতি
(খ) কবির সংগীতের প্রতি
(গ) নিজের প্রতি
(ঘ) ধরিত্রীর প্রতি

সঠিক উত্তর: (গ) নিজের প্রতি

১.৬ কোনটি জয় গোস্বামীর লেখা কাব্যগ্রন্থ?

(ক) ‘বাবরের প্রার্থনা’
(খ) ‘অগ্নিবীণা’
(গ) ‘রূপসী বাংলা’
(ঘ) ‘পাতার পোশাক’

সঠিক উত্তর: (ঘ) ‘পাতার পোশাক’

১.৭ রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম

(ক) বনফুল
(খ) শ্রীপাচ্ছ
(গ) পরশুরাম
(ঘ) রূপদর্শী

সঠিক উত্তর: (গ) পরশুরাম

১.৮ “বাংলা বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধাদিতে আর একটি দোষ” প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক কোন্ প্রবাদের উল্লেখ করেছেন?-

(ক) অরণ্যে রোদন
(খ) অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী
(গ) হাতের পাঁচ
(ঘ) হ-য-ব-র-ল।

সঠিক উত্তর: (খ) অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী

১.৯ চিনারা চিরকালই লেখার জন্য ব্যবহার করে আসছে-

(ক) তুলি
(খ) ব্রোঞ্জের শলাকা
(গ) হাড়
(ঘ) নল-খাগড়া

সঠিক উত্তর: (ক) তুলি,

১.১০ ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ককে বলে-

(ক) সমাস
(খ) কারক
(গ) প্রতায়
(ঘ) বিভক্তি

সঠিক উত্তর: (খ) কারক

১.১১ ‘কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল’ নিম্নরেখ পদটি-

(ক) সম্বোধন পদ
(খ) কর্তৃকারক
(গ) সম্বন্ধপদ
(ঘ) নিমিত্ত কারক

সঠিক উত্তর: (গ) সম্বন্ধপদ

১.১২ যে সমাসে সমস্যমান পদ দুটির উভয় পদই বিশেষ্য ও পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে বলে-

(ক) তৎপুরুষ সমাস
(খ) কর্মধারয় সমাস
(গ) দ্বন্দু সমাস
(ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস

সঠিক উত্তর: (খ) কর্মধারয় সমাস

১.১৩ কৃত্তিবাস রামায়ণ রচনা করেন নিম্নরেখ পদটি কোন্ সমাসের উদাহরণ?-

(ক) কর্মধারয় সমাস
(খ) তৎপুরুষ সমাস
(গ) বহুব্রীহি সমাস
(ঘ) দ্বন্দু সমাস

সঠিক উত্তর: (গ) বহুব্রীহি সমাস

১.১৪ ‘আমাদের মধ্যে যারা ওস্তাদ তারা ওই কালো জলে হরতকী ঘষত।’ বাক্যটি কোন্ শ্রেণির?-

(ক) সরল বাক্য
(খ) জটিল বাক্য
(গ) যৌগিক বাকা
(ঘ) মিশ্র বাক্য

সঠিক উত্তর: (খ) জটিল বাক্য

১.১৫ বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে অর্থগত দিক থেকে এটি-

(ক) না-সূচক বাক্য
(খ) সন্দেহবাচক বাক্য
(গ) প্রশ্নবাচক বাক্য
(ঘ) প্রার্থনাসূচক বাক্য।

সঠিক উত্তর: (গ) প্রশ্নবাচক বাক্য

১.১৬ ক্রিয়ার অর্থ প্রাধান্য পায়

(ক) কর্তৃবাচ্যে
(খ) ভাববাচ্যে
(গ) কর্মবাচ্যে
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্যে

সঠিক উত্তর: (খ) ভাববাচ্যে

১.১৭ তাকে টিকিট কিনতে হয়নি -বাক্যটির কর্তৃবাচ্যের রূপ হল-

(ক) তার টিকিট কেনা হয়নি
(খ) তিনি টিকিট কেনেননি
(গ) তাঁর দ্বারা টিকিট ক্রীত হয়নি
(ঘ) তিনি বিনা টিকিটে চলেছেন

সঠিক উত্তর: (খ) তিনি টিকিট কেনেননি

২। কমবেশি ২০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

২.১ নীচের যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

২.১.১ ‘অদল-বদলের গল্প’ গ্রাম প্রধানের কানে গেলে তিনি কী ঘোষণা করেছিলেন?

উত্তর: গ্রাম প্রধান ঘোষণা করেন যে গ্রামের সকলে অমৃতকে ‘অদল’ এবং ইসাবকে ‘বদল’ বলে ডাকবে ।

২.১.২ “সপ্তাহে বড়োজোর একটা দিন বহুরুপী সেজে পথে বের হন হরিদা” ‘বহুরূপী’ কাকে বলে?

উত্তর: বহুরুপী’ হল একধরনের লোকশিল্পী যারা বিবিধ বেশে সজ্জিত হয়ে নানা রূপ ধারণ করে জীবিকা নির্বাহের জন্য উপার্জন করে ।

২.১.৩ ভামো যাত্রায় ট্রেনে অপূর্বের কে কে সঙ্গী হয়েছিল?

উত্তর: ভামো যাত্রায় ট্রেনে অপূর্বের সঙ্গী হয়েছিল একজন আর্দালী বা পিয়োন এবং অফিসের একজন হিন্দুস্তানি ব্রাহ্মণ পেয়াদা।

২.১.৪ “সূচিপত্রেও নাম রয়েছে” সুচিপত্রে কী লেখা ছিল?

উত্তর: সূচিপত্রে লেখা ছিল (গল্প)’প্রথম দিন’ শ্রী তপন কুমার রায় ।

২.১.৫ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম কী?

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম ছিল প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ।

২.২ নীচের যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

২.২.১ “ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে।” কী ছড়ানো রয়েছে?

উত্তর: কাছে দূরে ছড়ানো রয়েছে শিশুদের শব।

২.২.২ ‘ছদ্মবেশী অম্বুরাশি-সুতা’ কেন ইন্দ্রজিতের কাছে এসেছিলেন?

উত্তর: বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ ও রাজা রাবণের যুদ্ধসজ্জার সংবাদ মেঘনাদকে দেওয়ার জন্য অম্বুরাশি-সুতা মেঘনাদের ধাত্রীর ছদ্মবেশে এসেছিল ।

২.২.৩ “সখী সবে আজ্ঞা দিল” বক্তা তার সখীদের কী আজ্ঞা দিয়েছিলেন?

উত্তর: অচেতন চার সখীসহ পদ্মাবতীকে বসনাবৃত করে উদ্যানের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য আজ্ঞা দিয়েছিলেন ।

২.২.৪ ‘অসুখী একজন’ কবিতাটি কে বাংলায় তরজমা করেছেন?

উত্তর: অসুখী একজন’ কবিতাটি বাংলায় তরজমা করেছেন নবারুণ ভট্টাচার্য ।

২.২.৫ “প্রলয় বয়েও আসছে হেসে” ‘প্রলয়’ বহন করেও হাসির কারণ কী?

উত্তর: প্রলয় বহন করেও হাসির কারণ হল প্রলয়ের মধ্যেই সৃষ্টির উল্লাস রয়েছে।

২.৩ নীচের যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

২.৩.১ ‘সোনার দোয়াত কলম যে সত্যই হতো’ তা লেখক কীভাবে জেনেছিলেন?

উত্তর: সুভো ঠাকুরের বিখ্যাত দোয়াত সংগ্রহ দেখতে গিয়ে সোনার দোয়াত কলম যে সত্যিই হতো তা লেখক জেনেছিলেন।

২.৩.২ দোকানদার লেখককে কলম বিক্রি করার আগে কী জাদু দেখিয়েছিলেন?

উত্তর: লেখক কলম দেখতে চাইলে দোকানদার কলম বিক্রির আগে জাদু দেখিয়েছিলেন। দোকানদার কলমের মুখ থেকে খাপটা সরিয়ে কলমটি ছুঁড়ে দিয়েছিলেন টেবিলের পাশে দাঁড় করানো একটা কাঠের বোর্ডের উপর, ছুঁড়ে দেওয়ার সত্ত্বেও কলমের নিবটি অক্ষত ছিল ।

২.৩.৩ ছেলেবেলায় রাজশেখর বসু কার লেখা জ্যামিতি বই পড়তেন?

উত্তর: ছেলেবেলায় রাজশেখর বসু ব্রহ্মমোহন মল্লিকের লেখা বাংলা জ্যামিতি বই পড়তেন ।

২.৩.৪ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কবে পরিভাষা সমিতি নিযুক্ত করেছিলেন?

উত্তর: কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৬ সালে পরিভাষা সমিতি নিযুক্ত করেছিলেন ।

২.৪ নীচের যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

২.৪.১ বিভক্তি ও অনুসর্গের একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: বিভক্তি একটি চিহ্ন, এর নিজস্ব অর্থ নেই; অন্যদিকে অনুসর্গের একটি শব্দ, এর নিজস্ব অর্থ আছে ।

২.৪.২ ‘মন্দিরে বাজছিল পূজার ঘণ্টা’ নিম্নরেখ পদটির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো।

উত্তর: অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি ।

২.৪.৩ ব্যাসবাক্যসহ একটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ দাও।

উত্তর: “ভাইবোন” হল দ্বন্দ্ব সমাস এবং এর ব্যাসবাক্য হল “ভাই ও বোন”।

২.৪.৪ ‘মেঘে ঢাকা’ শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম উল্লেখ করো।

উত্তর: মেঘে ঢাকা’ ব্যাসবাক্য হল মেঘের দ্বারা ঢাকা । এবং এটি অলোপ তৎরুষ সমাস ।

২.৪.৫ বিধেয় প্রসারকের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: সে “রাজারানির” গল্প ভালবাসে ।

২.৪.৬ ‘ঠিক ইসাবের মতো জামাটি না পেলে ও স্কুলে যাবে না।’ যৌগিক বাক্যে পরিবর্তন করো।

উত্তর: ঠিক ইসাবের মতো জামাটি না পেলে ও কিন্তু স্কুলে যাবে না ।

২.৪.৭ কর্তৃবাচ্য কাকে বলে?

উত্তর: যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে

২.৪.৮ ‘তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।’ ভাববাচ্যে পরিবর্তন করো।

উত্তর: তাদের আর স্বপ্ন দেখা হল না ।

২.৪.৯ অলোপ সমাস কী?

উত্তর: যে সমাসে সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলোপ সমাস বলে।

২.৪.১০ সে তখন যেতে পারবে না – হ্যাঁ-বাচক বাক্যে পরিবর্তন করো।

উত্তর: সে তখন যেতে অপারগ হবে ।

৩। প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০ শব্দে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

৩.১ নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৩.১.১ “যে ভয়ংকর আহ্লাদটা হবার কথা, সে আহ্লাদ খুঁজে পায় না।”- ‘আহ্লাদ’ হবার কথা ছিল কেন? ‘আহ্লাদ খুঁজে’ না পাওয়ার কারণ কী?

উত্তর: তপনের আহ্লাদ হওয়ার কথা ছিল এই ভেবে, যে তপনের লেখা গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হলে লেখক হিসাবে তার নাম ছাপা হবে।
তপনের ছোটোমেসোর সহায়তায় ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তার গল্প প্রকাশিত হয় এবং চারিদিকে সবাই মেসোর মহত্বেও কথাই বলতে থাকে । মেসো না থাকলে কোনোদিনই ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার সম্পাদক তপনের লেখা ছুঁয়েও দেখত না —এরকম কথাও বলে । এইসব কথার মাঝখানে আসল যে লেখক, সে-ই যেন কোথাও হারিয়ে যায় । তপনের যেন কোনো কৃতিত্বই নেই । এইসব দেখে তপনের লেখা গল্প ছেপে আসার পর তপনের যে আহ্লাদ হওয়া উচিৎ ছিল তা হয় না ।

৩.১.২ “নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে।” কার কথা বলা হয়েছে? তার ‘পাগলামিটি’ কী?

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের উল্লিখিত অংশে নদেরচাঁদের কথা বলা হয়েছে ।
শৈশব থেকেই নদীর সঙ্গে সখ্য নদেরচাঁদের। কর্মক্ষেত্রে এসেও তার নদীর প্রতি আকর্ষণ একটুকুও কম হয়নি । তাই প্রবল বৃষ্টির কারণে পাঁচদিন নদীকে দেখতে না পেলে সে নদেরচাঁদ ‘ছেলেমানুষের মতো’ আকুল হয়ে ওঠে । নদীর প্রতি এই টান,আকুলতাই ছিল তার ‘পাগলামি’।

৩.২ নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৩.২.১ “অতি মনোহর দেশ” এই ‘মনোহর দেশে’র সৌন্দর্যের পরিচয় দাও।

উত্তর: সৈয়দ আলাওল রচিত ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রকন্যা পদ্মার একটি প্রাসাদ কল্পনা করা হয়েছে । এই প্রাসাদটিকে সমুদ্রের মাঝে দ্বীপভূমির মতো দেখায় । একেই অতি মনোহর দেশ বলা হয়েছে । কবির বর্ণনানুসারে এই দিব্যপুরী অতি মনোহর । সেখানে কোনো দুঃখকষ্ট নেই । আছে শুধু সত্যধর্ম এবং সদাচার । আর আছে একটি পর্বত এবং নানা ফুলে ভরা অপূর্ব এক উদ্যান । সেখানে গাছগুলিতে নানা ফল ও ফুলের সমারোহ ।

৩.২.২ “অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো” কবি কোথায় অস্ত্র রাখতে বলেছেন? তাঁর একথা বলার কারণ কী?

উত্তর: কবি জয় গোস্বামী তাঁর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় “অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো” কবি এখানে গানের দুটি পায়ে অস্ত্র রাখতে বলেছেন।
কবি জয় গোস্বামী তাঁর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় যুদ্ধবাজ মানুষদের উদ্দেশ্যে এই আহ্বানটি জানিয়েছেন । ক্ষমতার নেশায় মেতে ওঠা মানুষ নিজের শ্রেষ্ঠত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে হাতে অস্ত্র তুলে নেয়,অস্ত্র হিংসার প্রতীক । কবি বলতে চেয়েছেন মানুষের পৃথিবীতে অস্ত্রের কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ অস্ত্রই সভ্যতার শেষ কথা নয় । তাই কবি অস্ত্র ফেলে গানকেই জীবনযুদ্ধের হাতিয়ার করতে বলেছেন । এখানে কবির মানবদরদী মনোভাবটি প্রকাশিত।

৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৪.১ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প অবলম্বনে নদীর প্রতি নদেরচাঁদের অকৃত্রিম ভালোবাসার পরিচয় দাও।

উত্তর: প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদীর সঙ্গে নদেরচাঁদের মধুর সম্পর্কের রূপটি প্রবলভাবে ফুটে উঠেছে । ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে দীর্ঘ পাঁচদিন প্রচন্ড বর্ষার জন্য নদীকে দেখতে না পেয়ে নদেরচাঁদ অস্থির হয়ে উঠেছে । তাই বৃষ্টি থামলেই সে সহকারীকে দায়িত্ব দিয়ে ছোটে অতল জলের আহ্বানে । নদীই ছিলো নদেরচাঁদের আপনজন । নদী তার কাছে শুধু প্রকৃতির দান নয়, আত্মার আত্মীয় । এই কর্মব্যস্ত জীবনে নদী তার খেলার সঙ্গী । তাই সে খুব সহজেই নদীর ঘোলাজলে ছিঁড়ে ফেলে দেয় পাঁচদিন ধরে স্ত্রীকে লেখা চিঠি । আর এক অনাবিল আনন্দে ভরে ওঠে তার মন । শৈশব কালেও নদেরচাঁদের নদীর প্রতি ভালোবাসায় আবিষ্ট ছিল, নদী শুকিয়ে গেলে কান্নায় তার চোখ ভিজে যেত । আসলে নদীকে জীবন্ত সত্তা মনে করেছেন নদেরচাঁদ, যার কাছে হারিয়ে গেছে তার একান্ত ব্যক্তিগত জীবন । এইসব ভাবনার মধ্য দিয়ে ধরা পড়েছে নদীর প্রতি তার আন্তরিক ভালোবাসা । নদীর ওপর ব্রিজ তৈরি করে নদীর স্বাভাবিক গতিকে রুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদে নদেরচাঁদের হৃদয়ও যন্ত্রনায় ফেটে পড়তে চায় । কিন্তূ ভাগ্যের এমনই পরিহাস যে, তাকেও মরতে হয় যন্ত্রসভ্যতার আর এক প্রতিভূর মাধ্যমে । চলন্ত রেলগাড়ি মতোই মুহুর্তে নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে যায়।
এই ভাবে নদেরচাঁদের নদীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার পরিচয় পায়েছি।

৪.২ “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।” হরিদা কী ভুল করেছিলেন? অদৃষ্ট ক্ষমা না করার পরিণাম কী?

উত্তর: বহুরূপী’ গল্পে হরিদা বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন অর্থ উপার্জনের জন্য। হরিদার বেশভূষা, কথাবার্তায় জগদীশবাবু মুগ্ধ হয়ে ‘বিরাগী’কে অতিথি সেবার জিনিস গ্রহণের অনুরোধ জানান। বিদায়ের সময়ে একশো টাকা প্রনামী দিতে চান জগদীশবাবু, কিন্তু উদাসীনভাবে প্রনামী টাকা প্রত্যাখ্যান করে চলে যান হরিদা । যাওয়ার সময় হরিদা বলে যান যে —”আমি যেমন অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে চলে যেতে পারি, তেমনিই অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারি । হরিদা” সন্ন্যাসী চরিত্রের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন যে চরিত্রের ধরন নষ্ট হবে’ বলে হরিদা জগদীশবাবুর কাছ থেকে টাকা নেননি । বিস্মিত গল্পকথক এটাকেই হরিদার ‘ভুল’ বলেছেন ।
অভাবী হরিদার ভাগ্য হরিদাকে সঙ্গ দিতে চেয়েছিল কিন্তু ব্যক্তিগত সততা ও আদর্শবোধের কারণে হরিদা ভাগ্যের সহায়তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, এবং নিশ্চিত করে দিয়েছে যে অভাব কখনও হরিদাকে ছেড়ে যাবে না । তার ভাতের হাঁড়িতে মাঝে মধ্যে শুধু জলই ফুটবে, তাতে চালের জোগান থাকবে না । কথকের মনে হয়েছে অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুলকে ক্ষমা করবে না ।

৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৫.১ “চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।” ‘তোমার’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? তার ‘অপমানিত ইতিহাসে’র সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

উত্তর: কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতার অন্তর্গত উদ্ধৃত অংশটি রয়েছে। এখানে ‘তোমার’ বলতে আফ্রিকার কথা বলা হয়েছে ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় আফ্রিকার ওপর সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের অত্যাচার ও শোষণ-বঞ্নার কাহিনিকে বর্ণনা করেছেন । প্রাকৃতিকভাবে দুর্গম আফ্রিকা দীর্ঘসময় ইউরোপীয় শক্তিগুলির নজরের বাইরে ছিলো, কিন্তু উনিশ শতকে ইউরোপীয়রা আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন শুরু করে । এই শতকের শেষে প্রায় পুরো আফ্রিকা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের উপনিবেশে পরিণত হয় । এইসব তথাকথিত সভ্য রাষ্ট্রশক্তি আফ্রিকার মানুষদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালাত । তাদের নির্লজ্জ লোভ যেন বর্বরতার রূপ ধরে আত্মপ্রকাশ করেছিল এবং ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল আফ্রিকার মানুষ । তাদের রক্ত আর চোখের জলে কর্দমাক্ত হয়েছিল আফ্রিকার মাটি । সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রনায়কদের কাঁটা-মারা জুতোর নীচে বীভৎস কাদার পিণ্ড যেন চিরকালের মতো অত্যাচারের চিহ্ন রেখে গিয়েছিল আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে ।

৫.২ ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর: কবি জয় গোস্বামীর লেখা ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় বর্ণিত হয়েছে যুদ্ধের বিরুদ্ধে গানের প্রয়োগ কথা ।
গানের সুরের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে দিতে হবে মানুষের পীড়ন-আর্তনাদের কলরোল । সমস্ত ক্ষমতা, হিংস্রতা ও দম্ভকে বশ করার জন্য গানই কবির বন্ধু হয়ে উঠেছে । কবি অস্ত্রের উদ্ধত আক্রমণকে আটকাতে গানকে অবলম্বন করেছেন । কবি চেয়েছেন উদার মানবিকতার সুউচ্চ আদর্শের অনুরণনে সমাজের বুকে উদ্যত অস্ত্রের ঝংকার বন্ধ হোক এবং যুদ্ধ নয় এবার হোক মানবতার জয় । একমাত্র গানই পারে সেই জয়কে ঘোষিত করতে, কারণ গান মানুষের অনাবিল ভালোবাসার প্রকাশ । কবি বলেছেন যারা রক্তচক্ষুর শাসন নিয়ে ঘুরে বেড়ায় তারাও একদিন সব অস্ত্র গানের পায়ে অঞ্জলি দেবে —এটাই কবির বিশ্বাস । তাই কবি দৃঢ় ভঙ্গিতে বলতে পেরেছেন —”অস্ত্র ফ্যালো,অস্ত্র রাখো পায়ে ।”

৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৬.১ “আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই।” কারা কালি তৈরি করতেন? তাঁরা কীভাবে কালি তৈরি করতেন?

উত্তর: প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ ও তাঁর সতীর্থরা নিজেরাই কালি তৈরি করতেন । যদিও এই কালি তৈরি করতে সাহায্য করতেন তাঁর মা, পিসি ও দিদিরা । এই কালি তৈরি করা নিয়ে প্রাচীনেরা বলতেন—
“তিল ত্রিফলা শিমুল ছালা,
ছাগ দুগ্ধে করি মেলা।
লৌহ পাত্রে লোহায় ঘসি,
ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি ।
ভালো কালি তৈরি করার জন্য এই ছিল ব্যবস্থাপনা । প্রাবন্ধিকরা এত কিছুর আয়োজন করতে পারতেন না, তাই তাঁরা সহজ কালি তৈরির পদ্ধতি অনুশিলন করতেন । আগে বাড়ির রান্না হত কাঠের আগুনে, তার জন্য রান্নার পর কড়াইয়ের নীচে প্রচুর কালি জমত। সেই কালি লাউপাতা দিয়ে তা ঘষে তুলে একটা পাথরের বাটিতে রাখতো এবং জল দিয়ে সেই কালি গুলতেন ।এভাবেই প্রাবন্ধিকরা কালি তৈরি করতেন। তবে যারা কালি তৈরিতে ওস্তাদ ছিল, তারা ওই কালো জলে হরতকী ঘষত । কখনো কখনো আতপ চাল ভেজে তা বেটে ওই কালো জলে মেশাত। সব ভালোভাবে মেশানোর পর খুন্তির গোড়ার দিকটা পুড়িয়ে লাল টকটকে করে সেই জলে ছ্যাঁকা দিত এবং জল কিছু সময়ের মধ্য টগবগ করে ফুটতো। ফোটানোর পর ন্যাকড়ায় দ্বারা ছেঁকে দোয়াতে ঢেলে নিলেই লেখার জন্য প্রস্তুত হয়ে যেত কালি ।

৬.২ “পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় এদেশের জনসাধারণের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নগণ্য।” লেখকের এমন মন্তব্যের কারণ কী?

উত্তর: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান যারা পড়েন, লেখক তাদের স্বরূপ নির্ণয় করতে গিয়ে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের পাঠকদের ।
প্রথম শ্রেণি, যাঁরা ইংরেজি জানেন না বা খুব অল্প জানেন ।
দ্বিতীয় শ্রেণি, যাঁরা ইংরেজি জানেন এবং ইংরেজি ভাষায় কিছু বিজ্ঞান বই পড়েছেন।
পাশ্চাত্যের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে এ দেশের মানুষের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কথা তিনি বলেছেন । বিজ্ঞানের প্রাথমিক বিষয়গুলির সঙ্গে যদি কোনো পরিচয় না থাকে তাহলে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ বোঝা সম্ভব নয়। ইউরোপ আমেরিকায় পপুলার সায়েন্স লেখা খুব সহজ, সাধারন মানুষ তা অনায়াসে বুঝতে পরেন । কিন্তু আমাদের দেশের সামাজিক পরিস্থিতি এতটা সহজ নয়, এখানে বয়স্কদের জন্য যা লেখা হয়, তা প্রাথমিক বিজ্ঞানের মতো প্রস্তুত থেকে না । যদিওবা লিখে তা তাঁদের বোঝাবার মতো সহজ হয় না । বাংলা ভাষায় যাঁরা বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখি করেন, তাঁদের জনপ্রিয়তা পেতে গেলে এই বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে ।
বিজ্ঞানশিক্ষার বিস্তার ঘটানোর প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে গিয়ে প্রাবন্ধিক এই কথাগুলো বলেছেন। মনে রাখা দরকার যে, বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসার যথাযথ না হলে বিজ্ঞান বিষয়ক সাহিত্যের বিকাশ ঘটাও সম্ভব নয় ।

৭। কমবেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৭.১ “বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না।” কাদের উদ্দেশে একথা বলা হয়েছে? কোন্ দুর্দিনের জন্য তাঁর এই আবেদন ?

উত্তর: বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাট্যাংশে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদৌলা সিপাহসলার মীরজাফর ও তার অনুগামীদের উদ্দেশ্য এ কথা বলেছেন ।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রমশঃ তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে । কলকাতা এবং কাশিমবাজারে তাঁদের দুর্গনির্মাণ অব্যাহত । এর মধ্যে সিরাজের বিরুদ্ধে স্বয়ং মীরজাফর ও ঘসেটি বেগম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন । বিচক্ষণ সিরাজ বুঝেছেন এই পরিস্থিতিতে তাঁর ধৈর্য হারালে চলবে না । সংযত রেখে মনোমালিন্য মিটিয়ে নিতে হবে নিজেকে। তাই মীরজাফর ও তার অনুগামীদের যাবতীয় অভিযোগ নিজে মাথা পেতে নিয়ে তিনি সোহার্দ্য স্থাপনে প্রয়াসী হয়েছেন । নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে মীরজাফরকে বাংলার ঘোর দুর্দিনে সঙ্গ ত্যাগ না করার আবেদন জানিয়েছেন ।

৭.২ “ওখানে কী দেখচ মূর্খ, বিবেকের দিকে চেয়ে দ্যাখো।”-বক্তা কে? উদ্দিষ্ট ব্যস্তির প্রতি বস্তার কী মনোভাব লক্ষ করা যায়?

উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদৌলা’ শীর্ষক নাট্যাংশের অন্তর্গত উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন ঘসেটি বেগম,
ঘসেটি বেগমের প্রকৃত নাম হলো মেহেরুন্নিসা । তিনি নবাব আলিবর্দি খাঁ-র বড়ো মেয়ে, সম্পর্কে সিরাজের মাসি । ঢাকার শাসনকর্তা শাহমৎ জঙ্গের সঙ্গে বিয়ে হয় ঘসেটির । দত্তক পুত্র মৃত্যু হলে তার শোকে শাহমৎ জঙ্গও মারা যান এবং বিধবা ঘসেটি বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন । এদিকে বাংলার শাসনভার আলীবর্দী খাঁর মনোনীত সিরাজদৌলার হাতে যায় । এই ঘটনা ঘসেটি বেগমের ঈর্ষার কারণ হয় । তিনি আলিবর্দির মেজো মেয়ের ছেলে শওকত জঙ্গকে সিরাজের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেন । বাংলার নবাব আলিবর্দির মৃত্যুর পরে ঘসেটি রাজবল্লভ ও অন্যদেরও নিজের দলে টানেন । এসব জানতে পেরে ক্ষিপ্ত সিরাজ ঘসেটির মতিঝিলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন এবং তাঁকে নিজের রাজপ্রাসাদে নজরবন্দি করে রাখেন । তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন । শওকত জঙ্গ সিরাজের বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয় । ঘটনাক্রমে ঘসেটি বেগম প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন । কিন্তু তাঁর ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের সমস্ত রাস্তা একে একে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত ঘসেটি বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়ে যান ।

৮। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৮.১ “আপনি আমার থেকে চার হাজার গুণ বড়োলোক, কিন্তু চার লক্ষ টাকা খরচ করেও আপনি নিজের শরীরটাকে চাকর বানাতে পারবেন না।” বক্তা কাকে, কেন একথা বলেছিলেন?

উত্তর: মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের প্রথম পরিচ্ছেদে ক্ষিতীশ সিংহ বিষ্টুচরণ ধরকে এ কথা উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন ।
কোনি’ উপন্যাসে গঙ্গার তীরে বিষ্টুচরণ ধর শরীর ম্যাসেজ করাচ্ছিলেন । সেই সময় ক্ষিতীশ সিংহ স্নান করার জন্য গঙ্গার ঘাটে উপস্থিত ছিলেন । বিষ্টুচরণ ধরের বিশাল বপু ম্যাসেজের তালে তালে ওঠা-নামা করছিল । ক্ষিতীশ সিংহ এই দৃশ্য দেখে নিজের হাসি চেপে রাখতে পারেননি । বিষ্টুচরণ ধর এই দেখে অপমানিত বোধ করেন। বিষ্টুচরণ ধর টাকার গর্বে অন্ধ ছিলেন এবং ঘোষণা করেন নিজের অর্থ ও প্রভাবের কথা । বিষ্টুচরণ ধর তাচ্ছিল্য প্রকাশ করেন আবার একইসঙ্গে অবাক হন ক্ষিতীশ সিংহের শারীরিক দক্ষতা দেখে । কিন্তু টাকা থাকলেই শরীরকে বশে রাখা যায় না । সেই প্রসঙ্গেই ক্ষিতীশ সিংহ উপরিউক্ত মন্তব্যটি করেন ।

৮.২ “এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক।” কী পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে? কী কারণে এই পুষে রাখা?

উত্তর: কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গিয়েছিলেন । সেখানে তিন ঘন্টা ঘোরার পর দুজনে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা খাবার খেতে বসেছিল । কিন্তু খাবার জল তাদের সঙ্গে ছিল না । সেই সময় কোনি তাদের পাশে খেতে বসা ছাত্রীদলের কাছে জল চাইতে যায়, কিন্তু একজন দিদিমণি কোনিকে জল না দিতে চেয়ে ফিরিয়ে দেয় । পরে ওই দলের হিয়া মিত্র নামের একটি মেয়ে কোনিকে জল দিতে আসলে কোনি আগের অপমানের জবাব হিসেবে ওই জলের গ্লাস ফেলে দেয় । হিয়ার প্রতি কোনির যে আক্রোশ প্রকাশ পেল জলের গ্লাস ফেলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাগটাই মনের মধ্যে পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে ।
কোনি হিয়া মিত্রকে না চিনলেও, ক্ষিতীশ সিংহ এই হিয়া মিত্রকে চিনত । শুধু চিনতই না, সে জানত কোনির থেকে হিয়া মিত্র সাঁতারে অনেক ভালো অবস্থানে আছে । রবীন্দ্র সরোবরের সাঁতার প্রতিযোগিতায় হিয়ার সাঁতার ক্ষিতীশ সিংহ দেখেছে । বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবে গিয়েও সে হিয়ার ট্রেনিং দেখে এসেছে । তাই ক্ষিতীশ সিংহ মনে করেছিল হিয়াই কোনির ভবিষ্যৎ প্রতিদ্বন্দ্বি । এই অপমানের যন্ত্রণাই কোনিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে । তাই হিয়া মিত্রকে হারিয়ে অপমানের প্রতিশোধ নেবার বাসনা জাগিয়ে রাখবার জন্যই ক্ষিতীশ সিংহ এই অপমানটাকে পুষে রাখতে বলেছিলেন।

৮.৩’কোনি’উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে স্বামীর যোগ্য সহধর্মিণী রূপে লীলাবতীর পরিচয় দাও।

উত্তর: মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসটি মূলত কোনি এবং তাঁর প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে । পার্শ্বচরিত্র হিসেবে অনেকেই এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রী লীলাবতী হচ্ছে অন্যতম ।
পরিশ্রমী ও কর্মপটু : ছোটখাটো চেহারার, গৌরবর্ণা এবং গম্ভীর স্বভাবের লীলাবতী যথেষ্ট পরিশ্রমী । তাঁর সাংসারিক জ্ঞান ও সমস্ত কিছু দেখভাল করার জন্যই ক্ষিতীশ সিংহের সংসার টিকে ছিল । লীলাবতীর কর্মতৎপরতাতেই তাঁদের সংসার চলত । ‘সিনহা টেলারিং’ যখন লোকসানের মুখে সেই সময় লীলাবতী নিজের গয়না বন্ধক রেখে নতুন ধরনের কাজ শুরু করেন । এসময় তিনি দোকানের নাম পালটে ‘প্রজাপতি’ রেখে অসম্ভব পরিশ্রম ও কর্মতৎপরতার মাধ্যমে চার বছরের মধ্যেই ‘প্রজাপতি’র শ্রীবৃদ্ধি ঘটান।
যোগ্য সহধর্মিনী : গম্ভীর স্বভাবের হলেও লীলাবতী স্বামীর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল এবং পতিপ্রাণা ছিলেন । স্বামীর স্বভাব এবং সাঁতারপ্রীতির কথা জানতেন বলেই সাংসারিক ও ব্যবসায়ীক সমস্তরকম দেখভাল নিজেই করতেন । স্বামীর আদর্শ বা ভাবনা মেনে নিয়েই তাঁরই ইচ্ছামতো খাওয়ার পদ্ধতিও প্রায় মেনে নিয়েছিলেন । স্বামীর পরিশ্রমী সত্তার প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস অটুট ছিল বলেই তিনি কোনির সাঁতার দেখতে হাজির হয়েছিলেন । স্বল্প পরিসরেও তাঁর কর্মপ্রাণা, সংসারী এবং পরোক্ষে স্বামী অনুরাগী চরিত্রটি উপন্যাসে ধরা পড়েছে ।
ব্যবসায়ী মানসিকতাসম্পন্ন : ব্যবসায়িক মনের পরিচয় দিয়ে তিনি পুরুষদের পোশাক তৈরি বন্ধ করে দুজন মহিলা কর্মচারীকে দোকানে রেখে শুধু মেয়ে ও শিশুদের পোশাক তৈরি শুরু করেন । তাঁর নেতৃত্বেই ব্যবসা ক্রমশ বড়ো হয়ে ওঠে এবং আরও বড়ো স্থানের প্রয়োজন হয়ে পড়ে । সেক্ষেত্রেও তিনি নিজেই হাতিবাগানের মতো এলাকায় পাঁচ হাজার টাকার সেলামিতে একটি ভাড়ার দোকানের ব্যবস্থা করেন ।

৯। চলিত গদ্যে বঙ্গানুবাদ করো:

One day a fox was going beside the vine yard. He saw the ripe grapes hanging from a vine. He jumped but did not reach it. Because they were beyond his reach.

উত্তর: একদিন একটি শিয়াল আঙ্গুরের বাগানের পাশে দিয়ে যাচ্ছিল। সে পাকা আঙ্গুরগুলি লতায় ঝুলতে দেখল। সে লাফ দিল কিন্তু আঙ্গুরগুলো পায়নি। কারণ সেগুলো তার নাগালের বাইরে ছিল।

১০। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১০.১ বৃক্ষরোপণ উপযোগিতা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।

বৃক্ষরোপণ উপযোগিতা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ

সোমু: “রাজা” তুমি বৃক্ষরোপণের উপযোগিতা সম্পর্কে কী ভাবো?
রাজা: বৃক্ষরোপণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু আমাদের পরিবেশকে সুন্দর করে তোলে না, বরং বায়ুতে অক্সিজেন সরবরাহ করে।
সোমু: ঠিক বলেছো। আজকাল আমরা বায়ুদূষণের মুখোমুখি হচ্ছি। গাছ ছাড়া বায়ুর মান ভালো রাখা প্রায় অসম্ভব।
রাজা: হ্যাঁ, আর গাছ আমাদের ছায়া দেয়, যা গরমের দিনে অনেক স্বস্তিদায়ক। এছাড়া, গাছ মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সোমু: সত্যি! আর গাছের ফল আমাদের পুষ্টি জোগায়। তাছাড়া, গাছপালা আমাদের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে।
রাজা: তাই তো !
আমাদের সবার উচিত নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করা এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করা।
সোমু: একদম ঠিক বলেছো। চল, আমরা সবাই মিলে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নিই।
রাজা: হ্যাঁ, গাছ রোপণ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও উপকৃত হবে।

১০.২ বিদ্যালয়ের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

বিদ্যালয়ের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

গত কাল আমাদের বিদ্যালয়ে একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের সকলশিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে। এরপর শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি এবং নাটক পরিবেশন করে। বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ‘সোনার বাংলা’ শিরোনামে একটি নৃত্যনাট্য। এছাড়াও, নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যেমন চিত্রাঙ্কন, বক্তৃতা এবং কুইজ প্রতিযোগিতা।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রতি অনুপ্রাণিত করেছে।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

১১। কমবেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো।

১১.১ বিজ্ঞান ও কুসংস্কার

উত্তর: বিজ্ঞান ও কুসংস্কার দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারণা, যা মানুষের জীবন ও চিন্তাধারায় ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলে। বিজ্ঞান হলো যুক্তির ওপর ভিত্তি করে প্রাকৃতিক ঘটনার কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ করার পদ্ধতি। অন্যদিকে, কুসংস্কার হলো অযৌক্তিক বিশ্বাস এবং প্রথা, যা সাধারণত ভয়, অজ্ঞতা এবং প্রাচীন ধ্যান-ধারণা থেকে উদ্ভূত হয়।

বিজ্ঞান সব সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রমাণের ওপর নির্ভর করে। এটি কোনো মতবাদকে সত্য হিসেবে মেনে নেওয়ার আগে তা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে। উদাহরণস্বরূপ, সূর্যের আলো, বৃষ্টিপাত, বিদ্যুৎ, চৌম্বক ক্ষেত্র—এসব প্রাকৃতিক ঘটনা বিজ্ঞানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। বিজ্ঞানী ও গবেষকরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এসব বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যা প্রমাণিত হয়। এর ফলে, আমাদের জীবন সহজতর হয় এবং আমরা নতুন জ্ঞানের দিকে অগ্রসর হতে পারি।

কিন্তু কুসংস্কার সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ অনুসরণ করে। কুসংস্কার অনেক সময় সামাজিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, যা যুগ যুগ ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে। এটি সাধারণত ভয় বা অজ্ঞতা থেকে জন্ম নেয়। উদাহরণস্বরূপ, অনেক মানুষ মনে করে যে, কালো বিড়াল রাস্তা পার হলে দুর্ভাগ্য আসে, বা পূর্ণিমার রাতে ভূত-প্রেতের প্রভাব বেশি থাকে। এসব ধারণার পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, কিন্তু সমাজে এর প্রভাব বিস্তর।

কুসংস্কার মানুষের জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এটি মানুষকে বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে এবং অন্ধ বিশ্বাসের দিকে ঠেলে দেয়। বিশেষ করে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য বা দৈনন্দিন জীবনের ক্ষেত্রে কুসংস্কার অনেক সময় বিপজ্জনক হতে পারে। অনেক মানুষ অসুস্থ হলে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার পরিবর্তে তাবিজ-কবজ বা জাদুটোনা ব্যবহার করে, যা তাদের সুস্থতার বদলে আরও ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়।

বিজ্ঞান আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করে এবং পৃথিবীর রহস্য উদ্ঘাটনে সহায়তা করে। বিজ্ঞানই আমাদের শিক্ষা দেয় কিভাবে যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে যেকোনো বিষয়কে বিচার করতে হয়। কিন্তু কুসংস্কার এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে, এবং মানুষকে যুক্তিহীন ও অন্ধবিশ্বাসী করে তোলে।

যে সমাজ বিজ্ঞানকে মূল্য দেয় এবং কুসংস্কারকে পরিহার করে, সেই সমাজই উন্নতির পথে অগ্রসর হয়। কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার প্রসার, যাতে মানুষ বাস্তবিক জ্ঞান অর্জন করে যুক্তিনির্ভর জীবনযাপন করতে পারে।

১১.২ তোমার প্রিয় ঋতু

উত্তর: আমার প্রিয় ঋতু হলো শীতকাল। বছরের ছয়টি ঋতুর মধ্যে শীতকাল আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়। এ সময় প্রকৃতির পরিবর্তন, ঠান্ডা আবহাওয়া এবং উৎসবের আমেজ আমাকে মুগ্ধ করে। শীতকালে সূর্যের তাপ কম থাকে, বাতাস থাকে ঠাণ্ডা ও শীতল, যা এক প্রকার স্বস্তির অনুভূতি দেয়।

শীতকাল শুরু হয় অগ্রহায়ণ মাসে এবং চলে মাঘ মাস পর্যন্ত। এই ঋতুর মূল বৈশিষ্ট্য হলো তাপমাত্রার পতন, কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর, এবং ঠাণ্ডা বাতাস। গরমের পর শীতের এই ঠাণ্ডা পরিবেশ আমার কাছে খুবই স্বস্তিদায়ক। সকালের ঘন কুয়াশার মধ্যে হাঁটতে যাওয়া, রোদে বসে একটু সময় কাটানো—এসব শীতের সময়ের বিশেষ আনন্দ।
শীতকালে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবারেরও সুযোগ থাকে। খেজুরের রস, পিঠাপুলি, পায়েস, শীতকালীন সবজি এবং বিভিন্ন মৌসুমি ফল যেমন কমলা, আমড়া, এবং শীতের শাকসবজি সবই আমার খুব প্রিয়। পিঠাপুলির মৌসুমে ঘরে ঘরে পিঠা তৈরি হয়, যা শীতের অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া, শীতকালে পিকনিক করার মজাও আলাদা। পরিবারের সঙ্গে বা বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে গিয়ে সময় কাটানো যায়, যা বছরের অন্য সময়ে খুব একটা সম্ভব হয় না।

শীতকালের আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো উৎসব। এই সময়ে বড়দিন, নববর্ষসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব উদযাপিত হয়। সবাই মিলিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে। তাছাড়া শীতকালে বিদ্যালয় বা কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বনভোজন আয়োজন হয়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি আনন্দ নিয়ে আসে।

শীতকালে রাত দীর্ঘ হয় এবং দিন ছোট হয়। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় গরম কাঁথার নিচে আরাম করে ঘুমানোর মজা সত্যিই উপভোগ্য। এছাড়া, শীতের কাপড়, সোয়েটার, মাফলার, এবং কোট পরার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো লাগে। এই ঋতুতে নানা ধরনের পোশাক পরার সুযোগ থাকে।

শীতের মধ্যে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে, যেমন তীব্র শীতের কারণে অসহায় মানুষের দুর্ভোগ। কিন্তু এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায় এবং তারপরও শীতকাল আমাকে আনন্দ দেয়। এর আবহাওয়া, খাবার, এবং উৎসব আমাকে মুগ্ধ করে, তাই শীতকালই আমার প্রিয় ঋতু।

১১.৩ ছুটির দিন

উত্তর: ছুটির দিন জীবনে এক আনন্দঘন মুহূর্ত। এই দিনগুলো যেন মুক্ত বাতাসের মতো। ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের পছন্দের কাজগুলো করার জন্য ছুটির দিন অনেক কাঙ্ক্ষিত।
বছরব্যাপী ছোট-বড় অনেক ছুটি থাকলেও, গ্রীষ্মের দীর্ঘ ছুটি বা শীতের ছুটির আলাদা একটা আবেদন থাকে।

গ্রীষ্মের ছুটি মানেই অনেকের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার হাতছানি। গ্রামের বাড়িতে যাওয়া এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, ফলের মৌসুমে নানা ধরনের ফল খাওয়া—এগুলো গ্রীষ্মের ছুটির সাধারণ চিত্র। গ্রামের নদী, মাঠ, এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটে দারুণভাবে।

শীতের ছুটিতেও রয়েছে আলাদা মজা। এই সময় অনেকেই পরিবারসহ বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যায়। পাহাড়, সমুদ্র, কিংবা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ পায়। এসব ভ্রমণ শুধু বিনোদনের জন্য নয়, শিক্ষামূলকও হয়, কারণ এ সময় নতুন নতুন জায়গা, সংস্কৃতি, এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে।

ছুটির দিনে অনেক শখের জিনিসও করে। কেউ হয়তো বই পড়তে ভালোবাসে, কেউ ছবি আঁকে, আবার কেউ কেউ গান শেখে। এই সময়টাতে আমরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ পায়। স্কুলের দৈনন্দিন ব্যস্ততায় এই শখের কাজগুলো করা সম্ভব না হলেও, ছুটির দিনগুলোতে এগুলোর প্রতি মনোযোগ দিতে পারে।

তবে শুধু আনন্দ আর মজা নয়, ছুটির দিনগুলোকেও পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যায়, অতিরিক্ত টিভি দেখা বা ভিডিও গেম খেলার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। এজন্য অভিভাবকদের উচিত ছুটির সময় তাদের সন্তানদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানো এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কাজে উৎসাহিত করা। যেমন, ছুটির দিনে শিশুদের জন্য বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই উপকারী হতে পারে।

স্কুল ছুটির দিনগুলো শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই সময় তারা নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারে, শিখতে পারে নতুন কিছু এবং নিজেদের সৃজনশীলতাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। ছুটির দিনগুলো তাই শুধু বিশ্রামের জন্য নয়, এটি শিশুর সামগ্রিক বিকাশের একটি বড় অংশ।

১১.৪ বিশ্ব-উন্নায়ন

উত্তর: বিশ্ব উন্নয়ন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের দিকপাল। বিশ্ব উন্নয়ন হলো মানবজাতির প্রগতির ধারায় একটি অপরিহার্য প্রক্রিয়া, যা অর্থনৈতিক, সামাজিক, এবং রাজনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জীবনের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে। এই উন্নয়ন কেবলমাত্র একটি দেশের ভৌত বা আর্থিক উন্নতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়িত্বশীল বিশ্ব গঠনের প্রতিশ্রুতি বহন করে।

বিশ্ব উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য না রেখে, প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করা এই প্রক্রিয়ার অপরিহার্য অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সংস্থা যেমন জাতিসংঘ, এবং আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল এই বিষয়গুলিতে গুরুত্ব প্রদান করে কাজ করে চলেছে।

বিশ্ব উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। উন্নত দেশগুলির তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলি অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছে। তাই এই ব্যবধান ঘোচানোর জন্য দরিদ্র দেশগুলিকে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের জন্য আর্থিক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সমতা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে দরিদ্র দেশের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন বিদ্যুৎ, সড়ক, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ ছাড়াও, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তির বিকাশ ঘটানোর প্রয়োজন।

একইভাবে, সামাজিক উন্নয়নও বিশ্ব উন্নয়নের একটি অন্যতম স্তম্ভ। এখানে নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা, জাতিগত সমতা, এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি উন্নত বিশ্ব গঠনের জন্য এই বিষয়গুলোর উপর গুরুত্বারোপ করা দরকার। উদাহরণস্বরূপ, একটি সমাজ যদি নারীর সমান অধিকার প্রদান করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই সমাজ কখনোই প্রকৃত উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না।

এছাড়াও, টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ অন্যতম প্রধান বিষয়। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদের অবক্ষয়, এবং পরিবেশ দূষণকে প্রতিরোধ করতে না পারলে বিশ্বের উন্নয়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সার্বিকভাবে, বিশ্ব উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়সঙ্গত, টেকসই এবং শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠন করা যেখানে প্রতিটি মানুষ সমানভাবে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে। বিশ্ব উন্নয়নের এই যাত্রায় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা একান্তভাবে প্রয়োজন।


MadhyamikQuestionPapers.com এ আপনি অন্যান্য বছরের প্রশ্নপত্রের উত্তরও সহজেই পেয়ে যাবেন। আপনার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কেমন লাগলো, তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আরও পড়ার জন্য, জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য MadhyamikQuestionPapers.com এর সাথে যুক্ত থাকুন।

Tag Post :
Share This :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Post

Don't See The Answer You Need?

Don’t hesitate to drop your message