Madhyamik Question Papers

মাধ্যমিক ২০২৬ ভূগোল প্রশ্নপত্রের সমস্ত উত্তর

Geography
Madhyamik 2026 Geography Answer Thumbnail

আপনি কি মাধ্যমিক ২০২৬ সালের ভূগোল প্রশ্নপত্রের উত্তর খুঁজছেন? তাহলে একদম ঠিক জায়গায় এসেছেন। এই আর্টিকেলে আপনি ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ভূগোল প্রশ্নপত্রের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ উত্তরগুলো পেয়ে যাবেন।

নিচে প্রশ্নপত্রের প্রতিটি উত্তরের পরিষ্কার, সহজবোধ্য এবং সাজানো উপস্থাপন দেওয়া হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থীরা দ্রুত বুঝতে ও রিভিশন করতে পারে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য আগের বছরের প্রশ্ন ও তার সমাধান অত্যন্ত সহায়ক — এগুলো থেকে প্রশ্নের ধরণ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

MadhyamikQuestionPapers.com ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত মাধ্যমিক পরীক্ষার সব প্রশ্নপত্র ও উত্তর একদম বিনামূল্যে প্রকাশ করে আসছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজে প্রস্তুতি নিতে পারে।

Download 2017 to 2026 All Subject’s Madhyamik Question Papers

View All Answers of Last Year Madhyamik Question Papers

যদি দ্রুত প্রশ্ন ও উত্তর খুঁজতে চান, তাহলে নিচের Table of Contents এর পাশে থাকা [!!!] চিহ্নে ক্লিক করুন। এই পেজে থাকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর Table of Contents-এ ধারাবাহিকভাবে সাজানো আছে। যে প্রশ্নে ক্লিক করবেন, সরাসরি তার উত্তরে পৌঁছে যাবেন।

Table of Contents

বিভাগ – ‘ক’

১। বিকল্পগুলির থেকে সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো: ১ × ১৪ = ১৪

১.১ বহির্জাত শক্তির মূল উৎস হল –

(ক) পারমাণবিক শক্তি
(খ) সৌর শক্তি
(গ) তেজস্ক্রিয় শক্তি
(ঘ) স্থিতিশীল শক্তি

উত্তর: (খ) সৌর শক্তি

১.২ পার্বত্য হিমবাহের পৃষ্ঠদেশে সৃষ্ট গভীর ফাটলগুলিকে বলে –

(ক) ক্রেভাস
(খ) সার্ক
(গ) বার্গমুণ্ড
(ঘ) নুনাটাক

উত্তর: (ক) ক্রেভাস

১.৩ হেটেরোস্ফিয়ারের প্রথম উপস্তরটি হল –

(ক) পারমাণবিক হাইড্রোজেন স্তর
(খ) পারমাণবিক হিলিয়াম স্তর
(গ) আণবিক নাইট্রোজেন স্তর
(ঘ) পারমাণবিক অক্সিজেন স্তর

উত্তর:  (ঘ) পারমাণবিক অক্সিজেন স্তর

১.৪ আল্পস পর্বতের উত্তর ঢালে যে স্থানীয় বায়ুপ্রবাহের ফলে বরফ গলে যায়, তা হল –

(ক) বোরা
(খ) চিনুক্
(গ) খামসিন
(ঘ) ফন

উত্তর: (ঘ) ফন

১.৫ ‘শৈবাল সাগর’ দেখা যায় –

(ক) আটলান্টিক মহাসাগরে
(খ) ভারত মহাসাগরে
(গ) সুমেরু মহাসাগরে
(ঘ) কুমের মহাসাগরে

উত্তর: (ক) আটলান্টিক মহাসাগরে

১.৬ পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের কারণে সমুদ্র জলতলের নিয়মিত উত্থান ও পতন-কে বলা হয় –

(ক) সুনামি
(খ) সমুদ্রতরঙ্গ
(গ) সমুদ্রস্রোত
(ঘ) জোয়ারভাটা

উত্তর: (ঘ) জোয়ারভাটা

১.৭ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিম্নলিখিতটি 3R এর অন্তর্ভুক্ত নয় –

(ক) পরিমাণগত হ্রাস
(খ) পুনর্বিন্যাস
(গ) পুনর্ব্যবহার
(ঘ) পুনর্নবীকরণ

উত্তর: (খ) পুনর্বিন্যাস

১.৮ অন্ধ্রপ্রদেশের বর্তমান রাজধানীর নাম হল –

(ক) হায়দ্রাবাদ
(খ) সেকেন্দ্রাবাদ
(গ) অমরাবতী
(ঘ) বিজয়ওয়াড়া

উত্তর: (গ) অমরাবতী

১.৯ কাশ্মীরে অবস্থিত হিমালয়ের পর্বতমালাটি হল –

(ক) জাস্কার
(খ) ধৌলাধর
(গ) নাগটিব্বা
(ঘ) সিঙ্গালিলা

উত্তর: (ক) জাস্কার

১.১০ স্বাধীন ভারতের প্রথম বহুমুখী নদী পরিকল্পনা হল –

(ক) ভাকরা-নাঙ্গাল পরিকল্পনা
(খ) হিরাকুঁদ পরিকল্পনা
(গ) দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা
(ঘ) তুঙ্গভদ্রা পরিকল্পনা

উত্তর: (গ) দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা

১.১১ ভারতে শুষ্ক গ্রীষ্মকালে যে ফসলের চাষ করা হয় তাকে বলে –

(ক) খারিফ ফসল
(খ) রবি ফসল
(গ) বাগিচা ফসল
(ঘ) জায়িদ ফসল

উত্তর: (ঘ) জায়িদ ফসল

১.১২ ভারতের ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের একটি উদাহরণ হল –

(ক) বৈদ্যুতিন শিল্প
(খ) রেলইঞ্জিন শিল্প
(গ) বস্ত্রশিল্প
(ঘ) তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প

উত্তর: (খ) রেলইঞ্জিন শিল্প

১.১৩ ছত্রপতি শিবাজী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত –

(ক) মুম্বইতে
(খ) চেন্নাইতে
(গ) কোলকাতাতে
(ঘ) দিল্লীতে

উত্তর: (ক) মুম্বইতে

১.১৪ উপগ্রহ চিত্রে গভীর অরণ্য যে রং-এর সাহায্যে দেখানো হয় –

(ক) কালো
(খ) সবুজ
(গ) হালকা নীল
(ঘ) গাঢ় লাল

উত্তর: (ঘ) গাঢ় লাল

বিভাগ- ‘খ’

২। ২.১ নিম্নলিখিত বাক্যগুলি শুদ্ধ হলে পাশে ‘শু’ এবং অশুদ্ধ হলে পাশে ‘অ’ লেখো (যে কোনো ছয়টি): ১ × ৬ = ৬

২.১.১ বিজ্ঞানী ব্যাগনল্ড তির্যক বালিয়াড়িকে ‘বার্খান’ নামকরণ করেছেন।

উত্তর: শু

২.১.২ মেসোস্ফিয়ার স্তরে উষ্ণতার বৃদ্ধি উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে হয়।

উত্তর:

২.১.৩ জেট বায়ু জিওস্ট্রপিক বায়ুর একটি উদাহরণ।

উত্তর: শু

২.১.৪ পৃথিবীর সাপেক্ষে সূর্য ও চন্দ্রের সমকৌণিক অবস্থানকে সিজিগি বলে।

উত্তর:

২.১.৫ ভারতের সর্বনিম্ন জনবহুল রাজ্য হল গোয়া।

উত্তর:

২.১.৬ উপকূল অঞ্চলে লবণাক্ত মৃত্তিকায় ম্যানগ্রোভ অরণ্য গড়ে ওঠে।

উত্তর: শু

২.১.৭ উপগ্রহ চিত্রগুলি স্কেল অনুসারে তৈরী করা হয় না।

উত্তর:

২.২ উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো (যে কোনো ছয়টি): ১ × ৬ = ৬

২.২.১ অবরোহণ প্রক্রিয়ায় ভূমির উচ্চতার ___ হয়।

উত্তর: অবরোহণ প্রক্রিয়ায় ভূমির উচ্চতার হ্রাস হয়।

২.২.২ মরু অঞ্চলে বায়ু ও জলধারার মিলিত সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত সমভূমিকে ___ বলে।

উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ু ও জলধারার মিলিত সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত সমভূমিকে পেডিমেন্ট বলে।

২.২.৩ কোনো স্থানের উষ্ণতা-বৃষ্টিপাত লেখচিত্রে উষ্ণতার রেখাটি বছরের মধ্যভাগে নিম্নমুখী হলে স্থানটি ___ গোলার্ধে অবস্থিত।

উত্তর: কোনো স্থানের উষ্ণতা-বৃষ্টিপাত লেখচিত্রে উষ্ণতার রেখাটি বছরের মধ্যভাগে নিম্নমুখী হলে স্থানটি দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।

২.২.৪ ___ জোয়ার মুখ্য জোয়ারের প্রতিপাদস্থানে একই সময়ে তৈরী হয়।

উত্তর: মুখ্য জোয়ার মুখ্য জোয়ারের প্রতিপাদস্থানে একই সময়ে তৈরী হয়।

২.২.৫ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বায়ুমণ্ডলে ___ গ্যাস নির্গত করে।

উত্তর: শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বায়ুমণ্ডলে সি.এফ.সি গ্যাস নির্গত করে।

২.২.৬ আরাবল্লী পর্বতের পশ্চিমে অবস্থিত তৃণভূমিকে ____বলে।

উত্তর:  আরাবল্লী পর্বতের পশ্চিমে অবস্থিত তৃণভূমিকে রোহি বলে।

২.২.৭ জৈব বর্জ্য পদার্থগুলির জীবাণুর দ্বারা বিয়োজন পদ্ধতিকে ___ বলে।

উত্তর: জৈব বর্জ্য পদার্থগুলির জীবাণুর দ্বারা বিয়োজন পদ্ধতিকে কম্পোস্টিং বলে।

২.৩ একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও (যে কোনো ছয়টি): ১ × ৬ = ৬

২.৩.১ নদীর জলপ্রবাহ মাপার এককের নাম লেখো।

উত্তর: নদীর জলপ্রবাহ মাপার এককের নাম কিউমেক। 

২.৩.২ সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা কত শতাংশ?

উত্তর: সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০ শতাংশ। 

২.৩.৩ মেরু অঞ্চল থেকে কোন ধরনের সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয়?

উত্তর: মেরু অঞ্চল থেকে শীতল স্রোত ধরনের সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয়?

২.৩.৪ মানব শরীরে কোন বিষাক্ত বর্জ্যের উপস্থিতিতে মিনামাটা রোগ হয়?

উত্তর: মানব শরীরে পারদ বিষাক্ত বর্জ্যের উপস্থিতিতে মিনামাটা রোগ হয়। 

২.৩.৫ ভারতের সর্বাধিক জলসেচ পদ্ধতির নাম লেখো।

উত্তর: ভারতের সর্বাধিক জলসেচ পদ্ধতির নাম কূপ ও নলকূপ। 

২.৩.৬ ভারতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু কোথায় বৃষ্টিপাত ঘটায়?

উত্তর: ভারতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু করমন্ডল উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটায়। 

২.৩.৭ ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বে ভারতের স্থান কী?

উত্তর: ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বে ভারতের স্থান দ্বিতীয়। 

২.৩.৮ ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে কোন রেখার সাহায্যে ভূমির উচ্চতা দেখানো হয়?

উত্তর: ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে সমোন্নতি রেখার সাহায্যে ভূমির উচ্চতা দেখানো হয়। 

২.৪ বামদিকের সাথে ডানদিকেরগুলি মিলিয়ে লেখো: ১ × ৪ = ৪

বামদিকডানদিক
২.৪.১ ছোটোনাগপুর১. পাইন
২.৪.২ অসম২. কফি
২.৪.৩ হিমালয়৩. পরেশনাথ পাহাড়
২.৪.৪ চিকমাগালুর8. বরদৈচিলা

উত্তর: 

বামদিকডানদিক
২.৪.১ ছোটোনাগপুর৩. পরেশনাথ পাহাড় 
২.৪.২ অসম৪.বরদৈচিলা 
২.৪.৩ হিমালয়১. পাইন 
২.৪.৪ চিকমাগালুর২. কফি

বিভাগ – ‘গ’ 

৩। নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়): ২ × ৬ = ১২

৩.১ মহাদেশীয় হিমবাহ কাকে বলে?

উত্তর: উচ্চ অক্ষাংশের শীতপ্রধান ভূভাগে পাহাড়-পর্বতের উচ্চতার তারতম্য নির্বিশেষে যে বিপুল পরিসরে পুরু বরফের চাদর বিস্তার লাভ করে, তাকে মহাদেশীয় হিমবাহ বলা হয়। এই ধরনের হিমবাহ পৃথিবীর নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। সমগ্র মহাদেশীয় হিমবাহের সিংহভাগ, প্রায় ৮৫ শতাংশ, দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের আন্টার্কটিকা মহাদেশে অবস্থান করছে। গ্রিনল্যান্ডে জমা রয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ, আর অবশিষ্ট প্রায় ৪ শতাংশ বরফ বিভিন্ন ক্ষুদ্র দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জে ছড়িয়ে আছে। বিস্তৃতি ও আয়তনের দিক থেকে আন্টার্কটিকার বরফাচ্ছাদিত ভূমি মহাদেশীয় হিমবাহের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

অথবা, মরু সম্প্রসারণের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর: মরুভূমির সীমানা ঘেঁষা ভূমি যখন ধীরে ধীরে শুষ্ক, অনুর্বর ও বালুময় রূপ ধারণ করে, তখন সেই পরিবর্তনকে মরু সম্প্রসারণ বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় উর্বর জমি ক্রমে বসবাস ও কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কখনও জলবায়ুগত পরিবর্তন, অনাবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক কারণ এর জন্য দায়ী থাকে, আবার কখনও অতিরিক্ত গাছ কাটার মতো মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড, অযথা চাষাবাদ ও ভুল ভূমি ব্যবহারের ফলেও এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

৩.২ ‘ক্যাটাবেটিক’ বায়ু কাকে বলে?

উত্তর: রাতে পার্বত্য অঞ্চলে একটি বিশেষ ধরনের স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়, যা পাহাড়ের উচ্চভাগ থেকে উপত্যকার দিকে অগ্রসর হয়। সূর্যাস্তের পর পাহাড়ের উপরের অংশ দ্রুত তাপ হারিয়ে ঠান্ডা হয়ে পড়ে। এর ফলে সেখানকার বায়ু ঘন ও ভারী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে উপত্যকার নিম্নভূমি তুলনামূলকভাবে বেশি উষ্ণ থাকে, কারণ সেখানে তাপক্ষয় ধীরগতিতে হয়। এই তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে পাহাড়ের ওপর জমে থাকা ঠান্ডা ও ভারী বায়ু ঢাল বেয়ে নীচের দিকে গড়িয়ে পড়ে। এই নীচের দিকে প্রবাহিত শীতল বায়ুকেই পার্বত্য বা ক্যাটাবেটিক বায়ু বলা হয়।

অথবা, আন্তঃক্রান্তীয় অভিসৃতি অঞ্চল (ITCZ) বলতে কি বোঝো?

উত্তর: পৃথিবীর নিরক্ষরেখার আশপাশে দুটি ভিন্ন দিক থেকে আসা বাণিজ্য বায়ু একে অপরের মুখোমুখি হয়। এই সংঘাতে বায়ু অনুভূমিকভাবে এগোতে না পেরে উপরের দিকে উঠে যায়। এর ফলে সেখানে বায়ুচাপ কমে গিয়ে একটি বিস্তৃত নিম্নচাপ বলয় গড়ে ওঠে। এই বিশেষ অঞ্চলকে ভৌগোলিক পরিভাষায় আন্তঃক্রান্তীয় সম্মিলন ক্ষেত্র বলা হয়। ইংরেজিতে একে Inter Tropical Convergence Zone বা সংক্ষেপে ITCZ নামে চিহ্নিত করা হয়।

৩.৩ চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্যের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর: চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান— যেমন হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিংহোম, রোগ নির্ণয় কেন্দ্র কিংবা পশুচিকিৎসালয় থেকে যে সব পরিত্যক্ত বস্তু উৎপন্ন হয়, সেগুলিকে সামগ্রিকভাবে চিকিৎসা বর্জ্য বলা হয়। এই বর্জ্যের মধ্যে ব্যবহৃত তুলো ও গজ, ইনজেকশনের সূচ ও সিরিঞ্জ, ওষুধের খালি প্যাকেট, বোতল, ক্যাথিটার, তেজস্ক্রিয় উপাদান এবং অস্ত্রোপচারের সময় অপসারিত দেহাংশ অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্যের সবটাই বিপজ্জনক নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসা বর্জ্যের মোট অংশের খুব সামান্য অংশ প্রায় দশ শতাংশ রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বহন করে, আর বাকি অংশ তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়।

অথবা, বর্জ্যের ব্যবস্থাপনায় ভরাটকরণ বলতে কি বোঝো?

উত্তর: বর্জ্য নিষ্পত্তির এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিস্তৃত খোলা জমিতে গভীর গর্ত তৈরি করা হয়। সেই গর্তের মধ্যে কঠিন প্রকৃতির জৈব আবর্জনা স্তরে স্তরে ফেলা হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ বর্জ্য জমা হওয়ার পর তা ভালোভাবে সমতল করে উপর থেকে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এভাবে বর্জ্যকে মাটির নিচে স্থায়ীভাবে আবদ্ধ রেখে পরিবেশ দূষণ কমানোর যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাকেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভরাট পদ্ধতি বলা হয়।

৩.৪ খাদার কি?

উত্তর: নদীর ধার ঘেঁষা নবগঠিত প্লাবনভূমিতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যে তাজা অলুভিয়াল স্তর সঞ্চিত হয়, সেই বিশেষ ধরনের মাটিকেই খাদার মাটি বলা হয়। প্রতি বর্ষায় বন্যার জলে ভেসে আসা নতুন পলি এই অঞ্চলে জমতে থাকায় এর উৎপাদনক্ষমতা অত্যন্ত বেশি হয়। সূক্ষ্ম কণায় গঠিত হওয়ার ফলে এই মাটিতে পলির আধিক্য লক্ষ করা যায় এবং সাধারণত এর বর্ণ ধূসরাভ। খাদার মাটি জল শোষণ ও ধরে রাখতে বেশ সক্ষম, তাই আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় বজায় থাকে। ভেজা অবস্থায় এটি আঠালো ও চটচটে স্বভাবের হয়, যা কৃষিকাজের ক্ষেত্রে একে বিশেষভাবে উপযোগী করে তোলে।

অথবা, কারেওয়া বলতে কি বোঝো?

উত্তর: পিরপঞ্জাল ও হিমাদ্রি পর্বতমালার মধ্যবর্তী কাশ্মীর অঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে নদী ও হিমবাহের বহন করা অবক্ষেপ জমতে জমতে এক সময়ে প্রাচীন সতীসার হ্রদের জলভাগ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় হ্রদের পার্শ্ববর্তী উঁচু এলাকায় স্তরবিন্যাসযুক্ত ও চাষোপযোগী পলিমাটি বিস্তৃত আকারে গড়ে ওঠে। ভূগোলের ভাষায় এই বিশেষ ধরনের ধাপাকৃতি উর্বর ভূমিকে কারেওয়া মৃত্তিকা নামে পরিচিত করা হয়।

৩.৫ মৃত্তিকা ক্ষয়ের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর: মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড—যেমন অতিরিক্ত কৃষিকাজ, নির্বিচারে গাছ কাটা কিংবা লাগামছাড়া পশুচারণ প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে। এর ফলে বৃষ্টি, বাতাস ও জলপ্রবাহের মতো প্রাকৃতিক উপাদান ভূমির উপরিভাগের উর্বর মাটি দ্রুত ধুয়ে বা উড়িয়ে নিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় জমির গুণগত মান হ্রাস পায় এবং ভূমি ধীরে ধীরে অনুর্বর হয়ে ওঠে। এমন অবাঞ্ছিত ও ক্রমাগত মাটি হারানোর ঘটনাকেই মৃত্তিকা ক্ষয় বলা হয়।

অথবা, জনঘনত্ব বলতে কি বোঝো?

উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় মানুষ কীভাবে ছড়িয়ে আছে তা বোঝার অন্যতম পরিমাপক হলো জনঘনত্ব। সাধারণভাবে একটি দেশ বা অঞ্চলের মোট জনসংখ্যাকে সেই এলাকার মোট ভূমি পরিসরের সঙ্গে তুলনা করে এই ধারণা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পরিমাণ জমিতে কতজন মানুষ বসবাস করছে, সেই সংখ্যাগত মানই জনঘনত্বকে প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলের জনবসতির পার্থক্য ও চাপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

৩.৬ মিলিয়ন শিটে ব্যবহৃত RF (Representative Fraction) এবং মেট্রিক স্কেলের উল্লেখ করো।

উত্তর: মিলিয়ন শিটে ব্যবহৃত RF (Representative Fraction) এবং মেট্রিক স্কেলের উল্লেখ—  

RF (Representative Fraction) : ১ : ১০,০০,০০০

মেট্রিক স্কেল : ১ সেমি = ১০ কিমি

এই দু’টিই মিলিয়ন শিটের মানক স্কেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অথবা, ভারতের জরিপ সংস্থার (Survey of India) ও ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ISRO) সদর দপ্তরগুলি কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: ভারতের জরিপ সংস্থা (Survey of India)-র সদর দপ্তর: দেহরাদুন (উত্তরাখণ্ড)

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-র সদর দপ্তর: বেঙ্গালুরু (কর্ণাটক)

বিভাগ – ‘ঘ’

৪। সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়): ৩ × ৪ = ১২

৪.১ জুগ্যান ও ইয়ার্দাং-এর মধ্যে পার্থক্য তুমি কিভাবে নিরূপণ করবে?

উত্তর:

ইয়ার্দাংজিউগেন
বায়ুর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা উল্লম্ব বা একনত ভাবে অবস্থান করলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে কোমল শিলা ক্ষয় পেয়ে ইয়ার্দাং গঠন করে।বায়ুর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা সমান্তরালে অবস্থান করলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে শৈলশিরার মতো জিউগেন গঠন করে।
এই ভূমিরূপগুলি সাধারণত সমান্তরালভাবে অবস্থান করে।এই ভূমিরূপের ক্ষেত্রে কঠিন শিলা কম এবং কোমল শিলা বেশি ক্ষয় পাওয়ায় ছোটো ব্যাঙের ছাতার মতো অবস্থান করে।
এদের মাথাগুলি ক্ষয়কাজের ফলে ছুঁচোলো বা অসমতল প্রকৃতির হয়।এদের মাথাগুলি সমতল চূড়াবিশিষ্ট হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে 3-30 মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়।
ইয়ার্দাং -এর মাথাগুলি ক্রমশ ক্ষয় পেয়ে ছুঁচোলো প্রকৃতির হয়, এদের নিডিল বলে।বায়ুর ক্ষয়কাজের ফলে জিউগেনের মাথাগুলি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে চ্যাপটা আকৃতিবিশিষ্ট হয়।
অথবা, সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর যে কোনো তিনটি পার্থক্য বিবৃত করো।

উত্তর:

সমুদ্রবায়ুস্থলবায়ু
দিনের আলোয় সূর্যের প্রখর তাপের প্রভাবে ভূমি অংশ খুব দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠে। ফলে স্থলভাগে বায়ু হালকা হয়ে চাপ কমে যায়, আর তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা জলরাশি অঞ্চলে বায়ুচাপ বেশি থাকে। এই চাপের তারতম্যের কারণে সাগরের দিক থেকে স্থলের দিকে ধীরে ধীরে শীতল বাতাস বইতে শুরু করে। স্থলভাগকে শীতল করার উদ্দেশ্যে প্রবাহিত এই হালকা বায়ুপ্রবাহকেই ভৌগোলিক পরিভাষায় সমুদ্র বায়ু বলা হয়।সূর্যাস্তের পর ভূমি জলভাগের তুলনায় অনেক দ্রুত ঠান্ডা হয়ে পড়ে। এর ফলে স্থলের ওপর বায়ুর ঘনত্ব বাড়ে ও চাপ বৃদ্ধি পায়, কিন্তু জলভাগ অপেক্ষাকৃত উষ্ণ থাকায় সেখানে বায়ুচাপ কম থাকে। এই চাপের পার্থক্যের কারণে রাতে ভূমির দিক থেকে সাগর বা জলাশয়ের দিকে ধীরে ধীরে বাতাস বয়ে যায়। রাতের এই স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহকেই স্থলবায়ু নামে পরিচিত।
দিনের বেলা সূর্যের তাপে স্থলভাগ উষ্ণ হয় এবং সংলগ্ন জলভাগ শীতল হয়। সেই সময়ে স্থলভাগে নিম্নচাপ এবং জলভাগে উচ্চচাপ সৃষ্টি হলে, সমুদ্র বায়ুর উৎপত্তি হয়।রাতেরবেলা স্থলভাগ দ্রুত তাপ বিকিরণ করায় সেখানে উচ্চচাপ এবং জলভাগে নিম্নচাপ বিরাজ করে। সেই অবস্থায় স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে এই বায়ুর উৎপত্তি হয়।
জলভাগ থেকে সৃষ্ট এই বায়ু আর্দ্র প্রকৃতির হয়।স্থলভাগ থেকে সৃষ্ট এই বায়ু শুষ্ক প্রকৃতির হয়।
৪.২ শিল্প বর্জ্যের উৎস ও প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তর:

শিল্প বর্জ্যের উৎস:

  • শিল্প বর্জ্য মূলত বিভিন্ন কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে উৎপন্ন হয়। যেমন—
  • রাসায়নিক শিল্প (অ্যাসিড, ক্ষার, বিষাক্ত গ্যাস)
  • কাগজ ও চামড়া শিল্প (রং, চুন, ক্রোমিয়াম)
  • বস্ত্র শিল্প (রং ও রাসায়নিক দ্রবণ)
  • তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (ছাই ও ধোঁয়া)
  • তেল শোধনাগার ও সার কারখানা

শিল্প বর্জ্যের প্রভাব:

  • শিল্প বর্জ্যের ফলে জল, মাটি ও বায়ু দূষণ ঘটে
  • নদী ও জলাশয়ে বর্জ্য পড়লে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যু হয়
  • দূষিত জল ব্যবহারে মানুষের ত্বক, শ্বাসকষ্ট ও নানা গুরুতর রোগ দেখা দেয়
  • মাটিতে বর্জ্য মিশে গেলে কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস পায়
  • পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়

উপসংহার:

পরিবেশ রক্ষার জন্য শিল্প বর্জ্য শোধনাগারে পরিশোধন করে তবেই পরিবেশে নিঃসরণ করা উচিত।

অথবা, বর্জ্যের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীর ভূমিকা (যে কোনো তিনটি) উল্লেখ করো।

উত্তর: বর্জ্যের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীর ভূমিকা

কম বর্জ্য উৎপাদন: শিক্ষার্থীরা দৈনন্দিন জীবনে এমন অভ্যাস গড়ে তুলবে যাতে কম পরিমাণ বর্জ্য সৃষ্টি হয়, যেমন অপ্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবহার না করা।

শ্রেণিকক্ষ ও গৃহকে বর্জ্যমুক্ত রাখা: শিক্ষার্থীরা নিজেদের শ্রেণিকক্ষ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি বাড়িঘর পরিষ্কার রাখবে এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলবে না।

বর্জ্য অপসারণে সাহায্য ও উৎসাহ প্রদান: জমে থাকা বর্জ্যের সঠিক অপসারণ ও পুনর্ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থীরা নিজে সচেতন থাকবে এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করবে।

৪.৩  ভারতের পূর্বঘাট এবং পশ্চিমঘাটের পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

পূর্বঘাট পর্বতপশ্চিমঘাট পর্বত
পূর্ব উপকূলে মহানদী নদীর অববাহিকায় দক্ষিণ সীমা থেকে ভাইগাই নদীর অববাহিকা পর্যন্ত।পশ্চিম উপকূলে তাপ্তী নদীর অববাহিকা থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত।
প্রকৃতি এটি একটি ক্ষয়জাত পর্বতমালা।এটি তির্যক চ্যুতির স্তূপ পর্বত।
উচ্চতা পূর্বঘাট পর্বতের গড় উচ্চতা 600 মিটার।এর গড় উচ্চতা প্রায় 900 মিটার।
জলবিভাজিকা পূর্বঘাট পর্বত কোনো জলবিভাজিকা হিসেবে অবস্থান করে না।এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিভাজিকা।
অথবা, ভারতে অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশের প্রধান কারণগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর: ভারতে অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশের প্রধান কারণগুলি:

ভারতে অটোমোবাইল শিল্পের দ্রুত বিকাশের পেছনে বিভিন্ন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সরকারি কারণ রয়েছে। দেশের বিশাল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি গাড়ির চাহিদা অনেক বাড়িয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তিগত যানবাহন কেনার ক্ষমতা বেড়েছে। এছাড়া ব্যাংক ঋণ ও সহজ কিস্তি (EMI) সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে গাড়ি কেনাকে আরও সহজ করে তুলেছে।

সরকারের মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগ, শিল্পবান্ধব নীতি ও বিদেশি বিনিয়োগ অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। পাশাপাশি সড়ক, হাইওয়ে ও পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া ভারতে সস্তা ও দক্ষ শ্রমশক্তির প্রাচুর্য থাকায় উৎপাদন খরচ কম হয়েছে, যা এই শিল্পের বিকাশকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

৪.৪ ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র এবং উপগ্রহ চিত্রের যে কোনো তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রউপগ্রহ চিত্র
নির্দিষ্ট স্কেল ও নির্দিষ্ট এলাকার ওপর ভিত্তি করে আঁকা এমন একটি মানচিত্র যেখানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রং, রেখা ও প্রতীক দ্বারা সঠিক অবস্থানে প্রদর্শিত হয়।কৃত্রিম উপগ্রহে যুক্ত সেনসরের সাহায্যে পৃথিবীপৃষ্ঠের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে যে চিত্র তৈরি হয় তাকে উপগ্রহ চিত্র বলে।
নির্দিষ্ট স্কেলে প্রস্তুত করা হয়।উপগ্রহের উচ্চতা ও ক্যামেরার ফোকাল লেংথের ওপর স্কেল নির্ভরশীল।
প্রতীক ও চিহ্নের মাধ্যমে ভূবৈচিত্র্য দেখানো হয়।সেনসরে সরাসরি ভূপ্রকৃতি ও ভূদৃশ্য ধরা পড়ে।
অথবা, দূর সংবেদন ব্যবস্থার সুবিধাগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর: দূর সংবেদন ব্যবস্থার সুবিধাগুলি হল –

দূর-সংবেদন প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বল্প ব্যয় ও অল্প সময়ের মধ্যেই পৃথিবীর বিস্তৃত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

দুর্গম, প্রত্যন্ত ও মানুষের পক্ষে সহজে পৌঁছানো অসম্ভব এমন অঞ্চল থেকেও এই প্রযুক্তির সাহায্যে প্রয়োজনীয় উপাত্ত আহরণ করা যায়।

রাতের সময় বা প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও মাইক্রোওয়েভ সংবেদক ব্যবহার করে নির্ভরযোগ্যভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব।

দূর-সংবেদন পদ্ধতিতে সংগৃহীত তথ্য ডিজিটাল রূপে সংরক্ষিত হওয়ায় বিপুল পরিমাণ উপাত্ত কম্পিউটারের মাধ্যমে সহজে বিশ্লেষণ করা যায়।

উপগ্রহে ব্যবহৃত তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের বিভিন্ন ব্যান্ডের সাহায্যে স্থলভাগ ও জলভাগের তলদেশ সম্পর্কিত তথ্য জানা যায়।

নির্দিষ্ট সময় অন্তর উপগ্রহ থেকে একই অঞ্চলের চিত্র সংগ্রহ করা হয় বলে ওই এলাকার প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবর্তন সহজে শনাক্ত করা যায়, যা পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক।

উপগ্রহচিত্রের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয় এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও উন্নত হয়।

ছদ্মরঙিন (False Colour Composite) উপগ্রহচিত্র ব্যবহারের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন উপাদানকে স্পষ্টভাবে পৃথক করে চেনা যায়।

বিভাগ – ‘ঙ’

৫। ৫.১ যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫ × ২ = ১০

৫.১.১ নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপের চিত্রসহ বর্ণনা দাও।

উত্তর: নদী যখন সমভূমিতে প্রবেশ করে, তখন তার গতিবেগ হ্রাস পায়। এর ফলে নদীর পলি, বালি, কাদা বা ছোটো পাথর বহন করার ক্ষমতা কমে যায়। এই উপাদানগুলো নদীর তল ও তীরে জমা হতে থাকে, যা নদীর সঞ্চয় প্রক্রিয়ার অংশ। সাধারণভাবে, নদী পাহাড়ি অঞ্চলে মূলত ভাঙন বা ক্ষয় ঘটায় এবং সমভূমিতে জমাকরণ বা সঞ্চয় কার্য সম্পাদন করে। এই জমাকরণের ফলে বিভিন্ন ধরনের ভূ-আকৃতি গঠিত হয়।

ত্রিকোণাকার পললভূমি (ডেল্টা) – যখন পাহাড়ি অঞ্চল থেকে সমভূমিতে প্রবাহিত নদীর ঢাল হঠাৎ কমে যায়, নদীর গতিবেগ কমে এবং বহনক্ষমতা হ্রাস পায়। নদীর মোহনা বা পাদদেশে এখানে পলি, বালি ও ছোটো কংক্রিটের মতো পদার্থ জমে ত্রিকোণাকার ভূখণ্ড তৈরি করে। এই ধরনের জমাকরণ প্রধানত মাটি ও পলি দ্বারা গঠিত হয় এবং এটি ‘পলল ব্যজনী’ নামেও পরিচিত।

উদাহরণ: হিমালয়ের পাদদেশে গঙ্গার উপনদীগুলিতে এই ধরনের ভূ-আকৃতি দেখা যায়।

🖼️ছবি:

নদীচর (বারের দ্বীপ) – নদীর গতিবেগ কম হওয়ায় পাহাড়ি অঞ্চল থেকে আসা কাদা ও পাথর নদীর বুকে জমা হয়। জমে থাকা এই উপকূলীয় পলিরাশি নদীর মধ্যে চরের আকার ধারণ করে, যা নদীচর বা বালুচর নামে পরিচিত।

উদাহরণ: ব্রহ্মপুত্র নদীর মাজুলি দ্বীপ অসমে ভারতের বৃহত্তম নদীচর।

🖼️ছবি:

প্লাবনভূমি (ফ্লাডপ্লেইন) – সমভূমিতে নদীর ধীরগতি ও বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল প্রবাহের কারণে নদী তার প্রাকৃতিক তীর ছাড়িয়ে সমভূমিতে প্লাবন সৃষ্টি করে। নদীর সঙ্গে বহিত কাদা ও পলি জমে সমতল ভূমি গঠন করে, যা প্লাবনভূমি নামে পরিচিত।

উদাহরণ: বিহারের গঙ্গানদী অঞ্চলে এই ধরনের ভূমি লক্ষ্য করা যায়।

🖼️ছবি:

৫.১.২ বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতিগুলি

বায়ুমণ্ডল সূর্য থেকে প্রাপ্ত শক্তির প্রভাবে বিভিন্ন পদ্ধতিতে উত্তপ্ত হয়। সূর্যের তাপ সরাসরি বায়ুমণ্ডলকে খুব কম উত্তপ্ত করে; মূলত পৃথিবীর পৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়ে সেই তাপ বায়ুমণ্ডলে সরবরাহ করে। বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার প্রধান পদ্ধতিগুলি হলো—

১. বিকিরণ (Radiation):

সূর্য থেকে আগত তাপ বিকিরণের মাধ্যমে পৃথিবীতে পৌঁছায়। পৃথিবীর পৃষ্ঠ সেই তাপ শোষণ করে দীর্ঘ তরঙ্গরূপে পুনরায় বিকিরণ করে, যা বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।

২. পরিবাহন (Conduction):

পৃথিবীর পৃষ্ঠের সংস্পর্শে থাকা বায়ু প্রথমে উত্তপ্ত হয় এবং স্পর্শের মাধ্যমে পাশের বায়ুকে তাপ প্রদান করে। এই প্রক্রিয়া ভূমির খুব কাছাকাছি সীমাবদ্ধ থাকে।

৩. সংবহন (Convection):

উত্তপ্ত বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং ঠান্ডা ভারী বায়ু নিচে নেমে আসে। এই উল্লম্ব চলাচলের ফলে তাপ উপর দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

৪. অ্যাডভেকশন (Advection):

অনুভূমিকভাবে বায়ু প্রবাহিত হলে উষ্ণ বায়ু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তাপ বহন করে নিয়ে যায়, ফলে তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটে।

৫. সুপ্ত তাপ (Latent Heat):

জল বাষ্পে পরিণত হওয়ার সময় তাপ শোষিত হয় এবং বাষ্প ঘনীভূত হলে সেই তাপ বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হয়, যা বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।

৬. গ্রিনহাউস প্রভাব:

কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প ও মিথেনের মতো গ্যাস পৃথিবী থেকে নির্গত তাপ ধরে রাখে, ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

৭. মেঘ ও ধূলিকণার প্রভাব:

মেঘ ও ধূলিকণা সূর্যরশ্মির কিছু অংশ শোষণ ও প্রতিফলন করে, যার ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রায় পরিবর্তন ঘটে।

৮. স্থল ও জলভাগের তাপগ্রহণের পার্থক্য:

স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত ও শীতল হয়, জলভাগ ধীরে উত্তপ্ত হয়। এই পার্থক্যের ফলে বায়ুর চলাচল সৃষ্টি হয় এবং তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।

উপসংহার:

উপরোক্ত বিভিন্ন পদ্ধতির সম্মিলিত প্রভাবে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয় এবং এর ফলেই আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে।

৫.১.৩ পরিচলন বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: পরিচলন বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি প্রক্রিয়া

পরিচলন বৃষ্টিপাত সূর্যের তীব্র তাপের প্রভাবে সৃষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বৃষ্টিপাত প্রক্রিয়া। সাধারণত উষ্ণ ও বিষুবীয় অঞ্চলে এই ধরনের বৃষ্টিপাত বেশি দেখা যায়।

দিনের বেলায় প্রবল সূর্যকিরণে ভূপৃষ্ঠ বা জলভাগ অত্যধিক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে থাকা বায়ু তাপ গ্রহণ করে গরম ও হালকা হয় এবং পরিচলন স্রোতের (Convection currents) মাধ্যমে দ্রুত উপরের দিকে উঠতে থাকে। উপরের দিকে উঠতে উঠতে এই উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু প্রসারিত হয় এবং ধীরে ধীরে শীতল হতে থাকে।

একসময় বায়ু সম্পৃক্ত হয়ে তার মধ্যে থাকা জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ সৃষ্টি করে। মেঘের ভিতরে জলকণাগুলি পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়ে আকারে বড় ও ভারী হলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিরূপে নিচে নেমে আসে। এইভাবেই পরিচলন বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি হয়।

৫.১.৪ জলবায়ুর উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাবগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: জলবায়ুর উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব

সমুদ্রস্রোত হলো সমুদ্রজলের নির্দিষ্ট দিকনির্দেশে দীর্ঘস্থায়ী প্রবাহ। উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোত পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ুর উপর গভীর প্রভাব ফেলে। জলবায়ুর উপর সমুদ্রস্রোতের প্রধান প্রভাবগুলি নিম্নরূপ—

১. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ— 

উষ্ণ সমুদ্রস্রোত উপকূলবর্তী অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং শীতলতা কমায়। যেমন—গালফ স্ট্রিম ইউরোপের পশ্চিমাংশকে তুলনামূলক উষ্ণ রাখে। অন্যদিকে শীতল সমুদ্রস্রোত উপকূলীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা হ্রাস করে।

২. বৃষ্টিপাতের প্রভাব— 

উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করে, ফলে উপকূলবর্তী অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে শীতল সমুদ্রস্রোত বৃষ্টিপাত কমিয়ে দেয়।

৩. মরুভূমি সৃষ্টি— 

শীতল সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূলবর্তী অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অভাব দেখা দেয়, ফলে মরুভূমি সৃষ্টি হয়। যেমন—পেরু স্রোতের প্রভাবে আতাকামা মরুভূমি গঠিত হয়েছে।

৪. কুয়াশা সৃষ্টি— 

উষ্ণ ও শীতল স্রোতের সংযোগস্থলে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হয়, যা নৌ-চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করে। যেমন—নিউফাউন্ডল্যান্ড অঞ্চলে কুয়াশা।

৫. শীত ও গ্রীষ্মের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ— 

সমুদ্রস্রোত উপকূলীয় অঞ্চলে শীতকে কম তীব্র এবং গ্রীষ্মকে তুলনামূলক সহনীয় করে তোলে।

৬. ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব— 

উষ্ণ সমুদ্রস্রোত ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, কারণ উষ্ণ জল থেকে বেশি শক্তি নির্গত হয়।

৭. জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ— 

সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে পুষ্টিসমৃদ্ধ জল উপরে উঠে আসে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদের বিকাশে সহায়ক।

উপসংহার— 

সুতরাং, সমুদ্রস্রোত পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, ঝড়, মরুভূমি সৃষ্টি ও জীববৈচিত্র্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে এবং বৈশ্বিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৫.২ যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫ × ২ = ১০

৫.২.১ ভারতের জলবায়ুর পাঁচটি প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর: ভারতের জলবায়ুর পাঁচটি প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা

ভারতের জলবায়ু বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক উপাদানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এগুলিকে ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রক বলা হয়। সেগুলি ও তাদের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো—

১. অক্ষাংশ (Latitude)

ভারত প্রধানত উষ্ণমণ্ডলে অবস্থিত এবং কর্কটক্রান্তি রেখা দেশের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করেছে। এর ফলে ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে সূর্যরশ্মি প্রায় লম্বভাবে পড়ে এবং তাপমাত্রা বেশি থাকে। তাই ভারতের জলবায়ু প্রধানত উষ্ণ প্রকৃতির।

২. উচ্চতা (Altitude)

উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমে। হিমালয় ও অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চতার কারণে তাপমাত্রা কম থাকে এবং শীতল জলবায়ু দেখা যায়। অন্যদিকে সমভূমি ও উপকূলীয় অঞ্চলে উচ্চতা কম হওয়ায় জলবায়ু তুলনামূলক উষ্ণ।

৩. সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from the Sea)

সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে সমুদ্রের প্রভাব বেশি থাকায় জলবায়ু সমভাবাপন্ন হয়—গ্রীষ্মে খুব গরম বা শীতে খুব ঠান্ডা হয় না। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে সমুদ্রের প্রভাব কম থাকায় জলবায়ু চরম প্রকৃতির হয়।

৪. পর্বতমালা (Relief / Himalayas)

হিমালয় পর্বতমালা উত্তরের শীতল বায়ুকে ভারতে প্রবেশে বাধা দেয়, ফলে দেশ অতিরিক্ত শীত থেকে রক্ষা পায়। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে বাধা দিয়ে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে।

৫. মৌসুমি বায়ু (Monsoon Winds)

ভারতের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মৌসুমি বায়ু। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু গ্রীষ্মকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু শুষ্ক আবহাওয়া সৃষ্টি করে। এই মৌসুমি বায়ুই ভারতের ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে।

উপসংহার

উপরোক্ত নিয়ন্ত্রকগুলির সম্মিলিত প্রভাবে ভারতের জলবায়ু বৈচিত্র্যময় ও মৌসুমি প্রকৃতির হয়েছে।

৫.২.২ ভারতের চা উৎপাদনের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের বর্ণনা দাও।

উত্তর: চা উৎপাদনের সাফল্য নির্ভর করে একাধিক পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত উপাদানের উপর। এই উপাদানগুলিকে সামগ্রিকভাবে দুটি বিস্তৃত শ্রেণিতে ভাগ করা যায়—একদিকে প্রকৃতি নির্ভর শর্তাবলি এবং অন্যদিকে মানবসৃষ্ট বা আর্থসামাজিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়সমূহ। উভয় ক্ষেত্রের সঠিক সমন্বয় না হলে বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ লাভজনক হয়ে ওঠে না।

প্রাকৃতিক শর্তাবলি

  1. চা গাছ মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। মাঝারি মাত্রার তাপমাত্রা, যেখানে অতিরিক্ত গরম বা তীব্র শীত কোনোটিই নেই, সেখানে চা গাছের পাতা ও কুঁড়ির বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। দীর্ঘ সময় ধরে রোদ থাকা প্রয়োজন হলেও অত্যন্ত তীব্র সূর্যালোক চা পাতার ক্ষতি করতে পারে, তাই আবহাওয়ার ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  1. নিয়মিত ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত চা চাষের অন্যতম প্রধান শর্ত। বৃষ্টি শুধু গাছের জলচাহিদা পূরণ করে না, মাটির আর্দ্রতা বজায় রেখে শিকড়ের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। বছরের বিভিন্ন মাসে সমানভাবে বৃষ্টি হলে চা গাছ সারা বছর সতেজ থাকে এবং উৎপাদন স্থিতিশীল হয়।
  1. মাটির গুণাগুণও চা চাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জল নিষ্কাশনে সক্ষম, উর্বর এবং সামান্য অম্লধর্মী মাটি চা গাছের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। বিশেষ করে লৌহ ও জৈব উপাদানে সমৃদ্ধ দোআঁশ বা পাহাড়ি মাটি চা বাগানের জন্য আদর্শ বলে বিবেচিত হয়। মাটিতে জল জমে থাকলে শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই জমির প্রকৃতি ঢালু হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
  1. অতিরিক্ত ঠান্ডা বা ঘন তুষারপাত চা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে। হালকা শীত সহনীয় হলেও দীর্ঘস্থায়ী তুষার চা গাছের জন্য ক্ষতিকর। এই কারণেই উচ্চ অক্ষাংশ বা অতিরিক্ত শীতপ্রধান অঞ্চলে চা চাষ তেমন সফল হয় না।
  1. চা বাগানে ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষের উপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত উপাদান। এই গাছগুলি সরাসরি সূর্যের প্রখর তাপ থেকে চা গাছকে রক্ষা করে এবং একই সঙ্গে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে চা গাছের বৃদ্ধি আরও সুষম হয়।

অর্থনৈতিক ও মানবসৃষ্ট শর্তাবলি

  1. চা শিল্প মূলত শ্রমনির্ভর। চা পাতা সংগ্রহ, গাছ ছাঁটাই, আগাছা পরিষ্কার এবং কারখানায় প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি ধাপে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। নিয়মিত ও দক্ষ শ্রমিকের প্রাপ্যতা না থাকলে চা উৎপাদন ব্যাহত হয়। অনেক ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের নিপুণতা এবং তুলনামূলক কম মজুরির কারণে তাঁদের অংশগ্রহণ বেশি দেখা যায়।
  1. চা বাগান স্থাপন ও পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বিনিয়োগ অপরিহার্য। নতুন চারা রোপণ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত মূলধন প্রয়োজন হয়। দীর্ঘমেয়াদি লাভের জন্য প্রাথমিক বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  1. যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থা চা শিল্পের সাফল্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ভালো রাস্তা, রেলপথ বা বন্দর সুবিধা থাকলে উৎপাদিত চা সহজেই বাজারে পৌঁছানো যায়। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী চা শিল্পের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বন্দর ও বাজারের সঙ্গে সংযোগ অপরিহার্য।
  1. সবশেষে, চায়ের বাজার ও চাহিদা চা চাষকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। দেশীয় ভোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে চায়ের জনপ্রিয়তা থাকায় এই শিল্প টিকে রয়েছে। মৃদু উদ্দীপক পানীয় হিসেবে চায়ের গ্রহণযোগ্যতা যত বাড়ে, ততই চা চাষের সম্প্রসারণ ঘটে।

এইভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমন্বিত প্রভাবের মাধ্যমেই একটি অঞ্চল চা চাষের জন্য উপযুক্ত হয়ে ওঠে।

৫.২.৩ পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার কারণগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার কারণগুলি হল —

ভারতের লৌহ-ইস্পাত শিল্প প্রধানত পূর্ব ও মধ্য ভারতে কেন্দ্রীভূত। এই অঞ্চলে শিল্প গড়ে ওঠার পিছনে ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক নানা অনুকূল কারণ রয়েছে।

১. কাঁচামালের সহজলভ্যতা:
ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের খনি অঞ্চল থেকে উন্নত মানের লৌহ-আকরিক (হেমাটাইট ও ম্যাগনেটাইট) প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। রানীগঞ্জ ও ঝরিয়া কয়লাক্ষেত্র থেকে কোকিং কয়লা সহজে সরবরাহ করা সম্ভব। এছাড়া ম্যাঙ্গানিজ, চুনাপাথর ও ডলোমাইটের মতো প্রয়োজনীয় কাঁচামালও এই অঞ্চলের কাছাকাছি পাওয়া যায়।

২. খনিজ সমৃদ্ধ ভৌগোলিক অবস্থান:
এই শিল্পাঞ্চলগুলি মূলত ছোটনাগপুর মালভূমি ও পার্শ্ববর্তী খনিজ বেল্টে অবস্থিত হওয়ায় কাঁচামাল পরিবহনের খরচ কম হয় এবং শিল্প স্থাপন লাভজনক হয়।

৩. পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা:
এই অঞ্চলে রেল ও সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত। খনি ও শিল্পকেন্দ্রগুলির মধ্যে যোগাযোগ সহজ। পাশাপাশি কলকাতা ও পারাদ্বীপ বন্দরের নৈকট্য কাঁচামাল আমদানি ও ইস্পাত রপ্তানিতে সহায়তা করে।

৪. জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ:
দামোদর নদ উপত্যকা এবং অন্যান্য নদী থেকে শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত জল পাওয়া যায়। এছাড়া দামোদর উপত্যকা প্রকল্প (DVC) ও অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হয়।

৫. সুলভ শ্রমশক্তি ও বাজার:
ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এই অঞ্চলে খনি ও কারখানার জন্য সস্তা ও দক্ষ শ্রমিক সহজেই পাওয়া যায়। পাশাপাশি নিকটবর্তী শিল্পাঞ্চল ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে ইস্পাতের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার গড়ে উঠেছে।

৬. সরকারি উদ্যোগ ও ঐতিহাসিক কারণ:
সরকার আঞ্চলিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এখানে ভারী শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগ করেছে। টাটা স্টিল (TISCO)-এর মতো প্রাচীন ও বৃহৎ ইস্পাত কারখানার উপস্থিতি এই শিল্পগোষ্ঠীর বিকাশকে আরও শক্তিশালী করেছে।

উপসংহার:
উপরোক্ত অনুকূল কারণগুলির জন্যই জামশেদপুর, দুর্গাপুর, রাউরকেলা, বোকারো ও ভিলাইয়ের মতো প্রধান লৌহ-ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র পূর্ব ও মধ্য ভারতে গড়ে উঠেছে।

৫.২.৪ ভারতের জনসংখ্যার অসম বণ্টনের প্রাকৃতিক কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ভারতের জনসংখ্যার অসম বণ্টনের প্রাকৃতিক কারণগুলি

ভারতে জনসংখ্যার বণ্টন সর্বত্র সমান নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্বে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। এই অসম বণ্টনের পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক কারণ দায়ী, যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো—

১. ভূপ্রকৃতি (Relief)

সমভূমি অঞ্চলগুলি সমতল ও বসবাসের উপযোগী হওয়ায় এখানে জনসংখ্যা বেশি। যেমন—গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র সমভূমি। অন্যদিকে পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চলগুলি দুর্গম হওয়ায় সেখানে জনসংখ্যা কম বসবাস করে।

২. জলবায়ু (Climate)

উষ্ণ ও সমভাবাপন্ন জলবায়ু মানুষ বসবাসের জন্য অনুকূল। তাই এই ধরনের অঞ্চলে জনসংখ্যা বেশি। বিপরীতে অতিশীতল, অতিউষ্ণ বা অতিবৃষ্টি অঞ্চলে জনসংখ্যা তুলনামূলক কম।

৩. মৃত্তিকার উর্বরতা (Soil Fertility)

উর্বর মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য উপযোগী হওয়ায় এই অঞ্চলে মানুষ বেশি বসবাস করে। যেমন—পলিমাটি অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি দেখা যায়।

৪. জলসম্পদের প্রাপ্যতা (Availability of Water)

নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ জলের সহজ প্রাপ্যতা মানুষের বসবাসকে আকর্ষণ করে। জলস্বল্প অঞ্চলে জনসংখ্যা কম হয়।

৫. প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ও খনিজ সম্পদ

ঘন অরণ্য ও দুর্গম অঞ্চলে জনসংখ্যা কম থাকে। অন্যদিকে খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলে শিল্প গড়ে ওঠে, ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

উপসংহার

সুতরাং ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, মৃত্তিকা, জলসম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রভাবের ফলে ভারতে জনসংখ্যার অসম বণ্টন দেখা যায়।

বিভাগ – ‘চ’

৬। প্রশ্নপত্রের সাথে প্রদত্ত ভারতের রেখা-মানচিত্রে নিম্নলিখিতগুলি উপযুক্ত প্রতীক ও নামসহ চিহ্নিত করে মানচিত্রটি উত্তরপত্রের সঙ্গে জুড়ে দাও: ১ × ১০ = ১০

৬.১ কন্যাকুমারিকা
৬.২ লাডাক মালভূমি
৬.৩ গোদাবরী নদী
৬.৪ চিল্কা হ্রদ
৬.৫ উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল
৬.৬ মরুমৃত্তিকা অঞ্চল
৬.৭ দক্ষিণ-ভারতের ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি
৬.৮ উত্তর-ভারতের একটি গম উৎপাদক অঞ্চল
৬.৯ বৃহত্তম পেট্রোরসায়ন শিল্পকেন্দ্র
৬.১০ ভারতের প্রথম মেট্রো-রেল শহর।

MadhyamikQuestionPapers.com এ আপনি অন্যান্য বছরের প্রশ্নপত্রের উত্তরও সহজেই পেয়ে যাবেন। আপনার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কেমন লাগলো, তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আরও পড়ার জন্য, জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য MadhyamikQuestionPapers.com এর সাথে যুক্ত থাকুন।

Tag Post :
Share This :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *