Madhyamik Question Papers

মাধ্যমিক ২০২৬ বাংলা প্রশ্নপত্রের সমস্ত উত্তর

Bengali
Madhyamik 2026 Bengali Answer thumbnail

আপনি কি মাধ্যমিক ২০২৬ সালের বাংলা প্রশ্নপত্রের উত্তর খুঁজছেন? তাহলে একদম ঠিক জায়গায় এসেছেন। এই আর্টিকেলে আপনি ২০২৬ সালের মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নপত্রের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ উত্তরগুলো পেয়ে যাবেন।

নিচে প্রশ্নপত্রের প্রতিটি উত্তরের পরিষ্কার, সহজবোধ্য এবং সাজানো উপস্থাপন দেওয়া হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থীরা দ্রুত বুঝতে ও রিভিশন করতে পারে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য আগের বছরের প্রশ্ন ও তার সমাধান অত্যন্ত সহায়ক — এগুলো থেকে প্রশ্নের ধরণ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

MadhyamikQuestionPapers.com ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত মাধ্যমিক পরীক্ষার সব প্রশ্নপত্র ও উত্তর একদম বিনামূল্যে প্রকাশ করে আসছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজে প্রস্তুতি নিতে পারে।

Download 2017 to 2026 All Subject’s Madhyamik Question Papers

View All Answers of Last Year Madhyamik Question Papers

যদি দ্রুত প্রশ্ন ও উত্তর খুঁজতে চান, তাহলে নিচের Table of Contents এর পাশে থাকা [!!!] চিহ্নে ক্লিক করুন। এই পেজে থাকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর Table of Contents-এ ধারাবাহিকভাবে সাজানো আছে। যে প্রশ্নে ক্লিক করবেন, সরাসরি তার উত্তরে পৌঁছে যাবেন।

Table of Contents

১. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:

১.১ “ছদ্মবেশে সেদিন হরিদার রোজগার মন্দ হয়নি।” – কোন্ ছদ্মবেশে?

(ক) পুলিশ 
(খ) পাগল
(গ) বাইজি
(ঘ) বৈরাগী

উত্তর: (গ) বাইজি

১.২ “আমি বাবু ভারী ধর্মভীরু মানুষ।” – ‘ধর্মভীরু’ মানুষটি কে?

(ক) রামদাস
(খ) গিরীশ মহাপাত্র
(গ) জগদীশবাবু
(ঘ) নিমাইবাবু

উত্তর: (গ) জগদীশবাবু

১.৩ অমৃতের মতো ছেলে পেলে ইসাবের বাবা কতজনকে পালন করতে পারেন?

(ক) এগারোজনকে
(খ) চোদ্দজনকে
(গ) কুড়িজনকে
(ঘ) একুশজনকে

উত্তর: (ঘ) একুশজনকে

১.৪ “আমাদের ডান পাশে ধ্বস আমাদের বাঁয়ে _ “

(ক) সমুদ্র
(খ) গিরিখাদ
(গ) পর্বত
(ঘ) জনপদ

উত্তর: (খ) গিরিখাদ

১.৫ ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার উৎসগ্রন্থ –

(ক) অগ্নিবীণা
(খ) সাম্যবাদী
(গ) প্রলয়শিখা
(ঘ) সর্বহারা

উত্তর: (ক) অগ্নিবীণা

১.৬ কুম্ভকর্ণের দেহ কোথায় ভূপতিত?

(ক) গঙ্গা তীরে
(খ) যমুনা তীরে
(গ) সিন্ধুতীরে
(ঘ) সরযুতীরে

উত্তর: (গ) সিন্ধুতীরে

১.৭ “বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে যত কম থাকে ততই ভালো।” – কী কম থাকলে ভালো হয়?

(ক) ছন্দ
(খ) অলংকার
(গ) পরিভাষা
(ঘ) আভিধানিক অর্থ

উত্তর: (খ) অলংকার

১.৮ “নিবের কলমের মান মর্যাদা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন একমাত্র _”

(ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
(খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
(গ) সুকুমার রায়
(ঘ) সত্যজিৎ রায়

উত্তর: (ঘ) সত্যজিৎ রায়

১.৯ পরিভাষার উদ্দেশ্য হল –

(ক) কোনো বিষয়কে বর্ণনা করা
(খ) অর্থ সুনির্দিষ্ট করা
(গ) ভাষার সংক্ষেপ ও অর্থ সুনির্দিষ্ট করা
(ঘ) অর্থের ব্যাখ্যা দেওয়া

উত্তর: (গ) ভাষার সংক্ষেপ ও অর্থ সুনির্দিষ্ট করা

১.১০ রামের চেয়ে শ্যাম ভালো খেলে। রেখাঙ্কিত অংশ হল –

(ক) অপাদান কারক
(খ) সম্বন্ধ পদ
(গ) কর্তৃকারক
(ঘ) কর্মকারক

উত্তর: (ক) অপাদান কারক

১.১১ বাক্যে কর্তা ও ক্রিয়া যদি একই ধাতু থেকে নিষ্পন্ন হয় তবে সেই কর্তাকে বলে –

(ক) উহ্য কর্তা
(খ) সহযোগী কর্তা
(গ) সমধাতুজ কর্তা
(ঘ) প্রযোজক কর্তা

উত্তর: (গ) সমধাতুজ কর্তা

১.১২ যে সমাসের সাধারণ নিয়মে ব্যাসবাক্য হয় না কিংবা ব্যাসবাক্য নির্ণয় করতে গেলে অন্য পদের প্রয়োজন হয়, সেই সমাসের নাম –

(ক) দ্বন্দ্ব সমাস
(খ) দ্বিগু সমাস
(গ) অলোপ সমাস
(ঘ) নিত্য সমাস

উত্তর: (ঘ) নিত্য সমাস

১.১৩ ‘ক্ষণস্থায়ী’ – পদটির সমাস হল

(ক) করণ তৎপুরুষ
(খ) নিমিত্ত তৎপুরুষ
(গ) ব্যাপ্তি তৎপুরুষ
(ঘ) অপাদান তৎপুরুষ

উত্তর: (গ) ব্যাপ্তি তৎপুরুষ

১.১৪ দুটি সরল বাক্য যখন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয় তখন তাকে বলে –

(ক) জটিল বাক্য
(খ) যৌগিক বাক্য
(গ) মিশ্র বাক্য
(ঘ) নির্দেশক বাক্য

উত্তর: (খ) যৌগিক বাক্য

১.১৫ ফেলে আসা দিনগুলি আমার মনে পড়ে গেল। – বাক্যটি হল –

(ক) সরল বাক্য
(খ) জটিল বাক্য
(গ) যৌগিক বাক্য
(ঘ) মিশ্র বাক্য

উত্তর: (ক) সরল বাক্য

১.১৬ যে বাচ্যে কর্ম প্রধান হয়ে ওঠে তাকে বলে –

(ক) কর্তৃবাচ্য
(খ) কর্মবাচ্য
(গ) ভাববাচ্য
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য

উত্তর: (খ) কর্মবাচ্য

১.১৭ ‘তোমার গল্প আমি ছাপিয়ে দেব।’ – এটি কোন্ বাচ্যের উদাহরণ?

(ক) কর্তৃবাচ্য
(খ) কর্মকর্তৃবাচ্য
(গ) কর্মবাচ্য
(ঘ) ভাববাচ্য

উত্তর: (ক) কর্তৃবাচ্য

২. কম-বেশি ২০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও: ১৯×১ = ১৯

২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৪×১ = ৪

২.১.১ “কী আশ্চর্য! চমকে ওঠে ভবতোষ।” — ভবতোষের চমকে ওঠার কারণ কী?

উত্তর: হরিদার বাড়িতে ঢুকে তার পোশাক-পরিচ্ছদ ও জীবনযাপনের ধরন দেখে ভবতোষরা বুঝতে পারে যে হরিদাই আসলে একজন বিরাগী। এই অপ্রত্যাশিত সত্য জানতে পেরে ভবতোষ চমকে ওঠে।

২.১.২ অমৃতের বয়স কত?

উত্তর: অদল- বদল গল্পে অমৃতের বয়স ছিল দশ বছর । 

২.১.৩ “এই ভীষণ মধুর শব্দ শুনিতে শুনিতে সর্বাঙ্গ অবশ, অবসন্ন হইয়া আসিতেছে ।” — কোন্ ‘ভীষণ মধুর শব্দ’ উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে অবসন্ন করেছিল?

উত্তর: বৃষ্টির ঝমঝম শব্দের সঙ্গে মিশে যাওয়া সেই অশ্রুতপূর্ব রহস্যময় শব্দই ছিল ‘ভীষণ মধুর শব্দ’। এই সম্মিলিত শব্দ শুনতে শুনতেই উদ্দিষ্ট ব্যক্তির সর্বাঙ্গ অবশ ও অবসন্ন হয়ে আসছিল।

২.১.৪ “মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিল হাসি গোপন করার কারণ কী?

উত্তর: নিমাইবাবুর ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যে সব্যসাচীর শারীরিক দুরবস্থাকে বিদ্রূপ করা হয়েছিল বলে অপূর্ব মুখ ফিরিয়ে হাসি গোপন করেছিল।

২.১.৫ “সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়,” — কী নিয়ে শোরগোল পড়ে?

উত্তর: তপনের লেখা গল্প “সন্ধ্যাতারা” পত্রিকায় ছাপা হয়েছে এই খবর শুনে সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়।

২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৪×১ = ৪

২.২.১ “দণ্ডচারি এই মতে” — এক দণ্ড মানে কত সময়?

উত্তর: প্রাচীন ভারতীয় সময় গণনায় এক দণ্ড = ২৪ মিনিট। 

২.২.২ “ক্ষমা করো” — এই উক্তির মধ্যে দিয়ে কবির কী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর: আফ্রিকা’ কবিতায় “ক্ষমা করো” উক্তির মাধ্যমে কবি হিংস্র সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অপমানিত আফ্রিকার প্রতি মানবিকতা, সহানুভূতি ও সৌজন্যের আবেদন প্রকাশ করেছেন।

২.২.৩. “প্রণমিয়া, ধাত্রীর চরণে,” — এই ‘ধাত্রীর’ পরিচয় দাও।

উত্তর: অভিষেক’ কাব্যাংশে ‘ধাত্রী’ বলতে ইন্দ্রজিতের ধাত্রীমাতা প্রভাষাকে বোঝানো হয়েছে, যাঁর ছদ্মবেশে লক্ষ্মী লঙ্কায় আগমন করেছিলেন।

২.২.৪ “সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন” আগুন ধরার কারণ কী?

উত্তর: অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধের বিভীষিকা ও আগ্নেয় পাহাড়ের মতো ভয়াবহ যুদ্ধদাবানলের কারণেই সমস্ত সমতলে আগুন ধরে গিয়েছিল।

২.২.৫ “আমাদের পথ নেই আর” — তাহলে আমাদের কী করণীয়?

উত্তর: আমাদের পথ নেই আর” অবস্থায় কবি আমাদের হাতে হাত রেখে পরস্পরের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ হয়ে থাকার করণীয় নির্দেশ দিয়েছেন।

২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৩×১ = ৩

২.৩.১ “তুমি সবল, আমি দুর্বল। তুমি সাহসী, আমি ভীরু।” — এখানে ‘তুমি’ বলতে লেখক আসলে কাকে ইঙ্গিত করেছেন?

উত্তর: “তুমি সবল, আমি দুর্বল। তুমি সাহসী, আমি ভীরু।” এখানে শ্রীপান্তের ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে “তুমি” বলতে লেখক আসলে কলমকে ইঙ্গিত করেছেন।

২.৩.২ “যিনি কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খোঁজেন,” — তাকে কী বলে?

উত্তর: “যিনি কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খোঁজেন,” তাকে বলা হয় ‘দার্শনিক’।

২.৩.৩ “বিজ্ঞান চর্চায় এখনও নানা রকম বাধা আছে।” — কোন্ বিষয়ে এখনও বাধা আছে?

উত্তর: বিজ্ঞান চর্চায় এখনও নানা রকম বাধা আছে — রাজশেখর বসুর মতে বিজ্ঞানচর্চায় এখনও বাধা আছে, কারণ বাংলা বিজ্ঞানচর্চার উপযুক্ত পারিভাষিক শব্দের অভাব ও ধারণার স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়ে গেছে।

২.৩.৪ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিভাষা সমিতির সঙ্গে কারা কাজ করেছিলেন?

উত্তর: কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিভাষা সমিতির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ের বিজ্ঞান অধ্যাপক, ভাষাবিদ ও সাহিত্যিকরা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন।

২.৪ যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৮×১ = ৮

২.৪.১ অনুক্ত কর্তা কাকে বলে?

উত্তর: কর্মবাচ্য বা ভাববাচ্যে যখন বাক্যের কর্তা স্পষ্টভাবে উল্লেখিত না হয়ে অনুল্লেখিত থাকে, তখন সেই কর্তাকেই অনুক্ত কর্তা বলে।

২.৪.২ জনে জনে নিমন্ত্রণ করেছি—  নিম্নরেখ পদটি কী জাতীয় কর্ম?

উত্তর: জনে জনে নিমন্ত্রণ করেছি নিম্নরেখটি বীপ্সা কর্ম। 

২.৪.৩ ‘আকাশবাণী’ — সমাসবদ্ধ পদটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।

উত্তর: আকাশ হতে আগত বাণী — মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। 

২.৪.৪ দ্বিগু সমাসের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: দ্বিগু সমাসের একটি উদাহরণ তেপান্তর। 

২.৪.৫ অলোপ সমাস কাকে বলে?

উত্তর: যে সমাসে সমস্যমান পদের বিভক্তি সমস্তপদে লুপ্ত না হয়ে অবশিষ্ট থাকে, তাকে অলোপ সমাস বলে।

২.৪.৬ বাক্য নির্মাণের শর্তগুলির নাম উল্লেখ করো।

উত্তর: বাক্য নির্মাণের শর্তগুলি হল—
১) আকাঙ্ক্ষা
২) যোগ্যতা
৩) আসত্তি

২.৪.৭ ‘হয় বাংলা পড়ো, নয় ইংরেজি পড়ো।’ — যৌগিক বাক্যে পরিবর্তন করো।

উত্তর: হয় বাংলা পড়ো, নয় ইংরেজি পড়ো— যৌগিক বাক্যে পরিবর্তন (হয় বাংলা পড়ো, নয় ইংরেজি পড়ো) (তুমি বাংলা পড়ো অথবা ইংরেজি পড়ো)।

২.৪.৮ আবেগসূচক বাক্যের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: আবেগসূচক বাক্যের একটি উদাহরণ— আহা! কী সুন্দর ফুল ফুটেছে!

২.৪.৯ ‘বাড়িতে খবর দিয়েছেন।’ — কর্মবাচ্যে রূপান্তর করো।

উত্তর: বাড়িতে খবর দিয়েছেন’  কর্মবাচ্যে রূপান্তর —- বাড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে।

২.৪.১০ কর্মকর্তৃবাচ্যের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: কর্মকর্তৃবাচ্যের একটি উদাহরণ— রাম বই পড়ছে।

৩. প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি ৬০ টি শব্দে উত্তর দাও: ৩+৩ = ৬

৩.১ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ১×৩ = ৩

৩.১.১ “শুনেছেন হরিদা, কী কাণ্ড হয়েছে?” — কারা একথা বলেছেন? ‘কাণ্ড’ টা কী ছিল? ১+২

উত্তর: শুনেছেন হরিদা, কী কাণ্ড হয়েছে?”—এই কথাটি বলেছেন ভবতোষ। ‘কাণ্ড’টি ছিল এই যে, এক ভয়ানক দুর্লভ ও আশ্চর্য সন্ন্যাসী টানা সাত দিন জগদীশবাবুর বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। শোনা যায়, তিনি হিমালয়ের গুহায় বাস করতেন, সারা বছরে মাত্র একটি হরীতকী আহার করতেন এবং তাঁর বয়স হাজার বছরেরও বেশি। এই সন্ন্যাসী অত্যন্ত কঠোর সাধক হওয়ায় কাউকেই পায়ের ধুলো নিতে দিতেন না। কিন্তু জগদীশবাবু একজোড়া কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরলে তিনি বাধ্য হয়ে তা গ্রহণ করেন এবং সেই সুযোগে জগদীশবাবু তাঁর পায়ের ধুলো নেন। এই ঘটনাই ছিল উক্ত ‘কাণ্ড’।

৩.১.২ “একটু মমতা বোধ করিল বটে,” — কীসের প্রতি কার ‘মমতা বোধ’ হয়েছিল? তার মমতা বোধের কারণ কী? ১+২

উত্তর: একটু মমতা বোধ করিল বটে”—এখানে নদেরচীর মমতা বোধ হয়েছিল তার নিজের লেখা চিঠিটির প্রতি। দু’দিন ধরে বাইরে অবিরাম বৃষ্টির সঙ্গে সুর মিলিয়ে সে প্রাণপণে একটি পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপী বিরহ-বেদনায় পূর্ণ চিঠি লিখেছিল। বহু আবেগ ও অনুভূতি জড়িয়ে থাকার কারণে চিঠিটি তার কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু আবেগের বশে চিঠিটি নদীর স্রোতে ছুড়ে দেওয়ার পরই সে বুঝতে পারে যে প্রিয় বস্তুটি হারিয়ে ফেলেছে। সেই জন্যই তার মনে চিঠিটির প্রতি একটু মমতা ও অনুশোচনার অনুভূতি জাগে।

৩.২ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:  ১×৩ = ৩

৩.২.১ “হাসিবে মেঘবাহন”, — ‘মেঘবাহন’ কে? তিনি হাসবেন কেন? ১+২

উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে ‘মেঘবাহন’ বলতে দেবরাজ ইন্দ্রকে বোঝানো হয়েছে, যিনি স্বর্গরাজ্যের অধীশ্বর। মেঘনাদ ইন্দ্রকে পরাজিত করেই ‘ইন্দ্রজিৎ’ উপাধি লাভ করেছিল। তাই মেঘনাদের ধারণা ছিল, সে যদি নিজে যুদ্ধে অংশ না নিয়ে বৃদ্ধ পিতা রাবণকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠায়, তবে তার বীরত্ব নিয়ে দেবরাজ ইন্দ্র উপহাস করবেন।

৩.২.২ “আসছে নবীন — জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন!” — উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। ৩

উত্তর: উদ্ধৃত অংশটিতে কাজী নজরুল ইসলামের বিপ্লবী চেতনার তাৎপর্য প্রকাশ পেয়েছে। কবি ছিলেন সত্য, শিব ও সুন্দরের পূজারি। তাঁর কাছে পরাধীন ভারতের জরাজীর্ণ সমাজব্যবস্থা, অরাজকতা ও বিপ্লবীদের বন্দিদশা ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। তাই তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে নবীন বিপ্লবীরাই পুরোনো, অসুন্দর ও জীবনহীন ব্যবস্থাকে ছেদন করে নতুন সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম। প্রলয়ের মধ্য দিয়েই নতুন সৃষ্টির সূচনা হবে—এই দৃঢ় বিশ্বাসই উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

8. কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫

৪.১ “তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের!” — কার এমন দুঃখ-অপমান বোধ হয়েছিল? তার এমন মনে হওয়ার কারণ কী? ১+৪

উত্তর: তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের!”—এই দুঃখ ও অপমানবোধ তপনেরই হয়েছিল। এর কারণ হল, নিজের লেখা গল্পটি ছাপা হওয়ার আনন্দের বদলে তপন বুঝতে পারে যে তার মেসো গল্পটিকে সম্পূর্ণ নিজের মতো করে সংশোধন করে নতুন করে লিখে দিয়েছেন। ছাপা গল্পের প্রতিটি লাইন তপনের কাছে অপরিচিত মনে হয়। ফলে সবাই যে গল্পটিকে তপনের লেখা বলে প্রশংসা করছে, তা আসলে তার নিজের ভাবনা ও ভাষা নয়। নিজের সৃষ্টির উপর অধিকার হারানোর এই অনুভূতিই তপনের মনে গভীর দুঃখ, লজ্জা ও অপমানবোধের সৃষ্টি করে। এই দুঃখের মুহূর্তেই তপন গভীরভাবে সংকল্প করে যে, যদি কখনো লেখা ছাপতে দেয়, তবে নিজেই গিয়ে দেবে—নিজের কাঁচা লেখা; ছাপা হোক বা না হোক। তপন নিজের লেখা গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা লাইন পড়তে হলে তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমান বলে মনে করেছেন। 

৪.২ “এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই।” — ‘জানোয়ারটা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে তাকে ‘ওয়াচ’ করবার দরকার নেই কেন লেখো। ১+৪

উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটিতে ‘জানোয়ারটা’ বলতে পুলিশ–স্টেশনে আটক গিরীশ মহাপাত্রকেই বোঝানো হয়েছে।

বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে পুলিশ প্রথমে গিরীশ মহাপাত্রকে আটক করে। কিন্তু তাকে কাছ থেকে দেখে পুলিশের সন্দেহ ধীরে ধীরে দূর হয়ে যায়। গিরীশের রোদে পোড়া তামাটে রং, হাঁফ ধরা কাশি, অকাল বার্ধক্যে ভগ্ন স্বাস্থ্য এবং দুর্বল শারীরিক অবস্থা প্রমাণ করে যে সে কোনোভাবেই বিপ্লবী সব্যসাচী হতে পারে না। বিশেষ করে তার বাহারি ও পরিপাটি বেশভূষা পুলিশের ধারণাকে আরও দৃঢ় করে, কারণ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষিত চিকিৎসক সব্যসাচীর সঙ্গে এক কারখানার মিস্ত্রি গিরীশের কোনো মিল নেই।

খানাতল্লাশির সময় তার ট্যাক ও পকেট থেকে গাঁজার কলকে উদ্ধার হয়,গিরীশ গাঁজা খাওয়ার কথা বারবার অস্বীকার করলেও গাঁজা সেবনের স্পষ্ট লক্ষণ থাকায় পুলিশ নিঃসংশয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে গিরীশ একজন মামুলি মানুষ। তাই জগদীশবাবু বলেন, এমন একজন নিরীহ ব্যক্তিকে আর ‘ওয়াচ’ করবার কোনো প্রয়োজন নেই।

৫. কম-বেশি ১৫০ শব্দে য়ে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫

৫.১ “অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র-রাখো পায়ে” — কবি অস্ত্র ফেলতে বলেছেন কেন? অস্ত্র পায়ে রাখার তাৎপর্য কী? ২+৩

উত্তর: কবি জয় গোস্বামী তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’-এ মানবজাতিকে অস্ত্র ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কবির মতে, অস্ত্র শুধুমাত্র নিঃসঙ্গ শক্তি নয়, বরং এটি মানবসভ্যতাকে হিংসা, যুদ্ধ, ভয়, প্রভুত্ব ও অনৈক্যর দিকে ঠেলে দেয়। অস্ত্র মানুষের মনুষ্যত্বকে ধ্বংস করে, মানবিক মূল্যবোধ যেমন শান্তি, সৌভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা এবং সহিষ্ণুতা ধ্বংস করে। তাই একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনের জন্য অস্ত্রকে ত্যাগ করা একান্ত প্রয়োজনীয়।

কবির ‘অস্ত্র পায়ে রাখার’ ভাবের অর্থ হলো অস্ত্রকে অবজ্ঞা করা এবং মানবিক চেতনার অধীনে বিসর্জন দেওয়া। এটি নিজস্ব বিবেক ও নৈতিকতার প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক। জয় গোস্বামী মনে করেন, অস্ত্র ত্যাগ করলেই মানুষের হিংস্র ও নেতিবাচক প্রবৃত্তি দমন করা সম্ভব এবং সমাজে সত্যিকারের শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করা যায়। অস্ত্রের পরিবর্তে গান, সৃজনশীলতা এবং কলার মাধ্যমে মানুষের মানবিকতার বিজয় নিশ্চিত হয়। কবিতা আমাদের শেখায় যে, মানবজাতির প্রকৃত শক্তি হিংসায় নয়, বরং মানবিক অনুভূতি, সহমর্মিতা ও সৃজনশীলতায় নিহিত। অতএব, অস্ত্র ত্যাগ করা মানে কেবল শক্তি বিসর্জন নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা এবং শান্তিপূর্ণ সভ্যতার পথ প্রশস্ত করা।

৫.২ ” সে জানত না আমি আর কখনো ফিরে আসব না।” — বক্তা কে? ‘সে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? বক্তার ফিরে না আসার কারণ কী? ১+১+৩

উত্তর: পাবলো নেরুদা রচিত, নবারুণ ভট্টাচার্য অনূদিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় উদ্ধৃত পংক্তিটির বক্তা হলেন কবি নিজেই। এখানে ‘সে’ বলতে কবির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করে থাকা সেই মেয়েটিকেই বোঝানো হয়েছে।

বক্তার ফিরে না আসার প্রধান কারণ হল, কবি কর্তব্য ও সংগ্রামের আহ্বানে স্বদেশ ও প্রিয়জনদের ত্যাগ করে সুদূর বিদেশে চলে যান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দেশে ফেরার সব সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসে এবং শেষ পর্যন্ত আর ফেরা হয় না। এই না-ফেরা কবির জীবনের এক করুণ ও অনিবার্য নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। অথচ সেই মেয়েটি কিছুই জানত না; সে বিশ্বাস করেছিল প্রিয় মানুষ একদিন ফিরে আসবেন। তাই সে প্রতিদিন দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছে। এই অজানা প্রতীক্ষা ও চরম বিচ্ছেদের বেদনাই কবিতার উক্ত পংক্তিতে গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

৬. কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫

৬.১ “আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে।” — কোন্ জিনিস অবলুপ্তির পথে? কীভাবে জিনিসটি অবলুপ্তির পথে গেল আলোচনা করো। ১+৪

উত্তর: “আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে”—এই উক্তির মাধ্যমে লেখক মূলত হাতে লেখার সঙ্গে জড়িত নানা উপকরণের ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার কথাই বোঝাতে চেয়েছেন। এখানে ফাউনটেন পেন, কালি, দোয়াত, কলমদানি ইত্যাদি লেখনসামগ্রীর কথা বলা হয়েছে, যেগুলি এক সময় লেখালেখির অপরিহার্য অঙ্গ ছিল। অতীতে লেখকের চিন্তা, অনুভূতি ও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটত এইসব উপকরণের মাধ্যমেই। নিজের হাতে কলম ধরে লেখা ছিল লেখকের কাছে একান্ত ব্যক্তিগত, আনন্দদায়ক ও আবেগময় অভিজ্ঞতা। প্রতিটি অক্ষরের মধ্যে থাকত লেখকের মনের স্পর্শ, লেখার ছন্দ ও স্বকীয়তা।

কিন্তু বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক যুগে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইল সর্বত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। লেখালেখির কাজ এখন কম্পিউটারে করা অনেক সহজ, দ্রুত এবং পরিশ্রমহীন। ভুল সংশোধন, লেখা সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান—সবই প্রযুক্তির সাহায্যে সহজ হয়ে উঠেছে। ফলে মানুষ ধীরে ধীরে হাতে লেখা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। শিক্ষা, অফিস-আদালত, সাহিত্যচর্চা—সব ক্ষেত্রেই কম্পিউটার লেখার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনের ফলেই কলম, কালি, দোয়াতের ব্যবহার ক্রমশ কমে যাচ্ছে এবং সেগুলি আজ প্রায় অবলুপ্তির পথে। লেখক এই পরিস্থিতি দেখে গভীরভাবে চিন্তিত, কারণ এর সঙ্গে সঙ্গে শুধু কিছু জিনিসই নয়, হারিয়ে যাচ্ছে হাতে লেখার শিল্প, সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য। হাতে লেখা মানেই ছিল ধৈর্য, মনোযোগ ও অনুভূতির সমন্বয়। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা জরুরি হলেও, হাতে লেখার এই মূল্যবান ঐতিহ্য যেন পুরোপুরি হারিয়ে না যায়—লেখক সেই আশঙ্কাই প্রকাশ করেছেন।

৬.২ “আমাদের আলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন।” — ‘ত্রিবিধ’ কথা কী কী? তাদের প্রয়োগমূলক দিকগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো। ১+৪

উত্তর: আমাদের আলংকারিকদের মতে শব্দের ত্রিবিধ শক্তি বা কথা হলো—

১) অভিধা,
২) লক্ষণা,
৩) ব্যঞ্জনা।

ভাষার অর্থবোধ ও ভাবপ্রকাশে এই তিন প্রকার শক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রচনার প্রকৃতি অনুযায়ী এই শক্তিগুলির ব্যবহার ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রযোজ্য হয়।

অভিধা হলো শব্দের মুখ্য ও সরাসরি অর্থ প্রকাশের শক্তি। অর্থাৎ যে অর্থটি আমরা প্রথমে ও স্বাভাবিকভাবে বুঝে থাকি, সেটিই অভিধার্থ। যেমন— ‘পঙ্কজ’ শব্দের অভিধার্থ হলো ‘পদ্ম’। বিজ্ঞানভিত্তিক রচনায় অভিধা শক্তির ব্যবহার সবচেয়ে উপযোগী ও কাম্য, কারণ বৈজ্ঞানিক রচনার মূল লক্ষ্য হলো তথ্যকে স্পষ্ট, নির্ভুল ও দ্ব্যর্থহীনভাবে উপস্থাপন করা। এখানে কল্পনা বা ভাবাবেগের স্থান কম, তাই সরল ও স্পষ্ট অর্থ প্রকাশ অপরিহার্য।

লক্ষণা হলো এমন শক্তি যেখানে শব্দের মুখ্য অর্থ পরিত্যাগ করে গৌণ বা পরোক্ষ অর্থ গ্রহণ করা হয়। যেমন— “রিকশা এসো” বলতে আসলে রিকশাকে নয়, রিকশাওয়ালাকে ডাকা হয়। দৈনন্দিন কথাবার্তা বা সাহিত্যিক রচনায় লক্ষণার ব্যবহার স্বাভাবিক হলেও বিজ্ঞান রচনায় এর ব্যবহার সীমিত হওয়া উচিত। কারণ এতে অর্থ কিছুটা পরোক্ষ হয়ে পড়ে, যা বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

ব্যঞ্জনা হলো শব্দশক্তির সবচেয়ে সূক্ষ্ম রূপ। অভিধা ও লক্ষণার বাইরে গিয়ে এটি অতিরিক্ত ভাব বা গভীর অর্থ প্রকাশ করে। ব্যঞ্জনা মূলত সাহিত্যিক, কাব্যিক ও অলংকারধর্মী রচনায় ব্যবহৃত হয়। তবে বৈজ্ঞানিক রচনায় ব্যঞ্জনার ব্যবহার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, কারণ এতে পাঠক ভিন্ন ভিন্ন অর্থ অনুধাবন করতে পারেন।

উপসংহারে বলা যায়, রাজশেখর বসুর মতে বৈজ্ঞানিক রচনায় অভিধা শক্তির প্রাধান্য থাকা আবশ্যক। লক্ষণা ও ব্যঞ্জনার ব্যবহার যতটা সম্ভব বর্জন করাই বিজ্ঞানসম্মত রচনার আদর্শ।

৭. কম-বেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: 8

৭.১ “তোমাকে আমরা তোপের মুখে উড়িয়ে দিতে পারি ” — কাকে উদ্দেশ করে বলা? বক্তার এমন বলার কারণ কী? ১+৩

উত্তর: উদ্ধৃত অংশে ‘তোমাকে’ বলতে মুরশিদাবাদের রাজদরবারে উপস্থিত ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি উইলিয়াম ওয়াটস-কে বোঝানো হয়েছে।

ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটস নবাব সিরাজদ্দৌলার বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন—এ কথা তাঁর বিভিন্ন চিঠি ও ঐতিহাসিক প্রমাণ থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায়। ওয়াটসের কার্যকলাপ নবাবের শাসন ও স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছিল। তিনি ইংরেজদের স্বার্থ রক্ষায় নবাবের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতায় জড়িয়ে পড়েন এবং অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এই ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরে নবাব সিরাজদ্দৌলা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। রাজদ্রোহ একটি গুরুতর অপরাধ এবং এর শাস্তি যে মৃত্যু হতে পারে, তা বোঝাতেই নবাব ওই উক্তি করেন। একই সঙ্গে ওয়াটসকে ভয় দেখিয়ে সতর্ক করা এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত রাখাই ছিল নবাবের মূল উদ্দেশ্য।

৭.২ “জাতির সৌভাগ্য সূর্য আজ অস্তাচলগামী,” — বক্তা কে? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। ১+৩

উত্তর: বক্তা: নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে উক্তিটি বলেছেন নবাব সিরাজদ্দৌলা।

উক্তিটির তাৎপর্য: উক্তিটির মাধ্যমে বাংলার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নবাব সিরাজদ্দৌলার গভীর আশঙ্কা, হতাশা ও অন্তর্দাহ প্রকাশ পেয়েছে। আলিবর্দি খানের মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহন করেই সিরাজ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাবের সম্মুখীন হন। বিনাশুল্কে বাণিজ্যের দাবি, নবাবের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ এবং দেশের অভ্যন্তরে ঘসেটি বেগম, মীরজাফর প্রমুখের বিশ্বাসঘাতক ষড়যন্ত্র—সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মারাত্মকভাবে বিপন্ন হয়ে ওঠে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলার গৌরব, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য যে ধ্বংসের পথে—এই তীব্র উপলব্ধি থেকেই সিরাজ বলেন, “জাতির সৌভাগ্য সূর্য আজ অস্তাচলগামী।” উক্তিটি বাংলার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও গভীর বেদনার হৃদয়স্পর্শী প্রতিফলন।

৮. কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ২×৫ = ১০

৮.১ “এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক।” — ‘এটা’ কী? কী ভাবে, কার মধ্যে এটা তৈরি হয়েছিল? ১+৪

উত্তর: এখানে ‘এটা’ বলতে কোনির মনে তৈরি হওয়া হিংস্র আক্রোশ, অপমানবোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুন-কেই বোঝানো হয়েছে। এই আক্রোশই ক্ষিতীশ চাইছিল কোনি নিজের বুকের মধ্যে পুষে রাখুক।

এই আক্রোশটি তৈরি হয়েছিল কোনির মধ্যে, এবং তার সৃষ্টি হয়েছিল চিড়িয়াখানার একটি ঘটনার মাধ্যমে— চিড়িয়াখানায় ঘোরার সময় কোনির তীব্র জলতেষ্টা পায়। কিছু স্কুলছাত্রীর কাছে জল চাইতে গেলে তাদের শিক্ষিকা কোনিকে অপমান করে ফিরিয়ে দেন। পরে সেই ছাত্রীদের একজন, হিয়া মিত্র, প্লাস্টিকের গ্লাসে জল এনে ক্ষমা চায়। অপমানিত ও ক্রুদ্ধ কোনি হিয়ার হাতের গ্লাসে ধাক্কা মারে, জল ফেলে দেয় এবং তীব্রভাবে জল নিতে অস্বীকার করে। এই ঘটনায় কোনির মনে অপমান, রাগ ও হিয়ার প্রতি হিংস্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুভূতি জন্ম নেয়। ক্ষিতীশ এই আচরণ সমর্থন না করলেও বুঝতে পেরেছিলেন যে হিয়া ভবিষ্যতে কোনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবে। তাই তিনি মনে করেছিলেন, এই আক্রোশ দমন না করে বরং তা বুকের মধ্যে পুষে রাখাই কোনির সাফল্যের পথে এগোনোর শক্তি হয়ে উঠবে। কোনির মনে জন্ম নেওয়া এই হিংস্র আক্রোশই ‘এটা’, যা ক্ষিতীশ কোনির চরিত্র গঠনের প্রয়োজনীয় শক্তি হিসেবে দেখেছিলেন।

৮.২ “তবে আপনার হার্টটা বোধ হয় বেশিদিন এই গন্ধমাদন টানতে পারবে না।” — কে, কাকে একথা বলেছিল? বক্তার একথা বলার কারণ কী? ২+৩

উত্তর: কে, কাকে বলেছিল: উদ্ধৃত উক্তিটি অজ্ঞাতনামা সেই মধ্যবয়স্ক লোকটি (যিনি গেরুয়া পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরা ছিলেন) বিষ্টু ধরকে বলেছিল।

বক্তার একথা বলার কারণ: বিষ্টু ধর একজন অত্যন্ত স্থূলকায় ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত দেহের অধিকারী ব্যক্তি। তার শরীরের বিশালতা ও ঢিলেঢালা গড়ন দেখলেই সহজে বোঝা যায় যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি তেমন কোনো যত্ন নেননি। একদিন তাকে মালিশ করাতে দেখে এবং তার শারীরিক অবস্থা গভীরভাবে লক্ষ্য করে লোকটির মনে দৃঢ় ধারণা জন্মায় যে এত ভারী শরীরের বোঝা ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের চাপ বিষ্টু ধরের হৃদ্‌যন্ত্র বেশিদিন সহ্য করতে পারবে না। তার শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম এবং অবসন্ন ভঙ্গি সেই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই ব্যঙ্গ ও সতর্কতার মিশ্রণে লোকটি খানিকটা ঠাট্টার সুরে, আবার ভেতরের উদ্বেগ লুকিয়ে রেখে বলে ওঠে— “তবে আপনার হার্টটা বোধ হয় আর বেশিদিন এই গন্ধমাদন টানতে পারবে না।

৮.৩ “ফাইট, কোনি ফাইট” — সাধারণ মেয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ান হয়ে উঠতে গিয়ে কোনিকে কী ধরণের ‘ফাইট’ করতে হয়েছিল সংক্ষেপে তার পরিচয় দাও। ৫

উত্তর: মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে এক সাধারণ মেয়ের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি বিবৃত হয়েছে। শ্যামপুকুর বস্তির দরিদ্র পরিবারের মেয়ে কোনি বহু বাধা পেরিয়ে একসময় জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু হয়ে ওঠে। এই উত্তরণ সহজ ছিল না—তাকে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘ফাইট’ করেই এগোতে হয়েছে।

প্রথমত, তাকে লড়তে হয়েছিল চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে। সে এমন পরিবারের মেয়ে যেখানে তিনবেলা কিছু খেয়ে বেঁচে থাকাটাই একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়। তার পরিবারের পক্ষে কোনিকে সাঁতার শেখানো তো দূরের কথা, একটা সাঁতারের কস্ট্যুম কেনার সামর্থ্য ছিল না পরিবারে। ক্ষিতিশের সাহায্য না পেলে সাঁতার শেখাই সম্ভব হতো না কোনির। 

দ্বিতীয়ত, নিজের সঙ্গে ফাইট। কোনি বড়লোক বাড়ির মেয়ে‌ ছিলো না, তার তেমন শিক্ষাও‌ ছিলোনা । অমিয়া যখন তাকে ‘ঝি’ বলে, অপমান করে, কোনি বুঝতে পারে, নিজেকে প্রমাণ করাই এর একমাত্র জবাব হবে। 

তৃতীয়ত, ছিল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই। তাকে কখনও ডিসকোয়ালিফাই, এমনকি, তাকে বাংলা দল থেকে বাদ দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।

চতুর্থত, ছিল বঞ্চনার বিরুদ্ধে ফাইট—মাদ্রাজে প্রতিযোগিতায় নামার সুযোগও বারবার আটকানো হয়। একের পর এক প্রতিযোগিতা সে গ্যালারিতে বসে দেখেছে, জলে নামার সুযোগও পায়নি।

শেষপর্যন্ত সত্যেরই জয় হয়। মাদ্রাজে জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় শেষ মুহূর্তে নামার সুযোগ পেয়ে কোনি নিজের প্রতিভা প্রমাণ করে দিয়েছিল। তার জীবনের মূল মন্ত্র ছিল — “ফাইট কোনি, ফাইট।” এটি শুধু একটি বাক্য নয়, এক সংগ্রামী মনের সাহসী উচ্চারণ।

৯. চলিত বাংলায় অনুবাদ করো: 8

We are living in an age of Science. Science has discovered and invented many things. Electricity is one of the greatest gifts of Science to man. Electricity has almost changed the mode of our life.

উত্তর: আমরা বিজ্ঞানের যুগে বাস করছি। বিজ্ঞান অনেক কিছু আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করেছে। বিদ্যুৎ হলো মানুষের জন্য বিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার। বিদ্যুৎ আমাদের জীবনযাত্রার পদ্ধতিকে প্রায় সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

১০. কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫

১০.১ ‘সাবধানে চালাও জীবন বাঁচাও’। — এই বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

উত্তর: 

সাবধানে চালাও জীবন বাঁচাও

অরুণ: দেখছি তুই খুব তাড়াহুড়ো করে বাইক চালাচ্ছিস। জানিস তো, “সাবধানে চালাও—জীবন বাঁচাও” শুধু স্লোগান নয়।

বিকাশ: জানি রে, কিন্তু আজ একটু দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে গতি বাড়িয়েছি।

অরুণ: এই দেরির জন্যই তো কত মানুষ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। রাস্তায় শুধু নিজের কথাই ভাবলে চলবে না, অন্য পথচারীদের কথাও ভাবতে হবে।

বিকাশ: কথাটা ঠিক। গতকালই খবরের কাগজে একটা ভয়ংকর দুর্ঘটনার কথা পড়লাম।

অরুণ: তাই তো বলছি—হেলমেট না পরা, সিগন্যাল না মানা, অতিরিক্ত গতি—এই ভুলগুলোই জীবন কেড়ে নেয়।

বিকাশ: এখন বুঝতে পারছি। একটা অসাবধান মুহূর্তে সব শেষ হয়ে যেতে পারে।

অরুণ: ঠিক তাই। নিজের জীবন যেমন মূল্যবান, তেমনি অন্যের জীবনও।

বিকাশ: আজ থেকে সাবধানে চালাব। সত্যিই, জীবন বাঁচানোই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

১০.২ ‘রক্তদান জীবনদান এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

উত্তর: 

রক্তদান জীবনদান

নিজস্ব সংবাদদাতা: কলকাতা,২ জানুয়ারি ২০২৬ : গত সোম বার আমাদের এলাকার যুবসংগঠনের উদ্যোগে স্থানীয় কমিউনিটি হলে একটি স্বেচ্ছা রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয়। শিবিরের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রয়োজনে অসুস্থ মানুষের জীবন রক্ষা করা। সকাল দশটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত এই শিবির চলে। চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সদের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশে রক্ত সংগ্রহ করা হয়।

এই রক্তদান শিবিরে ছাত্রছাত্রী, যুবক-যুবতী ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। মোট একশোরও বেশি মানুষ রক্তদান করেন। শিবিরে আগত রক্তদাতাদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয় এবং রক্তদানের পর তাঁদের বিশ্রাম ও হালকা খাবারের ব্যবস্থা ছিল।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়—রক্তদান করলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না, বরং একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়। তাই বলা যায়, রক্তদান সত্যিই জীবনদান।

১১. কম-বেশি ৪০০ শব্দে যে কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো: ১০

১১.১ বিজ্ঞানমনস্কতা কুসংস্কার

উত্তর:

 বিজ্ঞানমনস্কতা ও কুসংস্কার

মানুষের সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞানের বিকাশ ঘটেছে, আর এই জ্ঞানবিকাশের মূল ভিত্তি হল বিজ্ঞানমনস্কতা। বিজ্ঞানমনস্কতা বলতে বোঝায় যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের উপর নির্ভর করে সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতা। এর সম্পূর্ণ বিপরীত হল কুসংস্কার—যেখানে অযৌক্তিক বিশ্বাস, ভয় ও অন্ধ আচার মানুষের চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও সমাজে এই দুই প্রবণতা পাশাপাশি বিদ্যমান, যা গভীরভাবে ভাবনার বিষয়।

বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ কোনো ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে। সে প্রশ্ন করে, যুক্তি খোঁজে এবং পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য যাচাই করতে চায়। বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষ রোগের চিকিৎসা, মহাকাশ গবেষণা, প্রযুক্তির উন্নতি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সক্ষম হয়েছে। বিজ্ঞান মানুষকে অন্ধ বিশ্বাস থেকে মুক্ত করে আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। সমাজে বিজ্ঞানমনস্কতার প্রসার হলে কুসংস্কার, ভেদাভেদ ও অমানবিক প্রথার অবসান সম্ভব।

অন্যদিকে কুসংস্কার মানুষের অজ্ঞতা ও ভয়ের ফসল। গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব, অলৌকিক শক্তি, তাবিজ-কবচ, ডাইনি বিশ্বাস—এইসব কুসংস্কার আজও সমাজে নানা রূপে বিদ্যমান। কুসংস্কার মানুষকে যুক্তিহীন করে তোলে এবং অনেক সময় ভয়ংকর পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। কুসংস্কারের কারণে মানুষ চিকিৎসা না নিয়ে ঝাড়ফুঁকে বিশ্বাস করে প্রাণ হারায়, সমাজে নারী নির্যাতন ও সামাজিক বৈষম্য বাড়ে। ফলে সমাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়।

বিজ্ঞানমনস্কতা ও কুসংস্কারের সংঘাত মূলত অন্ধকার ও আলোর লড়াই। যেখানে বিজ্ঞানমনস্কতা মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়, সেখানে কুসংস্কার মানুষকে প্রশ্নহীনভাবে বিশ্বাস করতে বাধ্য করে। শিক্ষার অভাব, দারিদ্র্য ও সচেতনতার ঘাটতি কুসংস্কারকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। তাই কুসংস্কার দূর করতে শিক্ষার প্রসার ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনার বিকাশ অত্যন্ত জরুরি।

পরিশেষে বলা যায়, একটি উন্নত, মানবিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনের জন্য বিজ্ঞানমনস্কতার বিকল্প নেই। কুসংস্কার মানুষকে পিছনের দিকে টেনে নিয়ে যায়, আর বিজ্ঞানমনস্কতা মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায় ভবিষ্যতের পথে। তাই আমাদের উচিত যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলে কুসংস্কারের শৃঙ্খল থেকে সমাজকে মুক্ত করা।

১১.২ বাংলার উৎসব

উত্তর: 

বাংলার উৎসব

বাংলা সংস্কৃতি ও জীবনের সঙ্গে উৎসব অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বাংলার মানুষ উৎসবপ্রিয়; বছরের প্রায় প্রতিটি মাসেই কোনো না কোনো উৎসব পালিত হয়। এই উৎসবগুলি কেবল আনন্দের উপলক্ষ নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। বাংলার উৎসবগুলি ধর্মীয়, সামাজিক ও ঋতুভিত্তিক—এই তিন ভাগে বিভক্ত করা যায়।

বাংলার সবচেয়ে বড় ও সর্বজনীন উৎসব হল দুর্গাপুজো। ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি আজ সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। ধনী-গরিব, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে। দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমাশিল্প, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলার শিল্প ও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে। দুর্গাপুজো বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক।

এছাড়াও কালীপুজো, লক্ষ্মীপুজো, সরস্বতীপুজো, শিবরাত্রি প্রভৃতি হিন্দু ধর্মীয় উৎসব বাংলায় ধুমধাম করে পালিত হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই সময়ে মানুষ একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেয়, দান-খয়রাত করে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়। খ্রিস্টানদের বড়দিন ও বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমাও বাংলার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।

বাংলার সামাজিক ও ঋতুভিত্তিক উৎসবগুলিও বিশেষ উল্লেখযোগ্য। নববর্ষ বা পয়লা বৈশাখ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক উৎসব। এদিন মানুষ নতুন বছরের সূচনা করে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। নবান্ন হলো কৃষিভিত্তিক উৎসব, যেখানে নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ প্রকাশ পায়। পৌষসংক্রান্তি, দোলযাত্রা, চড়ক, গাজন ইত্যাদি উৎসব গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।

উৎসব মানুষের জীবনে একঘেয়েমি দূর করে এবং মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। উৎসবের সময় মানুষ পারস্পরিক বিরোধ ভুলে একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে যায়। অর্থনৈতিক দিক থেকেও উৎসব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শিল্পী, কারিগর, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ এতে উপকৃত হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলার উৎসব শুধু আনন্দের উপলক্ষ নয়, বরং বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন। এই উৎসবগুলির মধ্য দিয়েই বাঙালির প্রাণের পরিচয় প্রকাশ পায়।

১১.৩ তোমার জীবনের একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা

উত্তর: 

 আমার জীবনের একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা 

প্রস্তাবনা – মানুষের জীবন থেমে থাকে না, তা এগিয়ে চলে অবিরাম। চলার পথে কখনও সুখের আলো, কখনও দুঃখের ছায়া এসে পড়ে। ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়ালেও মানুষ বারবার ফিরে তাকায় অতীতের দিকে। স্মৃতির সেই জানালায় ভিড় করে অসংখ্য মুহূর্ত, যা মনে নতুন করে প্রাণ জাগায়।

নিজের কথা – আমার অল্প বয়সের জীবনও নানা অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ। জীবনের প্রথম ভ্রমণ, প্রথম বইয়ের মেলা, প্রথম আকাশপথে যাত্রা বা বন্ধুদের সঙ্গে দুর্গাপুজোর আনন্দ—সবই আজও মনে স্পষ্ট। আবার সেই স্মৃতির ভাঁজেই লুকিয়ে আছে দাদুকে হারানোর গভীর বেদনাও। হাসি আর অশ্রুর এই মেলবন্ধনের মধ্যে যদি একটি বিশেষ দিনের কথা বলতে হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে আমার প্রথম হাই স্কুলে পা রাখার দিন।

পরিবর্তনের সময় – প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আমার পড়াশোনা ছিল টাকি সরকারি বিদ্যালয়ে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই স্কুলে যেতে হত। ঘণ্টার শব্দে শুরু হত প্রার্থনা, আর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্নেহে কেটে যেত দিনগুলো। ফল প্রকাশের পর বাবা জানালেন—এবার আর সকালবেলা স্কুলে যাওয়া নয়, শুরু হবে জীবনের নতুন অধ্যায়।

নতুন অভিজ্ঞতার দিন – নতুন পোশাক পরে বাবার সঙ্গে পৌঁছোলাম হাই স্কুলে। পরিচিত ভবন হলেও পরিবেশ ছিল একেবারেই আলাদা। চারদিকে বড় বড় ছাত্রদের ভিড়, যাদের দেখে নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিল। বাবার হাত ছেড়ে একা দাঁড়িয়ে থাকতে কিছুটা অস্বস্তি হচ্ছিল। প্রার্থনার পর ক্লাস শুরু হল। প্রথমেই এলেন ইংরেজির শিক্ষক দুর্গাদাসবাবু—গম্ভীর চেহারা হলেও পড়ানোর ভঙ্গি ছিল আকর্ষণীয়। একে একে অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষকরাও এলেন। ইতিহাসের ক্লাসে হাসি-আনন্দে সময় কেটে গেল, আর মনের ভয় ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। টিফিনের সময় মাঠে না গেলেও দিনটা আর অচেনা লাগছিল না। ছুটির ঘণ্টা বাজার পর বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে মনে হচ্ছিল—এই জায়গাটার সঙ্গে আমার এক নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল।

সমাপ্তি ভাবনা – আজ আমি দশম শ্রেণির ছাত্র। স্কুলের প্রতিটি কোণ আমার চেনা। মাঠে খেলতে, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে আর কোনো সংকোচ নেই। পড়াশোনার পাশাপাশি পেয়েছি শিক্ষকদের ভালোবাসা ও পথচলার প্রেরণা। সামনে বড় পরীক্ষা, বড় জীবন অপেক্ষা করছে। তবু স্কুলজীবনের প্রথম দিনের সেই কাঁচা অনুভূতি, ভয় আর কৌতূহনের মিশ্র স্মৃতি আজও মনে উজ্জ্বল। আমার জীবনের পাতায় সেই দিনটি চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।

১১.৪ একটি বিদ্যালয়ের আত্মকথা

উত্তর:

একটি বিদ্যালয়ের আত্মকথা

আমি একটি শিক্ষাঙ্গন, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেড়ে ওঠে জ্ঞান ও মূল্যবোধের আলোয়। দীর্ঘ সময় ধরে অসংখ্য কচি মুখের প্রথম স্বপ্ন, প্রথম সাফল্য আর প্রথম সংগ্রামের নীরব সাক্ষী হয়ে আছি। আমার পরিচয় শুধু দেয়াল আর ছাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আমি এক জীবন্ত পরিবেশ, যেখানে মানুষের মন গড়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ রূপ পায়। আজ আমি নিজের গল্প নিজেই তুলে ধরতে চাই।

আমার সূচনা – অনেক আগের কথা। এই এলাকার কিছু দূরদর্শী ও শিক্ষানুরাগী মানুষ উপলব্ধি করেছিলেন যে, উন্নতির মূল চাবিকাঠি শিক্ষা। সেই ভাবনা থেকেই আমার যাত্রার সূচনা। শুরুতে আমি ছিলাম ছোট পরিসরের, কিন্তু মানুষের বিশ্বাস আর শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আমাকে ধীরে ধীরে বিস্তৃত করেছে।

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি – শিক্ষার্থীরাই আমার অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন তাদের পদচারণা, হাসি, কৌতূহলী প্রশ্ন আর প্রাণচঞ্চল কণ্ঠস্বর আমাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। তারা যখন শেখে, স্বপ্ন দেখে, ভুল করে আবার ঘুরে দাঁড়ায়—তখন আমি বুঝি, আমি তাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

শিক্ষকদের ভূমিকা – আমার শিক্ষকরা আমার পথপ্রদর্শক। তাদের হাত ধরেই জ্ঞান আলোর পথ পায়। তারা শুধু পাঠ্যবইয়ের পাঠ শেখান না, বরং সততা, মানবিকতা আর দায়িত্ববোধের বীজ শিক্ষার্থীদের মনে রোপণ করেন। তাদের নিরলস প্রচেষ্টাই আমাকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে রেখেছে।

দৈনন্দিন কার্যক্রম – প্রতিদিন আমার অঙ্গন ভরে থাকে শেখার ব্যস্ততায়। শ্রেণিকক্ষে চলে পাঠদান, আলোচনা আর চিন্তার আদান–প্রদান। পাশাপাশি সংগীত, চিত্রাঙ্কন, অভিনয় ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকশিত হয়। এখানে শেখা মানে শুধু বই মুখস্থ করা নয়, শেখা মানে জীবনকে বোঝা।

পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা – আমার অবকাঠামো শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক এক পরিসর তৈরি করেছে। পাঠাগার, ব্যবহারিক ল্যাব, খোলা মাঠ—সবকিছুই তাদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের কথা ভেবে সাজানো। আমি চাই, তারা যেন আনন্দের সঙ্গে নিরাপদ পরিবেশে শিখতে পারে।

উৎসবের রঙ – বছরজুড়ে নানা আয়োজন আমার দিনগুলোকে রঙিন করে তোলে। খেলাধুলার আসর, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবসের উদযাপন—এসব মুহূর্ত শিক্ষার্থীদের মনে গেঁথে যায়। এই স্মৃতিগুলোই ভবিষ্যতে তাদের জীবনের প্রেরণায় পরিণত হয়।

অর্জনের গল্প – আমার বুক চিরে বেরিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা আজ সমাজের নানা ক্ষেত্রে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক কিংবা সমাজের নিবেদিত কর্মী। তাদের সাফল্যই আমার সবচেয়ে বড় গর্ব।

আগামীর ভাবনা – সময় বদলাচ্ছে, শিক্ষার ধরনও বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই। আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা ও উন্নত গবেষণার সুযোগের মাধ্যমে আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও প্রস্তুত করে তুলতে চাই।

শেষ কথা – আমি আনন্দিত যে এতগুলো জীবনের সঙ্গে আমার পথচলা জড়িয়ে আছে। শৈশবের হাত ধরে কৈশোর, তারপর তারুণ্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার এই যাত্রায় আমি নীরব সঙ্গী হয়ে থেকেছি। আমি কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নই—আমি আশা, আমি দিকনির্দেশনা, আমি আগামী দিনের আলোর পথ।


MadhyamikQuestionPapers.com এ আপনি অন্যান্য বছরের প্রশ্নপত্রের উত্তরও সহজেই পেয়ে যাবেন। আপনার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কেমন লাগলো, তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আরও পড়ার জন্য, জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য MadhyamikQuestionPapers.com এর সাথে যুক্ত থাকুন।

Tag Post :
Share This :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *