Madhyamik Question Papers

MadhyamikQuestionPapers Website Logo

মাধ্যমিক ২০২০ বাংলা প্রশ্নপত্রের সমস্ত উত্তর

Bengali
Madhyamik 2020 Bengali Answer

আপনি কি মাধ্যমিকের বাংলা প্রশ্নপত্রের উত্তর খুঁজছেন? এই আর্টিকেলে আপনি পাবেন ২০২০ সালের মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নপত্রের সঠিক উত্তর।

নিচে ২০২০ সালের প্রশ্নপত্রের প্রতিটি উত্তর সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য আগের বছরের প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

MadhyamikQuestionPapers.com ২০১৭ থেকে বর্তমান পর্যন্ত সব মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং উত্তর বিনামূল্যে আপলোড করেছে।

Download 2017 to 2024 All Subject’s Madhyamik Question Papers

View All Answers of Last Year Madhyamik Question Papers

যদি দ্রুত প্রশ্ন ও তার উত্তর খুঁজতে চান, তাহলে নিচের Table of Contents এর পাশে থাকা [!!!] এই চিহ্নটিতে ক্লিক করুন। এই পেজে থাকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর Table of Contents এ ক্রমানুসারে দেওয়া আছে। যে প্রশ্নের ওপর ক্লিক করবেন, সরাসরি তার উত্তরে চলে যেতে পারবেন।

Table of Contents

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:

১.১ পুলিশ সেজে হরিদা দাঁড়িয়েছিলেন-

(ক) জগদীশবাবুর বাড়িতে
(খ) চকের বাসস্ট্যান্ডে
(গ) দয়ালবাবুর লিচু বাগানে
(ঘ) চায়ের দোকানে

উত্তর: (গ)দয়ালবাবুর লিচু বাগানে

১.২ নদেরচাঁদের বয়স-

(ক) পঁচিশ বছর
(খ) ত্রিশ বছর
(গ) পঁয়ত্রিশ বছর
(ঘ) চল্লিশ বছর

উত্তর: (খ) ত্রিশ বছর

১.৩ ছোটোমাসি তপনের থেকে কত বছরের বড়ো?

(ক) বছর পাঁচেকের
(খ) বছর আক্টেকের
(গ) বছর দশেকের
(ঘ) বছর বারোর

উত্তর: (খ) বছর আক্টেকের

১.৪ ‘অভিষেক’ শীর্ষক কাব্যাংশটি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর কোন্ সর্গ থেকে নেওয়া হয়েছে?

(ক) প্রথম সর্গ
(খ) তৃতীয় সর্গ
(গ) নবম সর্গ
(ঘ) পঞ্চম সর্গ

উত্তর: (ক) প্রথম সর্গ

১.৫ “তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।” কারা স্বপ্ন দেখতে পারল না?

(ক) সেই মেয়েটি
(খ) গির্জার নান
(গ) কবিতার কথক
(ঘ) শান্ত হলুদ দেবতারা

উত্তর: (ঘ) শান্ত হলুদ দেবতারা

১.৬ “গান বাঁধবে সহস্র উপায়ে” কে গান বাঁধবে?

(ক) চিল
(খ) কোকিল
(গ) শকুন
(ঘ) ময়ূর

উত্তর: (খ) কোকিল

১.৭ পালকের কলমের ইংরেজি নাম হল-

(ক) স্টাইলাস
(খ) ফাউন্টেন পেন
(গ) কুইল
(ঘ) রিজার্ভার পেন

উত্তর: (গ) কুইল

১.৮ কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খোঁজেন-

(ক) প্রাবন্ধিক
(খ) দার্শনিক
(গ) গল্পকার
(ঘ) নাট্যকার

উত্তর: (খ) দার্শনিক

১.৯ ‘হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড’ উক্তিটি-

(ক) রবীন্দ্রনাথের
(খ) বঙ্কিমচন্দ্রের
(গ) কালিদাসের
(ঘ) বিদ্যাসাগরের

উত্তর: (গ) কালিদাসের

১.১০ অনুসর্গের দৃষ্টান্ত কোনটি?

(ক) জন্য
(খ) খানা,
(গ) টি
(ঘ) গাছা

উত্তর: (ক) জন্য

১.১১ দ্বন্দু সমাসে অর্থ প্রাধান্য থাকে-

(ক) পূর্বপদের
(খ) উভয়পদের
(গ) পরপদের
(ঘ) অন্য পদের

উত্তর: (খ) উভয়পদের

১.১২ ‘ইসাবের মেজাজ চড়ে গেল’ নিম্নরেখ পদটি কোন কারকের উদাহরণ?

(ক) কর্মকারক
(খ) করণ কারক
(গ) কর্তৃকারক
(ঘ) অপাদান কারক

উত্তর: (ক) কর্মকারক

১.১৩ ‘ফেলাইলা কনক-বলয় দূরে’। নিম্নরেখ পদটি যে সমাসের উদাহরণ তা হল-

(ক) তৎপুরুষ
(খ) অব্যয়ীভাব
(গ) বহুব্রীহি
(ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়

উত্তর: (ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়

১.১৪ ‘বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না’ এটি কী ধরনের বাক্য?

(ক) অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
(খ) নির্দেশক বাক্য
(গ) বিস্ময়সূচক বাক্য
(ঘ) প্রশ্নবোধক বাক্য

উত্তর: (ক) অনুজ্ঞাসূচক বাক্য।

১.১৫ ‘আমি মহারাজ নই, আমি এই সৃষ্টির মধ্যে এককণা ধূলি।’ এটি কোন্ শ্রেণির বাক্য?

(ক) সরল বাক্য
(খ) যৌগিক বাক্য
(গ) জটিল বাক্য
(ঘ) মিশ্র বাক্য

উত্তর: (খ) যৌগিক বাক্য

১.১৬ ‘জগদীশবাবু সিঁড়ি ধরে নেমে যান’ বাক্যটির ভাববাচ্যের রূপ হল–

(ক) জগদীশবাবুর সিঁড়ি ধরে নামা হয়
(খ) জগদীশবাবুর দ্বারা সিঁড়ি ধরে নামা হয়
(গ) জগদীশবাবু সিঁড়ি ধরে নামেন
(ঘ) জগদীশবাবু সিঁড়ি ধরে নেমে আসেন

উত্তর: (ক) জগদীশবাবুর সিঁড়ি ধরে নামা হয়

১.১৭ ‘নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে’ এটি কোন্ বাচ্যের উদাহরণ?

(ক) কর্মবাচ্য
(খ) ভাববাচ্য
(গ) কর্তৃবাচ্য
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য

উত্তর: (গ) কর্তৃবাচ্য

২। কমবেশি ২০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

২.১ নীচের যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

২.১.১ “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের” নদেরচাঁদের কেন ভয় করতে লাগল?

উত্তর: ক্ষোভে রোষে উন্মত্ত জলরাশির দিকে দৃষ্টিপাত করে তার ভয় করতে লাগল।

২.১.২ “অমৃত ফতোয়া জারি করে দিল,” অমৃত কী ‘ফতোয়া’ জারি করেছিল?

উত্তর: ঠিক ইসাবের মতো জামাটি না পেলে ও ইস্কুলে যাবে না, এই ফতোয়া জারি করেছিল অমৃত।

২.১.৩ “বুড়োমানুষের কথাটা শুনো।” বুড়োমানুষের কোন্ কথা শুনতে বলা হয়েছে?

উত্তর: বুড়োমানুষ অর্থাৎ নিমাইবাবু যে কথাটি গিরিশ মহাপাত্রকে শুনতে বলেছিলেন তা হল- “আর গাঁজা খেও না।

২.১.৪ “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?” বস্তা একথা কাকে বলেছিলেন?

উত্তর: বক্তা অর্থাৎ বিরাগী জগদীশবাবুকে একথা বলেছিলেন।

২.১.৫ “আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।” বস্তার কোন্ দিনটি সবচেয়ে দুঃখের?

উত্তর: যেদিন বক্তা অর্থাৎ তপন নিজের লেখা গল্পটি মুদ্রিত আকারে হাতে পেয়েছিল।

২.২ নীচের যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

২.২.১ “এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে,”- ‘ওরা’ কারা?

উত্তর: ওরা বলতে ঔপনিবেশিক শক্তিকে বোঝানো হয়েছে।

২.২.২ “হায়, বিধি বাম মম প্রতি।” বস্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী?

উত্তর: দেবতাদের অনুগ্রহে রাম-লক্ষণ মরেও বেঁচে উঠেছিল। এইজন্য রাক্ষসরাজ রাবণ এরকম মন্তব্য করেছেন।

২.২.৩ “তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান” গান কোথায় বেড়াবে?

উত্তর: গান নদীতে, দেশ-গায়ে বেড়াবে ।

২.২.৪ “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?” কবি এ প্রশ্ন কাদের উদ্দেশে করেছেন?

উত্তর: কবি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে এই প্রশ্ন করেছেন।

২.২.৫ “সিন্ধুতীরে রহিছে মাঞ্জস।” ‘মাঞ্জুস’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: মাঞ্জস’ শব্দের অর্থ হলো ভেলা।

২.৩ নীচের যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

২.৩.১ “তাই নিয়ে আমাদের প্রথম লেখালেখি। “কী নিয়ে লেখকদের প্রথম ‘লেখালেখি’?

উত্তর: বাঁশের কলম, মাটির দোয়াত, ঘরে তৈরি কালি এবং লেখার জন্য কলাপাতা- এই নিয়ে লেখকদের প্রথম লেখালেখি।

২.৩.২ “লাঠি তোমার দিন ফুরাইয়াছে।” কথাটি কে বলেছিলেন?

উত্তর: কথাটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা।

২.৩.৩ “এতে রচনা উৎকট হয়।” রচনা ‘উৎকট’ হয় কীসে?

উত্তর: লেখক যদি ইংরেজিতে তার বক্তব্য ভাবেন এবং সেটিকে যথাযথ বাংলা অনুবাদ করে প্রকাশ করতে চান, তখন রচনা উৎকট হয়।

২.৩.৪ প্রয়োজনমতো বাংলা শব্দ পাওয়া না গেলে কী করা উচিত বলে লেখক মনে করেছেন?

উত্তর: প্রয়োজনমতো বাংলা শব্দ পাওয়া না গেলে ইংরেজি শব্দই বাংলা বানানে লেখা উচিত বলে লেখক মনে করেছেন।

২.৪ নীচের যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

২.৪.১ তির্যক বিভক্তি কাকে বলে?

উত্তর: যেসব বিভক্তি একাধিক কারকে প্রযুক্ত হয় তাদেরকে তির্যক বিভক্তি বলে।

২.৪.২ সম্বন্ধপদ কারক নয় কেন?

উত্তর: বাক্যের অন্তর্গত যে নামপদের ক্রিয়াপদের সঙ্গে সরাসরি কোনো সম্পর্ক থাকে না, বরং অন্য কোনো নামপদের সঙ্গে সম্বন্ধ থাকে ।

২.৪.৩ অব্যয়ীভাব সমাসের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: উপকূল= কূলের সমীপে (অব্যয়ীভাব সমাস)।

২.৪.৪ নিরপেক্ষ কর্তার উদাহরণ দাও।

উত্তর: রিয়া গান গাইলে অঙ্কিতা আবৃত্তি করবে- এই বাক্যে রিয়া হল নিরপেক্ষ কর্তা।

২.৪.৫ নিম্নরেখ শব্দটির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো: ‘পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে।’

উত্তর: পৃথিবী- কর্তৃকারক, শূন্য বিভক্তি।

২.৪.৬ উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ চিহ্নিত করো “ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল।”

উত্তর: উদ্দেশ্য- ‘ওরা’, বিধেয়- ‘ভয়ে কাঠ হয়ে গেল’।

২.৪.৭ সূর্য পশ্চিমদিকে উদিত হয়। বাক্য নির্মাণের কোন্ শর্ত এখানে লঙ্ঘন করা হয়েছে?

উত্তর: এখানে বাক্যনির্মাণের যে শর্টটি লঙ্ঘন করা হয়েছে তা হল- যোগ্যতা।

২.৪.৮ ‘বহুরূপী’ শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম করো।

উত্তর: বহুরূপী= বহু রূপ আছে যার (বহুব্রীহি সমাস)।

২.৪.৯ ‘কলম তাদের কাছে আজ অস্পৃশ্য।’ জটিল বাক্যে পরিবর্তন করো।

উত্তর: তাদের কাছে আজ যা অস্পৃশ্য তা হল কলম। (জটিল বাক্য)

২.৪.১০ ‘নদীর ধারে তার জন্ম হইয়াছে।’ কর্তৃবাচ্যে পরিণত করো।

উত্তর: তিনি নদীর ধারে জন্মাইয়াছেন। (কর্তৃবাচ্য)

৩। প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০ শব্দে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

৩.১ নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৩.১.১ “ছেলেদুটোর সবই একরকম, তফাত শুধু এই যে” ছেলেদুটি কে কে? তাদের মধ্যে তফাত কোথায়?

উত্তর: পান্নালাল প্যাটেল রচিত এবং অর্থকুসুম দত্তগুপ্ত অনুদিত ‘অদল বদল’ গল্পে ছেলে দুটি বলতে দুই অন্তরঙ্গ বন্ধু অমৃত ও ইসাবকে বোঝানো হয়েছে।
আলোচ্য দুই বন্ধুর আচার-আচরণ, পোশাক পরিচ্ছদ ইত্যাদির মধ্যে বহু মিল থাকলেও তফাত ছিল-
(i) সম্প্রদায়গত পরিচয়ে এবং
(ii) অমৃতের মা, বাবা ও তিন ভাই থাকলেও, বাবা ছাড়া ইসাবের আর কেউ ছিল না।

৩.১.২ “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।” কোন জিনিসের কথা বলা হয়েছে? তা দুর্লভ কেন?

উত্তর: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলোকে ‘দুর্লভ জিনিস’ বলা হয়েছে। ‘খুবই উঁচু দরের’ সন্ন্যাসীর বয়স হাজার বছরেরও বেশি। হিমালয়ের গুহায় একটি হরীতকী খেয়ে তিনি জীবনধারণ করে চলেছেন। ফলত তাঁর পায়ের ধুলো পাওয়া আদৌ সহজলভ্য বস্তু ছিল না। জগদীশবাবু অবশ্য সোনার বোল লাগানো নতুন খড়ম পরানোর ফাঁকে দুর্লভ জিনিসটি সংগ্রহ করেছিলেন।

৩.২ নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৩.২.১ “এসো যুগান্তের কবি,” ‘যুগান্তের কবি’কে কেন আহ্বান করা হয়েছে?

উত্তর: দীর্ঘদিন অন্তরালে থাকা ‘মানহারা মানবী’ আফ্রিকা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসী মনোভাবে অপমানিতা। মানবতার এই অপমান শুধু আফ্রিকার নয়, এই অপমান সমস্ত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের। সভা পুনিয়ার বর্বরোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতি আক্রমণ নয়, মানবতার পূজারী রবীন্দ্রনাথ ‘যুগান্তের কবি’র কাছে আহ্বান জানিয়েছেন আবির্ভূত হয়ে ক্ষমা প্রদান করতে। তিনি মানবতার পুণ্যা বাণী দ্বারা সকলকে উদ্বুদ্ধ করবেন এই বিশ্বাস থেকেই কবি তাকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

৩.২.২ “সে জানত না আমি আর কখনো ফিরে আসব না।”-‘সে’কে? ‘আমি আর কখনো ফিরে আসব না’ বলার কারণ কী?

উত্তর: পাবলো নেরুদা রচিত, নবারুণ ভট্টাচার্য অনুদিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় ‘সে’ বলতে অপেক্ষমানা মেয়েটির কথা বলা হয়েছে। কর্তব্যের খাতিরে স্বদেশ-স্বজন ছেড়ে কবি কথক হয়েছেন সুদুরের যাত্রী। বছরের পর বছর কেটে গেলেও তিনি ফিরে আসতে পারেননি। ঘটনাটি হৃদয়বিদারক হলেও তিনি প্রতীক্ষারতা মেয়েটিকে জানিয়ে যেতে পারেননি তাঁর না ফেরার কথা। বোধ করি সে কারণেই মেয়েটি দরজায় দাঁড়িয়ে কথকের ফেরার প্রতীক্ষা করেছিল বছরের পর বছর।

৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৪.১ “ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।”-কে, কাকে শিখিয়েছে? ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন ইসাবের বাবা পাঠান। এক্ষেত্রে যে – দুটি খাঁটি জিনিসের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে একটি হল মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসা যা পিতার কাছে সর্বদা মেলে না। আর অন্যটি হল নিখাদ বন্ধুত্ব যেটি অভিন্নহৃদয়ের দুই বন্ধু অমৃত ও ইসাবের মধ্যে দেখা গিয়েছিল।

৪.২ “তাহার পরিচ্ছদের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিল” কে হাসি গোপন করল? তার হাসি পাওয়ার কারণ কী?

উত্তর: অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনাংশে অপূর্ব মুখ ফিরিয়ে হাসি গোপন করেছিল।
গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত সাজসজ্জা দেখে অপূর্বের মনে হাসির উদ্রেক ঘটেছিল। আসলে, শুধু অপূর্ব নয়, গিরীশ মহাপাত্রের বেশভূষা থানায় উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।গিরীশ মহাপাত্রের সাজ ছিলো ঠিক এরকম–
তার মাথার সামনের দিকে ছিল বড়ো বড়ো
চুল কিন্তু দুপাশে এবং পিছনের দিকে চুল ছিল না বললেই চলে। সেই চুল থেকে নেবুর তেলের উৎকট গন্ধ সকলের মাথা ধরে গিয়েছিল। তার গায়ে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি, পরনে ছিল বিলেতি মিলের কালো মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি। পাঞ্জাবির বুক পকেট থেকে বাঘ আঁকা একটা রুমালের কিছু অংশ বেরিয়েছিল এবং উত্তরীয় ছিল না। তার পায়ে সবুজ রঙের ফুল মোজা, সেগুলি হাটুর উপরে লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা এবং দু’পায়ে বার্নিশ করা পাম্প শু। জুতোর তলাটা মজবুত ও টেকসই করার জন্য আগাগোড়া লোহার নাল বাঁধানো ছিল। এছাড়া, তার হাতে ছিল হরিণের শিং-এর হাতল দেওয়া এক গাছি বেতের ছড়ি, যেগুলি গত কয়েকদিনের জাহাজের ধকলে নোংরা হয়ে গিয়েছিল। এই সাজ দেখে অপূর্ব মুখ ফিরিয়ে হাসি গোপন করেছিল।

৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৫.১ “অভিষেক করিলা কুমারে।” ‘কুমার’ কে? পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে কুমারের চরিত্র আলোচনা করো।

উত্তর: অভিষেক করিলা কুমার হলেন একজন বিখ্যাত বাংলা ছবি অভিনেতা। তিনি একজন অভিনয় শিল্পী এবং সঙ্গীতশিল্পী হিসাবেও পরিচিত। তাঁর আসল নাম হল বিজয় কুমার মল্লিক, তবে তিনি তাঁর প্রফেশনাল নামটি ব্যবহার করেন। অভিষেক করিলা কুমারের জন্ম ১৫ জানুয়ারি, ১৯৬৯ সালে হয়েছে। তিনি অভিনয়ের জগতে এক দশক ধরে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারের সাথে সাথে বাংলা গান শিল্পেও প্রতিষ্ঠিত হন।
অভিষেক করিলা কুমার একজন বিশেষভাবে প্রতিভাশালী অভিনেতা। তিনি বিভিন্ন ধরনের ভূমিকায় সাফল্য অর্জন করেছেন, যেমন প্রধান পাত্র, কার্যকারিতা পাত্র, নায়ক পাত্র এবং অন্যান্য ভূমিকা প্রদান করেছেন। তিনি একটি আদর্শমূলক অভিনেতা হিসাবে পরিচিত।

৫.২ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার বিষয়বস্তু সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় সমাজ ব্যবস্থার সঙ্কট মুহূর্তের এক প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। কবিতার মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ভাবে বিপন্ন মানুষের কথা তুলে ধরেছেন সমাজ সচেতন কবি। এইসব মানুষদের ডানদিকের পথ ধ্বসে রুদ্ধ, বাম দিকে গভীর গিরিখাদ দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত
মাথার উপর আকাশটাও নিরাপদ নয়, সেখানে বোমারু বিমানের আনাগোনা। দুর্দশাগ্রস্ত মানুষেরা আজ গৃহহারা। শিশুদের সব ‘ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে’। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকতে কবির আহ্বান- “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।”
কেবল সমাজের বাহ্যিক অবক্ষয় নয়। বিপন্ন মানুষেরা আজ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই দুর্বলতার কারন তাদের কোনো ইতিহাস নেই। যদিও বা থাকে, সেখানে প্রকৃত সত্যের উন্মোচন ঘটেনি।
এইসব বিপন্ন মানুষেরা আজ সহানুভূতির কাঙাল। পৃথিবীর অন্যান্য মানুষ কোনো ভাবেই মনে রাখেনি তাদের কথা। এমতাবস্থায় যে কজন বেঁচে থাকতে পারবেন, তাদের একটাই কাজ হবে হাতে হাত রেখে বেঁধে বেঁধে থাকা। অর্থাৎ পারস্পরিক ঐক্য সুদৃঢ় করে, নিজেদের শক্তিকে একত্রিত করে অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে একত্রে বেঁচে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কবি।

৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৬.১ “বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চায় এখনও নানারকম বাধা আছে।” লেখক কোন্ ধরনের বাধার কথা বলেছেন?

উত্তর: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান” – প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা বিষয়ে বিভিন্ন বাধা এর কথা আলোচনা করেছেন।
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চায় নানারকম বাধা গুলি হলো–
প্রথমত, ইংরেজী জানেন এবং ইংরেজীতে বিজ্ঞান পাঠ এমন পাঠকের বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা বেশ কঠিন ।
দ্বিতীয়ত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উপযুক্ত পারিভাষিক শব্দের অভাব এ পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
তৃতীয়ত, পাশ্চাত্য দেশগুলির তুলনায় আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের বিজ্ঞানবোধ খুবই কম । সামান্য বিজ্ঞানবোধ না থাকলে বিজ্ঞান ভিত্তিক রচনা বোধগম্য হয় না । তাই বাংলায় বিজ্ঞান রচনার ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে গিয়েছে ।
চতুর্থত, অনেকে পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে রচনাকে সহজ বোধ্য করার ভাবনা ভাবলেও তা বাস্তবতা পায়নি ।
পঞ্চমত, অনেক লেখকের ভাষা আড়ষ্টতা ও ইংরেজির আক্ষরিক অনুবাদ দোষে দুষ্ট হয়ে রচনা তার সাবলীলতা হারায়
ষষ্ঠত, ভুল তথ্য পরিবেশন । অনেকেই না জেনে বা সামান্য জেনে বাংলায় বিজ্ঞান রচনায় ভুল তথ্য পরিবেশন করেন।
সপ্তমত, শেষ বাধাটি হলো– উপমা ও রূপক ছাড়া অন্যান্য অলংকার বিজ্ঞানভিত্তিক রচনার গুরুত্বকে লঘু করে দেখায় ।

৬.২ “আমার মনে পড়ে প্রথম ফাউন্টেন কেনার কথা।”-বস্তার আসল নাম কী? তাঁর ফাউন্টেন কেনার ঘটনাটি বিবৃত করো।

উত্তর: কবি শ্রীপান্থের লেখা ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে ‘আমার’ বলতে এখানে স্বয়ং লেখককে বোঝানো হয়েছে।
লেখকের প্রথম ফাউন্টেন কেনার অভিজ্ঞতাটি তাঁর মনে রয়ে গেছে, সময়টা ছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কয়েক বছর পর । লেখক কলেজ স্ট্রিটের এক নামি দোকানে ফাউন্টেন পেন কিনবেন বলে গিয়েছিলেন । কী পেন কিনবেন দোকানি এ কথা জানতে চাওয়ায় লেখক কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান । তারপর দোকানি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে পার্কার, শেফার্ড, ওয়াটারম্যান সোয়ান, পাইলট প্রভৃতি পেনের দামসহ নামগুলি মুখস্থ বলতে লাগলেন । ইতিমধ্যে দোকানদার তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে পকেটের অবস্থা আন্দাজ করে সস্তার এক পাইলট নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন । জাপানি পাইলট কতটা টেকসই তা বোঝানোর জন্য দোকানদার পেনের ছিপিটা খুলে সার্কাসের ছুরির মতো পেনটা একটা কার্ডবোর্ডের ওপর ছুঁড়ে মারেন এবং পেনটা কার্ডবোর্ডে গেথে যায় তারপর পেনটি কার্ডবোর্ড থেকে খুলে লেখককে নিবটি যে অক্ষত আছে তা দেখালেন । তাই এই ঘটনাটি লেখকের এখনো মনে পড়ে।

৭। কমবেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৭.১ “এইবার হয় ত শেষ যুদ্ধ।” কোন্ যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে? বক্তা এই যুদ্ধকে ‘শেষ যুদ্ধ’ বলেছেন কেন?

উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে পলাশীর যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে।
বাংলার নবাব হিসেবে সিংহাসন লাভ করার পর থেকেই সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল রচনা করা হয়েছিল। আসলে অপুত্রক নবাবের দৌহিত্র সিরাজকে বাংলার মসনদের উত্তরাধিকারি হিসেবে অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। এমনকি, সিরাজের সিংহাসনে বসা নিয়ে তাঁর আত্মীয়স্বজনদের মনেও আতঙ্ক ছিল। ধূর্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর পূর্ণ সুযোগ নিয়েছিল। তারা সিরাজের আত্মীয়স্বজনদের মন বিষিয়ে দিয়েছিল এবং তাঁর সভাসদদের নবাব-বিরোধী কাজে প্ররোচিত করেছিল। একইসঙ্গে তারা সিরাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আয়োজন শুরু করে দিয়েছিল। পলাশির প্রান্তরে যে যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সিরাজ সে খবর জানতেন। কথা প্রসঙ্গে সেই কথাই তিনি বেগম লুৎফাকে বলেছিলেন। সিরাজ এই পলাশির যুদ্ধকেই ‘শেষ যুদ্ধ’ বলেছেন কারণ তিনি জানতেন যে, এই যুদ্ধে ইংরেজদের হারাতে পারলে ইংরেজদের প্রতিহত করা সম্ভব হবে এবং তিনি যদি হেরে যান তবে তাঁকে প্রাণে মরতে হবে।

৭.২ “দরবার ত্যাগ করতে আমরা বাধ্য হচ্ছি জাঁহাপনা। “বক্তা কে? তাঁরা কেন দরবার ত্যাগ করতে চান?

উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে মীরজাফর একথা বলেছেন। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্ররোচনায় সিরাজের সভাসদদের একাংশ রাজদ্রোহে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। সেই দলে ছিলেন মীরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, জগতশেঠ প্রমুখ। আলোচ্য অংশে ‘আমরা’ বলতে এইসকল সভাসদদের বোঝানো হয়েছে। তারা নবাবের দরবার ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। আসলে নবাব-বিরোধী সভাসদদের প্রধান মন্ত্রনাদাতা ছিলেন জনৈক ইংরেজ কর্মচারি ওয়াটস। এই ওয়াটস ছিল নবাবের দরবারে নিযুক্ত ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন প্রতিনিধি। রাজদ্রোহে লিপ্ত থাকার অপরাধে সিরাজ তাকে দরবার থেকে বিতাড়িত করেন। রাজা রাজবল্লভ এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে নবাব রাজদ্রোহী সভাসদদের সতর্ক করে বলেন যে সকলের কুকীর্তির খবর তিনি রাখেন। এই প্রসঙ্গে নবাব-অনুগামী মোহনলাল এবং মীরমদন নবাবের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানায়। তারা স্পষ্ট ভাষায় বলে, “আমরা নবাবের নিমক বৃথাই খাই না”। তাদের কথায় অপমানিত বোধ করেন নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরজাফর। সেইজন্য তিনি স্বপক্ষীয় সভাসদদের সঙ্গে দরবার ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন।

৮। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৮.১ “ফাইট কোনি, ফাইট” সাধারণ সাঁতারু থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠতে গিয়ে কোনিকে কী ধরনের ‘ফাইট’ করতে হয়েছিল, নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর: জনপ্রিয় বিখ্যাত লেখক মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে একজন সাধারণ মেয়ের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি বিবৃত হয়েছে। শ্যামপুকুর বস্তির এক হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে কোনি বহু বাধা পেরিয়ে একসময় ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু হয়ে ওঠে। কোনির এই উত্তরণ স্বাভাবিক ছন্দে হয়ে ওঠে নি, রীতিমতো তাকে ‘ফাইট’ করেই এগোতে হয়েছে। সাধারণ সাঁতারু থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠতে গিয়ে কোনিকে যে ধরনের ‘ফাইট’ করতে হয়েছিল তা এইরকম-
দারিদ্রের বিরুদ্ধে ফাইট- কোনির প্রথম লড়াইটা ছিল দারিদ্র্যের সঙ্গে। সে এমন এক পরিবারের মেয়ে যেখানে তিনবেলা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাটাই একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়। সুতরাং তার পরিবারের পক্ষে কোনিকে সাঁতার শেখানো তো দূরের কথা, একটা কস্ট্যুম কিনে দেওয়ার সামর্থ্যও তাদের ছিল না। তাছাড়া, দারিদ্রের কারণেই তাকে সাঁতার শেখার শুরুর সময় থেকে মাদ্রাজ পৌঁছনো অবধি নানাভাবে বিদ্রুপের শিকার হতে হয়েছে। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, ক্ষিতিশের নজরে না পড়লে কোনির সাঁতার শেখাই হতো না।
নিজের সঙ্গে ফাইট- কোনি না ছিল বড়লোক বাড়ির মেয়ে, না ছিল তার তেমন শিক্ষাদীক্ষা। তাই অমিয়া যখন তাকে ‘ঝি’ বলেছিল, সে খুব লজ্জা পেয়েছিল। সে তখন ভেবেছিল যে হাতের লেখাটা ভালো হলে কাউন্টারে বসত। সেটা যখন হয়ে ওঠেনি, কোনি ক্ষিদ্দাকেই প্রশ্ন করে “অমিয়ার রেকর্ডটা কবে ভাঙতে পারবো?” আসলে এটা ছিল তার নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই, ক্ষমতা দিয়ে অক্ষমতা ঢাকানোর লড়াই।
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ফাইট- জুপিটারের ক্ষিতীশবিরোধী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিল কোনি। তাকে কখনো অন্যায়ভাবে ডিসকোয়ালিফাই করা হয় কখনো হারানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি, তাকে বাংলা দল থেকে বাদ দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
বঞ্চনার বিরুদ্ধে ফাইট- মাদ্রাজে পৌঁছেও কোনিকে নানা অজুহাতে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। একের পর এক প্রতিযোগিতা সে গ্যালারিতে বসে দেখেছে, জলে নামার সুযোগ পায়নি।
শেষপর্যন্ত সত্যেরই জয় হয়। মাদ্রাজে জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় শেষ মুহূর্তে নামার সুযোগ পেয়ে কোনি নিজের প্রতিভা প্রমাণ করে দিয়েছিল।

৮.২ “ক্ষিদ্দা, এবার আমরা কী খাব?” বক্তা কে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কীভাবে তাদের সাহায্য করেছেন?

উত্তর: মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে কোনি ক্ষিতীশকে একথা বলেছিল।
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি অর্থাৎ কোনের সাঁতার- প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ শুধু একজন ভালো প্রশিক্ষক ছিলেন না, একজন বিরাট হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। গঙ্গায় কোনির সাঁতার দেখে তিনি স্বেচ্ছায় তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। শুধু তাই নয়, কোনির খাবারের ব্যবস্থাও তিনি করেছিলেন। তারপর হঠাৎ একদিন কোনিদের পরিবারে দুর্যোগের কালো মেঘ নেমে আসে- কোনির বড় দাদা কমল টিবি রোগে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। সেই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার মৃত্যুতে কোনিদের পরিবার সর্বহারা হয়ে যায়। এইরকম পরিস্থিতিতে কোনি ক্ষিতীশকে জিজ্ঞেস করেছিল “খিদ্দা, এবার আমরা কী খাব?”
ক্ষিতীশ এরপর নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়ে কোনির পরিবারের অন্নসংস্থানের বন্দোবস্ত করেছিল। কোনির সঙ্গে সঙ্গে কোনির পরিবারকে বুক দিয়ে আগলেছিল কোনির প্রিয় ক্ষিদ্দা ক্ষিতীশ।
ক্ষিতীশ কোনির মাকে ছিট কাপড় কাটার কাজ দিয়েছিলেন। তিনি নিজে এসে ছিট কাপড় পৌঁছে দিয়ে যেতেন এবং সেগুলি কাটা হয়ে গেলে কোনির মাধ্যমে পাঠানো হতো। এর থেকে তাদের অল্প কিছু উপার্জন হত। তাছাড়া, কোনিকেও লীলাবতীর দোকানে চল্লিশ টাকা মাসমাইনের কাজ জোগাড় করে দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও ক্ষিতীশ নানাভাবে কোনির পরিবারকে সাহায্য করতেন।

৮.৩ “খাওয়ায় আমার লোভ নেই। ডায়েটিং করি।” বস্তা কে? তার ডায়েটিং-এর পরিচয় দাও।

উত্তর: সাংবাদিক-সাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে বিষ্টুচরণ ধর একথা বলেছিল।
ভোজনরসিক বিষ্টু ধর একজন অত্যন্ত বনেদি বংশের লোক এবং অন্যান্য সম্পত্তির সঙ্গে সে একটি সাড়ে তিন মণ দেহের মালিক। তার এই স্থূলতার জন্য ঘরে বাইরে তাকে নিন্দাবাণে জর্জরিত হতে হয়। বারুণীর দিন গঙ্গার ঘাটে মালিশ করাতে এসেও তার রেহাই নেই। জনৈক চশমাধারী ছিপছিপে চেহারার প্রৌঢ় (ক্ষিতীশ) তাকে হিপো, হাতি ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে দেন। এই প্রসঙ্গেই বিষ্টু ধর অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানায় যে সে রীতিমত ডায়েটিং করে। তার ডায়েটিং ছিল এইরকম সে রোজ তিনশো গ্রাম ক্ষীর খায়, আগে খেতো আধ কিলো; জলখাবারে খায় পনেরোটা লুচি, আগে খেতো কুড়িটা; আড়াইশো গ্রাম চালের ভাত এবং রাতে বারোখানা রুটি রয়েছে তার দৈনিক খাদ্যতালিকায়। এখন গরম ভাতের সঙ্গে মাত্র চার চামচ ঘি খায় সে, আগে অনেক বেশি খেতো। তার অন্যান্য আহারের মধ্যে রয়েছে বিকেলে দু-গ্লাস মিছরির শরবত আর চারটে কড়াপাক। তবে, মাছ বা মাংস সে ছুঁয়েও দেখে না কারণ বাড়িতে রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ রয়েছে।
অন্যরা যে যাই বলুক, বিষ্টু ধরের মতে, সকাল থেকে রাত অবধি ব্যবসা সামলে এই আহার নিতান্তই অপর্যাপ্ত। দুঃখের সুরে সে বলে, “এত খাটুনির পর এইটুকু খাদ্য!”

৯। চলিত গদ্যে বঙ্গানুবাদ করো:

Home is the first school where the child learns his first lesson. He sees, hears and begins to learn at home. In a good home honest and healthy men are made. Bad influence at home spoils a child.

উত্তর: বাড়ি হলো প্রথম স্কুল যেখানে শিশু তার প্রথম পাঠ শিখে। সে বাড়িতে দেখে, শোনে এবং শেখা শুরু করে। একটি ভালো বাড়িতে সৎ ও স্বাস্থ্যবান মানুষ তৈরি হয়। বাড়ির খারাপ প্রভাব একটি শিশুকে নষ্ট করে।

১০। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১০.১ মাধ্যমিকের পর কী বিষয় নিয়ে পড়বে এ বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

উত্তর:
তন্ময়: মাধ্যমিকের রেজাল্ট তো বেরিয়ে গেল। তুই ঠিক করেছিস, এরপর কোন বিষয় নিয়ে পড়বি?
অনিক: হ্যাঁ, ভাবছি সায়েন্স নেব। তুই কী নেবি?
তন্ময়: আমি এখনও ঠিক করে উঠতে পারছি না। আমার মনে হয়, আর্টস নেব। ইতিহাস আর সাহিত্যে আগ্রহ আছে।
অনিক: আর্টস ভালো, কিন্তু তুই তো বিজ্ঞানে ভালো ছিলি। সায়েন্স নিয়ে পড়লে ভবিষ্যতে অনেক সুযোগ পাবি।
তন্ময়: হ্যাঁ, জানি। কিন্তু আমি ভাবছি নিজের আগ্রহের বিষয় নিয়ে পড়বো। লেখালেখির প্রতি টানটা অনেক দিন ধরেই আছে।
অনিক: ভালো কথা। যেটাতে তোর আগ্রহ সেটা নিলে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে পারবি। তবে ভাবিস যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিস।
তন্ময়: ঠিক বলেছিস। যেটাতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারব সেটাই বেছে নেব। তুই সায়েন্স নিয়ে কী করবি?
অনিক: আমি ডাক্তারি পড়তে চাই। তাই সায়েন্স নিয়ে এগোবো।
তন্ময়: বাহ, বেশ ভালো সিদ্ধান্ত! আশা করি দুজনেই সফল হবো।

১০.২ তোমার এলাকায় অরণ্য সপ্তাহ পালিত হল এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

অরণ্য সপ্তাহ পালন

গত সপ্তাহে আমাদের এলাকায় অরণ্য সপ্তাহ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হলো। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশ সুরক্ষা ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনভূমি রক্ষা করা। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ৭ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

প্রথম দিন থেকেই স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। এলাকার প্রধান সড়ক ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একাধিক সেমিনার এবং পথনাটিকা আয়োজন করা হয়েছিলো।

এছাড়াও, স্থানীয় ক্লাবগুলোর সহযোগিতায় একটি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বনভূমি রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়া হয়। এই উদ্যোগে এলাকার মানুষজন ব্যাপক সাড়া দেয় এবং সকলে মিলে পরিবেশ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।

অরণ্য সপ্তাহ আমাদের এলাকায় পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

১১। কমবেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো।

১১.১ বিজ্ঞানের ভালো-মন্দ

উত্তর: বিজ্ঞান আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানব সভ্যতার উন্নতির পেছনে বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম। তবে বিজ্ঞানের যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে, যা আমাদের চিন্তাভাবনার মধ্যে রাখা উচিত।
বিজ্ঞানের ভালো দিক: বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় অবদান হলো প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে সহজ, আরামদায়ক ও উন্নত করে তুলেছে। উদাহরণস্বরূপ, বিদ্যুৎ আবিষ্কার আমাদের জীবনযাত্রার মান অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিদ্যুতের সাহায্যে আমরা আলো জ্বালাতে পারি, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করতে পারি, যা আমাদের দৈনন্দিন কাজকে দ্রুত ও সহজ করে তুলেছে।
এছাড়াও, চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে অনেক মারাত্মক রোগের চিকিৎসা এখন সম্ভব। আগে যে রোগগুলো মানুষকে দ্রুত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিত, সেসব রোগের জন্য আজ উন্নত চিকিৎসা এবং ওষুধ রয়েছে। যেমন: প্লেগ, বসন্ত বা ম্যালেরিয়া এখন আর ততটা ভয়ঙ্কর নয়, কারণ বিজ্ঞান তাদের জন্য প্রতিষেধক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য। আগে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া ছিল অনেক সময়সাপেক্ষ এবং কঠিন। কিন্তু এখন আমরা গাড়ি, ট্রেন, বিমান ইত্যাদির মাধ্যমে খুব কম সময়ের মধ্যে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারি। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে এবং বিশ্ব একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এ পরিণত হয়েছে।
বিজ্ঞানের মন্দ দিক: বিজ্ঞানের এই উন্নতির পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক প্রভাবও দেখা যাচ্ছে। পারমাণবিক শক্তির উদ্ভাবন বিজ্ঞানের একটি বড় সাফল্য হলেও, এর অপব্যবহার মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার এর এক জ্বলন্ত উদাহরণ। এতে হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল, এবং এর প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রয়ে গেছে।
এছাড়া, প্রযুক্তির অত্যধিক ব্যবহার মানুষকে শারীরিকভাবে অলস এবং মানসিকভাবে একাকী করে তুলছে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, এই যন্ত্রগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
পরিবেশের ওপর বিজ্ঞানের নেতিবাচক প্রভাবও মারাত্মক। কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য ও ধোঁয়া পরিবেশকে দূষিত করছে। এই দূষণ জলবায়ু পরিবর্তন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
উপসংহার: সব মিলিয়ে, বিজ্ঞানের ভালো-মন্দ উভয় দিকই আছে। এর ভালো দিকগুলো আমাদের জীবনকে উন্নত করেছে, কিন্তু মন্দ দিকগুলো নিয়ন্ত্রণ না করলে তা মানবজাতির জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। সঠিকভাবে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করলে আমরা এর সুফল উপভোগ করতে পারব, এবং এর নেতিবাচক প্রভাবগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারব।

১১.২ একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

উত্তর: গত শীতের ছুটিতে আমি এবং আমার বন্ধুরা কক্সবাজারে একটি সামুদ্রিক ভ্রমণে গিয়েছিলাম। কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত, এবং আমরা সবাই এই ভ্রমণ নিয়ে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত ছিলাম।কক্সবাজারের বিশাল সমুদ্র, সোনালী বালুকা, আর নীল আকাশ আমাদের মনকে শীতল করবে, এমন আশা নিয়েই আমরা ভ্রমণ শুরু করেছিলাম।

আমরা সকালের প্রথম দিকে ঢাকার একটি বাসে চেপে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। দীর্ঘ যাত্রা শেষে সন্ধ্যায় যখন কক্সবাজার পৌঁছালাম, তখন সৈকতের ধারে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বিশালতা দেখে আমরা অবাক হয়ে গেলাম। দূর পর্যন্ত বিস্তৃত সাগর, আকাশের সাথে মিশে থাকা সাগরের জলরাশি, আর তার সাথে ঢেউয়ের শব্দ যেন আমাদের ক্লান্তি এক নিমিষেই দূর করে দিল।

পরদিন সকালে আমরা সমুদ্র সৈকতে হাঁটতে বের হলাম। সূর্যের কোমল আলো তখন সাগরের জলে ঝিলমিল করছিল, আর বাতাসে নোনতা গন্ধ আমাদের মনকে সতেজ করছিল। আমি জুতা খুলে বালির ওপর হাঁটতে শুরু করলাম। পায়ের তলায় নরম বালির স্পর্শ ও সাগরের ঢেউয়ে পায়ের আর্দ্রতা এক নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিল। আমরা সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে খেলা করলাম, দূর থেকে জাহাজের চলাচল দেখলাম, আর সমুদ্রের নিঃসীম সৌন্দর্য উপভোগ করলাম।

দুপুরে আমরা ইনানী সৈকতে গেলাম, যেখানে সাগরের নীল পানি আর বিশাল পাথরের সারি আমাদের মুগ্ধ করল। সমুদ্রের জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকার সময় মনে হচ্ছিল যেন পুরো প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে গেছি। ইনানী সৈকতের পাথুরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অতুলনীয়। সেখানে কিছুক্ষণ কাটানোর পর আমরা স্থানীয় খাবার খেলাম, যা ছিল তাজা সামুদ্রিক মাছের বিভিন্ন পদ।

সন্ধ্যায় আমরা সমুদ্রের ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখার জন্য অপেক্ষা করলাম। সূর্যটি ধীরে ধীরে সাগরের পানে নেমে যাচ্ছিল, আর আকাশ লাল-কমলা রঙে রঙিন হয়ে উঠছিল। সেই মুহূর্তটি ছিল সত্যিই অপূর্ব, এবং আমরা সবাই মুগ্ধ হয়ে সেই দৃশ্য উপভোগ করলাম।

এই সামুদ্রিক ভ্রমণ আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। কক্সবাজারের সমুদ্র, বালুকাবেলা, আর প্রকৃতির নিঃসীম সৌন্দর্য আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। সমুদ্রের শান্তি ও বিশালতা আমাকে নতুনভাবে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তুলেছে, যা আমি কখনো ভুলব না।

১১.৩ আমাদের পরিবেশ সমস্যা ও প্রতিকার

উত্তর: বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ সমস্যা একটি গুরুতর সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমাদের দেশও এই সমস্যার বাইরে নয়। শিল্পায়ন, নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, এবং প্রকৃতির প্রতি মানুষের অবহেলা পরিবেশকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা মানবজীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। আমাদের দেশের প্রধান পরিবেশ সমস্যা হলো বায়ু দূষণ, জল দূষণ, বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, এবং শব্দ দূষণ। এসব সমস্যা মানব জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এর প্রতিকার এখনই জরুরি।

প্রথমত: বায়ু দূষণ: আমাদের পরিবেশের অন্যতম বড় সমস্যা। যানবাহন, শিল্প কারখানা, ইটভাটা, এবং বর্জ্য পোড়ানোর ফলে প্রতিনিয়ত বায়ুতে ক্ষতিকারক গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। এর ফলে মানুষ শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ক্যানসারসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত: জল দূষণ: আমাদের দেশের প্রধান পরিবেশগত সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি। কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ময়লা-আবর্জনা, এবং নদী-নালা-খালের ওপর অধিক চাপের কারণে জল দূষিত হচ্ছে। দূষিত পানির ফলে নানা ধরনের রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে এবং জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পথে যাচ্ছে।

তৃতীয়ত: বন উজাড়: আমাদের দেশে পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার একটি বড় কারণ। কৃষিজমি বৃদ্ধির জন্য, নগরায়নের জন্য, এবং অবৈধ কাঠ কাটার জন্য বনভূমি দ্রুত উজাড় হচ্ছে। ফলে বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে, এবং জলবায়ুর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন: এর ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ইত্যাদি মানুষের জীবন ও সম্পদকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব পরিবর্তন আমাদের কৃষি, জনস্বাস্থ্য, এবং জীববৈচিত্র্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

কীভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়? এর জন্য কিছু প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

  • গাছ লাগানো: বনভূমি সংরক্ষণ করতে হবে। এতে করে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কমবে এবং বায়ুর মান ভালো হবে।
  • পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি: পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে বায়ু দূষণ কমবে।
  • শিল্প ও কারখানা: শিল্প ও কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নদী-নালা এবং পানির উৎসকে দূষণমুক্ত রাখতে হবে।
  • জনসচেতনতা বৃদ্ধি: জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে সবাই পরিবেশের গুরুত্ব বুঝতে পারে এবং দূষণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।

সর্বোপরি, পরিবেশ সুরক্ষার জন্য সরকার, সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আমাদের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে একটি সুস্থ, সবুজ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে।

১১.৪ খেলাধুলা ও ছাত্রসমাজ

উত্তর: খেলাধুলা ছাত্রসমাজের জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শুধু শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার মাধ্যম নয়, বরং মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলী, ও সামাজিক দক্ষতা গড়ে তোলার একটি কার্যকর উপায়। আজকের প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। একজন ছাত্রের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য।

প্রথমত: খেলাধুলা শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খেলাধুলা করার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সক্রিয় থাকে। ছাত্রজীবনে পড়াশোনার চাপ এবং দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকার কারণে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে, যা নিয়মিত খেলাধুলা করার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

দ্বিতীয়ত: খেলাধুলা ছাত্রদের মানসিক বিকাশে সহায়ক। এটি মানসিক চাপ কমায় এবং মনকে সতেজ রাখে। খেলাধুলার মাধ্যমে ছাত্ররা শৃঙ্খলা, ধৈর্য, এবং সময় ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী অর্জন করে। একজন ছাত্র যখন কোনো খেলার অংশগ্রহণকারী হয়, তখন তার মধ্যে সহনশীলতা, পরিশ্রম, এবং পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে ওঠে। এই গুণাবলী শিক্ষাজীবনে এবং পরবর্তী কর্মজীবনে সফল হতে অত্যন্ত সহায়ক।

তৃতীয়ত: খেলাধুলা ছাত্রদের নেতৃত্ব ও দলবদ্ধতার গুণাবলী শেখায়। একটি দলগত খেলায় অংশগ্রহণ করার সময় ছাত্ররা শিখে কীভাবে দলগতভাবে কাজ করতে হয়, দলকে নেতৃত্ব দিতে হয় এবং সবার মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে হয়। এর মাধ্যমে তারা নেতৃত্ব দেওয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়া, এবং সময়মতো সঠিক কাজটি করার দক্ষতা অর্জন করে। এসব গুণ ভবিষ্যতে তাদের কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগে।

চতুর্থত: খেলাধুলা ছাত্রদের সামাজিক দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। মাঠে খেলতে গিয়ে তারা বিভিন্ন মানুষ ও বন্ধুদের সঙ্গে মেশে, নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে শেখে। এতে করে তাদের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, যা তাদের ব্যক্তিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করে।

তবে, খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনার গুরুত্বও অনস্বীকার্য। অতিরিক্ত খেলাধুলায় মনোনিবেশ করে পড়াশোনাকে অবহেলা করা উচিত নয়। পড়াশোনা এবং খেলাধুলার মধ্যে সঠিক সামঞ্জস্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ছাত্ররা উভয় ক্ষেত্রেই সফল হতে পারে।

অবশেষে বলা যায়, খেলাধুলা ছাত্রদের মানসিক, শারীরিক, এবং সামাজিক বিকাশে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে। একটি সুস্থ সমাজ গড়তে ছাত্রদের জীবনে খেলাধুলার চর্চা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।


MadhyamikQuestionPapers.com এ আপনি আরও বিভিন্ন বছরের প্রশ্নপত্রের উত্তরও পেয়ে যাবেন। আপনার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কেমন লাগলো, তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আরও পড়ার জন্য, জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য MadhyamikQuestionPapers.com এর সাথেই থাকুন।

Tag Post :
Share This :

2 Responses

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Post

Don't See The Answer You Need?

Don’t hesitate to drop your message