আপনি কি ২০২৬ সালের মাধ্যমিক Model Question Paper 14 এর সমাধান খুঁজছেন? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই আর্টিকেলে আমরা WBBSE-এর বাংলা ২০২৬ মাধ্যমিক Model Question Paper 14-এর প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও বিস্তৃত সমাধান উপস্থাপন করেছি।
প্রশ্নোত্তরগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা সহজেই পড়ে বুঝতে পারে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যবহার করতে পারে। বাংলা মডেল প্রশ্নপত্র ও তার সমাধান মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ও সহায়ক।
MadhyamikQuestionPapers.com, ২০১৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষার সমস্ত প্রশ্নপত্র ও সমাধান সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করে আসছে। ২০২৬ সালের সমস্ত মডেল প্রশ্নপত্র ও তার সঠিক সমাধান এখানে সবার আগে আপডেট করা হয়েছে।
আপনার প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে এখনই পুরো প্রশ্নপত্র ও উত্তর দেখে নিন!
Download 2017 to 2024 All Subject’s Madhyamik Question Papers
View All Answers of Last Year Madhyamik Question Papers
যদি দ্রুত প্রশ্ন ও উত্তর খুঁজতে চান, তাহলে নিচের Table of Contents এর পাশে থাকা [!!!] চিহ্নে ক্লিক করুন। এই পেজে থাকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর Table of Contents-এ ধারাবাহিকভাবে সাজানো আছে। যে প্রশ্নে ক্লিক করবেন, সরাসরি তার উত্তরে পৌঁছে যাবেন।
Table of Contents
Toggle১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:
১.১ গিরীশ নমস্কার করে অপূর্বকে কী সম্বোধন করেছিলেন?-
(ক) বাবুমশায়,
(খ) বাবুসাহেব,
(গ) বাবুজি,
(ঘ) দাদাঠাকুর
উত্তর: (ক) বাবুমশায়
১.২ অমৃতের বয়স কত?
(ক) আট বছর,
(খ) নয় বছর,
(গ) দশ বছর,
(ঘ) বারো বছর
উত্তর: (গ) দশ বছর
১.৩ চার বছরের চেনা এই নদীর মূর্তিকে দেখে নদেরচাঁদের কেমন মনে হল?-
(ক) পরিচিত,
(খ) অপরিচিত,
(গ) সুন্দর,
(ঘ) পঙ্কিল
উত্তর: (খ) অপরিচিত
১.৪ পাঠ্য ‘অসুখী একজন’ কবিতাটির অনুবাদক
(ক) শঙ্খ ঘোষ,
(খ) নবারুণ ভট্টাচার্য,
(গ)উৎপলকুমার বসু,
(ঘ) মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: (খ) নবারুণ ভট্টাচার্য
১.৫ “অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ”–
(ক) চরাচর,
(খ) মহাকাল,
(গ) গগনতল,
(ঘ) গিরিশিখর
উত্তর: (ক) চরাচর
১.৬ “গান দাঁ ড়াল ঋষিবালক” ‘ঋষিবালক’ এখানে-
(ক) পবিত্রতার প্রতীক,
(খ) হিংসার প্রতীক,
(গ) যুদ্ধজয়ের প্রতীক,
(ঘ) প্রতিরোধের প্রতীক
উত্তর: (ক) পবিত্রতার প্রতীক
১.৭ “তিল ত্রিফলা সিমুল ছালা”‘ত্রিফলা’ হল–
(ক) আমলকি, সুপারি, হরিতকি,
(খ) সুপারি, এলাচ, জায়ফল,
(গ) সুপারি, এলাচ, বহেড়া,
(ঘ) আমলকি, হরিতকি, বহেড়া
উত্তর: (ঘ) আমলকি, হরিতকি, বহেড়া
১.৮ অল্পবিদ্যা যে ভয়ংকরী তার প্রমাণ লেখক যেভাবে পেয়েছেন, তা হল–
(ক) শব্দ আলোর আগে পৌঁছয়,
(খ) ওজন গ্যাস স্বাস্থ্যকর
(গ) বায়ুর ওজন আছে,
(ঘ) আলো অত্যন্ত ধীর গতি সম্পন্ন
উত্তর: (খ) ওজন গ্যাস স্বাস্থ্যকর
১.৯ ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটি লেখকের কোন্ মূলগ্রন্থে রয়েছে?
(ক) ‘অব্যক্ত’,
(খ) ‘বিচিন্তা’,
(গ) ‘কজ্জলী’,
(ঘ) ‘সংকলন’
উত্তর: (খ) ‘বিচিন্তা’
১.১০ ‘তিরিশ বছর ভিজিয়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। – নিম্নরেখ পদটি –
(ক) অপাদান কারক
(খ) কর্মকারক
(গ) করণ কারক
(ঘ) অধিকরণ কারক
উত্তর: (গ) করণ কারক
১.১১ তুমি এলে আমি যাবো এই বাক্যে কর্তাটি হল-
(ক) ব্যতিহার কর্তা,
(খ) অনুক্ত কর্তা,
(গ) প্রযোজক কর্তা,
(ঘ) নিরপেক্ষ কর্তা
উত্তর: (ঘ) নিরপেক্ষ কর্তা
১.১২ দ্বিগু সমাসের পূর্বপদটি সবসময় হয়–
(ক) বিশেষ্য,
(খ) বিশেষণ,
(গ) অব্যয়,
(ঘ) সংখ্যাবাচক
উত্তর: (ঘ) সংখ্যাবাচক
১.১৩ অলুক বহুব্রীহির উদাহরণ–
(ক) মুখেমধু,
(খ) মায়েঝিয়ে,
(গ) আগেপিছে,
(ঘ) কাছাকাছি
উত্তর: (ক) মুখেমধু
১.১৪ বাক্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়
(ক) উদ্দেশ্যের প্রসারক অংশে,
(খ) বিধেয়র প্রসারক অংশে,
(গ) বিধেয় অংশে,
(ঘ) উদ্দেশ্যের সংকোচক অংশে
উত্তর: (গ) বিধেয় অংশে
১.১৫ ‘দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে’ বাক্যটি একটি
(ক) নির্দেশক বাক্য,
(খ) প্রশ্নসূচক বাক্য,
(গ) সংশয়সূচক বাক্য,
(ঘ) আবেগসূচক বাক্য
উত্তর: (গ) সংশয়সূচক বাক্য
১.১৬ ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর।’ এটি কোন্ বাচ্যের উদাহরণ? –
(ক) কর্তৃবাচ্য,
(খ) কর্মবাচ্য,
(গ) ভাববাচ্য,
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর: (ক) কর্তৃবাচ্য
১.১৭ কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া সংগতি রক্ষা করে-
(ক) কর্তার সঙ্গে,
(খ) কর্মের সঙ্গে,
(গ) ধাতুর সঙ্গে,
(ঘ) প্রত্যয়ের সঙ্গে
উত্তর: (ক) কর্তার সঙ্গে
২। কমবেশি ২০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.১.১ ‘পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?’ কোন্ অলৌকিক ঘটনার কথা উদ্ধৃতাংশে বলা হয়েছে?
উত্তর: তপনের গল্প বই আকারে প্রকাশ পেয়ে হাজার হাজার যুবকের হাতে পৌঁছানোকেই এখানে একটি অলৌকিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
২.১.২ “আমার বুকের ভিতরেই যে সব তীর্থ।” কে, কাকে কথাটি বলেছে?
উত্তর: গল্পকার সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগী হরিদা জগদীশবাবুকে কথাটি বলেছে।
২.১.৩ ‘মনে হলে দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই।’ কোন্ কথা মনে করে অপূর্বর এই মনোবেদনা?
উত্তর: প্ল্যাটফর্ম থেকে বিনা দোষে একদল ফিরিঙ্গি যুবক অপূর্বকে লাথি মেরে বের করে দেয়। আর সেই দৃশ্য দেখেও সেখানে থাকা দেশি লোকেরা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না। এই কথাটাই ভেবে অপূর্বর মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে, মনে হলে দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই।
২.১.৪ ‘আবেগ ভরা গলায় হাসান বললেন,’ হাসান কী বললেন?
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পে আবেগঘন কণ্ঠে হাসান বললেন, ‘বাহালি বৌদি, অমৃতের মতো ছেলে পেলে আমি একুশজনকেও লালন-পালন করতে রাজি আছি।’
২.১.৫ ‘আজ যেন সেই নদী খেপিয়া গিয়াছে,’ নদীর খেপে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর:পাঁচদিন আগেও প্রবল বর্ষণের ফলে নদীর জল আয়তনে ও গতিতে অত্যধিক বেড়ে যায়, নদীর জল পঙ্কিল ও ফেনিল হয়ে উঠে, যা নদীকে “খেপিয়া যাওয়ার” মতো একটি উন্মত্ত ও ভয়ানক রূপ দান করে।
২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.২.১ “যেখানে ছিল শহর” সেখানকার কী অবস্থা হল?
উত্তর: যুদ্ধের পর শহরটির সর্বত্র ছড়িয়ে ছিল কাঠকয়লা, বাঁকানো লোহার খণ্ড, মৃত পাথরের মূর্তির বিকৃত মাথা আর শুকনো রক্তের কালো দাগ।
২.২.২ “পৃথিবী হয়তো গেছে মরে” পৃথিবী সম্পর্কে এমন বলার কারণ কী?
উত্তর: শোষিত, বঞ্চিত আর নিপীড়িত মানুষগুলো যেন অন্য কোনো গ্রহের প্রাণী। তারা সমাজ থেকে এতোটাই বিচ্ছিন্ন যে, পৃথিবীর কোনো খবর-খবরাখবরই যেন তাদের কাছে পৌঁছায় না। তাই কবি বলেছেন “পৃথিবী হয়তো গেছে মরে”।
২.২.৩ “শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে” কে, কীভাবে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল?
উত্তর: দুর্গম ও দুর্ভেদ্য আফ্রিকা মহাদেশ তার উগ্র রূপ ধারণ করে, নিজের ভয়ঙ্কর মহিমায় বিধ্বংসী তাণ্ডবলীলার প্রচণ্ড ধ্বনি দিয়ে ভয়কে পরাজিত করতে চেয়েছিল।
২.২.৪ ‘কন্যারে ফেলিল যথা’ কন্যাকে কোথায় ফেলা হল?
উত্তর: সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে সমুদ্রগর্ভে অবস্থিত এক অপূর্ব দিব্যপুরীতে নির্বাসিত করা হয়।
২.২.৫ “অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো” কোথায় অস্ত্র ফেলার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কবি জয় গোস্বামী ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় অস্ত্রকে গানের পায়ে নিবেদন করার, অর্থাৎ আত্মসমর্পণের কথা বলেছেন।
২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.৩.১ ‘মুঘল দরবারে একদিন তাঁদের কত না খাতির, কত না সম্মান।’ কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনার ‘মুঘল দরবারে একদিন তাঁদের কত না খাতির, কত না সম্মান।’ উদ্ধৃত অংশে লিপিশিল্পী বা ‘ক্যালিগ্রাফিস্ট’-দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
২.৩.২ এমন দুজন কবির নাম লেখো যাঁরা টাইপ-রাইটারে লিখতেন।
উত্তর: অন্নদাশঙ্কর রায় ও সুভাষ মুখোপাধ্যায় হলেন এমন দুজন কবি যাঁরা টাইপ-রাইটারে লিখতেন।
২.৩.৩ “তাঁদের নূতন করে শিখতে হচ্ছে।” কাদের, কী শিখতে হচ্ছে?
উত্তর: যারা ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষিত এবং সরকারি কাজে ইংরেজি পরিভাষা ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলেন তাদের রাজকার্য তথা সরকারি কাজে ব্যবহৃত দেশি (বাংলা) পরিভাষা শিখতে হচ্ছে।
২.৩.৪ আলংকারিকদের মতে, শব্দের অর্থ কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: রাজশেখর বসু রচিত ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে আলংকারিকদের মতে, শব্দের অর্থ তিন প্রকার। যথা – অভিধা, লক্ষণা, ব্যঞ্জনা।
২.৪ যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.৪.১ একটি বাক্যে মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্মের উদাহরণ দাও।
উত্তর: শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে বাংলা পড়াচ্ছেন এখানে মুখ্য কর্ম হল বাংলা এবং গৌণ কর্ম হল শিক্ষার্থীদেরকে।
২.৪.২ সম্বন্ধপদ কাকে বলে?
উত্তর: বাক্যে ব্যবহৃত যে নামপদ ক্রিয়াপদের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে বাক্যের অন্য নামপদের সাথে সম্বন্ধসূচক সম্পর্ক প্রকাশ করে, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
২.৪.৩ ‘কর্মধারয়’ শব্দের অর্থ কী? ব্যাকরণের কোন্ প্রসঙ্গে শব্দটির ব্যবহার?
উত্তর: কর্মধারয় হল বাংলা ব্যাকরণের একটি সমাস এর নাম। আক্ষরিক অর্থে “কর্মধারয়” শব্দের অর্থ হলো “যা কর্মকে ধারণ করে”। এই শব্দটির ব্যবহার বাংলা ও সংস্কৃত ব্যাকরণের সমাস-প্রসঙ্গে হয়। কর্মধারয় হলো সমাসের একটি প্রধান ও অত্যন্ত সাধারণ প্রকার।
২.৪.৪ ‘ঋষিবালক’ পদটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।
উত্তর: ‘ঋষিবালক’ পদটির ব্যাসবাক্য হল ঋষির বালক এবং এটির সমাসের নাম হল ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
২.৪.৫ ‘কেমনে ধরিবে প্রাণ তোমার বিরহে এ অভাগী?’ নস্ত্যর্থক বাক্যে পরিবর্তন করো।
উত্তর: কেমনে ধরিবে প্রাণ তোমার বিরহে এ অভাগী? -এই বাক্যটির নস্ত্যর্থক রূপ হলো – কেমনে ধরিবে না প্রাণ তোমার বিরহে এ অভাগী?
২.৪.৬ আসত্তিবিহীন বাক্যের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: আসত্তিবিহীন বাক্যের একটি উদাহরণ হল – আজ বৃষ্টি হবে।
২.৪.৭ উদ্দেশ্য প্রসারক ও বিধেয় প্রসারক চিহ্নিত করো ‘বাবার বন্ধু অসীমবাবু হঠাৎ আজ হৃদ্রোগে মারা গেছেন।’
উত্তর: “বাবার বন্ধু অসীমবাবু হঠাৎ আজ হৃদ্রোগে মারা গেছেন।” এখানে উদ্দেশ্য প্রসারক হল বাবার বন্ধু অসীমবাবু এবং বিধেয় প্রসারক হল হঠাৎ আজ হৃদ্রোগে মারা গেছেন।
২.৪.৮ ‘কালি কলম মন, লেখে তিন জন।’ ভাববাচ্যে পরিবর্তন করো।
উত্তর: ‘কালি কলম মন, লেখে তিন জন।’ ভাববাচ্যে পরিবর্তন করলে হবে কালি, কলম ও মন দিয়ে লেখা হয়।
২.৪.৯ ‘এ কার লেখা?’ কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তন করো।
উত্তর: “এ কার লেখা?” বাক্যটির কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তন করলে হবে কে এটি লিখেছেন?
২.৪.১০ ‘এই বলে সে অমৃতকে খোলা মাঠে নিয়ে এল।’ বাক্যটিকে কর্মবাচ্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: “এই বলে সে অমৃতকে খোলা মাঠে নিয়ে এল” বাক্যটির কর্মবাচ্যে রূপান্তরিত রূপ হলো এই বলে অমৃতকে খোলা মাঠে আনা হলো।
৩। প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০ শব্দে উত্তর দাও:
৩.১ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৩.১.১ “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে তা স্বীকার করতে হবে।” ‘বাবুটি’ কে? তার শখ যে বজায় আছে, তা কীভাবে বোঝা গেল?
উত্তর: ‘বাবুটি’ বলতে এখানে ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের গিরীশ মহাপাত্র চরিত্রটিকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
বাবুটির শারীরিক অবস্থা ভালো না হলেও তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ, সাজগোজ ও চালচলনে দামি ও ফ্যাশনসচেতন মনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। অপূর্ব বারবার তাকে দেখে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। তাঁর মাথার চুল বড়ো বড়ো কিন্তু পেছনে খুব ছোট করে ছাঁটা, চেরা সিঁথি, অতিরিক্ত তেল ও নেবুর তেলের গন্ধ। গায়ে জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি, বুক-পকেটে বাঘ-আঁকা রুমাল। পরনে বিলাতি মিলের কালো মকমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি, সবুজ রঙের ফুল মোজা, লাল ফিতে বাঁধা, বার্নিশ-করা পাম্প শু যার তলায় লোহার নাল। হাতে হরিণের শিঙের হাতলওয়ালা বেতের ছড়ি। এই সবকিছু দেখেই অপূর্ব বুঝতে পারে যে বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে।
৩.১.২ ‘সে স্রোতের মধ্যে ছুড়িয়া দিল।’ সে স্রোতের মধ্যে কী ছুড়ে দিল? তা ছুড়ে দেওয়ার কারণ কী?
উত্তর: সে স্রোতের মধ্যে একটি পুরাতন চিঠি ছুড়ে দিল।
চিঠিটি ছুড়ে দেওয়ার প্রধান কারণ হলো নদীর স্রোতের উন্মত্ততা ও জীবন্ত আবেদনের সঙ্গে খেলার লোভ সংবরণ করতে না পারা। নদেরচাঁদের নদীর স্রোতকে জীবন্ত মনে হচ্ছিল, আর সে তার সঙ্গে খেলতে গিয়ে স্ত্রীকে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপী বিরহ-বেদনাপূর্ণ চিঠিটি নদীর জলে ছুঁড়ে দেয়।
৩.২ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৩.২.১ ‘বর্ম খুলে দ্যাখো আদুড় গায়ে’ কথাগুলির মধ্য দিয়ে কবি কী বলতে চেয়েছেন?
উত্তর: “বর্ম খুলে দ্যাখো আদুড় গায়ে” কথাটির মধ্য দিয়ে কবি বলতে চেয়েছেন যে, সশস্ত্র সংগ্রামের বদলে শিল্প ও মানবিকতার শক্তিতে আস্থা রাখতে হবে। “বর্ম” হলো অস্ত্র, হিংসা ও যুদ্ধের প্রতীক। “আদুড় গায়ে” বলতে নির্মল, অনাবৃত, অরক্ষিত কিন্তু সত্যিকার মানুষের শরীর ও মনকে বোঝানো হয়েছে। যুদ্ধ-অস্ত্রের কৃত্রিম সুরক্ষা পরিত্যাগ করে মানুষের অন্তর্নিহিত মানবিকতা, সৃষ্টিশীলতা ও গানের শক্তিকে বিশ্বাস করতে হবে। অস্ত্রের বর্ম খুলে ফেললে আমরা আমাদের সহজ-সরল, আন্তরিক ও শিল্পময় স্বরূপটিকে আবিষ্কার করব, যা যেকোনো সংঘাতের চেয়ে শক্তিশালী।
৩.২.২ “হায় ছায়াবৃতা,” ‘ছায়াবৃতা’ কে? কেন সে ছায়াবৃতা?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতার আলোচ্য অংশে আফ্রিকাকে ‘ছায়াবৃতা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছায়াবৃতা বলার কারণ – আফ্রিকা মহাদেশের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রয়েছে ঘন ক্রান্তীয় বৃষ্টিপ্রবণ অরণ্য। সেখানে সূর্যের আলো পর্যন্ত সহজে প্রবেশ করতে পারে না। প্রকৃতি যেন স্বভাবগতভাবেই তাকে গড়ে তুলেছে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ রূপে। এই সূর্যালোকের অভাবই আফ্রিকাকে ‘ছায়াবৃতা’ নামে অভিহিত করার মূল কারণ। আর এই ছায়ার আড়ালেই রয়ে গেছে আফ্রিকার স্বকীয় জীবনধারা ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ভুবন।
৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৪.১ “ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।” কার উক্তি? কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি করা হয়েছে?
উত্তর: “ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।” – এই উক্তিটি ইসাবের বাবা পাঠানের।
এই উক্তি করা হয়েছে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের একটি খাঁটি দৃশ্য থেকে উদ্ভূত প্রসঙ্গে। ছেলেরা ইসাব ও অমৃতের জামা অদল-বদল করার ঘটনাটি দেখে ফেলেছিল এবং সেটি নিয়ে ছেলেরা ‘অদল-বদল’ বলে চিৎকার করতে থাকে। এতে লজ্জা ও ভয়ে তারা বাড়ির দিকে পালাতে থাকে। ইসাবের বাবা পাঠান এই ঘটনা দেখে ফেলেন এবং তিনি ছেলেদের ডেকে নেন এবং ইসাবের বাবা অমৃতকে জড়িয়ে ধরে বলেন যে, আজ থেকে অমৃতও আমার ছেলে। পাঠান তার গল্পে বর্ণনা করেন যে, ইসাব অমৃতকে জিজ্ঞেস করেছিল, “তোর বাবা যদি তোকে মারে কী হবে?” উত্তরে অমৃত বলেছিল, ” আমার তো মা রয়েছে।” এই উত্তরটি শুনে পাঠান আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তিনি উপলব্ধি করেন যে, অমৃতের এই কথায় মায়ের প্রতি যে অগাধ ভালোবাসা ও বিশ্বাস রয়েছে, সেটিই হল সবচেয়ে খাঁটি জিনিস। এই সত্যটিকেই তিনি “খাঁটি জিনিস” বলে বর্ণনা করেছেন এবং অমৃতই তাকে এই খাঁটি জিনিসের অর্থ শিখিয়েছে।
৪.২ “বড়ো চমৎকার আজকে এই সন্ধ্যার চেহারা।” ‘এই সন্ধ্যার’ পরিচয় দাও। সেদিনের সন্ধ্যার ঘটনাটি বর্ণনা করো।
উত্তর: প্রশ্নে উল্লিখিত ‘এই সন্ধ্যার’ পরিচয় হলো, এটি একটি অত্যন্ত সুন্দর, স্নিগ্ধ ও শান্ত সন্ধ্যা, যেখানে চাঁদের আলো শহরকে অতুলনীয় উজ্জ্বলতা দান করেছে। এটি জগদীশবাবুর বাড়িতে হরিদাসের পরিকল্পিত “খেলা” বা অভিনয়টি দেখার সন্ধ্যা।
সন্ধ্যাটি ছিল অত্যন্ত মনোরম। চাঁদের আলোয় শহর মায়াভরা সৌন্দর্যে ভরে উঠেছিল এবং ফুরফুরে বাতাস বইছিল। জগদীশবাবুর বাগানের গাছের পাতা ঝিরিঝির শব্দ করছিল। জগদীশবাবুর বারান্দায় একটি বড় আলো জ্বলছিল এবং সেই আলোর নীচে চেয়ারে বসে ছিলেন সাদা চুল-দাড়িওয়ালা, শান্ত ও জ্ঞানী মানুষ জগদীশবাবু। বক্তা ও তার সঙ্গীরা সেখানে তাদের স্পোর্টস ক্লাবের চাঁদা তুলতে এসেছিল। তারা জগদীশবাবুর হাতে চাঁদার খাতা তুলে দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এই শান্ত পরিবেশের মধ্যেই তারা হরিদাসের পরিকল্পিত সেই অসাধারণ খেলাটি (যা আসলে জগদীশবাবুকে বোকা বানিয়ে টাকা আদায়ের একটি কৌশল) দেখার অপেক্ষায় ছিল।
৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৫.১ ‘তন্ত্রে মন্ত্রে মহৌষধি দিয়া।।’ সমুদ্র রাজার কন্যা পদ্মা তার সখীদের নিয়ে কার পরিচর্যা করেছিলেন? কাব্যাংশ অনুসরণে সেই পরিচর্যার পরিচয় দাও।
উত্তর: তন্ত্রে মন্ত্রে মহৌষধি দিয়া- কবি সৈয়দ আলাওল রচিত ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্ররাজার কন্যা পদ্মা তাঁর সখীদের নিয়ে পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখী — চন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিণী ও বিধুন্নলার পরিচর্যা করেছিলেন।
কাব্যাংশ অনুসরণে সেই পরিচর্যার পরিচয়- সমুদ্রতীরে জ্ঞানহীন অবস্থায় তাদের দেখতে পেয়ে পদ্মার হৃদয় করুণায় ভরে ওঠে। তিনি প্রথমে বিধাতার কাছে তাদের জীবনের জন্য প্রার্থনা জানান। এরপর পদ্মার নির্দেশে সখীরা অচেতন কন্যাদের দেহ বসন দিয়ে আবৃত করে উদ্যানের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে তন্ত্র, মন্ত্র ও মহৌষধি প্রয়োগ করেন এবং তাদের মাথা ও পায়ে অগ্নিসেঁক দেন। দীর্ঘ চার দণ্ডকাল ধরে পদ্মা ও তাঁর সখীরা নিবিড় যত্ন ও চিকিৎসা চালিয়ে যান। অবশেষে তাঁদের সেবা ও প্রচেষ্টার ফলে পদ্মাবতী ও তার সখীরা ধীরে ধীরে চেতনা ফিরে পায়। এই পরিচর্যা পদ্মার করুণা, মানবতা ও স্নেহবোধের এক অনন্য প্রকাশ।
৫.২ মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশ অবলম্বনে ইন্দ্রজিতের চরিত্র আলোচনা করো।
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ কাব্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইন্দ্রজিৎ। তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলিই কাব্যের কাহিনিবিন্যাসের মূল ভিত্তি। ইন্দ্রজিতের চরিত্রে আমরা বেশ কিছু সুষ্পষ্ট গুণাবলি লক্ষ করি-
বীরত্ব ও আত্মবিশ্বাস – ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মীর কাছ থেকে লঙ্কার সর্বনাশ ও বীরবাহুর মৃত্যুর সংবাদ শুনে ইন্দ্রজিৎ বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, “ঘুচাব ও অপবাদ, বধি রিপুকুলে।” তিনি দুই-দুইবার রামচন্দ্রকে পরাজিত করেছেন। তৃতীয়বারের মতো তাঁকে পরাস্ত করতেও তিনি ছিলেন সমভাবে আত্মবিশ্বাসী; তাই রাবণকে তাঁর বলতে শুনি— “সমূলে নির্মূল করিব পামরে আজি।”
কর্তব্য সচেতনতা – ইন্দ্রজিৎ কেবল পিতৃভক্তই নন, কর্তব্যনিষ্ঠায়ও তিনি ছিলেন অনন্য। পিতার যুদ্ধে যাওয়ার সংকল্প শুনে তিনি সতর্ক করে দেন— “থাকিতে দাস, যদি যাও রণে/তুমি, এ কলঙ্ক, পিতঃ, ঘুষিবে জগতে।”
স্বদেশপ্রেম – ইন্দ্রজিৎ স্বদেশ ও স্বজাতির প্রতি গভীর নিষ্ঠাবান। শত্রুপক্ষ দ্বারা স্বর্ণলঙ্কা পরিবেষ্টিত দেখে তাঁর হৃদয় থেকে বেরিয়ে আসে মর্মন্তদ বিলাপ— “হা ধিক্ মোরে। বৈরিদল বেড়ে স্বর্ণলঙ্কা…”
আত্মসমালোচনা – লঙ্কার দুর্দশা এবং বীরবাহুর মৃত্যুতে তিনি নিজেকেই তীব্র ধিক্কার দেন— “হা ধিক্ মোরে। বৈরিদল বেড়ে/স্বর্ণলঙ্কা, হেথা আমি বামাদল মাঝে?” এই আত্মমূল্যায়ন ও আত্মসমালোচনাই তাঁর চরিত্রকে মহিমান্বিত করেছে।
পত্নীর প্রতি গভীর অনুরাগ – প্রমীলার সঙ্গে ইন্দ্রজিতের দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর ও প্রগাঢ়। প্রমীলা তাঁকে যুদ্ধে যেতে নিষেধ করলে, ইন্দ্রজিৎ বলেন যে প্রমীলার ভালোবাসার মজবুত বন্ধন থেকে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করার শক্তি কারও নেই।
মধুসূদনের ভাষায় ইন্দ্রজিৎ ছিলেন তাঁর ‘প্রিয় ইন্দ্রজিৎ’। কবির সেই পক্ষপাত ও অন্তরঙ্গ সহানুভূতিই ইন্দ্রজিতের চরিত্রচিত্রণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৬.১ ‘বিমর্ষ ওয়াটারম্যান মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন’ ওয়াটারম্যান কে? তিনি বিমর্ষ হয়েছিলেন কেন? তাঁর প্রতিজ্ঞার ফল কী হয়েছিল?
উত্তর: লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান ছিলেন ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক।
ওয়াটারম্যান তখনকার অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মতোই দোয়াত-কলম নিয়ে কাজে বেরোতেন। একবার তিনি একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে চুক্তি সই করতে গিয়েছিলেন। দলিল লেখা প্রায় অর্ধেক হয়েছে, এমন সময় হঠাৎ দোয়াতটি উল্টে কাগজের ওপর পড়ে যায়। ফলে তাঁকে কালি খুঁজে আনতে বাধ্য হতে হয়। কালি সংগ্রহ করে ফিরে এসে দেখেন, অন্য এক ব্যবসায়ী সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে কাজটি সম্পন্ন করে ফেলেছেন এই ঘটনায় ওয়াটারম্যান অত্যন্ত মনঃক্ষুণ্ণ হন।
এরপর তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেন, এমন একটি কলম তৈরি করবেন যাতে দোয়াতের প্রয়োজন হবে না। তাঁর সেই অঙ্গীকারের ফলেই জন্ম নেয় ফাউন্টেন পেন। জগতে এই পেন এনেছিল এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বাঁশের কঞ্চি, খাগ ও পালকের কলমের যুগের অবসান ঘটল। একই সাথে শেষ হলো দোয়াতে কলম ডুবিয়ে লেখার প্রচলন। ধীরে ধীরে নানা ধরনের সস্তা ও দামি ফাউন্টেন পেন বাজার দখল করে নিল। সবার কাছেই এই কলম হয়ে উঠল সমাদৃত। দোয়াত-কলমের যুগের সমাপ্তি ঘটিয়ে আমাদের লেখালেখি প্রবেশ করল আধুনিক যুগে। আর এই পরিবর্তনের মূলে ছিল ওয়াটারম্যানের সেই অঙ্গীকার।
৬.২ “এ রকম বর্ণনা বাংলা ভাষায় প্রকৃতিবিরুদ্ধ।” কোন্ বর্ণনাকে প্রাবন্ধিক ‘বাংলা ভাষায় প্রকৃতিবিরুদ্ধ’ বলেছেন?
উত্তর: প্রাবন্ধিক যে বর্ণনাটিকে ‘‘বাংলা ভাষায় প্রকৃতিবিরুদ্ধ’’ বলেছেন, তা হলো— “পরমাণু এঞ্জিন নীল চিত্রের অবস্থাতেও পৌঁছায়নি”। এই বাক্যটি ইংরেজি “The atomic engine has not even reached the blueprint stage”—এর হুবহু অনুবাদ। প্রাবন্ধিকের মতে, ইংরেজি বাক্যের কাঠামো ও ভাব সরাসরি বাংলা ভাষায় বসিয়ে দিলে তা স্বাভাবিক থাকে না; বরং অপ্রাকৃত ও দুর্বোধ্য হয়ে পড়ে। বাংলা ভাষার নিজস্ব ব্যাকরণ, ধ্বনিগত স্বাভাবিকতা এবং ভাবপ্রকাশের সহজ-সরল রীতি আছে, যা এই অনুবাদে রক্ষিত হয়নি। তাই তিনি এটিকে বাংলা ভাষার প্রকৃতির বিরুদ্ধ বলে চিহ্নিত করেছেন।
প্রাবন্ধিক আরও বলেন, কোনো বিদেশি ভাষার অনুবাদ করতে গেলে বাংলা বাক্যগঠনকে স্বচ্ছ ও সাবলীল রাখাই উচিত। তাই এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বাংলা বাক্য হবে— “পরমাণু ইঞ্জিনের নকশা পর্যন্ত এখনও প্রস্তুত হয়নি।” এই ধরনের প্রকাশভঙ্গিই বাংলা ভাষার স্বাভাবিক রীতি বজায় রাখে।
৭। কমবেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৭.১ “এই মুহূর্তে তুমি আমার দরবার ত্যাগ করো।” বক্তা কাকে দরবার ত্যাগ করতে বলেছেন? তাকে দরবার ত্যাগ করতে বলার কারণ কী?
উত্তর: বক্তা : সিরাজদ্দৌলা তাঁর দরবারে উপস্থিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসকে উদ্দেশ্য করে উল্লিখিত আদেশটি জারি করেছিলেন।
দরবার ত্যাগ করতে বলার কারণ– একাধিক ঘটনায় ইংরেজদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যে সভ্যতা ও শিষ্টাচারের সীমা লঙ্ঘন করেছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন সিরাজদ্দৌলা। অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের চিঠি উদ্ধৃত করে তিনি প্রমাণ করেন যে, তাতে কর্নেল ক্লাইভের নির্দেশ অনুযায়ী কলকাতায় সৈন্য সমাবেশের উল্লেখ রয়েছে। চিঠির শেষাংশে লেখা ছিল—’বাংলায় এমন এক অগ্নিসংযোগ করব, যার দাবানল গঙ্গার সমস্ত জল দিয়েও নির্বাপিত হবে না।’ ওয়াটসন যখন এ চিঠির দায় অস্বীকার করেন, তখন নবাব ওয়াটসের লেখা আরেকটি চিঠি উপস্থাপন করেন। তাতে উল্লেখ ছিল যে, নবাবের উপর আস্থা রাখা অযৌক্তিক ও অর্থহীন, তাই চন্দননগর আক্রমণ করাই শ্রেয়। এছাড়া সিরাজদ্দৌলা ওয়াটসের বিরুদ্ধে নবাবের দরবারের সদস্যদের উসকানি দেওয়া এবং কলকাতার ইংরেজ প্রশাসনকে নবাবের আদেশ অমান্য করতে প্ররোচিত করার অভিযোগ তোলেন। এসব অপকর্মের শাস্তিস্বরূপ নবাব সিরাজদ্দৌলা ওয়াটসকে দরবার ত্যাগ করার নির্দেশ জারি করেন।
৭.২ ‘আজ পর্যন্ত কদিন তা ধারণ করেচেন, সিপাহসালার?’ কে, কার উদ্দেশে এই উক্তি করেছেন? প্রসঙ্গটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশের উক্তিটি নবাবের বিশ্বস্ত সভাসদ মোহনলাল বলেছেন। তিনি এই কথা বলেন নবাবের সিপাহসালার মীরজাফরকে উদ্দেশ্য করে।
প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা:
নবাব সিরাজদ্দৌলার দরবারে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি—রাজবল্লভ, জগৎশেঠ এবং মীরজাফর—গোপনে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নবাবের ক্ষমতা হরণে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছিল। তারা নানা অপপ্রচার ও কটূক্তির মাধ্যমে নবাবকে দুর্বল এবং অযোগ্য প্রমাণ করার চেষ্টা করছিল। নবাব এদের বিশ্বাসঘাতকতার আভাস পেয়ে যখন তদন্ত শুরু করেন, তখন সভাসদদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এই সময় মীরজাফর মিথ্যা বিশ্বস্ততার ভান করে তরবারি হাতে ঘোষণা করেন যে, তিনি মানহানি সহ্য করতে পারেন না এবং এরূপ হলে নবাবের হয়ে যুদ্ধ করবেন না।
মোহনলাল তখন তীব্র ব্যঙ্গ করে বলেন— “আজ পর্যন্ত কদিন তা ধারণ করেচেন, সিপাহসালার?” তার উদ্দেশ্য ছিল মীরজাফরের ভণ্ডামি ও বিশ্বাসঘাতক মনোভাবকে প্রকাশ করা। এ উক্তির মাধ্যমে মীরজাফরের প্রকৃত চরিত্র—অবিশ্বস্ত ও স্বার্থপর—দরবারের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠে।
৮। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৮.১ “কেমন লোক গা তুমি, কাল রাতে মেয়েটার দাদা মরে গেল আর তুমি এখন তাকে ধমকাতে নেগেছ?” বক্তা কে? কাকে উদ্দেশ করে এই উক্তি? কথাটি শুনে উদ্দিষ্ট ব্যক্তির যে প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তার কারণ কী?
উত্তর: বক্তা হলেন কোনির প্রতিবেশী বা আত্মীয়।
ক্ষিতীশ সিংহ কে উদ্দেশ্য করে এই উক্তিটি করা হয়েছে।
ক্ষিতীশের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও আঘাতপ্রাপ্ত। সে বার দুয়েক কেঁকেই উঠেছিল। এর প্রধান কারণ ছিল –
১. অজ্ঞতা ও পরবর্তী অনুশোচনা – ক্ষিতীশ জানত না যে কোনির দাদার মৃত্যু হয়েছে। এই অজানা অবস্থায় সে কোনিকে কাজে না আসার জন্য ধমক দিয়েছিল। যখন সে নিষ্ঠুর সত্যিটি জানতে পারল, তখন তার নিজের আচরণের জন্য তীব্র অনুশোচনা ও লজ্জা কাজ করল।
২. বাস্তবতার নির্মমতা – কোনির শেষ কথাটি, “ক্ষিদ্দা, এবার আমরা কী খাব?” শুনে ক্ষিতীশের কাছে কোনির পরিবারের ভয়ানক দারিদ্র্য ও সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠল। শোকের চেয়েও বড় হয়ে উঠল অস্তিত্বের সংকট। এই নির্মম বাস্তবতা তাকে আরও বেশি আঘাত করল এবং হতবাক করে দিল।
৮.২ “স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কী হলো, সেটা তো তুমি দেখেছ।” কার উক্তি? স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কী হয়েছিল?
উত্তর: স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কী হলো, সেটা তো তুমি দেখেছ”—এই উক্তিটি করেছে প্রণবেন্দু। সে ধীরেনের পাণ্ডুবর্ণ মুখের দিকে তাকিয়ে এই কথা বলে বুঝিয়ে দেয় যে, স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে যা ঘটেছে, তা চোখে দেখা সত্য, অস্বীকার করার নয়।
স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রেস্ট স্ট্রোকের ১০০ মিটারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল কোনি, অমিয়া ও হিয়া–র মধ্যে। রেসের মাঝপথে কোনি ও হিয়া একসঙ্গে টার্ন নিতেই স্ট্রোক জাজ বদু চাটুজ্জে লাল ফ্ল্যাগ তোলে। রেফারি বীরেন ঘোষ কারণ জেনে ঘোষণা করে যে কোনি ডিসকোয়ালিফাই হয়েছে, কারণ টার্ন করার পর সে নিয়মবহির্ভূত আন্ডারওয়াটার ডাবল-কিক করেছে।এটি জুপিটার ক্লাবের ধীরেন ঘোষ ও হরিচরণ মিত্রের চক্রান্ত ছিল। ক্ষিতীশ বিস্মিত হলেও কিছু বলার ছিল না।
রেসে হিয়া প্রথম হয়, তার কিছু দূর পরে কোনি—তবে ডিসকোয়ালিফাই হওয়ায় তার ফল গণ্য হয় না। এরপর ফ্রি-স্টাইলে কোনি চেষ্টা করেও অমিয়াকে হারাতে পারে না। কোনি ভেবেছিল সে জিতবে, কিন্তু ঘোষণা আসে—অমিয়া প্রথম। এই ঘটনাই স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপের মূল ঘটনা।
৮.৩ “খাওয়ায় আমার লোভ নেই। ডায়েটিং করি।” বক্তা কে? তার ডায়েটিং -এর পরিচয় দাও।
উত্তর: “খাওয়ায় আমার লোভ নেই। ডায়েটিং করি।” উক্তিটির বক্তা হলেন বিষ্টু ধর।
বিষ্টু ধর তার ডায়েটিংকে “সংযম” ও “কেচ্ছাসাধন” বলে দাবি করেন। তবে তার এই ডায়েটিংয়ের প্রকৃত পরিচয় হলো এটি কোনো স্বাস্থ্যসম্মত বা ওজন কমানোর ডায়েট নয়, বরং এক ধরনের ভণ্ডামিপূর্ণ ও অতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাস, যা তিনি নিয়ন্ত্রণ বলে দাবি করেন। তার ডায়েটিংয়ের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো –
১. পরিমাণে সামান্য কমানো – তিনি আগে যা খেতেন তার থেকে অল্প পরিমাণ কমিয়ে খান, কিন্তু মোটেই স্বল্পাহার নয়। যেমন – আগে আধ কিলো ক্ষীর খেতেন, এখন খান তিনশো গ্রাম।
জলখাবারে কুড়িটি নুডলসের বদলে পনেরোটি খান। ভাত মেপে খান আড়াইশো গ্রাম চালের। রুটি খান বারোখানা।
২. ঘিয়ের সংযম – গরম ভাতের সাথে চার চামচের বেশি ঘি খান না বলে দাবি করেন।
৩. মিষ্টান্ন ও পানীয় – বিকেলে দু-গ্লাস মিছরির সরবত ও চারটি করে কড়া পাকের মিষ্টি খান।
৪. মাছ-মাংস বর্জন – বাড়িতে বিগ্রহ থাকায় মাছ-মাংস স্পর্শ করেন না বলে দাবি করেন এবং সপ্তাহে একদিন ম্যাসাজ করান।
সারমর্ম – বিষ্টু ধর-এর এই “ডায়েটিং” আসলে একজন প্রচণ্ড ভোজনরসিক মানুষের নিজের অতিরিক্ত খাওয়াকে সংযম ও নিয়মের আড়ালে যুক্তি দেওয়ার প্রয়াস মাত্র। তার খাদ্যতালিকায় এখনও বিপুল পরিমাণ ক্ষীর, মিষ্টি, রুটি-ভাত রয়েছে। তিনি এটিকে “হাটের ব্যামো” (সাধারণ মানুষের রোগ) এড়ানোর কৌশল এবং পারিবারিক ঐতিহ্য (বাবা-জ্যাঠার অতিভোজনের কারণে মৃত্যু) রক্ষার চেষ্টা হিসেবে প্রতিস্থাপন করেন, কিন্তু বাস্তবে তা এক বিদ্রূপাত্মক ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।
৯। চলিত বাংলায় অনুবাদ করো:
Words have lot of power. They can help or hurt, bless or curse. Unkind words do a lot of harm, kind words do lot of good. We can spoil a friend’s happiness by an unkind word, but cheer up a sad heart with a kind word which costs nothing. A kind word offers more welcome than costly present.
উত্তর: শব্দের অনেক শক্তি আছে। শব্দ মানুষকে সাহায্যও করতে পারে, আবার আঘাতও দিতে পারে—আশীর্বাদ করতে পারে, আবার অভিশাপও দিতে পারে। রুক্ষ বা কটু কথা অনেক ক্ষতি করে, আর কোমল ও মধুর কথা অনেক উপকার আনে। একটি কটু কথা বলেই আমরা বন্ধুর আনন্দ নষ্ট করতে পারি, আবার একটি মধুর কথা বলেই খুব সহজে কোনো দুঃখী মনকে সান্ত্বনা দিতে পারি—যার কোনো খরচ নেই। একটি মধুর কথা অনেক সময় দামী উপহারের চেয়েও বেশি আপন করে নিতে পারে।
১০। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
১০.১ সাম্প্রতিক কালের পরিপ্রেক্ষিতে ‘বাংলা ভাষা কি বিপন্ন’? এই বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।
উত্তর:
‘বাংলা ভাষা কি বিপন্ন”
রাহুল: ইদানীং একটা প্রশ্ন খুব শুনছি—বাংলা ভাষা কি সত্যিই বিপন্ন?
সুহানি: আমার মনে হয় বিপন্ন না হলেও চাপের মুখে আছে। দেখো না, স্কুল-কলেজের ছাত্ররা এখন কথা বলার সময়ও ইংরেজি-হিন্দি মিশিয়ে বলে।
রাহুল: ঠিক বলেছ। সোশ্যাল মিডিয়ার ভাষাতেও বাংলার ব্যবহার কমছে। অনেকেই বাংলা টাইপই করতে চায় না।
সুহানি: শুধু তাই নয়, যারা বাংলায় লেখে, তারাও বানান ভুলে ভরা ভাষা ব্যবহার করে। ফলে ভাষার শুদ্ধতা নষ্ট হচ্ছে।
রাহুল: তবে একটা আশার দিকও আছে। এখন অনেক তরুণ বাংলা কনটেন্ট বানাচ্ছে—পডকাস্ট, গল্প, ভিডিও, গান।
সুহানি: হ্যাঁ, বাংলা বইমেলা, সাহিত্যসভা—এসবও মানুষকে ভাষার প্রতি টানে। যত বেশি ব্যবহার হবে, ততই ভাষা বেঁচে থাকবে।
রাহুল: তাই বলতে হয়, বাংলা ভাষা পুরোপুরি বিপন্ন নয়, কিন্তু আমাদের সচেতনতায়ই তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
সুহানি: একদম ঠিক। ভাষাকে বাঁচাতে হলে নিয়মিত ব্যবহার আর সম্মান—এই দুটোই সবচেয়ে জরুরি।
১০.২ তোমার এলাকায় একটি পাঠাগার উদ্বোধন হল এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
উত্তর:
এলাকায় নতুন পাঠাগারের উদ্বোধন
নিজস্ব সংবাদদাতা, ১৫জানুয়ারি ২০২৫: গতকাল আমাদের এলাকায় “জ্ঞানদীপ পাবলিক লাইব্রেরি” নামের একটি নতুন পাঠাগারের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হলো। সকাল দশটায় স্থানীয় সমাজসেবক শ্রী অরুণেশ মজুমদার ফিতা কেটে পাঠাগারটির শুভ সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে বহু শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী ভাষণে প্রধান অতিথি জানান যে এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং তরুণদের বইমুখী করে তোলা।
নতুন পাঠাগারটিতে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি বই রয়েছে—সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাম্প্রতিক ঘটনা, শিশু-কিশোর সাহিত্যসহ নানান বিষয় নিয়ে সমৃদ্ধ সংগ্রহ। পড়ার জন্য শান্ত পরিবেশ, বসার সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা এবং কম্পিউটার কর্নারও রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে চা-নাশতার আয়োজন ছিল। এলাকার মানুষ নতুন এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। সবাই আশা প্রকাশ করেছেন, পাঠাগারটি এলাকার শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
১১। কমবেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো:
১১.১ বিজ্ঞানের জয়যাত্রা।
উত্তর:
বিজ্ঞানের জয়যাত্রা
মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রার ইতিহাসে বিজ্ঞান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। মানুষ যখন অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসে ডুবে ছিল, তখন জ্ঞান ও অনুসন্ধানের শক্তি নিয়ে বিজ্ঞান তার জয়যাত্রা শুরু করে। প্রকৃতির রহস্য উদ্ঘাটন, মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম।
বিজ্ঞানের জয়যাত্রার সূচনা প্রাচীন কালে হলেও প্রকৃত গতি পায় রেনেসাঁস যুগের পর। তখন থেকে গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে পৃথিবী, আকাশ, জগৎ ও জীবনের নানা সত্য। নিউটন, গ্যালিলিও, আইনস্টাইনের মতো বিজ্ঞানীরা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেন। তাদের আবিষ্কার মানবসভ্যতার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করে। চাকা, বাষ্পীয় ইঞ্জিন, বিদ্যুৎ—এসব আবিষ্কার শিল্পবিপ্লবকে সম্ভব করে তোলে, যার ফলে পৃথিবীর অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় আসে বিরাট পরিবর্তন।
আজকের পৃথিবীতে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা এতটাই সুস্পষ্ট যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কোনো ক্ষেত্রই বিজ্ঞানের স্পর্শ থেকে বঞ্চিত নয়। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমোনো পর্যন্ত বিজ্ঞানের সৃষ্টি ব্যবহার না করে থাকা অসম্ভব। রান্নার গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেট—সবই বিজ্ঞানের দান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি করেছে। অত্যাধুনিক অস্ত্রোপচার, ভ্যাকসিন, অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের জীবন রক্ষা করছে প্রতিদিন।
বিজ্ঞান শুধু আরামের জীবনই দেয়নি, শিক্ষার জগতেও আনে বিপ্লব। অনলাইন শিক্ষা, স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি আজ শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পরিবহন ব্যবস্থায় বিমান, রেল, মেট্রো—সবই বিজ্ঞানের বিস্ময়কর অবদান। পৃথিবী আজ যেন ছোট্ট এক গ্রাম, কারণ বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে দ্রুত যোগাযোগের অসাধারণ ক্ষমতা।
তবে বিজ্ঞানের জয়যাত্রার সঙ্গে কিছু সমস্যা ও চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়েছে। পরিবেশ দূষণ, পারমাণবিক অস্ত্র, জলবায়ু সংকট মানুষকে বিপদের মুখে ফেলছে। এর জন্য বিজ্ঞান দায়ী নয়; বরং মানুষের ভুল ব্যবহারই সমস্যার মূল। তাই বিজ্ঞানের শক্তিকে সঠিক পথে ব্যবহার করা আমাদের দায়িত্ব।
সবশেষে বলা যায়, বিজ্ঞানের জয়যাত্রা মানবসভ্যতার সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর মধ্যে একটি। বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে জ্ঞান, শক্তি এবং সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে অগণিত। সঠিক ব্যবহার ও মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করলে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা আরও মহিমান্বিত হয়ে উঠবে এবং মানবসভ্যতাকে আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
১১.২ তোমার জীবনের লক্ষ্য।
উত্তর:
আমার জীবনের লক্ষ্য
মানুষের জীবনে লক্ষ্য থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। লক্ষ্যহীন জীবন দিকনির্দেশনাহীন নৌকার মতো—যে নৌকা কোথায় যাবে, কী করবে, তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। তাই ভবিষ্যতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আজ থেকেই সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা জরুরি। আমিও আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক ভেবেছি, নিজের ভালো-মন্দ বিচার করেছি এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমার জীবনের লক্ষ্য হবে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়া।
শিক্ষকতা পেশাকে আমি শুধু চাকরি হিসেবে দেখি না; এটি আমার কাছে একটি মহান দায়িত্ব। শিক্ষক সমাজের আলো-বাতি। একজন শিক্ষক যেমন জ্ঞান দান করেন, তেমনি চরিত্রগঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আমি ছোটবেলা থেকেই দেখেছি—একজন ভালো শিক্ষকের স্পর্শে কিভাবে একজন শিক্ষার্থী জীবনের মোড় ঘুরিয়ে নিতে পারে। তাই আমিও চাই ভবিষ্যতে এমন একজন শিক্ষক হতে, যিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পড়াশোনায় নয়, জীবনের পথচলায়ও প্রেরণা দিতে পারেন।
আমার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রথমত, আমি নিয়মিত পাঠ্যবই অধ্যয়ন করি, কারণ জ্ঞান অর্জনের মূল উৎস হলো বই। দ্বিতীয়ত, সহপাঠীদের সন্দেহ দূর করতে সাহায্য করি। এতে আমার নিজের বোঝাপড়াও শক্ত হয় এবং ধীরে ধীরে শিক্ষাদান পদ্ধতির অভিজ্ঞতা গড়ে ওঠে। তৃতীয়ত, শিক্ষক হওয়ার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলা; তাই আমি নিজের চরিত্রে এগুলো গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে উচ্চমাধ্যমিকের পর শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি (B.Ed) অর্জন করে পেশাগতভাবে যোগ্যতা অর্জন করতে চাই।
একজন শিক্ষক হিসেবে আমার স্বপ্ন হলো—আমার ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীরা যেন শুধু ভালো ফলই না করে, বরং সৎ, নীতিবান ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশের সম্পদ। তাদের সঠিক পথ দেখাতে পারলে সমাজ এগিয়ে যাবে, উন্নত দেশ গড়ে উঠবে। যদি একজন শিক্ষকের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীও জীবনে সফল হয়, তাহলে সেই শিক্ষকতার সার্থকতা অর্জিত হয়—আমি সেই সার্থকতার স্বাদ অনুভব করতে চাই।
তাই আমার কাছে আমার লক্ষ্য শুধু নিজের জীবিকা নয়, সমাজের প্রতি এক বিশেষ দায়বদ্ধতা। লক্ষ্য অর্জনের পথ কখনোই সহজ নয়, কিন্তু নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে কোনো লক্ষ্যই অসম্ভব নয়। আমি বিশ্বাস করি, একদিন আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারব এবং একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে সমাজের কাজে লাগতে পারব। আমার জীবনের লক্ষ্য তাই আমাকে প্রতিদিন নতুন উৎসাহ, উদ্দীপনা ও দায়িত্ববোধে ভরিয়ে তোলে।
১১.৩ যুদ্ধ নয়, শাস্তি চাই।
উত্তর:
যুদ্ধ নয়, শাস্তি চাই
মানব সমাজের অগ্রগতির বড় বাধা হল সহিংসতা ও অনাস্থা। ইতিহাস যতই বদলাক, মানুষের কমজোরি কিংবা স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংঘাতের পথ ইসলেম। কিন্তু আমাদের দাবি হওয়া উচিত — যুদ্ধ নয়, শাস্তি চাই। অর্থাৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে যুদ্ধের পথ অবলম্বন না করে অপরাধী বা দোষীদের ন্যায়বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়াই উত্তম ও মানবিক উপায়।
প্রথমত, যুদ্ধ বহু নিরীহ মানুষের জীবন, সম্পদ ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে। ভাষা, ধর্ম কিংবা দেশের স্বার্থে যুদ্ধ হলে পরিণামে সাধারণ মানুষই ভোগে। অথচ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুধুমাত্র অপরাধ সংঘটকদের দায়মুক্ত করা হয় না, বরং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ না ঘটানোর শক্ত বার্তা দেওয়া যায়। কঠোর ও স্বচ্ছ আইনি ব্যবস্থা অপরাধীদের অন্তরে ভীতি জাগায়, যা সামাজিক শান্তি রক্ষায় সহায়ক।
দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের পরিবর্তে শাস্তি চাওয়ার আরেকটি অর্থ হলো জবাবদিহি ও দোষপ্রমাণের ওপর গুরুত্বারোপ। একজন মানুষ যদি অপরাধ করে, তাকে আদালতের মাধ্যমে দেখা উচিত। বিচারিক প্রক্রিয়া জটিল হলেও এতে নির্দোষদের রক্ষা পাওয়া যায় এবং প্রত্যক্ষ প্রমাণ ও সাক্ষীর মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হয়। অপরাধীর ন্যায়সঙ্গত শাস্তি হলে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে এবং সমাজে আইনের শাসন দৃঢ় হয়।
তৃতীয়ত, যুদ্ধ আর সহিংসতার বদলে আমরা পুনর্বাসন ও সংশোধনের ওপর জোর দিতে পারি। অনেকে অপরাধী হয় সমাজের অবহেলা, দারিদ্র্য বা অশিক্ষার শিকার হয়ে। তাদের শুধুমাত্র সশস্ত্রভাবে মোকাবিলা না করে কার্যকর শিক্ষা, কর্মসংস্থানের সুযোগ ও মনোবৈজ্ঞানিক সহায়তা দিলে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে। শাস্তি প্রণালীতে যদি সংশোধনের উপাদান থাকে, তাহলে একজন অপরাধী আবারও সমাজে দায়িত্বশীল সদস্য হয়ে উঠতে পারে।
অবশেষে বলা যায়, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়ের জয়ই সমাজকে স্থিতিশীল করে। যুদ্ধ সবসময়ই অন্তহীন কষ্ট ও প্রতিশোধের চক্র সৃষ্টি করে; কিন্তু ন্যায়বিচার ও উপযুক্ত শাস্তি শুধু শাস্তি নয়—এটি একটি শিক্ষা, যা অপরাধীর পাশাপাশি সমাজকেও শুদ্ধ করে। তাই আমাদের ভাবনা হওয়া উচিত — “যুদ্ধ নয়, শাস্তি চাই” — অর্থাৎ অহিংস, আইনগত ও মানবিক উপায়ে দোষীদের সম্মুখীন করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্ববৃহৎ অঙ্গীকার নেওয়া।
১১.৪ বাংলার উৎসবে ঋতুবৈচিত্র্যের আলো।
উত্তর:
বাংলার উৎসবে ঋতুবৈচিত্র্যের আলো
বাংলা ঋতুবৈচিত্র্যের দেশ। ছয় ঋতুর এই ভূখণ্ডে ঋতুর পরিবর্তন কেবল প্রকৃতির রূপেই নয়, মানুষের জীবন ও সংস্কৃতিতেও বিশেষ প্রভাব ফেলে। বাংলার উৎসব-অনুষ্ঠানগুলোর দিকে তাকালেই দেখা যায়—প্রতিটি ঋতু তার নিজস্ব আনন্দ, রঙ, আয়োজন ও অনুভূতি নিয়ে মানুষের হৃদয়ে আলো ছড়িয়ে দেয়। তাই স্বভাবতই বলা যায়, বাংলার উৎসবে ঋতুবৈচিত্র্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ফুটে ওঠে।
গ্রীষ্মকাল আসে রৌদ্রের তাপ নিয়ে, কিন্তু সেই তাপের মধ্যেও উৎসবের রঙ আলাদা। বৈশাখের প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় পয়লা বৈশাখ—বাংলার নববর্ষ। কোকিলের কুহুতান, পাকা আম-কাঁঠালের সুগন্ধ, আর নবান্ন উৎসবের ধ্বনি মিলিয়ে গ্রামবাংলায় গ্রীষ্ম এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করে। বর্ষার আগমনে সেই পরিবেশে যুক্ত হয় নতুন আবেগ। বর্ষার ফোঁটায় ধুলো ধুয়ে প্রকৃতি হয় সজীব। এই ঋতুতেই রথযাত্রা ঘিরে সৃষ্টি হয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উচ্ছ্বাস। নদী-খাল-ঝিলের রূপ বদলে মানুষের মনেও নেমে আসে কবিত্বময় প্রশান্তি।
শরৎ বাংলার উৎসবের শ্রেষ্ঠ ঋতু হিসেবে পরিচিত। নীল আকাশ, তুলোর মতো কাশফুল আর শিউলির সুবাসে ভরা এই ঋতুতে অনুষ্ঠিত হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। এ সময় বাংলার প্রতিটি অঞ্চল আলোয়, রঙে ও সুরে ভরে ওঠে। মা দুর্গাকে বরণ করতে মানুষ নতুন পোশাক পরে, প্যান্ডেল সাজে শিল্পীর কারুকাজে, ঢাকের শব্দে প্রতিটি মন উৎসবের আবেগে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। শরৎকে ঘিরে তাই আনন্দ ও প্রত্যাশার আবেশ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।
হেমন্ত ঋতুতে প্রকৃতি যেমন ধীরে ধীরে শীতের দিকে পা বাড়ায়, তেমনি বাংলার ঘরে ঘরে অনুষ্ঠিত হয় নবান্ন উৎসব। নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দে কৃষক পরিবারে তৈরি হয় পিঠা-পায়েস। এই ঋতুর উৎসব কৃষিশ্রেণির জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শীতের আগমন আরও নানান উৎসবকে বিশেষ রূপ দেয়। শীতকালে পৌষ সংক্রান্তি, পৌষমেলা, সারস্বতী পূজা, ও খ্রিস্টমাস—এসব উৎসবে মেতে ওঠে সমস্ত বয়সের মানুষ। শীতের সকালের কুয়াশার মধ্যেও উৎসবের উষ্ণতা সর্বত্র অনুভূত হয়।
শেষে আসে বসন্ত ঋতু—রঙের উৎসব। বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতি সেজে ওঠে নতুন পাতায়, ফুলে ও রঙে। দোলযাত্রা বা হোলি বাংলার অন্যতম রঙিন উৎসব, যেখানে আবিরের উড়ন্ত রঙ মানুষে মানুষে ভেদ ভুলিয়ে ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বসন্ত উৎসব রবীন্দ্রনাথের সৃষ্ট সাংস্কৃতিক আবহে বাংলা সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করে।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, বাংলার ঋতুচক্র শুধু প্রকৃতিকে নয়, উৎসব-আয়োজনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। প্রতিটি ঋতু তার নিজস্ব সৌন্দর্য, রীতি ও অনুভূতি নিয়ে উৎসবকে করে তোলে বৈচিত্র্যময় ও রঙিন। তাই বলা যায়—বাংলার উৎসব মানেই ঋতুবৈচিত্র্যের আলোয় সেজে ওঠা এক উজ্জ্বল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
MadhyamikQuestionPapers.com এ আপনি অন্যান্য বছরের প্রশ্নপত্রের ও Model Question Paper-এর উত্তরও সহজেই পেয়ে যাবেন। আপনার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কেমন লাগলো, তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আরও পড়ার জন্য, জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য MadhyamikQuestionPapers.com এর সাথে যুক্ত থাকুন।
