Madhyamik Question Papers

MadhyamikQuestionPapers Website Logo

মাধ্যমিক ২০১৮ বাংলা প্রশ্নপত্রের সমস্ত উত্তর

Bengali
Madhyamik 2018 Bengali Answer

আপনি কি মাধ্যমিকের বাংলা প্রশ্নপত্রের উত্তর খুঁজছেন? এই আর্টিকেলে আপনি পাবেন ২০১৮ সালের মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নপত্রের সঠিক উত্তর।

নিচে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রের প্রতিটি উত্তর সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য আগের বছরের প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

MadhyamikQuestionPapers.com ২০১৭ থেকে বর্তমান পর্যন্ত সব মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং উত্তর বিনামূল্যে আপলোড করেছে।

Download 2017 to 2024 All Subject’s Madhyamik Question Papers

View All Answers of Last Year Madhyamik Question Papers

যদি দ্রুত প্রশ্ন ও তার উত্তর খুঁজতে চান, তাহলে নিচের Table of Contents এর পাশে থাকা [!!!] এই চিহ্নটিতে ক্লিক করুন। এই পেজে থাকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর Table of Contents এ ক্রমানুসারে দেওয়া আছে। যে প্রশ্নের ওপর ক্লিক করবেন, সরাসরি তার উত্তরে চলে যেতে পারবেন।

Table of Contents

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:

১.১ সপ্তাহে হরিদা বহুরুপী সেজে বাইরে যান-

(ক) একদিন
(খ) দুদিন
(গ) চারদিন
(ঘ) পাঁচদিন

সঠিক উত্তর: (ক) একদিন

১.২ তপনের মেসোমশাই কোন্ পত্রিকার সম্পাদককে চিনতেন?

(ক) ‘শুকতারা’
(খ) ‘আনন্দমেলা’
(গ) ‘সন্ধ্যাতারা’
(ঘ) ‘দেশ’

সঠিক উত্তর: (গ) ‘সন্ধ্যাতারা’

১.৩ “দয়ার সাগর। পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে” বক্তা হলেন-

(খ) নিমাইবাবু
(গ) অপূর্ব
(ঘ) গিরীশ মহাপাত্র

সঠিক উত্তর: (খ) নিমাইবাবু

১.৪ ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’ কে?

(ক) লক্ষ্মী
(খ) পদ্মা
(গ) উমা
(ঘ) বারুণী

সঠিক উত্তর: (খ) পদ্মা

১.৫ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি কবির কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?-

(ক) ‘নিহিত পাতাল ছায়া’
(খ) ‘পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ’
(গ) ‘দিনগুলি রাতগুলি’
(ঘ) ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’

সঠিক উত্তর: (ঘ) ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’

১.৬ “সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।।” ‘সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী’-

(ক) বিদ্বেষ ত্যাগ করো
(খ) ক্ষমা করো
(গ) ভালোবাসো
(ঘ) মঙ্গল করো।

সঠিক উত্তর: (খ) ক্ষমা করো

১.৭ ‘Sensitized Paper’-এর অনুবাদ কী লিখলে ঠিক হয় বলে প্রাবন্ধিক মনে করেছেন?-

(ক) স্পর্শকাতর কাগজ
(খ) সুবেদী কাগজ
(গ) সুগ্রাহী কাগজ
(ঘ) ব্যথাপ্রবণ কাগজ

সঠিক উত্তর: (গ) সুগ্রাহী কাগজ

১.৮ চারখন্ড রামায়ণ কপি করে একজন লেখক অষ্টাদশ শতকে কত টাকা পেয়েছিলেন?

(ক) সাত টাকা
(খ) আট টাকা
(গ) ন-টাকা
(ঘ) দশ টাকা

সঠিক উত্তর: (ক) সাত টাকা

১.৯ ‘শ্রীপান্থ’ ছদ্মনামে লিখেছেন

(ক) অন্নদাশংকর রায়
(খ) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
(গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(ঘ) নিখিল সরকার

সঠিক উত্তর: (ঘ) নিখিল সরকার।

১.১০ রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় এই বাক্যের কর্তাটি হল

(ক) প্রযোজ্য কর্তা
(খ) সহযোগী কর্তা
(গ) ব্যতিহার কর্তা
(ঘ) সমধাতুজ কর্তা।

সঠিক উত্তর: (গ) ব্যতিহার কর্তা

১.১১ পরপদটি প্রধান হয় যে সমাসে সেটি

(ক) অব্যয়ীভাব
(খ) তৎপুরুষ
(গ) দ্বিগ
(ঘ) বহুব্রীহি

সঠিক উত্তর: (খ) তৎপুরুষ

১.১২ রামদাস আর কোনো প্রশ্ন করিল না নিম্নরেখ পদটি যে সমাসের উদাহরণ সেটি হল-

(ক) তৎপুরুষ
(খ) অব্যয়ীভাব
(গ) কর্মধারয়
(ঘ) দ্বিগু।

সঠিক উত্তর: (ক) তৎপুরুষ

১.১৩ ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর।’ এটি কোন্ বাচ্যের উদাহরণ?

(ক) কর্তৃবাচ্য
(খ) কর্মবাচ্য
(গ) ভাববাচ্য
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য।

সঠিক উত্তর: (ক) কর্তৃবাচ্য

১.১৪ হায়, তোমার এমন দশা কে করলে। এটি কী ধরনের বাক্য?-

(ক) অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
(খ) বিস্ময়সূচক বাক্য
(গ) নির্দেশক বাক্য
(ঘ) প্রশ্নবোধক বাক্য।

সঠিক উত্তর: (খ) বিস্ময়সূচক বাক্য

১.১৫ ‘বয়স ত্রিশ-বত্রিশের অধিক নয়, কিন্তু ভারী রোগা দেখাইল।’ এটি কোন্ শ্রেণির বাক্য?

(ক) সরল বাক্য
(খ) জটিল বাক্য
(গ ) মিশ্র বাক্য
(ঘ) যৌগিক বাক্য।

সঠিক উত্তর: (ঘ) যৌগিক বাক্য

১.১৬ মন্দিরে বাজছিল পূজার ঘণ্টা

(ক) কর্তৃকারক
(খ) করণ কারক
(গ) অপাদান কারক
(ঘ) অধিকরণ কারক।

সঠিক উত্তর: (ঘ) অধিকরণ কারক

১.১৭ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘গীতাঞ্জলি’ লিখে নোবেল পুরস্কার পান-

(ক) উদ্দেশ্য
(খ) উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক
(গ) বিধেয়
(ঘ) বিধেয়ের সম্প্রসারক।

সঠিক উত্তর: (গ) বিধেয়

২। কমবেশি ২০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

২.১ নীচের যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

২.১.১ “তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?” কোন্ ‘বস্তুটি’ পকেটে ছিল?

উত্তর: বস্তুটি হলো গাঁজার কলকে ।

২.১.২ “হরিদার জীবন এইরকম বহু রূপের খেলা দেখিয়েই একরকম চলে যাচ্ছে।” কীরকম খেলা দেখিয়ে হরিদার জীবন চলে যাচ্ছে?

উত্তর: হরিদার জীবন চলে যাচ্ছে বিচিত্র ছদ্মবেশে বহুরূপী সেজে খেলা দেখিয়ে।

২.১.৩ “নদেরচাঁদ সব বোঝে, নদেরচাঁদ কী বোঝে?

উত্তর: নদের চাঁদ নিজের বয়স অনুযায়ী ৩০ বছর বয়সে কেমন আচরণ হওয়া উচিত এবং নিজের দায়দায়িত্বের কথা তা তিনি বোঝেন ।

২.১.৪ “একটু ‘কারেকশান’ করে ইয়ে করে দিলে ছাপাতে দেওয়া চলে।” কে, কী ছাপানোর কথা বলেছেন?

উত্তর: তপনের নতুন মেসোমশাই, যিনি একজন অধ্যাপক ও লেখক, তিনি তপনের লেখা ‘প্রথমদিন’ নামে গল্পটি ছাপানোর কথা বলেছেন ।

২.১.৫ “এসো, আমরা কুস্তি লড়ি।” কে, কাকে বলেছিল?

উত্তর: কালিয়া অমৃতকে বলেছিল ।

২.২ নীচের যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

২.২.১ “বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে” কীভাবে ‘বিদ্রুপ’ করছিল?

উত্তর: আফ্রিকা প্রতিকূলতার বেশ ধারণ করে অর্থাৎ ‘বিরুপের ছদ্মবেশে’ প্রকৃতির এই ভয়ংকর রূপকে বিদ্রূপ করছিল ।

২.২.২ “কে কবে শুনেছে পুত্র, ভাসে শিলা জলে,”বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী?

উত্তর: বক্তার বিশ্বাস জন্মেছে বিধাতা তাঁর প্রতি বিরূপ । প্রসঙ্গত তিনি রামচন্দ্রের পুনর্জীবন লাভের কথা বলেছেন ।

২.২.৩ “ওরে এই স্তব্ধ চরাচর!”- ‘চরাচর’ স্তব্ধ কেন?

উত্তর: প্রলয়ঙ্কর শিবের অট্টরোলের হট্টগোলে চরাচর স্তব্ধ ।

২.২.৪ “রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে” কথাটির অর্থ কী?

উত্তর: কবি মনে করেন হিংসা, নৈরাজ্য , রক্তপাত ও সন্ত্রাস থেকে মুক্তির খোঁজ রয়েছে গানে ।

২.২.৫ “কন্যারে ফেলিল যথা” কথাটির অর্থ কী?

উত্তর: কন্যাকে সমুদ্রমধ্যে এক দিব্যপুরীতে ফেলা হলো ।

২.৩ নীচের যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

২.৩.১ “আমাদের আলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন” শব্দের ‘ত্রিবিধ কথা’ কী?

উত্তর: অভিধা, লক্ষণা ও ব্যঞ্জনা ।

২.৩.২ “যাদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয় তাদের মোটামুটি দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে।”- শ্রেণি দুটি কী কী?

উত্তর: (১) যারা ইংরেজি জানে না বা খুব অল্প জানে । (২) যারা ইংরেজি জানে এবং ইংরেজি ভাষায় কমবেশি বিজ্ঞান পড়েছে।

২.৩.৩ দু-জন সাহিত্যিকের নাম করো যাঁদের নেশা ছিল ফাউন্টেন পেন সংগ্রহ করা।

উত্তর: শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

২.৩.৪ লেখক শ্রীপান্থ ছোটোবেলায় কীসে ‘হোম-টাস্ক ‘ করতেন?

উত্তর: কলাপাতাকে কাগজের মাপে কেটে হোম-টাস্ক করতেন ।

২.৪ নীচের যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

২.৪.১ নির্দেশক বাক্যের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: সকালেই বৃষ্টি হবে ।

২.৪.২ শব্দ বিভক্তির একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: বাবুকে ডাকা হোক–
এখানে চিহ্নিত পদটির ‘কে’ হলো শব্দ বিভক্তি।

২.৪.৩ প্রযোজ্য কর্তা কাকে বলে?

উত্তর: মূল কর্তার করণীয় কাজ যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।

২.৪.৪ নিম্নরেখ শব্দটির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো কহ দাসে লঙ্কার কুশল।

উত্তর: কহ দাসে লঙ্কার কুশল
কর্মকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি ।

২.৪.৫ সম্বন্ধপদ কাকে বলে?

উত্তর: কোনো বস্তু বা ব্যক্তির ওপর অন্য কোনো বস্তু বা ব্যক্তির অধিকার থাকলে তাকে সম্বন্ধপদ বলে.

২.৪.৬ গৌর অঙ্গ যাহার ব্যাসবাক্যটি সমাসবদ্ধ করে সমাসের নাম লেখো।

উত্তর: গৌরাঙ্গ, সাধারণ বহুব্রীহি সমাস / বহুব্রীহি সমাস / সমানাধিকরণ বহুব্রীহি ।

২.৪.৭ কর্মকর্তৃবাচ্য কাকে বলে?

উত্তর: যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

২.৪.৮ ‘বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে’ সরল বাক্যে পরিণত করো।

উত্তর: বাবুটির স্বাস্থ্য গেলেও শখ ষোলো আনাই বজায় আছে।

২.৪.৯ আর কোনো ভয় নেই। প্রশ্নবোধক বাক্যে পরিবর্তন করো।

উত্তর: আর কি কোনো ভয় আছে ?

২.৪.১০ ‘বুড়োমানুষের কথাটা শুনো।’ কর্মবাচ্যে পরিণত করো।

উত্তর: বুড়ো মানুষের কথাটা শোনা হোক ।

৩। প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০ শব্দে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

৩.১ নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৩.১.১ “উনি দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরলেন।”- ‘উনি’ কে?

উত্তর: ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় অমৃত নিজের জামার সঙ্গে তার জামা বদলে নিয়েছিল। ইসাবকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ।কারণ অমৃতকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তার মা আছেন কিন্তু ইসাবের রয়েছে শুধু বাবা, মা নেই,। তাই জামা ছিঁড়ে আনলে অমৃত তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচলেও ইসাব তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচত পারবে না। অমৃতের এই মনের উদারতা দেখে আনন্দে ইসাবের বাবা অমৃতকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন ।

৩.১.২ “বাবাই একদিন এর চাকরি করে দিয়েছিলেন।” বস্তা কে? তাঁর বাবা কাকে, কী চাকরি করে দিয়েছিলেন?

উত্তর: – আলোচ্য উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশের অন্তর্গত চরিত্র অপূর্বের।

অপূর্বের বাবা পুলিশের বড় কর্তা নিমাইবাবুকে, পুলিশের চাকরী পাইয়ে দিয়েছিলেন।

৩.২ নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৩.২.১ “সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে।”কোন্ কোন্ জিনিসের কথা বলা হয়েছে? এই পরিণতির কারণ কী?

উত্তর: চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদা রচিত কাব্যের, নবারুণ ভট্টাচার্য কর্তৃক বাংলা অনূদিত ‘অসুখী একজন’ কবিতাটিতে এই প্রশ্নের উদ্ধৃত অংশটি রয়েছে ।
কবির দেশে যুদ্ধের ফলে কবির বাড়ি, বারান্দা যেখানে ঝুলন্ত বিছানায় তিনি ঘুমাতেন, করতলের মতো ছড়ানো পাতা গোলাপি গাছ, প্রাচীন জলতরঙ্গ চিমনি সব চূর্ণ হয়ে যায়, জ্বলে যায় আগুনে ।
এই পরিণতির কারণ ছিল ভয়ানক যুদ্ধ যাকে কবি বলেছেন— “তারপর যুদ্ধ এল রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো”

৩.২.২ “আমাদের ইতিহাস নেই” কে, কেন একথা বলেছেন?

উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর রচিত “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতায় প্রশ্নের উদ্ধৃত অংশটির রয়েছে। ইতিহাস হল কোনো সভ্যতার বিকাশের পথ ও পর্যায়ের কাহিনি । ইতিহাস নিয়ন্ত্রিত হয় কোনো ক্ষমতাবান গোষ্ঠী, ধর্মসম্প্রদায় কিংবা রাজনীতির দ্বারা, সেই সময় ইতিহাসের বিকৃতি ঘটে । ক্ষমতাবানরা নিজেদের স্বার্থে নিজেদের মতো গড়ে তোলে ইতিহাস । মানুষ একসময় চাপিয়ে দেয় প্রকৃত ইতিহাসকেই । এই পরিপ্রেক্ষিতেই এখানে কবি বলেছেন আমাদের ইতিহাস নেই ।

৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৪.১ “তপন আর পড়তে পারে না। বোবার মতো বসে থাকে।” তপনের এরকম অবস্থার কারণ বর্ণনা করো।

উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর লেখিত গল্প “জ্ঞান চক্ষু’ গল্পে তপন একজন লেখক হতে চেয়েছিলেন । কিন্তু তার ধারণা ছিল লেখকরা সাধারণ মানুষ নন, আকাশ থেকে পড়া অতিলৌকিক কোনো প্রতিভা । তপনের নতুন মেসোকে দেখে এই ধারণা দূর হয়ে যায়। এবং তপন একটা গল্প লিখে, মেসো তপনকে প্রতিশ্রুতি দেন যে সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় তিনি গল্পটি ছাপিয়ে দেবেন । এবং গল্প ছাপানো হলে ছাপানো গল্পটা তপন পড়ে হতবাক হয়ে যায় । গল্পের প্রতিটি লাইন নতুন ও সূন্দর ভাবে সাজানো, তার মধ্যে তপন নিজেকে একবারেই খুঁজে পায় না । তখন তপনের মনে হয় তার লেখা গল্প এটি নয় । নিজের লেখা গল্পের এমন আমূল পরিবর্তন দেখে দুঃখ ও অপমানিত বোধ হয় তপনের । তপন নিজের প্রকাশিত গল্প পড়তে গিয়ে দেখে মেসোমশাই তার গল্প পুরোটাই কারেকশন করে ছাপানো হয়েছে। তপন তখন সে গল্প আর পড়তে পারে না। বোবার মতো বসে থাকে।

৪.২ “অমৃত সত্যি তার বাবা-মাকে খুব জ্বালিয়েছিল।” অমৃত কীভাবে বাবা-মাকে জ্বালাতন করেছিল? অবশেষে অমৃতের মা কী করেছিলেন?

উত্তর: ইসাবে নতুন জামা দেখে তার মতো নতুন জামা নেওয়ার জন্য অমৃত প্রবল বায়না শুরু করেছিলেন তার মা এর কছে ।অমৃত তার নতুন জামাটির একটা ছেঁড়া জায়গায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে আরো বড়ো ছিঁড়ে দেয়। অমৃতকে বেঁধে রেখে মারতে বলেন মা,স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়, খাওয়া ছেড়ে দেয় এবং রাতেও বাড়ি ফিরতে রাজি হয় না অমৃত ।
অবশেষে অমৃতের মা তার স্বামীকে বলে ওর জন্য নতুন একটি জামা কেনার ব্যবস্থা করে।

৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৫.১ “আমরাও তবে এইভাবে/এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?”এমনটা মনে হচ্ছে কেন?

উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতায় প্রশ্নোদ্ধৃতাংশ মন্তব্যটি উল্লেখ করেছেন ।
চারপাশের অরাজকতা, রাজনীতি কিংবা ধর্ম, সীমাহীন সাম্রাজ্যবাদের লোভ পৃথিবী জুড়ে ধ্বংসলীলা আর হত্যা ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে । বেঁচে থাকাটাই যেন অসম্ভব বিষয় হয়ে দাঁড়িয়। এমন কি শিশুরা পর্যন্ত এই ধ্বংসলীলা থেকে রেহাই পাছে না । এই অবস্থায় অনিশ্চয়তায় ভুগছে প্রতিটি মানুষই বেঁচে থাকার জন্য।এই পরিজনহীন অবস্থাতে বেঁচে থাকা যেন মৃত্যুর মতো যন্ত্রনাদায়ক । এ কারণেই কবি প্রশ্নে উল্লিখিত মন্তব্যটি করেছেন । “আমরাও তবে এইভাবে/এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?”

৫.২ “নমি পুত্র পিতার চরণে,/ করযোড়ে কহিলা;” পিতা ও পুত্রের পরিচয় দাও। পাঠ্যাংশ অবলম্বনে পিতা ও পুত্রের কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর: পুত্র ও পিতা বলতে মেঘনা ও লঙ্কাধিপতি রাবণ এর কথা বলা হয়েছে ।

পুত্রের কথায় প্রকাশিত হয় পুত্রবৎসল এক পিতার হৃদয়ের প্রকৃত স্বরূপটি। যেখানে ধ্বনিত হয় অসহায়তা ও স্নেহ হাহাকার। তিনি রক্ষোকুলের শ্রেষ্ঠ সম্পদকে বিপদের মুখোমুখি হতে দিতে চান না ।
এ কাল সমরে, / নাহি চাহে প্রাণ মম পাঠাইতে তোমা / বারংবার । “কারণ স্বয়ং বিধাতাও তার প্রতি বিমুখ তা তিনি জানেন। নইলে জলে যেমন শিলা ভাসে না, তেমনই মৃত কখনই পুনরুজ্জীবিত হতে পারেনা । অথচ ভাগ্যবিড়ম্বিত দশাননের জীবনে তাই ঘটেছে । পৌরুষে উদ্দীপিত ইন্দ্রজিৎ ইন্দ্রদেবের উপহাসের পাত্র হতে কিম্বা অগ্নিদেবকে রুষ্ট করতে তিনি চান না ।
তাই তিনি বলেন—
” আর একবার পিতঃ দেহ আজ্ঞা মোরে ;
দেখিব এবার বীর বাঁচে কি ঔষধে !”
রাবণের দৃষ্টির সামনে ভূপতিত পর্বতসম কুম্ভকর্ণ। কুম্ভকর্ণ-এর প্রাণাধিক প্রিয় ‘বীরমণিকে’ প্রথমে ইষ্টদেবের পূজা ও তারপর নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করে পরদিন সকালে যুদ্ধযাত্রা করতে বলেন । কিন্তু দ্বিধা-দ্বন্দ্ব প্রশমিত করে যথাবিধি মেনে সেনাপতি পদে ইন্দ্রজিতের অভিষেক ঘটান। এখানে এক ভাগ্যবিড়ম্বিত-শোকাহত ও নিঃসঙ্গ পিতার পাশে, সাহস-অহংকার আর বীরধর্মে উজ্জীবিত পুত্রের আশ্চর্য ছবি তুলে ধরেছেন কবি মধুসূদন।

৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৬.১ ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ শীর্ষক প্রবন্ধটিতে পরিভাষা রচনা প্রসঙ্গে লেখক যে বক্তব্য প্রকাশ করেছেন তা আলোচনা করো।

উত্তর: রাজশেখর বসু ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার কয়েকটি মূল বাধার কথা বলেছেন। তার মধ্যে পারিভাষিক শব্দের অভাব সবথেকে অন্যতম বাধা । কয়েকজন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সঙ্গে যুক্ত বিদ্যোৎসাহী লেখক নানা বিষয়ে পরিভাষা রচনা করেছিলেন । কিন্তু তাঁরা কাজটি একত্রে করেননি, ফলে সমতা ছিল না নতুন রচিত পরিভাষাগুলির মধ্যে এবং অনেকগুলি করে পরিভাষা তৈরি হয়েছিল একই বিষয়ের । সেই কারণে‌ ১৯৩৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি একত্রিত ভাবে অনেক জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মানুষদের নিয়ে পরিভাষা সংকলন তৈরি করতে পেরেছিল । তবে প্রাবন্ধিক মনে করেছেলেন সংকলনটি আরও পূর্ণাঙ্গ হওয়া প্রয়োজন।‌ আবার পরিভাষা তৈরির সময় বিজ্ঞান আলোচনার যে নিজস্ব রচনাপদ্ধতি রয়েছে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে কারণ পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে বিজ্ঞান বিষয়ক রচনা সম্ভব নয়। কিন্তু সবার আগে নতুন পরিভাষা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখাগুলির সাহায্য।তাহলে সকলে মিলে নতুন পরিভাষা গড়ে তোলা সম্ভব।

৬.২ “আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে।” কোন্ জিনিস আজ অবলুপ্তির পথে? এই অবলুপ্তির কারণ কী? এ বিষয়ে লেখকের মতামত কী?

উত্তর: সবই আজ অবলুপ্তির পথে এখানে নানা ধরনের ফাউনটেন পেন, কালি, দোয়াত, কলমদানি অবলুপ্তির হচ্ছে।
এই অবলুপ্তির কারণ কম্পিউটারের ব্যাপক পরিমানে ব্যবহার।
নিজের হাতে কলমের দ্বারা লেখাটা লেখকের কাছে অধিক প্রীতিকর । কিন্তু বিজ্ঞানের চরম উন্নতিতে লেখালেখির কাজকে অতি সহজবোধ্য ও উপযোগী করতে কম্পিউটারের ব্যবহার সর্বত্র । তিনি চিন্তিত এই কারণে যে হাতে লেখা হয়তো চিরতরে মুছে যাবে, কী হবে লেখন শিল্পদের অস্তিত্ব ? এ সকল ভাবনায় লেখক বলেন “আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে।”

৭। কমবেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৭.১ “বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয় মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা।” কাদের উদ্দেশ করে একথা বলা হয়েছে? এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বক্তার কী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে?

উত্তর: নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর সভায় উপস্থিত রায়দুর্লভ,রাজবল্লভ, জগৎশেঠ,মীরজাফর,উমিচাঁদ প্রমুখ বিশিষ্ট সদস্যবর্গের প্রতি উদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন।
বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলার উদ্ধৃত উক্তিটির মধ্য দিয়ে যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠিয়েছেন তা হল তিনি একজন উদার মনের একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক । বিচক্ষণ নবাব বুঝতে পেরেছিলেন যে বাংলা শুধু মুসলমানের নয় বা হিন্দুর নয়, বাংলা হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলিত শান্তিপূর্ণ অবস্থানেই বাংলার ঐক্যের সূত্র-এ গাঁথা । তিনি ঘনিয়ে আসার দুর্দিনকে ঠেকাতে তিনি হিন্দু-মুসলমান উভয়ের সম্মিলিত প্রয়াসের উপর আস্থা রেখেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন বহিরাগত ইংরেজ শত্রুকে এই বাংলা থেকে দূর করতে হলে সমস্ত ধর্মীয় সংকীর্ণতার উপরে উঠে বাংলার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে । ধর্মীয় সংকীর্ণতা শুধূ মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে, বহিরাগত আক্রমণকে ঠেকাতে পারে না । হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলিত চেষ্টায় এবং লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বিদেশি শত্রু ইংরেজকে এই বাংলা থেকে দূর করা যেতে পারে । নবাব সিরাজদ্দৌলা একথা বুঝেছিলেন এবং তিনি এই রকমভাবে কাতর অনুরোধ জানিয়ে ছিলেন।
উপরিউক্ত উক্তির মধ্যে দিয়ে নবাব সিরাজদ্দৌলাকে একজন ধর্মনিরপেক্ষ উদার মনের মানুষ ও প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে জানা যায় ।

৭.২ “মুন্সিজি, এই পত্রের মর্ম সভাসদদের বুঝিয়ে দিন।” কে, কাকে পত্র লিখেছিলেন? এই পত্রে কী লেখা ছিল?

উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত সিরাজউদ্দৌলা নাটকে এই প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটি রয়েছে ।
ইংরেজ অ্যাডমিরাল ওয়াটসন পত্র লিখেছিলেন মুর্শিদাবাদে থাকে ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসনকে ।
পত্রে লেখা ছিল —”কর্নেল ক্লাইভ যে সৈন্যের কথা উল্লেখ করেছেন সে সৈন্য দ্রুত কলকাতা পৌঁছাবে ।আর আমি একটা জাহাজ মাদ্রাজে পাঠাইয়া খবর দিব বাংলায় আরও জাহাজ ও সৈন্য আবশ্যিক । আমি এমন আগুন জালাইবো যা সমগ্র গঙ্গার জল দিয়েও নেভানো যাইবে না ।”
এইভাবে ব্রিটিশরা ভারতে কলকাতা জয় এর পর সমগ্র ভারত দখল করতে চেয়েছিল । কিন্তু এই পত্রের সম্বন্ধে সিরাজ জানার পর এর বিহিত হিসাবে ওয়াটসনকে রাজদরবার ত্যাগ করতে বলেন

৮। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

৮.১ ‘কোনি’ উপন্যাস অবলম্বনে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের চরিত্র সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: ঔপন্যাসিক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের যে মানুষটিকে নিয়ে আবর্তিত হয়েছে তিনি হলেন ক্ষিতীশ সিংহ । ক্ষিতীশ সিংহ ছিলো নিঃসন্তান, পঞ্চান্ন(৫৫) বছরের একজন সাঁতারের প্রশিক্ষক । তিনি নিয়মিত শরীরচর্চা এবং গঙ্গার ঘটে প্রায় যেতেন। গঙ্গার ঘট থেকেই তিনি আবিষ্কার করেন কোনিকে। কোনিকে দেখে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে কোনির মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
“ক্ষিতীশ সিংহ” জুপিটার ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘ 35 বছর ধরে যুক্ত ছিলেন। কয়েকজনের চক্রান্তে ও ক্লাবের মধ্যে দলাদলি ক্ষিতীশ সিংহকে ক্লাবের সদস্যপদ ছাড়তে হয়। তবুও ক্ষিতীশ সিংহ এর লড়াই থেমে যায় নি ।তিনি এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে কোনিকে অ্যাপেলো ক্লাবে ভর্তি করান এবং সাঁতার শেখাতে আরম্ভ করেন। ক্ষিতীশ সিংহের আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভালো ছিল না, তিনি তবুও কোনির খাওয়ার ব্যবস্থা করে এবং কোনির সংসার চালানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টাও করেন । এর থেকে ক্ষিতীশ সিংহের দরদী ও পরোপকারী মনের পরিচয় পাওয়া যায়। ক্ষিতীশ সিংহের চারিত্রিক দৃঢ়তার পরিচয় সমগ্র উপন্যাস জুড়ে দেখতে পাওয়া যায়। গুরুকে শ্রদ্ধেয় হতে হবে শিষ্যের কাছে এবং কথায় কাজে ও নানারকম উদাহরণ দিয়ে শিষ্যের মনের মধ্যে আকাঙ্খা, বাসনা জাগিয়ে তুলতে হবে—এটাই ছিল তাঁর মূলমন্ত্র।
এইরকম মনের অধিকারী ছিলেন বলেই তিনি সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করে কোনির মতো একজন সাধারণ মেয়েকে জাতীয় চ্যাম্পিয়ান তৈরি করতে পেরেছিলেন ।

৮.২ “ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি” বক্তা কে? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: জনপ্রিয় লেখক মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে “ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি” কোনির প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ একথা বলেছেন।
মাদ্রাজে আয়োজিত ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে শেষ মুহূর্তে জলে নামার সুযোগ পেয়েছিল কোনি। সাঁতারু হিসেবে অংশগ্রহণ করেও তাকে নানা অজুহাতে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। মেয়েদের রিলে রেসের আগে অমিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিনা প্রস্তুতিতে জলে নামতে হয়েছিল। এতোদিন দর্শকাসনে বসে থাকার পর যখন সে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেল তখন নিজের সর্ব শক্তি দিয়ে রমা জোশীকে হারিয়ে বাংলার জয় নিশ্চিত করেছিল কোনি। জল থেকে উঠে ক্ষিদ্দাকে নিজের শারীরিক কষ্টের কথা জানালে ক্ষিদ্দা বলেছিলেন, “ওইটেই তাে আমি রে, যন্ত্রণাটাই তাে আমি”।
প্রশিক্ষক হিসেবে ক্ষিতীশ সিংহের মূল মন্ত্র ছিল অনুশীলন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে শরীরকে ঘষে ঘষে শানিয়ে তুললে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায় । প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীতে যত মহাপুরুষের আবির্ভাব হয়েছে তারা প্রত্যেকেই সাধ্যের বাইরে পরিশ্রম করে যন্ত্রণার আর কষ্টের সঙ্গে নিজেদেরকে মানিয়ে নিয়েছিলেন তার ফলেই তারা বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় এক একটা উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। অর্থাৎ যন্ত্রণাকে যে যত সইতে পারবে ও কঠোর পরিশ্রম করবে , ততই সে কম সময়ে লক্ষ্যে পৌঁছবে, হার মানাবে সময়কে এবং যন্ত্রণাকে। সেই হয়ে উঠবে চ্যাম্পিয়ন, যে সবার আগে সবচেয়ে কম সময়ে পৌঁছবে তার গন্তব্যে। তাই কোনিকেও চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম এবং তার সঙ্গে সময়কে হার মানানো। তাই ক্ষিতীশ কোনির প্রশিক্ষণে এতোটুকু খামতি রাখেননি। কখনো ভয় দেখিয়ে কখনো বা খাবার লোভ দেখিয়ে তিনি কোনিকে দিয়ে পরিশ্রম করিয়েছিলেন। তারই ফল কোনি পেয়েছিল মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে। এইজন্য ক্ষিতীশ বলেছিলেন, “যন্ত্রণাটাই তাে আমি”।

৮.৩ “অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল।”কোনি কীভাবে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল তা সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: মতি নন্দী রচিত কোনি উপন্যাসে বাস্তবে কোনির সাঁতার কাটা সুরু হয় গঙ্গায় । সেখান থেকে বাংলা দলে জায়গা করে নেওয়াটা নেহাত সোজা ছিল না । কোনির দারিদ্রতা ও শিক্ষার অভাবের কারণে তাকে তথাকথিত শিক্ষিত ও সভ্য সমাজের কাছে হেনস্থা হতে হয়েছে ।
“প্রণবেন্দু বিশ্বাস”কোনির নাম প্রথম বাংলা দলে তুলে ধরেন । তিনি কোনির প্রতিবন্ধী হিয়ার প্রশিক্ষক হওয়া সত্বেও বলেন “কনকচাঁপা পালকে বাংলা দলে রাখতে হবে ।” কিন্তু জুপিটারের ক্ষিতীশ বিরোধিতার জন্য তারা কোনিকে দলে রাখতে রাজি হয় । এর আগে কম্পিটিশনে কোনিকে বাতিল করা ও প্রথম হওয়া সত্ত্বেও দ্বিতীয় বলে ঘোষণা করেন, হরিচরণ ও ধীরেন ঘোষ এর গোপন পরামর্শে এসব করা হয় । তবে প্রণবেন্দু বাবু বুঝতে পারেন মহারাষ্ট্রের রমা যোশিকে হারানোর ক্ষমতা কারও না থাকলেও তা কোনির আছে। এমনকি তিনি এটাও বলেন যে কোনিকে বাতিল করলে বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবকে বাদ দিয়ে বাংলা সাঁতার দল গঠিত হবে। ধীরেন ঘোষ ভাবে একটা মেয়ের জন্য এত সমস্যা হলে তাকে নেওয়াই ভালো হবে।
এইভাবে নানাবিধ বাগবিতণ্ডার মধ্যে দিয়ে প্রতিবাদ সামলে প্রণবেন্দুবাবুর সুবিচারের মাধ্যমে কোনি বঙ্গবাসীর নয়ণের মনি হওয়ার সুযোগ পায় ।

৯। চলিত গদ্যে বঙ্গানুবাদ করো:

The teachers are regarded as the backbone of the society. They build the future citizens of country. They love students as their children. The teachers always encourage and inspire us to be good and great in life.

উত্তর: শিক্ষকদের সমাজের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তারা দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের গড়ে তোলেন। তারা ছাত্রদের নিজেদের সন্তান হিসেবে ভালোবাসেন। শিক্ষকেরা সর্বদা আমাদের ভালো এবং মহৎ হতে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেন।

১০। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১০.১ কুসংস্কার প্রতিরোধে বিজ্ঞানমনস্কতা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

কুসংস্কার প্রতিরোধে বিজ্ঞানমনস্কতা: দুই বন্ধুর সংলাপ

দেব: কী রে, এত চিন্তিত কেন?

বাবাই: আসলে’’ আজ সকালে বের হওয়ার সময় দরজা খুলতেই দেখলাম একটা কালো বিড়াল রাস্তা পার হচ্ছে। এখন খুবই খারাপ লাগছে, মনে হচ্ছে আজকের দিনটাই মাটি।

দেব: এসব কুসংস্কারে তুই এখনও বিশ্বাস করিস? কালো বিড়াল রাস্তা পার হলেই তোর দিন খারাপ হবে—এটা কোনো যুক্তিসঙ্গত কথা নয়।

বাবাই: জানি, তবু ভয়টা কাটে না। ছোটবেলা থেকে এসব শুনে আসছি তো!

দেব: বুঝলাম। কিন্তু আমরা যদি সবকিছুতে কুসংস্কার মানতে থাকি, তাহলে জীবনে এগোনো যাবে কীভাবে? বিজ্ঞান আমাদের যুক্তি দিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে। কালো বিড়াল আর তোর দিন খারাপ হওয়ার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।

বাবাই: তুই ঠিকই বলেছিস। আসলে আমাদের বিজ্ঞানমনস্ক হওয়া উচিত। কুসংস্কারের কোনো ভিত্তি নেই।

দেব: একদম ঠিক। বিজ্ঞানই আমাদের পথ দেখাবে। কুসংস্কার বাদ দিয়ে যুক্তি দিয়ে চলাটাই আমাদের উচিত।

১০.২ তোমার এলাকায় একটি পাঠাগার উদ্‌বাধন হল এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

আমার এলাকায় একটি পাঠাগারের উদ্বোধন

গতকাল আমাদের এলাকায় একটি নতুন পাঠাগারের উদ্বোধন হলো। এটি ছিলো এলাকার মানুষদের জন্য এক মহৎ উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ, যিনি ফিতা কেটে পাঠাগারটি উদ্বোধন করেন। তিনি তার বক্তৃতায় বলেন, “পাঠাগার শুধু বইয়ের ভাণ্ডার নয়, এটি জ্ঞানের আলো ছড়ানোর মাধ্যম।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই পাঠাগারে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন ধরনের বই, ম্যাগাজিন, এবং গবেষণাপত্র বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার সুবিধার্থে এখানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বইয়ের সংকলনও রাখা হয়েছে। পাঠাগারের ভেতরে একটি সুন্দর পড়ার ঘরও আছে, যেখানে নিরিবিলি পরিবেশে বই পড়া যাবে। এই পাঠাগারটি আমাদের এলাকার মানুষের জ্ঞানার্জনের পথকে আরও সুগম করবে। নতুন প্রজন্মের জন্য এটি একটি অমূল্য সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।

১১। কমবেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো।

১১.১। বইপড়া

উত্তর: বইপড়া আমাদের জীবনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। বই পড়া কেবলমাত্র জ্ঞানার্জনের একটি মাধ্যম নয়, এটি আমাদের মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। বই পড়ার মাধ্যমে আমরা নতুন নতুন তথ্য জানতে পারি, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অবগত হতে পারি এবং আমাদের কল্পনাশক্তি বৃদ্ধি পায়।

প্রথমত, বই আমাদের জ্ঞানার্জনের একটি অন্যতম প্রধান উৎস। পৃথিবীর যে কোন বিষয়ে আমরা বই থেকে জ্ঞান লাভ করতে পারি। বিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, সমাজবিজ্ঞান, ভূগোল – যে কোন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য বই পড়া আবশ্যক। একাধিক বিষয়ে বই পড়ার মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং আমরা আরও সৃজনশীল হয়ে উঠি।

দ্বিতীয়ত, বই পড়ার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানতে পারি। বিভিন্ন দেশের সাহিত্য, কাহিনী এবং ইতিহাস পড়ে আমরা তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি। এর ফলে আমাদের মন খুলে যায় এবং আমরা অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করতে শিখি।

তৃতীয়ত, বই পড়া আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। একটি ভাল বই পড়ার সময় আমরা নিজেদেরকে কল্পনার জগতে নিয়ে যেতে পারি, যা আমাদের মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। গল্প, উপন্যাস বা কবিতার মাধ্যমে আমরা কিছুক্ষণের জন্য আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে পারি। এটি আমাদের মনের প্রশান্তি নিয়ে আসে এবং আমাদের আরও প্রফুল্ল করে তোলে।

বই পড়ার আরেকটি বড় সুবিধা হলো ভাষা জ্ঞান বৃদ্ধি। বই পড়ার মাধ্যমে আমরা নতুন নতুন শব্দ, বাক্য গঠন ও ভাষার সঠিক ব্যবহারের ধারণা পেয়ে থাকি। এতে আমাদের ভাষা দক্ষতা উন্নত হয় এবং আমরা ভালোভাবে আমাদের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি এবং আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করে আর আমাদের একটি উন্নত ও সুখী জীবন যাপন করতে সহায়তা করে। এটি আমাদের জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবং আমাদের আরও জ্ঞানী ও বিচক্ষণ করে তোলে। তাই আমাদের প্রতিদিন কিছু সময় বই পড়ার জন্য নিবেদন করা উচিত এবং এটি আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

১১.২। বাংলার উৎসব

উত্তর: বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অন্যতম অংশ হলো উৎসব। বাংলার উৎসবগুলি শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়, বরং সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও আনন্দের বার্তা বহন করে। বাংলার মানুষ সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন উৎসব পালন করে থাকে, যা তাদের জীবনে এক নতুন রঙ ও প্রাণের সঞ্চার করে।
বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব হলো দুর্গাপূজা। শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলার মানুষের জন্য এক বিশাল উৎসব, যা মহালয়া থেকে শুরু হয়ে বিজয়া দশমী পর্যন্ত চলে। এই সময়ে বাংলার প্রতিটি গ্রাম, শহর, পাড়া মেতে ওঠে আনন্দ ও উৎসবে। প্যান্ডেল সাজানো, প্রতিমা তৈরি, আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এবং মিষ্টিমুখে ভরপুর এই উৎসবের প্রতিটি মুহূর্তই আনন্দময়।

দুর্গাপূজার পর আরেকটি বড় উৎসব হলো কালীপূজা ও দীপাবলি। এই সময় বাংলার মানুষ মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ঘর আলোকিত করে তোলেন। এই আলোর উৎসবটি অন্ধকারকে দূর করে নতুন আলোর পথ দেখানোর বার্তা বহন করে।

বৈশাখী মেলা বাংলার আরেকটি জনপ্রিয় উৎসব। পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি বাংলার মানুষের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানগুলি বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায়।
ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহা বাংলার মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই সময়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নামাজ আদায় করে, সেমাই, পায়েস, এবং অন্যান্য মিষ্টি খাবার তৈরি করে, এবং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সময় কাটায়। ঈদের সময় ধনী ও দরিদ্র সবার মধ্যে সমানভাবে আনন্দ ভাগাভাগি হয়, যা সামাজিক সংহতির প্রতীক।
পৌষ মেলা ও নবান্ন উৎসব বাংলার কৃষিভিত্তিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। নবান্নে নতুন ধান তোলার পর গ্রামবাসীরা এই উৎসবটি পালন করে। এই সময়ে কৃষকরা তাদের সারা বছরের পরিশ্রমের ফল উপভোগ করে এবং নতুন ধানের স্বাদ গ্রহণ করে।

বসন্ত উৎসব বাংলার একটি রঙিন উৎসব। ফাল্গুন মাসের প্রথম দিনে বসন্ত বরণের এই উৎসবটি পালিত হয়। তরুণ-তরুণীরা হলুদ শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে, ফুলের মালা গলায় দিয়ে বসন্তকে স্বাগত জানায়। এই উৎসবটি নতুনের আহ্বান ও পুরাতনের বিদায়ের প্রতীক।

বাংলার প্রতিটি উৎসবেই দেখা যায় মানুষের মধ্যে এক অপরিসীম আনন্দ ও উল্লাস। এসব উৎসব বাংলার মানুষের জীবনে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা যোগায়। বাংলার উৎসবগুলি কেবলমাত্র আনন্দের উপলক্ষ নয়, বরং এগুলি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক এবং বাহক। তাই আমাদের উচিত এই উৎসবগুলিকে যত্নসহকারে পালন করা এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে এই সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করানো।

১১.৩। পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রসমাজের ভূমিকা

উত্তর: বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ দূষণ একটি গুরুতর সমস্যা। বায়ু,জল, এবং মাটি দূষণের কারণে মানবজীবন বিপন্ন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রসমাজই পারে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে।

প্রথমত, ছাত্রসমাজ পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে নিয়োজিত হতে পারে। বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের সেমিনার, কর্মশালা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে ছাত্ররা পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পারে। তারা পরিবেশবান্ধব কার্যকলাপের গুরুত্ব বোঝাতে পারে এবং তাদের পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং পরিচিতদের মধ্যে এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ছাত্ররা পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী ব্যবহারের প্রচার ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে তারা সরাসরি পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান রাখতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এবং আশপাশের এলাকায় তারা নিয়মিত এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

তৃতীয়ত, পরিবেশ রক্ষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্ররা নিজেদের পড়াশোনার অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করতে পারে। সোলার প্যানেল, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থার মতো প্রকল্পে তারা গবেষণা করতে পারে। এই ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি নবীন প্রজন্মের মধ্যে নতুন উদ্ভাবনের আগ্রহ জাগিয়ে তুলবে।
এছাড়া, ছাত্ররা সামাজিক মাধ্যম এবং অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পরিবেশ সুরক্ষার প্রচার করতে পারে। এছাড়া, পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ছাত্রসমাজের এই কাজগুলো শুধুমাত্র নিজেদের উন্নতির জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য। তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী রেখে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করছে। পরিবেশ সুরক্ষার মাধ্যমে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করতে পারি, আর এই কাজে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অপরিহার্য।

সুতরাং, ছাত্রসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। নিজেদের সচেতনতা, প্রচেষ্টা এবং কার্যকলাপের মাধ্যমে ছাত্রসমাজই পারে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে।

১১.৪। তোমার বিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন

উত্তর: আমার বিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটি ছিল আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিন। নতুন পোশাক, নতুন ব্যাগ, এবং নতুন জুতা—সবকিছুই যেন আমাকে আনন্দের এক অন্য জগতে নিয়ে গিয়েছিল।
বাবা-মায়ের সাথে স্কুলে যাওয়ার পথে আমি খুব উত্তেজিত ছিলাম। রাস্তায় যেতে যেতে নানা রকমের চিন্তা আমার মাথায় ঘুরছিল। নতুন স্কুল, নতুন শিক্ষক, নতুন সহপাঠী—সবকিছুই যেন এক অজানা পৃথিবীর দরজা খুলে দিচ্ছিল আমার সামনে। স্কুলে পৌঁছে দেখি, অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকরা আমাদের মতোই ব্যস্ত এবং উত্তেজিত।

প্রথম দিনের প্রার্থনা শেষে আমাদের ক্লাসে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে আমাদের ক্লাস শিক্ষক আমাদের স্বাগত জানালেন। তার মৃদু হাসি এবং স্নেহময়ী দৃষ্টি আমার সব ভীতি দূর করে দিল। প্রথমে তিনি আমাদের নাম এবং প্রিয় বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তারপর আমাদের বিভিন্ন ধরনের মজার গল্প‌ শোনালেন যা আমাদের মনোরঞ্জন করেছিল।

ক্লাসে আমরা মূলত পরিচিতি পর্বে ছিলাম। নতুন বই, নতুন খাতা, এবং শিক্ষকদের সাথেও পরিচয় হলো। সেই প্রথম দিনের শিক্ষকদের স্নেহময়ী ব্যবহার এবং সহপাঠীদের সাথে নতুন বন্ধুত্বের শুরু আমার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। আমরা খেলাধুলা করলাম, এবং বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমে দলবেধে অংশ নিলাম।
সেদিন টিফিনের সময় আমার মা আমাকে টিফিন বক্সে পছন্দের খাবার এবং ফলমূল দিয়েছিলেন। নতুন সহপাঠীদের সাথে টিফিন ভাগাভাগি করে খাওয়া এবং গল্পগুজবের মধ্য দিয়ে সময় কেটে গেল। আমরা সবাই একে অপরের সাথে বন্ধুত্ব করছিলাম এবং সেই বন্ধুত্বের বীজ আজও আমার হৃদয়ে অটুট রয়েছে।

স্কুল ছুটির পর, বাবা আমাকে নিতে এলেন। সেই সময় আমার মনে হয়েছিল আমি যেন অনেক বড় হয়ে গেছি। সারা দিন নানা রকম অভিজ্ঞতা আর মজার স্মৃতি নিয়ে আমি বাড়ি ফিরলাম। মা-বাবাকে সারাদিনের গল্প শুনিয়ে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম।

আমার বিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটি ছিল আমার জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। সেই দিনের স্মৃতি আজও আমার মনে জীবন্ত। সেই দিনটির প্রতিটি মুহূর্ত আমার জীবনে এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে চিরকাল। বিদ্যালয় জীবনের সেই প্রথম দিনের স্মৃতিগুলোই আমার শিক্ষাজীবনের ভিত গড়ে দিয়েছে।


MadhyamikQuestionPapers.com এ আপনি আরও বিভিন্ন বছরের প্রশ্নপত্রের উত্তরও পেয়ে যাবেন। আপনার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কেমন লাগলো, তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আরও পড়ার জন্য, জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য MadhyamikQuestionPapers.com এর সাথেই থাকুন।

Tag Post :
Share This :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Post

Don't See The Answer You Need?

Don’t hesitate to drop your message