আপনি কি মাধ্যমিকের বাংলা প্রশ্নপত্রের উত্তর খুঁজছেন? এই Article এ আপনি পাবেন ২০১৭ সালের সম্পূর্ণ বাংলা প্রশ্নপত্রের সঠিক উত্তর।
নিচে ২০১৭ সালের বাংলা প্রশ্নপত্রের সব উত্তর সাজিয়ে দেওয়া আছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নপত্র এবং তার উত্তর খুবই গুরুত্তপূর্ণ ।
MadhyamikQuestionPapers.com, ২০১৭ থেকে আজকে পর্যন্ত যত মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়েছে, তার প্রশ্নপত্র এবং তার সাথে তাদের উত্তর সমূহ সম্পূর্ণ Free তে Upload করেছে ।
Download 2017 to 2024 All Subject’s Madhyamik Question Papers
View All Answers of Last Year Madhyamik Question Papers
তাড়াতাড়ি প্রশ্ন এবং তার উত্তর খুজতে চাইলে নিচের Table of Contents এর পাশে যে [!!!] এইরকম চিহ্নটিতে Click করুন। এই page এ যতগুলি প্রশ্নের উত্তর আছে সেই সব প্রশ্নগুলি Table of Contents এ পর পর দেওয়া আছে, প্রশ্নের ওপর ক্লিক করলেই প্রশ্নের উত্তরে Direct চলে যেতে পারবেন।
Table of Contents
Toggle১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:
১.১ গিরীশ মহাপাত্রের সাথে অপূর্বের পুনরায় কোথায় দেখা হয়েছিল?
(ক) পুলিশ স্টেশনে
(খ) জাহাজ ঘটায়
(গ) রেল স্টেশনে
(ঘ) বিমান বন্দরে
সঠিক উত্তর: (গ) রেল স্টেশনে
১.২ বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার হয়েছিল-
(ক) আট টাকা দশ আনা,
(খ) আট টাকা আট আনা,
(গ) দশ টাকা চার আনা,
(ঘ) দশ টাকা দশ আনা।
সঠিক উত্তর: (খ) আট টাকা আট আনা
১.৩ হোলির দিন দলের ছেলেরা অমৃত আর ইসাবকে একরকম পোশাকে দেখে কী করতে বলেছিল?-
(ক) ছবি আঁকতে,
(খ) হোলি খেলতে,
(গ) কুস্তি লড়তে,
(ঘ) ফুটবল খেলতে।
সঠিক উত্তর: (গ) কুস্তি লড়তে,
১.৪ ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) ‘লোরচন্দ্রাণী’,
(খ) ‘পদ্মাবতী’,
(গ) ‘সতীময়না’,
(ঘ) ‘তোহফা’।
সঠিক উত্তর: (খ) ‘পদ্মাবতী’
১.৫ “প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস,” ‘প্রদোষ’ শব্দের অর্থ
(ক) সন্ধ্যা,
(খ) ভোর,
(গ) রাত্রি,
(ঘ) দুপুর।
সঠিক উত্তর: (ক) সন্ধ্যা
১.৬ ইন্দ্রজিতের স্ত্রীর নাম–
(ক) ইন্দিরা,
(খ) সরমা,
(গ) নিকষা,
(ঘ) প্রমীলা।
সঠিক উত্তর: (ঘ) প্রমীলা
১.৭ ‘সিজার যে কলমটি দিয়ে কাসকাকে আঘাত করেছিলেন’- তার পোশাকি নাম-
(ক) রিজার্ভার,
(খ) স্টাইলাস,
(গ) পার্কার,
(ঘ) পাইলট।
সঠিক উত্তর: (খ) স্টাইলাস
১.৮ নিজের হাতের কলমের আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল যে লেখকের, তাঁর নাম
(ক) বনফুল,
(খ) পরশুরাম,
(গ) ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়,
(ঘ) শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়।
সঠিক উত্তর: (গ) ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
১.৯ যাদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয় তাদের প্রথম শ্রেণিটি
(ক) ইংরেজি ভাষায় দক্ষ,
(খ) বাংলা ভাষায় দক্ষ,
(গ) ইংরেজি জানে না বা অতি অল্প জানে,
(ঘ) ইংরেজি জানে এবং ইংরেজি ভাষায় অম্লাধিক বিজ্ঞান পড়েছে।
সঠিক উত্তর: (গ) ইংরেজি জানে না বা অতিঅল্প জানে
১.১০ বিভক্তি—
(ক) সর্বদা শব্দের পূর্বে বসে,
(খ) সর্বদা শব্দের পরে যুক্ত হয়,
(গ) শব্দের পরে আলাদাভাবে বসে,
(ঘ) শব্দের পূর্বে আলাদাভাবে বসে।
সঠিক উত্তর: (খ) সর্বদা শব্দের পরে যুক্ত হয়,
১.১১ ‘তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।’ নিম্নরেখ পদটি-
(ক) অপাদান কারক,
(খ) কর্মকারক,
(গ) করণ কারক,
(ঘ) অধিকরণ কারক।
সঠিক উত্তর: (গ) করণ কারক
১.১২ কর্মধারয় সমাসে প্রাধান্য থাকে
(ক) পূর্বপদের অর্থের,
(খ) পরপদের অর্থের,
(গ) উভয়পদের,
(ঘ) ভিন্ন অর্থ সমস্ত পদের।
সঠিক উত্তর: (খ) পরপদের অর্থের
১.১৩ ইসাবের সঙ্গে কুস্তি লড়তে তো একেবারেই গররাজি নিম্নরেখ পদটি কোন্ সমাসের উদাহরণ?-
(ক) অব্যয়ীভাব,
(খ) নঞ্জ তৎপুরুষ,
(গ) বহুব্রীহি,
(ঘ) কর্মধারয়।
সঠিক উত্তর: (খ) নঞ্জ তৎপুরুষ,
১.১৪ “এইটুকু কাশির পরিশ্রমেই সে হাঁপাইতে লাগিল” বাক্যটি কোন্ শ্রেণির?
(ক) সরল বাক্য,
(খ) জটিল বাক্য,
(গ) যৌগিক বাক্য,
(ঘ) মিশ্র বাক্য।
সঠিক উত্তর: (ক) সরল বাক্য,
১.১৫ যে বাক্যে সাধারণভাবে কোনো কিছুর বর্ণনা বা বিবৃতি থাকে, তাকে বলা হয়-
(ক) অনুজ্ঞাসূচক বাক্য,
(খ) নির্দেশক বাক্য,
(গ) আবেগসূচক বাকা,
(ঘ) প্রশ্নবোধক বাক্য।
সঠিক উত্তর: (খ) নির্দেশক বাক্য,
১.১৬ যে বাক্যে কর্ম কর্তা রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলে
(ক) কর্মবাচ্য,
(খ) কর্তৃবাচ্য,
(গ) ভাববাচ্য,
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য।
সঠিক উত্তর: (ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য।
১.১৭ ‘পাঁচদিন নদীকে দেখা হয় নাই’- এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
(ক) কর্তৃবাচ্য,
(খ) ভাববাচ্য,
(গ) কর্মবাচ্য,
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য।
সঠিক উত্তর: (খ) ভাববাচ্য
২। কমবেশি ২০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
২.১ নীচের যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.১.১ তপনের গল্প পড়ে ছোটোমাসি কী বলেছিল?
উত্তর: তপনের গল্প পড়ে ছোটোমাসি প্রশংসা করেছিল এবং একইসঙ্গে সন্দেহ বশত জিজ্ঞেস করেছিল যে, সে গল্পখানা কারো নকল করে লেখেনি তো।
২.১.২ ‘এক একখানি পাতা ছিঁড়িয়া দুমড়াইয়া মোচড়াইয়া জলে ফেলিয়া দিতে লাগিল।’-উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কীসের পাতা জলে ফেলতে লাগল?
উত্তর: নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের নায়ক নদের চাঁদ তার পকেটে থাকা একটি পুরানো চিঠির পাতা জলে ফেলতে লাগল ।
২.১.৩ “ইহা যে কতবড়ো ভ্রম তাহা কয়েকটা স্টেশন পরেই সে অনুভব করিল।”- ‘ভ্রম’টি কী?
উত্তর: পথের দাবী’ রচনায় অপূর্বর ‘ভ্রম ছিল যে প্রভাতকাল পর্যন্ত ঘুমের কোনো ব্যাঘাত ঘটবেনা ।
২.১.৪ ‘অদল বদল’ গল্পটি কে বাংলায় অনুবাদ করেছেন?
উত্তর: অদল বদল’ গল্পটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত ।
২.১.৫ জগদীশবাবু তীর্থভ্রমণের জন্য কত টাকা বিরাগীকে দিতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবু বিরাগীকে তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকা দিতে চেয়েছিলেন।
২.২ নীচের যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.২.১ “শিশু আর বাড়িরা খুন হলো” “শিশু আর বাড়িরা’ খুন হয়েছিল কেন?
উত্তর: রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো’ যুদ্ধের করাল থাবার আঘাতে ‘শিশুরা আর বাড়িরা’ খুন হয়েছিল ।
২.২.২ “আমাদের পথ নেই আর” তাহলে আমাদের করণীয় কী?
উত্তর: এই অবস্থায় কবি আমাদের আরো বেঁধে বেঁধে থাকার বা সঙ্ঘবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
২.২.৩ ‘এসো যুগান্তের কবি’ কবির ভূমিকাটি কী হবে?
উত্তর: যুগান্তের কবি’ আসন্ন সন্ধ্যায় শেষ রশ্মিপাতে দাঁড়িয়ে মানহারা মানবীকে শোনাবে সভ্যতার শেষ পুণ্যবানী’ — ‘ক্ষমা করো ।’
২.২.৪ “অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো” কোথায় অস্ত্র ফেলার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: যুদ্ধবিরোধী ভাবনায় কবি জয় গোস্বামী তাঁর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় অস্ত্রকে নামিয়ে পায়ে রাখার আবেদন জানিয়েছেন।
২.২.৫ “দেখিয়া রূপের কলা বিস্মিত হইল বালা / অনুমান করে নিজ চিতে।” ‘বালা’ কী অনুমান করেছিল?
উত্তর: সিন্ধুতীরে’ কবিতার সংজ্ঞাহীন অপরূপা পদ্মাবতীকে দেখে সমুদ্রসুতা পদ্মা অনুমান করলেন, ইন্দ্রের শাপগ্রস্ত স্বর্গের অপ্সরা বিদ্যাধরি স্বর্গভ্রষ্ট হয়ে অচেতন অবস্থায় সিন্ধুতীরে পড়ে আছেন
২.৩ নীচের যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.৩.১ ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’-এ বর্ণিত সবচেয়ে দামি কলমটির কত দাম?
উত্তর: হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ -এ বর্ণিত সবচেয়ে দামি কলমটির দাম আড়াই হাজার পাউন্ড
২.৩.২ ‘আমরা ফেরার পথে কোনো পুকুরে তা ফেলে দিয়ে আসতাম।’- বক্তা কেন তা পুকুরে ফেলে দিতেন?
উত্তর: প্রশ্নের উদ্ধৃত অংশের প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ হোমটাস্কের জন্য ব্যবহৃত কলাপাতা পুকুরে ফেলে দিয়ে আসতেন কারণ তা গোরুতে খেয়ে নিলে অমঙ্গল হয় ।
২.৩.৩ বিশ্ববিদ্যালয়-নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি নবাগত রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নাম সম্বন্ধে কী বিধান দিয়েছিলেন?
উত্তর: বিশ্ব বিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি নবাগত রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নাম বাংলা বানানে লেখার বিধান দিয়েছেন । যেমন- অক্সিজেন, প্যারাডাইক্লোরোবেনজিন ।
২.৩.৪ পরিভাষার উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: পরিভাষার উদ্দেশ্য হল অর্থ সুনির্দিষ্টকরণ ও ভাষা ও ভাবের সংক্ষিপ্তকরণ ।
২.৪ নীচের যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.৪.১ ‘শূন্য বিভক্তি’ কাকে বলে?
উত্তর: যে শব্দ বিভক্তি পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শব্দকে পদে পরিণত করে কিন্তু নিজে অপ্রকাশিত অবস্থায় থাকে এবং মূল শব্দটির কোন পরিবর্তন ঘটায় না, তাকে শূন্য বিভক্তি বলে
২.৪.২ ‘অস্ত্র রাখো’ নিম্নরেখ পদটির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো।
উত্তর: অস্ত্র = কর্মকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি ।
২.৪.৩ নিত্যসমাস কাকে বলে?
উত্তর: যে সমাসের ব্যাসবাক্য হয় না, সর্বদাই সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যে তার পূর্বপদ ও পর পদের মাত্র একটি ব্যবহার হয়, অন্যটির অর্থ ভিন্ন শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাকে নিত্যসমাস বলা হয় ।
২.৪.৪ ‘চরণ কমলের ন্যায়’- ব্যাসবাক্যটি সমাসবদ্ধ করে সমাসের নাম লেখো।
উত্তর: চরণ কমলের ন্যায় =চরণকমল ।
এটি হল উপমিত কর্মধারয় সমাস ।
২.৪.৫ আমি গ্রামের ছেলে বাক্যটির উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ চিহ্নিত করো।
উত্তর: ‘আমি’ হল উদ্দেশ্য এবং ‘গ্রামের ছেলে’ হল বিধেয় ।
২.৪.৬ একটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের উদাহরণ দাও।
উত্তর: একটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য হল — জানালা বন্ধ করো ।
২.৪.৭ কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তনের অন্তত একটি পদ্ধতি উল্লেখ করো।
উত্তর: কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তনের জন্য কর্তার সাথে ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ প্রয়োগ করতে হবে।
২.৪.৮ প্রযোজক কর্তার একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: “শিক্ষক”আমাদের বাংলা পড়ান । ‘শিক্ষক’ হল প্রযোজক কর্তা । এক্ষেত্রে ‘শিক্ষক’ নিজে ক্রিয়া সম্পাদন না করে ‘আমাদের’ দিয়ে তা করাচ্ছেন । তাই ‘শিক্ষক’ হল প্রযোজক কর্তা ।
২.৪.৯ অসিতবাবু আর কোনো প্রশ্ন করলেন না প্রশ্নবাচক বাক্যে পরিবর্তন করো।
উত্তর: অসিতবাবু আর কোনো প্রশ্ন করলেন কি ?
২.৪.১০ ‘এ কার লেখা?’ কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তন করো।
উত্তর: এটা কে লিখেছে ?
৩। প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০ শব্দে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
৩.১ নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৩.১.১ হরিদা পুলিশ সেজে কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন? তিনি কীভাবে মাস্টারমশাইকে বোকা বানিয়েছিলেন?
উত্তর: ‘বহুরূপী’ গল্পের লেখক সুবোধ ঘোষ । এই গল্পের মূল চরিত্র, হরিদা পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে দাঁড়িয়েছিলেন ।
হরিদা পুলিশ সেজে স্কুলের চারজন ছাত্রকে আটক রেখেছিলেন যারা লিচুবাগানে অনুমতি না নিয়ে প্রবেশ করেছিল এব্ং ছেলেগুলো ভয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে । অবশেষে বিদ্যালয়ের মাস্টারমশাই হরিদার পুলিশবেশী ছদ্মরুপ বুঝতে না পেরে তাকে অনুরোধ করেন ছেলেদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য এবং আট আনা উপরি দিয়ে ছাত্রদের মুক্ত করেন । এইভাবেই হরিদা তার দক্ষতা সাজসজ্জা ও অভিনয় কৌশলের মাধ্যমে মাস্টারমশাইকে বোকা বানিয়েছিলেন
৩.১.২ “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।” কে বুঝতে পেরেছে? নদীর বিদ্রোহ বলতে সে কী বোঝাতে চেয়েছে?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়- এর লেখা “নদীর বিদ্রোহ” এই গল্পের মূল চরিত্র নদের চাঁদ তিনি নদীর বিদ্রোহের কারণ বুঝতে পেরেছেন।
উন্মাদ, উত্তাল ও ভয়ঙ্কর নদীর রূপ নদের চাঁদকে ভাবতে বাধ্য করেছে, যে মানুষের সুবিদা জন্য প্রকৃতিকে বন্দি করে বরং নিজেদেরই ক্ষতি করেছে । প্রকৃতির এই ভয়ংকর রুপ মানুষের সৃষ্ট এই স্মৃতিচিহৃ ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে পারে । সেই কারণে প্রকৃতি তথা নদী প্রতিশোধ নিতে চায় । এই কল্পোনা নদের চাঁদের মনে আসামাত্র নতুন ব্রীজ নিয়ে তার গর্ব খণ্ডিত হয়ে যায় ।
৩.২ নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৩.২.১ “আসছে নবীন জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন!” উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: আসছে নবীন — জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন ।”
অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ প্রলয়োল্লাস ’ কবিতা থেকে নেওয়া। কবিতায় এই ছুটন্ত জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে । নিশ্চিত জীবনহারা – অশুভের বিনাশকারী নবীনের মধ্যেই আছে সেই নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা । সেই পারে নির্জীব গতিহীন এবং জীবন ধারায় যা কিছু অ-সুন্দর তা ধুয়ে মুছে সাফ করে দিতে । উপরের উদ্ধৃতিটিতে কবি এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন
৩.২.২. “জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া;” কাকে ‘মহাবাহু’ বলা হয়েছে? তার বিস্ময়ের কারণ কী?
উত্তর: কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ -র প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত ‘অভিষেক’ নামাঙ্কিত কাব্যাংশে উল্লেখ রাবণ পুত্র বীর মেঘনাদ ওরফে ইন্দ্রজিৎকে ‘মহাবাহু’ বলা হয়েছে ।
ইন্দ্রজিৎ ধাত্রী মাতা প্রভাষা রাক্ষসীর ছদ্মবেশ ধারণকারী রক্ষঃকুললক্ষ্মীর কাছ থেকে শুনতে পেয়েছিলেন যে, রাঘবশ্রেষ্ঠ রামচন্দ্রের হাতে তাঁর শ্রেষ্ঠ ভ্রাতা, বীরবাহু জখম হয়েছেন । তাই পুত্রশোকে ভেঙ্গে পরা ও রাগি রাজা রাবণ ‘সসৈন্যে সাজান । কিন্তু ইন্দ্রজিতের স্পষ্টভাবে মনে রয়েছে যে তিনি নিশারণে রাঘবদের পরাজিত করেছিলেন, এমন কি তিনি তাদের খণ্ড খণ্ড করে কেটে হত্যা করেছিলেন । সুতরাং মৃত রামচন্দ্র কিভাবে পুনরর্জীবন লাভ করে বীরবাহুকে হত্যা করতে পারেন — এই বিষয়টাই ‘মহাবাহু’ ইন্দ্রজিতের বিস্ময়ের কারণ হয়ে উঠেছিল ।
৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৪.১ “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে।” বাবুটি কে? তার সাজসজ্জার পরিচয় দাও।
উত্তর: কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা “পথের দাবী” এই উপন্যাসে যে বাবুটির কথা বলা হয়েছে তিনি হলেন গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশধারী রাজবিদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিক ।
গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশধারী সব্যসাচী মল্লিককে পুলিশ থানায় ধরে এনেছিলেন কারণ রাজবিদ্রোহী সব্যসাচীর নামে ওয়ারেন্ট ছিল । তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য ব্রিটিশ সরকারের পদস্থ পুলিশ অফিসার নিমাইবাবু রেঙ্গুনে এসেছেন । এই সময় পুলিশ অফিসার নিমাইবাবু ও অপূর্ব থানায় উপস্থিত ছিলেন । নিমাইবাবু এসেছেন সব্যসাচী মল্লিককে গ্রেপ্তার করার জন্য আর অপূর্ব এসে ছিলেন পুলিশকে তার বাড়িতে চুরি হয়ে যাওয়া বিষয়ে জানাতে।
গিরীশ মহাপাত্রের শরীর-স্বাস্থ্য এর অবস্থা দেখে অপূর্বর মনে হচ্ছেলো তাঁর জীবনের মেয়াদ আর বেশি দিন নেই । গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা সাধারণ মানুষের মতো কিন্তূ অদ্ভুত ছিল তার চোখ দুটো । রুগ্ন শরীর ও দুরারোগ্য আক্রান্ত, বয়স টা ত্রিশ-বত্রিশের বেশি নয় । রুগ্ন ও দুর্বল শরীর হলেও তার চোখের দৃষ্টি ছিল অত্যন্ত ধারালো এবং সুমুদ্র এর মতো গভীর । তার মাথার চুল সামনের দিকে বড়ো আর ঘাড় ও কানের দিকে খুব ছোট করে ছাঁটা । তার সাথে মাথার চুলে চবচবে করে লেবুর তেল মাখানো। সেই তেলর উৎকট গন্ধে ঘর ভরে উঠেছিল ।বুক পকেটে ছিল বাঘ আঁকা রুমাল । গায়ে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি । পায়ে ছিল সবুজ রঙের ফুল মোজা আর বার্নিশ করা পাম-শু যার তলাটা লোহার নাল দিয়ে বাঁধা টেকসই করার জন্য, আর ছিলো হাতে এক গাছি হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি । তবে সবকিছুই ছিল নোংরা ।
কয়েকদিনের জাহাজ যাত্রার ফলে এগুলো সব নোংরা হয়ে গিয়েছিল । গিরিশ মহাপাত্র ভালোভাবে লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে বেশ ভালোরকম শখের মানুষ ছিলেন । গিরিশ মহাপাত্র এমন অদ্ভুত সাজ যে’ যে কেউ কে নজরকাড়তে বাধ্য করে ।
৪.২ জগদীশবাবুর বাড়ি হরিদা বিরাগী সেজে যাওয়ার পর যে ঘটনা ঘটেছিল তা বর্ণনা করো।
উত্তর: সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবু তিনি শিক্ষিত, ভদ্র, সৌম্য-শান্ত চেহারার অধিকারী, কিন্তূ ধনী হলেও খুব কৃপণ । তাঁর জীবনের অন্ধ ভক্তি হল সবথেকে বড়ো দুর্বলতা । সুখ-শান্তির আশায় কোনো সাধু সন্ন্যাসী দেখলেই তাঁদের তিনি তুষ্ট করার চেষ্টা করতেন । সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেই বহুরূপী হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন ।
হরিদা যে শুধুমাত্র পেশাগত জীবনে বহুরুপী তা নয়, তার ব্যক্তিগত জীবনও নাটকীয় বৈচিত্রে ভরা । তাই জগদীশবাবুর বাড়িতে হরিদারকে বিরাগীর ছদ্মবেশে দেখতে পাই । এক স্নিগ্ধ-শান্ত জ্যোৎস্নালোকিত উজ্জ্বল সন্ধ্যায় জগদীশবাবু বারান্দায় চেয়ারে বসেছিলেন । হঠাৎ বারান্দার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন । তাঁর চোখের পাতা পড়ছিল না, কারণ সিঁড়ির কাছে যিনি দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি জটাধারী, হাতে চিমটে,কমণ্ডলু,মৃগচর্মের আসনসহ গৈরিক বসন পরিহিত কোন সন্ন্যাসী নন, তিনি একজন ছিলেন বিরাগী, যার আদুড় গা,পরনে ছোট বহরের থান, মাথার সাদা চুল, ধুলোমাখা হাত-পা, কাঁধে একটি ঝোলা,ঝোলার মধ্যে বই বলতে একটি গীতা ।
জগদীশবাবুর তাঁকে দেখে মনে হয়েছিল যেনো তিনি জগতের সীমার ওপার থেকে হেঁটে এসেছেন । তাঁর শীর্ণ শরীর দেখে মনে হচ্ছিল অশরীরী এবং তার চোখ থেকে ঝরে পড়ছিল উদাত্ত শান্ত এক দৃষ্টি । বলাবাহুল্য তিনি আর কেউ নয়, সন্ন্যাসীবেশী হরিদা । হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগীর ছদ্মবেশে খেলা দেখাতে গিয়ে অবাক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর দেওয়া সমস্ত সুযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেন । কথক ও তাঁর বন্ধুরা যখন অভাবী হরিদা প্রণাম না নেওয়ার জন্য হরিদাকে কাঠগোড়ায় তুলেছেন, হরিদা তখন শিল্প ও এক শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্লিপ্তভাবে বলেছেন,
৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৫.১ “হায় ছায়াবৃতা” ‘ছায়াবৃতা’ বলার কারণ কী? তার সম্পর্কে কবি কী বলেছেন সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ছায়াবৃতা’ শব্দটির অর্থ হলো ছায়া দ্বারা আবৃতা, বা ছায়াঢাকা। বিশাল অরণ্যে ঘেরা আফ্রিকা মূল ভূখণ্ড থেকে বহুদূরে অবস্থিত। আধুনিক সভ্যতা ও জ্ঞানের কিরন থেকে সে বঞ্চিত। উনিশ শতকের আগে পর্যন্ত আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ ও নিজস্ব সংস্কৃতি বাকি বিশ্বের কাছে অজানাই রয়ে গেছে তার রহস্যময় অরণ্যের মতোই।
সাম্রাজ্যবাদের ঘোর বিরোধী, মানবতার পূজারি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মুসোলিনির ইথিওপিয়ায় অনুপ্রবেশকে ধিক্কার জানিয়ে লেখা ‘আফ্রিকা’ কবিতা। কবিতাটি আফ্রিকার সমাজ ও রাজনৈতিক ইতিহাসের জীবন্ত ছবি।
প্রকৃতির ও সৃষ্টির নিয়মে তৈরি হয়েছিল আফ্রিকা। তাই প্রকৃতি নিজের মনের মতো করে গড়ে তুলেছিল তাকে। বাকি পৃথিবীর কাছে ছিল সে অপরিচিত বা অজানা। পরবর্তীকালে সভ্যসমাজের দৃষ্টি পড়ে এই অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশের ওপর। ক্রমে ক্রমে আফ্রিকা হয়ে ওঠে পশ্চিমি সভ্য দেশগুলির জন্য ক্রীতদাস জোগানের ক্ষেত্র। এমনকি সেদেশের আদিম প্রকৃতির ভিতর লুকিয়ে থাকা সম্পদও তাদের নজর এড়ায়নি। আফ্রিকার কালো ঘোমটার নীচে লুক্কায়িত মানবী রূপ প্রকাশিত হল বিশ্বের কাছে, কিন্তু সে যে যন্ত্রণাদায়ক প্রকাশ। পৃথিবীর সভ্য দেশগুলির লোভ আর অমানবিকতায় লুণ্ঠিত হয় আফ্রিকা। তার ধুলো-মাটি কাদা হয় সেখানকার মানুষদের রক্তে আর কান্নায়। লেখা হয় ইতিহাস তার অপমানের। কিন্তু কবি মানবতার পূজারি। তাই সভ্যতার নামে মানবতার এই অপমান তিনি সহ্য করেননি। দিনবদলের সন্ধিক্ষণে তাই পৃথিবীর সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের হয়ে অপমানিত, লাঞ্ছিত আফ্রিকার কাছে তিনি ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। সভ্যতার এই সংকটের দিনে ঘৃণা বা হিংসা নয়, মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা আর সংবেদনশীলতাকেই আশ্রয় করতে চেয়েছেন তিনি।
৫.২ “যেখানে ছিল শহর/ সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা।”- ‘অসুখী একজন’ কবিতা অবলম্বনে শহরের এই পরিণতি কীভাবে হল লেখো।
উত্তর: প্রখ্যাত চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদার “অসুখী একজন” কবিতায় অপেক্ষমান নারীর মধ্যে ভালোবাসার একটি অনির্বাণ রূপ ফুটে উঠেছেন। কথক তাঁর প্রিয় নারীকে রেখে বহুদূরে চলে যান । সময় চলমান তাই তা অতিক্রম করে কালকে ।অপেক্ষারতা জানত না যে তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না ।কথকের পদচিহ্ন ধুয়ে যায়, তাঁর চলে জাবার পথে ঘাস জন্মায় কিন্তূ নারির অপেক্ষার ব্যঘাত ঘটে না।
এইভাবে অপেক্ষায় সময় কটাতে কাটাতে সময়ের পাল্লা ভারী হয়ে মেয়েটির মাথায় উপর যেন চিন্তার পাহাড় নেমে আসে । যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ে শহরে । কবির স্বপ্নের বাড়ি-ঘর সব চূর্ণ হয়ে যায়, পুড়ে যায় আগুনে ।সেই আগুনের করালে গ্রামে ধ্বংস হয় শিশু আর দেবতারা । শান্ত হলুদ দেবতারা তাদের মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে । যেখানে ছিল শহর সেখানে এখন চারদিকে ছড়িয়ে রয়লো কাঠকয়লা, দোমড়ানো মোচরনো লোহা, পাথরের মূর্তির ধংস অবশেষ, আর রক্তের সুকিয়ে যাওয়া কালো দাগ । কিন্তু এতোকিছু হাওয়ার মধ্যেও কবির প্রিয়তমা বেঁচে রইলেন । কারণ, প্রেম এর মৃত্যু নেই । তার জন্য ধ্বংসের শেষে বেঁচে থাকে মেয়েটির অনির্বাণ ভালবাসা, বেঁচে থাকে ভালবাসার জন্য প্রতীক্ষা । আগামীর প্রত্যাশায় যা চিরন্তন অমলিন স্মৃতিতে ভাস্বর ।
৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৬.১ “বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চায় এখনও নানারকম বাধা আছে।” এই বাধা দূর করতে লেখক কী কী পরামর্শ দিয়েছেন তা আলোচনা করো।
উত্তর: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান” — প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা বিষয়ে বিভিন্ন বাধা ও তার দূরীকরণ বিষয়ে নিম্নরূপ আলোচনা করেছেন।
প্রথমত, ইংরেজী জানেন এবং ইংরেজীতে বিজ্ঞান পাঠ এমন পাঠকের বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা বেশ কঠিন ।
দ্বিতীয়ত, পাশ্চাত্য দেশগুলির তুলনায় আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের বিজ্ঞানবোধ খুবই কম । সামান্য বিজ্ঞানবোধ না থাকলে বিজ্ঞান ভিত্তিক রচনা বোধগম্য হয় না । তাই বাংলায় বিজ্ঞান রচনার ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে গিয়েছে ।
তৃতীয়ত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উপযুক্ত পারিভাষিক শব্দের অভাব এ পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
চতুর্থত, অনেকে পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে রচনাকে সহজ করে তোলে ফলে, তবে তার ভাবনা ভাবলেও তা বাস্তবতা পায়নি।
পঞ্চমত, অনেক লেখকের ভাষা বাংলা ও সংকৃত তা যখন ইংরেজিতে অনুবাদ করে তখন তা খারপ হয়ে রচনা তার সাবলীলতা হারায়
ষষ্ঠত, উপমা ও রূপক ছাড়া অন্যান্য অলংকার বিজ্ঞানভিত্তিক রচনার গুরুত্বকে লঘু করে দেখায় ।
সপ্তমত, শেষ বাধাটি হল ভুল তথ্য পরিবেশন । অনেকেই না জেনে বা সামান্য জেনে বাংলায় বিজ্ঞান রচনায় ভুল তথ্য পরিবেশন করেন ।
প্রাবন্ধিকের মতে আলোচিত বাধাগুলি অতিক্রম করতে না পারলে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা ত্রুটিহীন হওয়া সম্ভব নয় ।
৬.২ ‘ফাউন্টেন পেন’ বাংলায় কী নামে পরিচিত? নামটি কার দেওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে? ফাউন্টেন পেনের জন্ম ইতিহাস লেখো।
উত্তর: ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে বর্ণিত ফাউন্টেন পেন বাংলায় ঝরনা কলম নামে পরিচিত ।
বাংলায় এই পেনের নামকরণ করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । তিনি এই পেনের বাংলা নাম দিয়েছিলেন ঝরনা কলম । পৃথিবীর প্রতিটি আবিষ্কারের পিছনেই থাকে কোনো ঘটনা বা কারণ। এই ফাউন্টেন পেন বা ঝরনা কলম আবিষ্কারের পিছনেও আছে একটি ঘটনা —
ফাউন্টেন পেন’ -এর স্রষ্টা ছিলেন, লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান নামে জনৈক ব্যবসায়ী । লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যানের ফাউন্টেন পেন আবিষ্কারের পিছনেও এমনই একটি বৃত্তান্ত রয়েছে । তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী । সেকালের অন্য ব্যবসায়ীদের মতো তিনিও দোয়াত – কলম নিয়ে কাজে বের হতেন । তিনি একবার অন্য আরেক ব্যবসায়ীর সাথে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করতে গিয়েছিলেন । দলিল কিছুটা লেখা হয়েছে এমন সময় কালির দোয়াতে থাকা কালি হঠাৎ উপুড় হয়ে পড়ে যায় কাগজে । ফলে ওয়াটারম্যানকে কালি সংগ্রহের জন্য পুনরায় বাইরে যেতে হয় । ফিরে এসে তিনি শোনেন ইতিমধ্যে আর একজন ব্যবসায়ী স্বাক্ষর সহ চুক্তি পাকা করে গিয়েছেন। দোয়াতে রাখা কালির জন্য ঘটা এই দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে, এই উদ্দেশ্যে ওয়াটারম্যান ‘ফাউন্টেন পেন’ -এর আবিষ্কার করেছিলেন । এইভাবে লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান ফাউন্টেন পেন আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে ”কালির ফোয়ারা খুলে দিয়েছিলেন ।
৭। কমবেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৭.১ ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশ অবলম্বনে সিরাজদ্দৌলার চরিত্রবৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর: বিংশ শতাব্দীতে নাট্যকাররা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে মুক্তি-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকরূপে ভেবে নাটক রচনায় ব্রতী হন। শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজ সেরকমই এক ব্যক্তিত্ব।
দেশাত্মবোধ:
সিরাজদ্দৌলা’ তাঁর নিজের বিরুদ্ধে যাবতীয় ষড়যন্ত্রকে কখনোই ব্যক্তিগত ভাবে আলোকে দেখেননি। বরং বাংলার ভালো ও বাংলাকে রক্ষা করা তাঁর কাছে প্রধান হয়ে ওঠেছিলেন। বিদেশি শক্তির হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাতে তিনি শত্রুর সঙ্গে সন্ধিতে ও অধস্তনের কাছে ক্ষমা চাইতেও পিছপা হন না তিনি।
সাম্প্রদায়িকতা-মুক্ত মানসিকতা:
সিরাজদ্দৌলা’ বুঝেছিলেন যে বাংলা শুধু মুসলমানের নয়, বাংলা শুধু হিন্দুর নয়— হিন্দু-মুসলমানের এক সাথে মিলিত হয়ে প্রতিরোধ করে পারে বাংলাকে ব্রিটিশদের হাত থেকে রক্ষা করতে। সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত এই জাতীয়তাবোধ সত্যিই বিরল দৃষ্টান্ত।
আত্মসমালোচনা:
নবাব বুঝেছিলেন ষড়যন্ত্রীরা যেমন ভুল করেছে, তেমনি অনেক ত্রুটি বা ভুল আছে তাঁর নিজেরও। বাংলার বিপদের দিনে তাই তিনি নিজের ভুল স্বীকার করতে দ্বিধা দেখান না তিনি।
দুর্বল মানসিকতা:
“পারি না শুধু আমি কঠোর নই বলে।”
শত্রুদের চক্রান্ত বুঝতে পারলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু কড়া ব্যবস্থা নিতে পারেননি সিরাজদ্দৌলা’ আর ঘসেটি বেগমের অভিযোগের পরেও তিনি প্রতিবাদ করতে পারেননি বরং সিরাজদ্দৌলা’ নিজের দুর্বলতা নিজে মুখেই স্বীকার করেন।
সব মিলিয়ে লেখক সিরাজদ্দৌলাকে’ প্রকৃত ও সফল নায়কের রূপ দিয়েছেন।
৭.২ ‘কিন্তু ভদ্রতার অযোগ্য তোমরা।’ কাকে উদ্দেশ করে কথাটি বলা হয়েছে । এ কথা বলার কারণ কী?
উত্তর: বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশের প্রশ্নোদ্ধৃতাংশ সিরাজদৌলা ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছেন।
বাংলার সফল নবাব ‘সিরাজদ্দৌলা’ একজন দক্ষ কূটনৈতিক ছিলেন। তিনি তাঁর সভাসদদের সমস্ত গোপনীয় কার্যকলাপের খবরাখবর রাখতেন । ইংরেজ প্রতিনিধি, ওয়াটসের কাছে আসা কিছু গোপন পত্রও সিরাজের হাতে এসে পৌঁছায় ।এই পত্রগুলির মধ্যে ছিল অ্যাডমিরাল ওয়াটসন-এর কছু গোপন তথ্য।পত্রগুলি থেকে সিরাজ জানতে পারেন,যে আরো জাহাজ ও আরো সৈন্যদলসহ বাংলার অভিমুখে যাত্রা করেছে, আর অ্যাডমিরাল বলেছেন যে বাংলায় এমন আগুন জ্বালাবেন যে গঙ্গার সব জল দিয়েও নেভানো যাবে না সেই আগুন। ওয়াটসের পত্রে আর বলা ছিল নবাবের উপর নির্ভরশীল না থেকে চন্দন নগরের ফরাসি কুঠি আক্রমণ করাই শ্রেষ্ঠ হবে। নবাবের প্রতি এমন অমর্যাদা প্রদর্শন ও চক্রান্ত সিরাজের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না ।এছাড়া তিনি আরো গোপন খবর জানতে পারেন যে ওয়াটস তাঁরই সভায় স্থান পেয়ে সভাসদ ও আত্মীয়স্বজনের কানে কুমন্ত্র দিয়ে তাদের নবাব বিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত হতে বাধ্য করেছেন। নবাবের কাছেথেকে সিংহাসনচ্যুত করার জন্য তারা রাতের আঁধারে অস্ত্রে শান বা ধাড় দিচ্ছে।
এই দলের কুচক্রী কার্যকলাপে বিরক্ত ও রাগে নবাব সিরাজ ওয়াটসকে বলেছিলেন —
“কিন্তু ভদ্রতার অযোগ্য তোমরা।
৮। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৮.১ কোনির পারিবারিক জীবনের পরিচয় দাও।
উত্তর: বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসে প্রান্তিক পরিবারের সন্তান কোনির গঙ্গায় একজন মেঠো সাঁতারু থেকে ভারতের সেরা সাঁতারু হয়ার এক রোমাঞ্চকর গল্প তুলে ধরেছেন।
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের কন্যা ছিল কোনি। সুতরাং তার জীবনের সাথে দারিদ্র্য ও বঞ্চনা জড়িয়ে ছিল বরবর ভাবে। কোনির জীবনে
বেদনায় দারিদ্রই হয়ে উঠেছিল তার জীবনের সঙ্গী।
কবির কথায় — “হে দারিদ্র, তুমি মোরে করেছ মহান”। কোনির এই দরিদ্র পরিবারে ছিলেন তার মা,কমল পাল তার দাদা, গোপাল কোনির ছোট ভাই সহ আরো দুই বোন। এবং কোনির দাদা আগেই মারা গিয়েছেন ইলেকট্রিক তারে কাটা পড়ে, অপর এক দাদা থাকেন কাঁচড়াপাড়ায়,পিসির বাড়িতে। কোনির দরিদ্রতা সংসারে একমাত্র ছিলো তার দাদ কমল পাল,সে রাজাবাজারে মোটর গ্যারেজে কাজ করে । সামান্য আয়ে সংসার চলে। শৈশব কালে কোনি তার বাবাকে হারিয়ে ফেলেছে “টি.বি” রোগে । কমলও আকস্মিকভাবে একই রোগে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় । ফলে, হারিয়ে যায় সুখের কলরোল কোনির পরিবার থেকে। বিষন্নতা নেমে আসে শ্যামপুকুর বস্তির চালার ঝুপড়ি ঘরে। কোনির হতাশার জীবনে স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়ে নেমেআসে সাঁতারের প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ ।
পূজোর জন্য ভাসিয়ে দেওয়া ফল সাঁতরে আসার আগে, কোনি গঙ্গায় সাঁতার কেটে সেই ফল যেমন আম, পিয়ারা, কুড়োত আর সেই ফল বাজারে বেচতো কিছু পয়সা উপার্জনের আশায় । সামান্য ফ্যান ভাত, কাঁচা পেঁয়াজ কাঁচা লঙ্কা,তেঁতুল, খেয়েই জীবন ধারণ করতো। কোনির দাদা কমলের মৃত্যুর পর, কোনিদের পরিবারের অবস্থা আরো সঙ্গীন হয়ে পড়ে । ছোট ভাই চায়ের দোকানে লেগেপরে কাজ করতো পনেরো টাকা মাইনে এর জন্য। আর কোনি আরো চল্লিশ টাকা মাইনের জন্য ক্ষিতিশের স্ত্রী লীলাবতীর কাছে কাপর সিলাই এর দোকানে ফাইফরমাশ খাটতে থাকে। তার দাদা কমলের কাছে প্রতিশ্রুতি যে দিয়েছে যে সে ভারত সেরা সাঁতারু হয়ে দেখাবে, কোনি কমল দীঘির জলে সাঁতার কেটে স্বপ্নের ঢেউয়ে। কমলের অনুপস্থিতিতে কোনির পরিবারে ক্ষিতিশ দুমুঠো ভাতটুকু মুখে তুলতে পারে । কলা, টোস্ট দু-টাকার ডিমের, জন্য লালায়িত কোনি ও তার পুরো পরিবারকে ক্ষিতীশ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল । এভাবেই উপন্যাসে কোনির বেদনাদীর্ণ পারিবারিক জীবনের ছবি ফুটে উঠেছিল ।
৮.২ ক্ষিদ্দা কীভাবে কোনির জীবনে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল সে সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর: বিশিষ্ট ক্রীড়া ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসে আগাগোড়া এক ব্যতিক্রমী মানুষ ছিলেন কোনির ক্ষিদ্দা ক্ষিতীশ সিংহ। সাধারণ এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে থেকে ভারতের সেরা সাঁতারু হওয়া ও কোনির কাঙ্খিত উচ্চতায় যে মানুষটির অবদান অনস্বীকার্য তিনি হলেন কোনির ক্ষিদ্দা অর্থাৎ ক্ষিতীশ সিংহ।
ক্ষিতীশ দেশের জন্য গৌরব এনে দেওয়া একজন খেলোয়াড় তৈরি করতে জলের মতো অর্থ ব্যয় করেছেন কারণ প্রতিভাকে চিনে নিয়ে তাকে সুশৃংখল প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে যে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন, সেই অভিজ্ঞতার ক্ষিতীশের ছিল । কোনির প্রতিভাকে চিনে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কেবল একজন সফল খেলোয়াড় তৈরির জন্য, অন্য কোন স্বার্থে বা নিজের রোজগারের জন্য নয়। কোনির ক্ষিদ্দা অর্থাৎ ক্ষিতীশ সিংহের নিজের সংসারে অভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনির খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। অনিচ্ছাকৃত হলেও কোনিকে দিয়ে প্রবল পরিশ্রম করিয়েছেন এছারাও বড় দাদার মতো তাকে চিড়িয়াখানায় কুমীর দেখাতে নিয়ে গিয়েছেন । কোনি কেঁদে ফেললেও প্র্যাকটিস থেকে রেহাই দেন নি ক্ষিতীশ সিংহ। ।খাওয়ার টোপ দিয়ে কোনিকে সাঁতার কাটানোর মতো অমানবিক আচরণ করতে হয়েছে ক্ষিতীশ সিংহকে । কোনি ঘুমিয়ে পড়লে তিনিই আবার তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছেন । ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে কোনি নিজেকে প্রমাণ করার পর তার জীবনের উপর ঝরে পড়েছে তার আনন্দাশ্রু । এই সব এর মধ্যেদিয়ে কোনির জীবনে ক্ষিদ্দা হয়ে উঠেছিলেন ক্ষিতীশ সিংহ।
৮.৩ “জোচ্চুরি করে আমাকে বসিয়ে রেখে এখন ঠেকায় পড়ে এসেছ আমার কাছে” কোনির এই অভিমানের কারণ কী? এর পরবর্তী ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
উত্তর: সাহিত্যি কমতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের প্রশ্নোদ্ধৃতাংশের বক্তা, কোনি যখন হিয়ার কাছে থেকে জানতে পারে,যে ৪ x ১০০ মিটার জাতীয় সাঁতারের শেষ ইভেন্টে রিলেরেসের চতুর্থ ব্যক্তি, অমিয়ার অসুস্থ হাওয়ার কারণবশতঃ কোনিকে সাঁতারে নামতে হবে তখন সে বেঁকে বসেছিল । কারণ এই জাতীয় সাঁতার কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত কোনি প্রতিযোগী হয়ে আসার সত্বেও তাকে বিভিন্ন অজুহাতে ও কারণ দেখিয়ে বসিয়ে রাখা হয়, প্রতিযোগীদের লিস্টে কোনির নাম ছিলো না, এই কারণে কোনি কোনো ইভেন্টে অংশ নিতে পারেনি। শুধু তাই নয় ‘চোর’ অপবাদও সহ্য করতে হয়েছিল কোনিকে,এমন কি চড়ও মারা হয়েছিল তকে। তাই এই দুর্ব্যবহারে জন্য বাংলার স্বার্থে আর প্রতিযোগিতায় নামতে চায়নি কোনি। তার অভিমান হয়েছিল ।
কোনি হিয়ার অনুরোধে হিয়ারই দেওয়া অতিরিক্ত কস্টিউম পরে প্রতিযোগিতায় নামার জন্য রাজি হয়েছিল । এরপর মেয়েদের ৪০০ মিটার রিলে রেস শুরু হয় । প্রথমে বাংলার হয়ে জলে ঝাঁপ দেয় হিয়া মিত্র । সে সবার আগে বোর্ড স্পর্শ করে ফিরে এসে বাংলার পুষ্পিতাকে কিছুটা আগুয়ান থাকার সুবিধা দেয়। কিন্তু মহারাষ্ট্র এবার বাংলার থেকে এগিয়ে যায় । এরপর জলে নামে বাংলার বেলা, সে মহারাষ্ট্রের দীপ্তি কারমারকারের সাথে জোর প্রতিযোগিতা করেছিল ।কোনি বেলার এই সাফল্যকে পরিপূর্ণতা দান করেছিল। মহারাষ্ট্রের নামী সাঁতারু রমা যোশীর সাথে কোনির প্রতিযোগিতা হয়েছিল। রমার জলে পড়ার তিন সেকেন্ড পরে কোনি জলে ঝাঁপ দেয় । জলে নামার পূর্ব মুহূর্তে সে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহকে দেখতে পায় । তাঁর মুখে একটাই কথা উচ্চারিত হয়েই চলেছিল — “ফাইট কোনি ফাইট ।”
৯। চলিত গদ্যে বঙ্গানুবাদ করো:
One day a dog stole a piece of meat from a butcher shop. He was crossing over a bridge. Suddenly, he saw his own shadow in the water. He thought that there was another dog and he had a bigger piece of meat.
উত্তর: একদিন একটি কুকুর একটি মাংসের টুকরো চুরি করেছিল একটি কসাইয়ের দোকান থেকে। সে একটি সেতু পার হচ্ছিল। হঠাৎ, সে জলে তার নিজের ছায়া দেখল। সে ভাবল, আরেকটি কুকুর আছে এবং তার কাছে আরও বড় একটি মাংসের টুকরো আছে।
১০। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
১০.১ নারী স্বাধীনতা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
উত্তর: দুই বন্ধুর মধ্যে নারী স্বাধীনতা নিয়ে কাল্পনিক সংলাপ
রুদ্র: আজকে ক্লাসে নারী স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। তোমার কী মনে হয়?
বিপ্লব: এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের সমাজে নারীরা অনেক উন্নতি করেছে, কিন্তু এখনো অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়।
রুদ্র: হ্যাঁ, ঠিক বলেছো। শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক নারী এখন এগিয়ে আসছে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে এখনো বৈষম্য দেখা যায়।
বিপ্লব: আর ঘরোয়া সহিংসতা ও যৌন হয়রানির সমস্যাও তো আছে। নারীদের সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করা দরকার।
রুদ্র: একদম ঠিক। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে।
বিপ্লব: হ্যাঁ, রুদ্র, নারী স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। তাহলে আমারা সবাই নারী স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারবো।
১০.২ কোনো গ্রামীণ এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল উদবোধন হল এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
উত্তর: গতকাল গ্রামীণ এলাকায় একটি নতুন সরকারি হাসপাতালের উদবোধন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই হাসপাতালটি গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।” গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা অনেক দিন ধরেই এই ধরনের একটি হাসপাতালের প্রত্যাশা করছিলেন।
নতুন হাসপাতালটিতে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক এবং নার্স থাকবে। এছাড়াও, বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় জনগণ এই হাসপাতালের উদবোধনে অত্যন্ত খুশি। তাদের মতে, এই হাসপাতালটি গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজতর করবে। আশা করা যাচ্ছে, নতুন হাসপাতালটির মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যসেবায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
১১। কমবেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো।
১১.১। বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য:
উত্তর: বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য প্রকৃতির এক অনন্য দান। বাংলা বছরে ছয়টি ঋতু পরিক্রমায় বিভক্ত। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত এবং বসন্ত—প্রতিটি ঋতু আমাদের জীবনকে রঙিন করে তোলে।
গ্রীষ্ম ঋতু শুরু হয় বৈশাখ মাস থেকে। এই সময়ে সূর্যের প্রচণ্ড তাপের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় খরা পড়ে, মাটির তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং জলাশয়ের জল কমে আসে। তবে গ্রীষ্মের একটি বিশেষ দিক হলো, এই সময়ে আম, কাঁঠাল, লিচু প্রভৃতি ফলের মৌসুম। গ্রীষ্মের শেষে আসা কালবৈশাখী ঝড় একটি বিশেষ উপাদান যা প্রকৃতির পরিবর্তন আনে।
এরপর শুরু হয় বর্ষাকাল। বর্ষা ঋতু আসে আষাঢ় মাস থেকে। এই সময় প্রকৃতি সজীব হয়ে ওঠে বৃষ্টির ছোঁয়ায়। নদ-নদী, পুকুর ও খাল-বিল জলে পূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে অতিবৃষ্টি ও বন্যা এই ঋতুর প্রধান সমস্যা। বর্ষার সৌন্দর্য এবং এর রোমাঞ্চকর দৃশ্য মানুষের মনকে প্রশান্ত করে।
বর্ষার পর আসে শরৎকাল , শরৎকালে আকাশে সাদা মেঘ আর কাশফুলের দোলা মনকে শীতল করে। এই ঋতুতে বাংলায় দূর্গা মায়ের আগমন ঘটে এবং সমস্ত বাংলা জুড়ে পালনিত হয় দুর্গোৎসব।
হেমন্ত ঋতু কার্তিক মাসে শুরু হয়। এই ঋতুকে বলা হয় ফসল তোলার ঋতু। কৃষকরা তাদের মাঠ থেকে ফসল সংগ্রহ করে। আবহাওয়া ঠাণ্ডা হতে শুরু করে এবং চারিদিকে সোনালী ধানের মাঠ দেখা যায়। এই ঋতুর স্নিগ্ধ মৃদু বাতাস মানুষের মনকে প্রশান্তি দেয়।
শীত ঋতু মাঘ মাস থেকে শুরু হয়। এই ঋতুতে তাপমাত্রা কমে যায় এবং শীতের প্রকোপ বাড়ে। শীতের সকালে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় প্রকৃতি । শীতকালে কুয়াশা ও ঠাণ্ডা হাওয়ার মধ্যে একটা অন্যরকম সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে। শীতল বাতাসের মাঝে বাংলার গ্রামীণ পরিবেশ অন্যরকম সৌন্দর্য ধারণ করে।
বসন্ত ঋতু ফাল্গুন মাস থেকে শুরু হয়। বসন্ত আসে প্রকৃতিকে ফুলে ও পল্লবে ভরিয়ে দিতে।নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে।বসন্ত মানেই ফুলের মৌসুম। চারিদিকে রঙিন ফুল ফুটে ওঠে। কোকিলের কূজন এবং বিভিন্ন রকমের ফুলের সুবাসে মুগ্ধ হয় সবাই। বসন্ত মানেই নতুনের আগমন, প্রকৃতির নতুন প্রাণের স্পন্দন।
প্রতিটি ঋতুর আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য রয়েছে, যা বাংলার সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলে। বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য আমাদের প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং জীবনকে উপভোগ করতে শেখায়। এই ঋতুবৈচিত্র্য আমাদের জীবনকে আরো রঙিন এবং আনন্দময় করে তোলে।
১১.২ দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান:
উত্তর: বিজ্ঞান আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে এবং আমাদের জীবনকে সহজ ও সুবিধাজনক করে তুলেছে। দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের প্রভাব বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
প্রথমত, যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অগ্রগতি আমাদের জীবনকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে দিয়েছে। টেলিভিশন, রেডিও, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট প্রভৃতি প্রযুক্তি আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও দ্রুততর করেছে। আমরা এখন মুহূর্তেই বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে থাকা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারি এবং তথ্য বিনিময় করতে পারি।
দ্বিতীয়ত, পরিবহন ব্যবস্থায় বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম। আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের যাতায়াতের সময় ও কষ্ট কমিয়ে দিয়েছে। বিমান, ট্রেন, গাড়ি, জাহাজ প্রভৃতি পরিবহন মাধ্যম আমাদের জীবনকে দ্রুততর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে। এর ফলে আমরা সহজে ও দ্রুত বিভিন্ন জায়গায় যেতে পারি এবং আমাদের কাজকর্ম সম্পন্ন করতে পারি।
তৃতীয়ত, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আমাদের জীবনের মান উন্নয়ন করেছে এবং জীবনের আয়ু বাড়িয়েছে। নানা ধরনের ওষুধ, ভ্যাকসিন, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি এবং অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে। আমরা এখন বিভিন্ন রোগের কার্যকরী চিকিৎসা পেয়ে থাকি এবং সুস্থ জীবন যাপন করতে পারি।
চতুর্থত, গৃহস্থালীর কাজে বিজ্ঞানের ভূমিকা অপরিসীম। বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি যেমন রেফ্রিজারেটর, ওভেন, ওয়াশিং মেশিন, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ইত্যাদি আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলোকে সহজ ও দ্রুততর করেছে। এর ফলে আমরা কম সময়ে বেশি কাজ করতে পারি এবং বেশি সময় নিজেদের জন্য রাখতে পারি।
সর্বোপরি, দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের প্রভাব অপরিসীম। বিজ্ঞানের অগ্রগতি আমাদের জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে ছোঁয়া দিয়ে গেছে এবং আমাদের জীবনকে সহজ, সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছে। বিজ্ঞানের উন্নতি এবং এর ব্যবহার আমাদের সমাজকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করেছে। তাই দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম এবং এর সঠিক ব্যবহার আমাদের জীবনের মান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
১১.৩ তোমার প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র:
উত্তর: আমার প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সুন্দরবন। সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম বন এবং এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত। এই বন তার বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্য, রহস্যময় প্রকৃতি এবং আকর্ষণীয় বনভূমির জন্য বিখ্যাত। প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণে আসেন, এবং আমিও এর ব্যতিক্রম নই। সুন্দরবন আমার প্রিয় হয়ে ওঠে প্রথম ভ্রমণের সময় থেকেই।
সুন্দরবনের প্রধান আকর্ষণ হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এই বনের ঘন জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের রাজত্ব। এখানে বাঘের পায়ের ছাপ এবং তাদের গর্জনের শব্দ শুনে ভ্রমণের সময় যে রোমাঞ্চ অনুভব হয় তা সত্যিই অতুলনীয়। এছাড়া, সুন্দরবনে চিত্রল হরিণ, কুমির, বন্য শুকর, সাপ,মেছো বাঘসহ নানা ধরনের বন্যপ্রাণী রয়েছে যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
এখানকার জলাভূমি এবং খালগুলিও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। নৌকায় চেপে খালগুলো ভ্রমণ করার সময় মনোমুগ্ধকর প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। নদীর কুলকুল শব্দ, পাখির কলকাকলি এবং সবুজের সমারোহ এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা প্রদান করে। কচিখালি, কটকা, এবং হিরণ পয়েন্ট সুন্দরবনের উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে পর্যটকরা বিশুদ্ধ প্রকৃতির সান্নিধ্য লাভ করতে পারেন।
সুন্দরবনের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর পাখির রাজ্য। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়, যা পাখি আমার মতো প্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। বিশেষ করে শীতকালে, যখন অনেক পরিযায়ী পাখি এখানে আসে, তখন সুন্দরবনের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়।
এই জায়গার সুন্দরতা কেবলমাত্র বন্যপ্রাণী এবং প্রকৃতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, এর জলজ সম্পদও অতুলনীয়। এখানে বিভিন্ন ধরনের মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি প্রভৃতি পাওয়া যায় যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। মৎস্যজীবীদের জীবিকা এবং জীবনযাত্রা দেখার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের জন্য শিক্ষণীয়।
সুন্দরবন ভ্রমণের সময় স্থানীয় গ্রামগুলোও ঘুরে দেখা যায়। স্থানীয় মানুষদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, এবং তাদের আতিথেয়তা পর্যটকদের মন ছুঁয়ে যায়। এখানকার মানুষদের জীবন সংগ্রাম, তাদের মাটির তৈরি ঘরবাড়ি, এবং তাদের জীবনযাত্রা পর্যটকদের কাছে একটি নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
সব মিলিয়ে, সুন্দরবন আমার প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য, এবং স্থানীয় সংস্কৃতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, খাল, পাখি, এবং স্থানীয় মানুষদের আতিথেয়তা সবকিছুই আমার হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। তাই, আমি বারবার সুন্দরবনে ফিরে আসতে চাই এবং এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাই।
১১.৪ একটি গাছ একটি প্রাণ:
উত্তর: একটি গাছ একটি প্রাণ: জীবনধারণের অপরিহার্য উপাদান।
গাছ প্রকৃতির অপরিহার্য অংশ, যা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। আমরা যখন বলি “একটি গাছ একটি প্রাণ,” তখন শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যকেই বুঝাই না, বরং আমাদের বেঁচে থাকার জন্য গাছের গুরুত্বকেও উপলব্ধি করি। গাছ আমাদের জীবনধারণের প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে, যার মাধ্যমে আমরা অক্সিজেন পাই, খাদ্য উৎপাদন করি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করি।
গাছের প্রধান উপকারিতা হলো অক্সিজেন সরবরাহ। গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং তা প্রক্রিয়া করে অক্সিজেন উৎপাদন করে। এই অক্সিজেন আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অত্যন্ত জরুরি। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন উৎপাদন করতে পারে, যা আমাদের স্বাস্থ্যকর জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। শুধু তা-ই নয়, গাছ আমাদের বায়ু দূষণ হ্রাস করে, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসকে পরিষ্কার ও সুস্থ রাখে।
গাছ খাদ্য উৎপাদনের প্রধান উৎস। আমাদের খাদ্যের একটি বড় অংশ ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উপাদান থেকে আসে। ফলের গাছগুলি আমাদেরকে সরাসরি ফল প্রদান করে, যা পুষ্টিগুণে ভরপুর। এছাড়া, গাছের শেকড়, কাণ্ড ও পাতা থেকেও আমরা বিভিন্ন খাদ্য উপাদান সংগ্রহ করি। কৃষির জন্যও গাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গাছ মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে।
গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছ মাটি ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা ভূমিক্ষয়ের সমস্যা হ্রাস করে। এছাড়া, গাছ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং জলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, যা বন্যার সমস্যা কমাতে সহায়ক। গাছ পরিবেশকে ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
গাছের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। গাছ প্রাণীদের আশ্রয়স্থল ও খাদ্য সরবরাহ করে, যা তাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য। বিভিন্ন পাখি, পোকামাকড় ও অন্যান্য প্রাণী গাছের ওপর নির্ভরশীল। গাছের উপস্থিতি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক এবং জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।
তবে, দুর্ভাগ্যবশত আমরা গাছের এই গুরুত্ব অনেক সময় অবহেলা করি। বন ধ্বংস, বৃক্ষ নিধন ও পরিবেশ দূষণের কারণে গাছের সংখ্যা কমছে, যা আমাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই, আমাদের সকলের দায়িত্ব হলো গাছ রোপণ করা, গাছের সঠিক যত্ন নেওয়া এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সংক্ষেপে, গাছ আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য। “একটি গাছ একটি প্রাণ” শুধু একটি বাক্য নয়, বরং এটি আমাদের জীবনের সার্থকতা ও সুস্থতার প্রতীক। আসুন, আমরা সবাই মিলে গাছের গুরুত্ব উপলব্ধি করি এবং আমাদের পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করি।
MadhyamikQuestionPapers.com এ আপনি আরও অনেক বছরের প্রশ্নপত্রের উত্তর পাবেন। আপনার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই মূল্যবান সম্পদটি কেমন লাগল, তা অব্যশই কমেন্ট এর মাধমে আমাদের জানান। আরও পড়তে, আপনার জ্ঞান বাড়াতে এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করতে, MadhyamikQuestionPapers.com এর সাথেই থাকুন।
Thank you for the good writeup. It in fact
was a amusement account it. Look advanced to more added agreeable from you!
By the way, how can we communicate?
Wonderful website. Lots of useful inftormation here.
I’m sending it to a feww buddies ans additionally sharing
in delicious. And certainly, thanks on your effort!