আপনি কি ২০২৭ সালের মাধ্যমিক বাংলা Model Question Paper 1-এর সমাধান খুঁজছেন? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই আর্টিকেলে আমরা WBBSE-এর বাংলা ২০২৭ মাধ্যমিক Model Question Paper 1-এর প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও বিস্তারিত সমাধান সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেছি।
প্রশ্নোত্তরগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা সহজেই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর পড়ে বুঝতে পারে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কাজে লাগাতে পারে। মাধ্যমিক বাংলা Model Question Paper 1 ও তার সমাধান পরীক্ষার আগে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া এবং নিজের প্রস্তুতি যাচাই করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক।
MadhyamikQuestionPapers.com ২০১৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষার বিভিন্ন প্রশ্নপত্র, মডেল প্রশ্নপত্র ও তাদের সমাধান সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদান করে আসছে। ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য বিভিন্ন মডেল প্রশ্নপত্র ও তার সঠিক সমাধান এখানে নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই প্রশ্নপত্র অনুশীলন করতে পারে এবং নিজেদের প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে যাচাই করতে পারে।
Download 2017 to 2027 All Subject’s Madhyamik Question Papers
View All Answers of Last Year Madhyamik Question Papers
যদি দ্রুত প্রশ্ন ও উত্তর খুঁজতে চান, তাহলে নিচের Table of Contents এর পাশে থাকা [!!!] চিহ্নে ক্লিক করুন। এই পেজে থাকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর Table of Contents-এ ধারাবাহিকভাবে সাজানো আছে। যে প্রশ্নে ক্লিক করবেন, সরাসরি তার উত্তরে পৌঁছে যাবেন।
Table of Contents
Toggle১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো: ১×১৭ = ১৭
১.১ চায়ের টেবিলে তপনের গল্প নিয়ে কথা ওঠে –
(ক) সকালে
(খ) বিকেলে
(গ) সন্ধ্যায়
(ঘ) রাতে
উত্তর: (খ) বিকেলে
১.২ “নদেরচাঁদকে পিষিয়া দিয়া চলিয়া গেল” –
(ক) ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার
(খ) ৫নং ডাউন প্যাসেঞ্জার
(গ) ৭নং আপ প্যাসেঞ্জার
(ঘ) ৫নং আপ প্যাসেঞ্জার
উত্তর: (ক) ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার
১.৩ হোলির দিন ছেলেরা অমৃত আর ইসাবকে একরকম পোশাকে দেখে কী করতে বলেছিল?
(ক) ছবি আঁকতে
(খ) হোলি খেলতে
(গ) কুস্তি লড়তে
(ঘ) ফুটবল খেলতে
উত্তর: (গ) কুস্তি লড়তে
১.৪ “আমাদের পথ নেই আর” – ‘পথ’ শব্দটি কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে –
(ক) দু’বার
(খ) তিনবার
(গ) একবার
(ঘ) চারবার
উত্তর: (ক) দু’বার
১.৫ ‘কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল’ – কী বেজে উঠেছিল? –
(ক) সংগীতের মূর্ছনা
(খ) সুন্দরের আরাধনা
(গ) সুরের ঝংকার
(ঘ) রাগরাগিণী।
উত্তর: (খ) সুন্দরের আরাধনা
১.৬ ইন্দ্রজিতের স্ত্রীর নাম –
(ক) ইন্দিরা
(খ) সরমা
(গ) নিকষা
(ঘ) প্রমীলা
উত্তর: (ঘ) প্রমীলা
১.৭ সিজার যে কলমটি দিয়ে কাসকাকে আঘাত করেছিলেন, তার পোশাকি নাম –
(ক) রিজার্ভার
(খ) স্টাইলাস
(গ) পার্কার
(ঘ) পাইলট
উত্তর: (খ) স্টাইলাস
১.৮ ‘অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী’ – এটি একটি বাংলা –
(ক) অলংকার
(খ) ধাঁধা
(গ) প্রবাদ
(ঘ) ছড়া
উত্তর: (গ) প্রবাদ
১.৯ ওস্তাদ কলমবাজদের বলা হয় –
(ক) শ্রুতিলেখক
(খ) লিপিকর
(গ) ক্যালিগ্রাফিস্ট
(ঘ) পেশকার
উত্তর: (গ) ক্যালিগ্রাফিস্ট
১.১০ ‘পাঁচদিন নদীকে দেখা হয় নাই’ – নিম্নরেখ পদটি যে কারকের দৃষ্টান্ত –
(ক) কর্তৃকারক
(খ) অধিকরণ কারক
(গ) করণ কারক
(ঘ) কর্মকারক
উত্তর: (ঘ) কর্মকারক
১.১১ ব্যুৎপত্তি অনুসারে ‘কারক’ শব্দটির অর্থ হল –
(ক) যে করে
(খ) যে করে না
(গ) যে বলে
(ঘ) যে চলে
উত্তর: (ক) যে করে
১.১২ বহুব্রীহি সমাসে অর্থপ্রাধান্য থাকে –
(ক) পূর্বপদের
(খ) পরপদের
(গ) উভয়পদের
(ঘ) তৃতীয় পদের
উত্তর: (ঘ) তৃতীয় পদের
১.১৩ ‘কথা অমৃতের ন্যায়’ – এখানে উপমেয় পদটি হল –
(ক) অমৃত
(খ) ন্যায়
(গ) কথা
(ঘ) অমৃতের ন্যায়
উত্তর: (গ) কথা
১.১৪ “তুমি নির্মল করো মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে” – এই বাক্যটি হল –
(ক) শর্তসাপেক্ষ বাক্য
(খ) সন্দেহবাচক বাক্য
(গ) প্রার্থনাসূচক বাক্য
(ঘ) নির্দেশক বাক্য
উত্তর: (গ) প্রার্থনাসূচক বাক্য
১.১৫ বাক্য নির্মাণের শর্ত –
(ক) চারটি
(খ) তিনটি
(গ) দুটি
(ঘ) পাঁচটি
উত্তর: (খ) তিনটি
১.১৬ ‘বাচ্য’ শব্দের ব্যুৎপত্তি হল –
(ক) √ বচ্ + ত
(খ) √ বাচ্ + যদ্
(গ) √ বচ্ + যৎ
(ঘ) √ বচ্ + তি
উত্তর: (গ) √ বচ্ + যৎ
১.১৭ ‘শাঁখ বাজে’ – এটি যে বাচ্যের উদাহরণ –
(ক) কর্তৃবাচ্যের
(খ) কর্মবাচ্যের
(গ) ভাববাচ্যের
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্যের
উত্তর: (ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্যের
২। কমবেশি ২০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ১×১৯ = ১৯
২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ১×৪ = ৪
২.১.১ ‘ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে।’ কোন্ কথা ছড়িয়ে পড়ে?
উত্তর: তপনের লেখা গল্পটি তখনও পুরোপুরি পরিণত হয়ে ওঠেনি বলে মেসোমশাই মনে করেছিলেন যে সেটিতে কিছু পরিবর্তন ও পরিমার্জন দরকার। তাঁর এই মন্তব্য অল্প সময়ের মধ্যেই বাড়ির সকলের কানে পৌঁছে যায়।
২.১.২ ‘…এটা আমার প্রাণের অনুরোধ।’ – বক্তার প্রাণের অনুরোধটা কী?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবু বিরাগী সন্ন্যাসীকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি তাঁর বাড়িতে কয়েকদিন অবস্থান করেন। সন্ন্যাসীর প্রতি তাঁর এই আন্তরিক আহ্বানই ছিল প্রাণের অনুরোধ।
২.১.৩ ‘ও নিয়ম রেলওয়ে কর্মচারীর জন্য,’ – বক্তা কোন্ নিয়মের কথা বলেছেন?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ গল্পে বক্তা যে নিয়মটির উল্লেখ করেছেন, তার মূল বক্তব্য হলো—প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের রাতের বিশ্রামে কোনোভাবেই বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। অর্থাৎ, তাঁদের ঘুম নষ্ট করে বিরক্ত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২.১.৪ ‘ইসাবের মনে পড়ল,’ – ইসাবের কী মনে পড়ল?
উত্তর: হঠাৎ ইসাবের মনে ভেসে উঠল একটি পরিচিত দৃশ্য। সে বহুবার লক্ষ্য করেছে, অমৃতের বাবা তাকে শাসন বা মারতে উদ্যত হলেই অমৃতের মা ছেলেকে রক্ষা করতে সামনে এসে দাঁড়াতেন।
২.১.৫ এতকাল নদেরচাঁদ কীসের জন্য গর্ব অনুভব করত?
উত্তর: স্টেশনের সংলগ্ন নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুটি আকর্ষণীয় রঙে সজ্জিত হওয়ায় নদেরচাঁদের মনে গভীর গর্বের অনুভূতি জেগে উঠেছিল। সেই সেতুর সৌন্দর্য যেন তার নিজেরই সাফল্য বলে মনে হচ্ছিল।
২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ১×৪ = ৪
২.২.১ ‘আমরা ভিখারি বারোমাস’ বলার কারণ কী?
উত্তর: কবি “আমরা ভিখারি বারোমাস” বলেছেন, কারণ সমাজে মানুষের মধ্যে সংকীর্ণতা, স্বার্থপরতা, বিভেদ ও অনৈক্যের ফলে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলে মানুষ দুর্বল ও পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এবং দারিদ্র্য ও অসহায়তার শিকার হয়েছে। এই অবস্থার কারণেই কবি আমাদের “ভিখারি বারোমাস” বলে উল্লেখ করেছেন।
২.২.২ ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর।’ – কবি কাদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন?
উত্তর: তোরা সব জয়ধ্বনি কর।’— ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম পরাধীন ভারতবর্ষের স্বাধীনতাকামী তরুণ সমাজ ও সাধারণ দেশবাসীকে জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।
২.২.৩ “পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।” – ‘পঞ্চকন্যা’ কারা?
উত্তর: ‘পঞ্চকন্যা’ বলতে সিংহল রাজকন্যা ও চিতোরের রাজা রন্তসেনের পত্নী পদ্মাবতী এবং তাঁর চার সখী—চন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিনী ও বিধুন্নলাকে বোঝানো হয়েছে।
২.২.৪ “রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে” – কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: “রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে” কথাটির অর্থ হলো, কবির বিশ্বাস হিংসা, নৈরাজ্য, রক্তপাত ও সন্ত্রাসে জর্জরিত সমাজকে শান্তি, মানবতা ও মুক্তির পথে এগিয়ে নেওয়ার শক্তি গানের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। তাই গানই মানুষের ক্ষত সারিয়ে নতুন আশার বার্তা বহন করে।
২.২.৫ ‘তারপর যুদ্ধ এল’ – যুদ্ধ কেমনভাবে এল?
উত্তর: তারপর যুদ্ধ এল’— ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধ রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক রূপে এসেছিল।
২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ১×৩ = ৩
২.৩.১ “দার্শনিক তাঁকেই বলি” – কাকে প্রাবন্ধিক ‘দার্শনিক’ বলেন?
উত্তর: ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক তাঁকেই দার্শনিক আখ্যা দিয়েছেন, যিনি কানে কলম গুঁজে রেখে তা সারা দুনিয়ায় খুঁজে বেড়ান।
২.৩.২ ‘এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত।’ – কোন্ কথা মনে রাখা উচিত?
উত্তর: ‘এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত’ বলতে বোঝানো হয়েছে যে, বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের ভাষা সর্বদা সহজ, স্পষ্ট ও বোধগম্য হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষও বিষয়টি অনায়াসে বুঝতে পারে।
২.৩.৩ ‘অরণ্য’ ও ‘অরণ্যে রোদন’ শব্দদুটির অর্থপার্থক্য দেখাও।
উত্তর: ‘অরণ্য’ শব্দের অর্থ হলো বন, জঙ্গল বা গাছপালায় ঘেরা বিস্তীর্ণ এলাকা। অন্যদিকে, ‘অরণ্যে রোদন’ একটি বাগধারা, যার অর্থ বৃথা চেষ্টা বা নিষ্ফল আবেদন—অর্থাৎ এমন স্থানে সাহায্য বা আবেদন করা, যেখানে কোনো ফল পাওয়ার আশা নেই।
২.৩.৪ ‘এই নেশা পেয়েছি আমি শরৎদার কাছ থেকে।’ – কোন্ নেশার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধের উদ্ধৃত অংশে বিশিষ্ট সাহিত্যিক শৈলজানন্দের ফাউন্টেন পেন সংগ্রহের প্রতি প্রবল আগ্রহ ও নেশার কথাই তুলে ধরা হয়েছে।
২.৪ যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ১×৮ = ৮
২.৪.১ প্রযোজক ও প্রযোজ্য কর্তার মধ্যে উদাহরণসহ একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: প্রযোজক কর্তা হলেন সেই মূল কর্তা, যিনি নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজ করান। পক্ষান্তরে, প্রযোজ্য কর্তা হলেন সেই ব্যক্তি বা সত্তা, যিনি প্রযোজক কর্তার প্রযোজনায় বা পরিচালনায় কাজটি সম্পন্ন করেন।
উদাহরণ – শিক্ষক ছাত্রকে কবিতা আবৃত্তি করালেন।
২.৪.২ লোকটা মন্দ নয় – নির্দেশক কোনটি?
উত্তর: ‘লোকটা মন্দ নয়’ বাক্যে ‘টা’ শব্দাংশটি নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
২.৪.৩ নিম্নরেখাঙ্কিত পদটির ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো – “একটা সপ্তাহ আর একটা বছর কেটে গেল।”
উত্তর: একটা সপ্তাহ আর একটা বছর কেটে গেল। সপ্তাহ = সাত অহঃ (দিন) -এর সমাহার — দ্বিগু সমাস।
২.৪.৪ একশেষ দ্বন্দ্ব কী উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: একশেষ দ্বন্দ্ব হলো যে দ্বন্দ্ব সমাসে একাধিক সমজাতীয় পদের মধ্যে একটি পদেরই শেষাংশে ব্যবহার থাকে এবং অন্য পদগুলো লোপ পায়, তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব বলে।
উদাহরণ – ভাইবোন = ভাই ও বোন। এখানে ‘ভাই’ ও ‘বোন’—দুটি পদ দ্বন্দ্ব সমাসে যুক্ত হয়েছে এবং সমষ্টিগত অর্থ প্রকাশ করেছে। এটি একশেষ দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
২.৪.৫ আসত্তিহীন একটি বাক্যের উদাহরণ দাও।
উত্তর: আসত্তিহীন বাক্যের উদাহরণ: আমি বিদ্যালয়ে, আজ খুব সুন্দর।
এটি আসত্তিহীন বাক্য, কারণ বাক্যের পদগুলোর মধ্যে অর্থগত ও ভাবগত সংযোগ (আসত্তি) নেই। ফলে বাক্যটি সুসংবদ্ধ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।
২.৪.৬ “তপনের নতুন মেসোমশাই একজন লেখক।” – এই বাক্যটি জটিল বাক্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: যিনি তপনের নতুন মেসোমশাই, তিনি একজন লেখক। এটি একটি জটিল বাক্য, কারণ এখানে “যিনি তপনের নতুন মেসোমশাই” অংশটি একটি অপ্রধান (অধীন) খণ্ডবাক্য এবং “তিনি একজন লেখক” অংশটি প্রধান খণ্ডবাক্য।
২.৪.৭ বাচ্য কাকে বলে?
উত্তর: ক্রিয়ার দ্বারা উক্তির বিষয় অর্থাৎ কর্তা, কর্ম বা ভাবের যে প্রকাশভঙ্গি বোঝানো হয়, তাকে বাচ্য বলে।
২.৪.৮ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।’ – ভাববাচ্যে পরিণত করো।
উত্তর: ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ – ভাববাচ্যে পরিণত- আয়, আরও বেঁধে বেঁধে থাকা যাক।
২.৪.৯ সম্বন্ধপদের বিভক্তি কী কী?
উত্তর: যে বিভক্তি বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সঙ্গে অন্য কোনো পদের সম্বন্ধ বা অধিকারসূচক সম্পর্ক প্রকাশ করে, তাকে সম্বন্ধপদের বিভক্তি বলে। সম্বন্ধপদের প্রধান বিভক্তিগুলি হলো— র, এর, য়ের ও কের।
উদাহরণ – রামের বই, ছেলের খাতা, মেয়ের কলম, আমাদের দেশের মানুষ।
২.৪.১০ শর্তসাপেক্ষ বাক্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে বাক্যে কোনো কাজ সংঘটিত হওয়া বা না হওয়া একটি নির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করে, তাকে শর্তসাপেক্ষ বাক্য বলে।
উদাহরণ – তুমি যদি মন দিয়ে পড়, তবে পরীক্ষায় ভালো ফল করবে।
৩। প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০ শব্দে উত্তর দাও: ৩+৩ = ৬
৩.১ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩×১ = ৩
৩.১.১ “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?” – কোন্ ঘটনাটিকে অলৌকিক বলা হয়েছে? কেন সেই ঘটনা অলৌকিক? ১+২
উত্তর: তপনের লেখা গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপা হওয়ার ঘটনাকেই অলৌকিক বলা হয়েছে।
এই ঘটনাটি তপনের কাছে অলৌকিক মনে হয়, কারণ সে কখনো ভাবেনি তার লেখা গল্প মুদ্রিত হয়ে হাজার হাজার পাঠকের হাতে পৌঁছাবে। নিজের নাম ও গল্প ছাপা দেখে সে অত্যন্ত আনন্দিত হয় এবং এটিকে জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত বলে মনে করে। তাই ঘটনাটি তার কাছে অলৌকিক বলে মনে হয়।
৩.১.২ “অপূর্ব তৎক্ষণাৎ সম্মত হইয়া বলিল,” – অপূর্ব কীসে, কেন সম্মত হয়েছিল?
উত্তর: অপূর্ব বড়োসাহেবের নির্দেশে ভামো শহরে গিয়ে শাখা অফিস পরিদর্শন করতে তৎক্ষণাৎ সম্মত হয়েছিল।
বড়োসাহেব ভামোসহ অন্যান্য শাখা অফিসে শৃঙ্খলার অভাব ও অনিয়মের কথা জানিয়ে অপূর্বকে সেগুলি পরিদর্শনের দায়িত্ব দেন। এছাড়া, রেঙ্গুনে নানা কারণে অপূর্বর মনেও অস্বস্তি ছিল এবং সে শহরের বাইরে কোথাও যেতে চাইছিল। তাই তিনি কোনো আপত্তি না করে সঙ্গে সঙ্গেই সম্মতি জানান।
৩.২ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৩×১ = ৩
৩.২.১ ‘আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।’ – কোন্ মেয়েটির কথা বলা হয়েছে? তার অপেক্ষার কারণ কী? ১+২
উত্তর: এখানে কথকের প্রিয়তমা মেয়েটির কথা বলা হয়েছে।
প্রিয়জন বিদায় নেওয়ার পর মেয়েটি জানত না যে সেটিই ছিল কথকের শেষ বিদায়। পরে যুদ্ধ শুরু হলেও তার ভালোবাসা অটুট থাকে। তাই সে বিশ্বাস নিয়ে প্রিয়জনের ফিরে আসার আশায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষা করে। এই অপেক্ষা তার শাশ্বত ও অবিনশ্বর ভালোবাসার পরিচয় বহন করে।
৩.২.২ “আমি এখন হাজার হাতে পায়ে এগিয়ে আসি, উঠে দাঁড়াই” – উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্ধৃত অংশে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে অস্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই কোনো একক মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ‘হাজার হাতে পায়ে’ কথাটি সংঘবদ্ধ মানবতার প্রতীক। কবি এখানে অসংখ্য মানুষের প্রতিনিধি হয়ে অন্যায় ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে আসার কথা বলেছেন। সম্মিলিত সাহস, ঐক্য ও মানসিক শক্তির জোরে তিনি বন্দুকের গুলিকেও তুচ্ছ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাই উদ্ধৃতাংশটি মানবতার ঐক্য, প্রতিবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অদম্য সংগ্রামের তাৎপর্য প্রকাশ করে।
৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫×১ = ৫
৪.১ ‘বহুরূপী’ গল্পটির নামকরণ কতদূর সার্থক তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের নামকরণ অত্যন্ত সার্থক ও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমে মনে হয়, গল্পটির নাম শুধুমাত্র প্রধান চরিত্র হরিদাকে কেন্দ্র করেই রাখা হয়েছে। কারণ, তিনি নানান রূপ ধারণ করে মানুষের মনোরঞ্জন করেন এবং জীবিকা নির্বাহ করেন। কখনও পাগল, কখনও সন্ন্যাসী, আবার কখনও বাইজি সেজে তিনি সকলকে বিস্মিত করেন।
কিন্তু গল্পের গভীরে প্রবেশ করলে বোঝা যায়, ‘বহুরূপী’ শব্দটি শুধু হরিদাকে নির্দেশ করে না। গল্পের শেষে হরিদার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশিত হয়—তিনি একজন সত্যিকারের শিল্পী। শিল্পের মর্যাদা রক্ষার জন্য তিনি জগদীশবাবুর দেওয়া একশো টাকার প্রলোভনও প্রত্যাখ্যান করেন। তাই বাহ্যিকভাবে বহুরূপী হলেও অন্তরে তিনি সৎ ও আদর্শবান মানুষ।
অন্যদিকে, সন্ন্যাসী বাহ্যিকভাবে ত্যাগী হলেও অন্তরে লোভী; ফলে তিনিও প্রকৃত সন্ন্যাসী নন, বরং এক অর্থে বহুরূপী। একইভাবে, জগদীশবাবু নিজেকে ধর্মপ্রাণ বলে তুলে ধরলেও তাঁর মধ্যে যশ ও অর্থের অহংকার কাজ করে। তাই তিনিও বাহ্যিক ও অন্তরের ভিন্নতার কারণে বহুরূপীর পরিচয় বহন করেন।
অতএব, গল্পে বিভিন্ন চরিত্রের বাহ্যিক রূপ ও অন্তর্নিহিত চরিত্রের বৈপরীত্যের মাধ্যমে ‘বহুরূপী’ নামটি গভীর তাৎপর্য লাভ করেছে। এই কারণেই গল্পটির নামকরণ সম্পূর্ণ সার্থক ও যথার্থ।
৪.২ ‘অমৃত সত্যি তার বাবা-মাকে খুব জ্বালিয়েছিল।’ – অমৃত কীভাবে বাবা-মাকে জ্বালাতন করেছিল? অবশেষে অমৃতের মা কী করেছিলেন? ৩+২
উত্তর: ইসাবের নতুন ও সুন্দর জামা দেখে অমৃতেরও ঠিক তেমন একটি নতুন জামা পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগে। সে বারবার মায়ের কাছে নতুন জামা কিনে দেওয়ার জন্য জেদ করতে থাকে। পরিবারের আর্থিক অসুবিধার কথা বুঝিয়েও তাকে শান্ত করা যায়নি। বরং সে নিজের পুরোনো জামার ছেঁড়া অংশে আঙুল ঢুকিয়ে সেটিকে আরও বড় করে ছিঁড়ে ফেলে, যাতে নতুন জামার প্রয়োজন আরও স্পষ্টভাবে বোঝানো যায়। এরপর সে অভিমান করে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়, নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয় এবং দিনের পর দিন বাড়ির বাইরে সময় কাটায়। এমনকি রাত হলেও সে সহজে বাড়িতে ফিরতে চাইত না। তার এই একগুঁয়ে আচরণ, অভিমান ও অবাধ্যতার কারণে বাবা-মা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও মানসিকভাবে কষ্ট পেয়েছিলেন। এভাবেই অমৃত সত্যিই তার বাবা-মাকে খুব জ্বালাতন করেছিল।
ছেলের কষ্ট, জেদ ও অভিমান দেখে অমৃতের মা আর স্থির থাকতে পারেননি। তিনি বুঝতে পারেন যে নতুন জামা না পাওয়ার দুঃখে অমৃত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তাই তিনি তাঁর স্বামীকে যেভাবেই হোক অমৃতের জন্য একটি নতুন জামা কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেন। সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তার অভিমান দূর করতে মায়ের এই আন্তরিক উদ্যোগের ফলেই শেষ পর্যন্ত অমৃতের নতুন জামা পাওয়ার আশা পূরণ হয়।
৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫× ১ = ৫
৫.১ ‘সিন্ধুতীরে রহিছে মাঞ্জস।।’ – সিন্ধুতীরে কার মাঞ্জস, কেন অবস্থান করছিল? তা কে দেখতে পায়? দেখতে পাওয়ার ফল কী হয়? ২+১+২
উত্তর: ‘মাঞ্জস’ শব্দের অর্থ হলো নৌকা বা ভেলা। মধ্যযুগের কবি সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ অংশে এই মাঞ্জসটি ছিল সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতীর। স্বদেশ থেকে সমুদ্রপথে যাত্রাকালে হঠাৎ প্রবল ঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে তাঁর নৌকাটি ভেঙে যায়। ঝড়ের প্রচণ্ডতায় নৌকার যাত্রীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং ভাঙা মাঞ্জসটি ভেসে এসে সমুদ্রের তীরে আটকে যায়। সেই ভাঙা নৌকার মধ্যেই পদ্মাবতী অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে ছিলেন।
সমুদ্ররাজকন্যা পদ্মা তাঁর সখীদের সঙ্গে সমুদ্রতীরে ভ্রমণে এসে ভাঙা মাঞ্জস এবং তার পাশে অচেতন অবস্থায় শায়িত পদ্মাবতীকে দেখতে পান।
তাঁরা ঘটনাটি দেখে বিস্মিত হন, পরে পদ্মাবতীর অসাধারণ সৌন্দর্য, অসহায় অবস্থা ও দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি দেখে গভীরভাবে মর্মাহত হন। পদ্মার হৃদয়ে মানবিক সহানুভূতি ও করুণার সঞ্চার হয়। তিনি কোনো বিলম্ব না করে সখীদের সহযোগিতায় পদ্মাবতীকে অত্যন্ত যত্নসহকারে নিজের গৃহে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর যথাযথ চিকিৎসা, সেবা-শুশ্রূষা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়। পদ্মার আন্তরিক যত্ন ও সখীদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে পদ্মাবতী সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং পুনরায় চেতনা ফিরে পান। এভাবেই সমুদ্ররাজকন্যা পদ্মার মানবিকতা, দয়া ও সহমর্মিতার ফলে পদ্মাবতীর প্রাণরক্ষা সম্ভব হয় এবং তাঁর জীবনে নতুন আশার সূচনা ঘটে।
৫.২ “চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।।” – ‘তোমার’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? তার ‘অপমানিত ইতিহাসে’-র সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। ১+৪
উত্তর: এখানে ‘তোমার’ বলতে আফ্রিকা মহাদেশের কথা বলা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় আফ্রিকাকে সম্বোধন করে এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
আফ্রিকার ইতিহাস দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শাসকদের নির্মম শোষণ, অত্যাচার ও অবমাননার সাক্ষী। প্রাকৃতিক দুর্গমতার কারণে বহুদিন আফ্রিকা ইউরোপীয় শক্তিগুলির দৃষ্টির বাইরে থাকলেও উনিশ শতকে তারা সেখানে উপনিবেশ স্থাপন করে এবং প্রায় সমগ্র মহাদেশকে নিজেদের অধিকারে নিয়ে আসে। তথাকথিত সভ্যতার আড়ালে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীরা আফ্রিকার মানুষের ওপর অমানবিক নির্যাতন, দাসত্ব, শোষণ ও লুণ্ঠন চালায়। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করে তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে, আর নিরীহ মানুষকে কঠোর অত্যাচার ও অপমানের শিকার হতে হয়। তাদের সীমাহীন লোভ, নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার ফলে আফ্রিকার মাটি মানুষের রক্ত ও অশ্রুতে কর্দমাক্ত হয়ে ওঠে। এই অবিচার, লাঞ্ছনা, রক্তপাত এবং মানবিক মর্যাদাহানির স্মৃতি আফ্রিকার ইতিহাসে এক গভীর ক্ষতচিহ্ন হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে রয়েছে। তাই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আফ্রিকার এই বেদনাবিধুর অতীতকে ‘অপমানিত ইতিহাস’ বলে অভিহিত করেছেন এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অমানবিকতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন।
৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫×১ = ৫
৬.১ ‘বিমর্ষ ওয়াটারম্যান মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন’ – ওয়াটারম্যান কে? তিনি বিমর্ষ হয়েছিলেন কেন? তাঁর প্রতিজ্ঞার ফল কী হয়েছিল? ১+২+২
উত্তর: লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান ছিলেন ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক। তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও অধ্যবসায়ের ফলে লেখালেখির জগতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটে।
একদিন একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করানোর সময় হঠাৎ তাঁর দোয়াত উল্টে গিয়ে কাগজে কালি ছড়িয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে তাঁকে নতুন কালি আনতে যেতে হয়। কিন্তু ফিরে এসে তিনি দেখেন, অন্য একজন ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই সেই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে কাজটি সম্পন্ন করে ফেলেছেন। সামান্য একটি দুর্ঘটনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সুযোগ হারাতে হওয়ায় ওয়াটারম্যান অত্যন্ত দুঃখিত, হতাশ ও বিমর্ষ হয়ে পড়েন।
এই ঘটনার পর ওয়াটারম্যান মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেন যে, এমন একটি কলম তৈরি করবেন যাতে লেখার জন্য বারবার দোয়াতে কলম ডুবিয়ে কালি নিতে না হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টা, অধ্যবসায় ও গবেষণার মাধ্যমে তিনি শেষ পর্যন্ত ফাউন্টেন পেন আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। তাঁর এই আবিষ্কারের ফলে দোয়াত-নির্ভর লেখার অসুবিধার অবসান ঘটে এবং লেখালেখি আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক হয়ে ওঠে। ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কার মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে এবং ওয়াটারম্যানের নাম ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে।
৬.২ বাংলা বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের পাঠকদের লেখক যে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন, তাদের পরিচয় দাও।
উত্তর: রাজশেখর বসু তাঁর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বাংলা বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের পাঠকদের দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন।
প্রথম শ্রেণি – এই শ্রেণির পাঠকেরা ইংরেজি জানেন না বা খুব অল্প ইংরেজি জানেন। এদের মধ্যে অল্পবয়স্ক ছেলে-মেয়ে এবং অল্পশিক্ষিত বয়স্ক মানুষ অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞানের সঙ্গে তাঁদের পূর্বপরিচয় খুবই সীমিত। যদিও টাইফয়েড, মোটর, জেব্রা, আয়োডিন ইত্যাদি কয়েকটি ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ এবং কিছু সাধারণ বৈজ্ঞানিক তথ্য তাঁদের জানা থাকতে পারে, তবুও সুসংগঠিত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান তাঁদের নেই। ইংরেজি ভাষার প্রভাব কম থাকায় বাংলায় বিজ্ঞান পড়া তাঁদের পক্ষে তুলনামূলকভাবে সহজ।
দ্বিতীয় শ্রেণি – এই শ্রেণির পাঠকেরা ইংরেজি ভাষায় দক্ষ এবং ইংরেজিতে কমবেশি বিজ্ঞান অধ্যয়ন করেছেন। তাই তাঁদের কাছে বাংলায় বিজ্ঞান পড়া ও আয়ত্ত করা কিছুটা কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে। কারণ, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বুঝতে হলে তাঁদের ইংরেজির প্রতি পক্ষপাত ত্যাগ করে মাতৃভাষার প্রতি আনুগত্য ও গ্রহণযোগ্যতা গড়ে তুলতে হয়।
অতএব, ইংরেজি জ্ঞানের পরিমাণ ও বিজ্ঞান শিক্ষার ভিত্তিতেই লেখক বাংলা বিজ্ঞান গ্রন্থের পাঠকদের এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন।
৭। কমবেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৪×১ = ৪
৭.১ ‘আজ বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন!’ – কে, কার উদ্দেশে এই উক্তি করেছেন? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বক্তার এরূপ মন্তব্যের কারণ ব্যাখ্যা করো। ১+৩
উত্তর: নবাব সিরাজদ্দৌলা এই উক্তিটি মীরজাফরের উদ্দেশে করেছিলেন।
সিরাজদ্দৌলা বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। মীরজাফর, রাজবল্লভ এবং রাজসভার কয়েকজন কর্মচারী ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে যোগসাজশ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে মীরজাফরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিচার বা কঠোর ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি উপলব্ধি করেন।
এই কারণেই, যখন মীরজাফর প্রশ্ন করেন—“নবাব কি প্রকাশ্য দরবারেই আমার বিচার করতে চান?”, তখন সিরাজ বিচারের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। তিনি মনে করেন, বাংলা ও নবাবের সিংহাসন যখন সংকটের মুখে, তখন বিরোধ বাড়ানো নয়, বরং সৌহার্দ্য স্থাপনই প্রয়োজন। তাই তিনি নিজের ও বাংলার দুরবস্থার কথা তুলে ধরে মীরজাফরের মনে দেশপ্রেম জাগিয়ে তাঁকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। এই কারণেই তিনি বলেন, “আজ বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন!”
৭.২ ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশ অবলম্বনে ঘসেটি বেগম চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ঘসেটি বেগম ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং নেতিবাচক চরিত্র। ইতিহাসসম্মত রূপায়ণে তাঁকে একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী, ষড়যন্ত্রকারী ও প্রতিহিংসাপরায়ণা নারী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথমত, তিনি সিরাজদ্দৌলার মাসি হলেও তাঁর প্রতি কোনো স্নেহ দেখাননি। স্বামী বাংলার নবাব হতে না পারায় এবং পরে সিরাজের সিংহাসন লাভ নিশ্চিত হওয়ায় তিনি ঈর্ষান্বিত হয়ে ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
দ্বিতীয়ত, ঘসেটির চরিত্রে প্রতিহিংসার প্রবল প্রকাশ দেখা যায়। তাঁর বক্তব্য—“আমার রাজ্য নাই, তাই আমার কাছে রাজনীতিও নাই—আছে শুধু প্রতিহিংসা।”—তাঁর মানসিকতার প্রকৃত পরিচয় বহন করে। এমনকি নিরীহ লুৎফা বেগমকেও তিনি অকারণে কটূক্তি ও শ্লেষপূর্ণ কথা বলেন।
সবশেষে, লুৎফা বেগমের মন্তব্য—“ওর নিশ্বাসে বিষ, ওর দৃষ্টিতে আগুন, ওর অঙ্গ-সঞ্চালনে ভূমিকম্প!”—ঘসেটি বেগমের ভয়ংকর ও ধ্বংসাত্মক ব্যক্তিত্বকে স্পষ্ট করে। তাই বলা যায়, নাটকে ঘসেটি বেগম একজন সফল নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন।
৮। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৫×২ = ১০
৮.১ ‘অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল।’ – কোনি কীভাবে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল, তা লেখো।
উত্তর: মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে বহু প্রতিকূলতা অতিক্রম করে কোনি অবশেষে বাংলা সাঁতার দলে স্থান লাভ করে। গঙ্গার ঘাটে কোনির অসাধারণ সাঁতারের দক্ষতা দেখে ক্ষিতীশ তার প্রতিভা চিনতে পারেন এবং বিনা পারিশ্রমিকে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব নেন। জুপিটার ক্লাবে সুযোগ না পেয়ে তিনি অ্যাপোলো ক্লাবে কোনির অনুশীলনের ব্যবস্থা করেন। দাদার মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক সংকট দেখা দিলে ক্ষিতীশ কোনি ও তার পরিবারের অন্নসংস্থানের ব্যবস্থাও করেন এবং কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে তাকে দক্ষ সাঁতারু হিসেবে গড়ে তোলেন।
তবে কোনিকে দারিদ্র্য, অশিক্ষা, ক্লাবের দলাদলি, জুপিটার কর্তৃপক্ষের বিরূপ মনোভাব এবং স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপের ষড়যন্ত্রের মতো নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও ক্ষিতীশ সবসময় তাকে সাহস ও উৎসাহ জুগিয়ে যান।
অন্যদিকে, বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের প্রশিক্ষক প্রণবেন্দু বিশ্বাস কোনির প্রতিভার যথার্থ মূল্যায়ন করেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে, বাংলার স্বার্থে এবং মহারাষ্ট্রের রমা যোশিকে পরাজিত করার জন্য কোনিকে দলে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই তিনি সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং প্রয়োজনে নিজের ক্লাবের সাঁতারুদের নাম প্রত্যাহারের হুমকিও দেন। ক্ষিতীশের অক্লান্ত প্রশিক্ষণ, কোনির প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রম এবং প্রণবেন্দু বিশ্বাসের আন্তরিক সহযোগিতার ফলেই অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পায়।
৮.২ “বেঙ্গলের স্বার্থেই কনকচাঁপা পালকে টিমে রাখতে হবে।” – বক্তা কে? কে বা কারা কনকচাঁপা পালকে টিমে রাখতে চায়নি? উক্তিটির মধ্য দিয়ে বক্তার চরিত্র আলোচনা করো। ১+১+৩
উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন খিতীশ সিংহ। তিনি মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র এবং কনকচাঁপা পাল (কোনি)-র দক্ষ, আদর্শবাদী ও নিবেদিতপ্রাণ প্রশিক্ষক। তাঁর কঠোর পরিশ্রম, দূরদর্শিতা এবং অদম্য আত্মবিশ্বাসের ফলেই কোনি একজন সফল সাঁতারু হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
বেঙ্গল অ্যামেচার সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রভাবশালী কর্মকর্তা হরিচরণ মিত্র, বিনোদ ভর এবং জুপিটার ক্লাবের অন্যান্য কর্তাব্যক্তিরা ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, ক্লাবকেন্দ্রিক রাজনীতি ও সংকীর্ণ মানসিকতার কারণে কোনিকে বেঙ্গল দলে রাখতে চাননি। তারা যোগ্যতার পরিবর্তে পক্ষপাতিত্বকে গুরুত্ব দিয়ে কোনিকে দল থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এই অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খিতীশ সিংহ দৃঢ় প্রতিবাদ জানান এবং স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে বাংলার স্বার্থেই কনকচাঁপা পালকে দলে রাখা উচিত।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে খিতীশ সিংহের চরিত্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। তিনি ন্যায়পরায়ণ, সাহসী ও আপসহীন ব্যক্তি; অন্যায়ের কাছে কখনও মাথা নত করেন না। তাঁর অসাধারণ প্রতিভা চেনার ক্ষমতা ছিল, তাই তিনি কোনির মধ্যে ভবিষ্যতের সফল সাঁতারুকে দেখতে পেরেছিলেন। ব্যক্তিগত অপমান, ক্লাবের স্বার্থ বা ক্ষমতাবানদের চাপকে উপেক্ষা করে তিনি সর্বদা যোগ্যতার মূল্যায়ন করেছেন। তাঁর স্বার্থহীন ক্রীড়াপ্রেম, বাংলার প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান তাঁকে উপন্যাসের এক অনন্য ও স্মরণীয় চরিত্রে পরিণত করেছে।
৮.৩ “হঠাৎ তার চোখে ভেসে উঠল ‘৭০’ সংখ্যাটা।” – প্রসঙ্গ উল্লেখ করো। উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে ‘৭০’ সংখ্যার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। ২+৩
উত্তর: মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে চিপকের সুইমিং পুলে একা অনুশীলন শেষ করে উঠে আসার সময় কোনির সঙ্গে মহারাষ্ট্রের প্রতিভাবান সাঁতারু রমা যোশি-র পরিচয় হয়। রমার পরিচয় জানার সঙ্গে সঙ্গেই কোনির চোখের সামনে হঠাৎ ‘৭০’ সংখ্যাটি ভেসে ওঠে। এই সংখ্যাটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি রমা যোশির গড়া রেকর্ডের সময়—অর্থাৎ ৭০ সেকেন্ড বা এক মিনিট দশ সেকেন্ডের প্রতীক। রমাই ছিল কোনির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী, তাই এই সময়সীমা অতিক্রম করাই কোনির প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল।
কোনির কোচ ক্ষিতীশ সিংহ তার অসাধারণ প্রতিভার ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখতেন। তিনি জানতেন, কঠোর অনুশীলন, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে কোনি একদিন এই রেকর্ড ভাঙতে সক্ষম হবে। সেই উদ্দেশ্যে তিনি ক্লাবের দেয়ালে বড় অক্ষরে ‘৭০’ লিখে টাঙিয়ে রাখেন, যাতে প্রতিদিন অনুশীলনের সময় কোনি নিজের লক্ষ্য স্মরণ করতে পারে। এই সংখ্যা কোনির কাছে শুধু একটি সময় নয়, বরং ছিল তার সংগ্রাম, স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস এবং জয়ের প্রতীক। তাই রমা যোশির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের মুহূর্তে ‘৭০’ সংখ্যাটি কোনির মনে ভেসে ওঠে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, ক্ষিতীশ সিংহের অনুপ্রেরণা, কঠোর প্রশিক্ষণ এবং লক্ষ্যনিষ্ঠ শিক্ষা কোনির মনোজগতে গভীর ছাপ ফেলেছিল এবং তাকে সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে দৃঢ় সংকল্পে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
৯। চলিত বাংলায় অনুবাদ করো:
Home is the first school where the child learns his first lesson. He sees, hears and begins to learn at home. It is home that builds his character. In a good home honest and healthy men are made. Bad influence at home spoils a child.
উত্তর: বাড়িই হল শিশুর প্রথম বিদ্যালয়, যেখানে সে তার জীবনের প্রথম শিক্ষা লাভ করে। বাড়িতেই সে দেখে, শোনে এবং শেখা শুরু করে। বাড়িই তার চরিত্র গঠন করে। একটি ভালো পরিবারেই সৎ ও সুস্থ মানুষ তৈরি হয়। বাড়ির খারাপ প্রভাব শিশুর জীবন নষ্ট করে দিতে পারে।
১০। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫×১ = ৫
১০.১ সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যধিক আসক্তি ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে – এ বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
উত্তর:
সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যধিক আসক্তি ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে
রাহুল – কী রে সুমন, তোর মুখটা এত মনমরা কেন?
সুমন – আর বলিস না। আজ পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে। গতবার আমি ৮০ শতাংশ পেয়েছিলাম, এবার মাত্র ৬৪ শতাংশ পেয়েছি।
রাহুল – আমার অবস্থাও একই। গতবারের চেয়ে অনেক কম নম্বর পেয়েছি। অথচ আমরা দুজনেই ভেবেছিলাম এবার আরও ভালো করব।
সুমন – আমিও বুঝতে পারছি না, কোথায় ভুল হলো। আমরা তো প্রতিদিন পড়ার জন্য সময় রাখতাম।
রাহুল – হ্যাঁ, কিন্তু সেই সময়টা সত্যিই কি পড়াশোনায় দিয়েছি?
সুমন – কথাটা ঠিক বুঝলাম না।
রাহুল – মনে করে দেখ। বই নিয়ে বসার পর আমরা কতবার মোবাইল হাতে নিয়েছি?
সুমন – ওহ! বুঝতে পারছি। আমি পড়ার মাঝে বারবার Instagram-এর রিলস দেখতাম। কখন যে এক ঘণ্টা কেটে যেত, বুঝতেই পারতাম না।
রাহুল – আমিও একই কাজ করতাম। YouTube Shorts আর Facebook-এর নোটিফিকেশন দেখতে দেখতে রাত অনেক হয়ে যেত। তারপর ঘুম কম হতো, সকালে পড়ায় মন বসত না।
সুমন – তাহলে আমাদের খারাপ ফলের আসল কারণ হয়তো পড়ার অভাব নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত আসক্তি।
রাহুল – ঠিক বলেছিস। কিন্তু শুধু কারণ বুঝলেই হবে না। এর থেকে বেরিয়ে আসার একটা উপায়ও বের করতে হবে।
সুমন – চল, আজ থেকেই পড়ার সময় মোবাইল বন্ধ রাখি এবং অন্য ঘরে রেখে দিই।
রাহুল – আর সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় রাখব। অকারণে রিলস বা Shorts দেখব না।
সুমন – রাতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করব।
রাহুল – ঠিক আছে। আমরা প্রতিদিনের পড়ার লক্ষ্য লিখে রাখব এবং সপ্তাহ শেষে নিজেদের অগ্রগতি দেখব।
সুমন – তাহলে ঠিক হলো। সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে না, আমরাই তাকে নিয়ন্ত্রণ করব।
রাহুল – একদম। এবার থেকে আমাদের লক্ষ্য হবে—মোবাইলে কম সময়, পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ এবং পরীক্ষায় আরও ভালো ফল।
১০.২ তোমাদের এলাকায় একটি হাসপাতাল উদ্বোধন হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয় সংবাদপত্রে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
উত্তর:
বেহালায় নতুন হাসপাতাল, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন আশার আলো
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ৬ আগস্ট – গতকাল, ৫ আগস্ট, কলকাতার বেহালা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটি আধুনিক হাসপাতালের উদ্বোধন হল। বেহালা চৌরাস্তার কাছে ডায়মন্ড হারবার রোডের পাশে নবনির্মিত বেহালা জনকল্যাণ হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী-ইন-চার্জ ডা. শরদ্বত মুখার্জি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক, কলকাতা পুরনিগমের প্রতিনিধিরা, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সমাজসেবী এবং এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
প্রায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, ওষুধের বিভাগ, রোগ নির্ণয় কেন্দ্র এবং বিভিন্ন চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সরা রোগীদের পরিষেবা দেবেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য স্বল্প খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকায় এলাকার বাসিন্দারা অত্যন্ত উপকৃত হবেন। এতদিন সামান্য অসুস্থতার জন্যও বেহালা ও সংলগ্ন এলাকার মানুষকে দূরের হাসপাতালে যেতে হতো। ফলে সময় ও অর্থ দুটিই নষ্ট হতো। নতুন হাসপাতাল চালু হওয়ায় সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, শুধু চিকিৎসা নয়, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচিরও আয়োজন করা হবে। হাসপাতালটি এলাকার স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদী।
১১। কমবেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো: ১০×১ = ১০
১১.১ পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকারে ছাত্রসমাজের ভূমিকা।
উত্তর:
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকারে ছাত্রসমাজের ভূমিকা
ভূমিকা –
পরিবেশ আমাদের জীবনের ভিত্তি। গাছপালা, পশুপাখি, বিশুদ্ধ বায়ু, জল ও মাটি—সবই পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বর্তমানে বায়ুদূষণ, জলদূষণ, বনভূমি ধ্বংস, প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবেশ দূষণের কারণ –
পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ হলো নির্বিচারে বন উজাড়, যানবাহন ও শিল্পকারখানার ধোঁয়া, প্লাস্টিকের ব্যবহার, নদী-খাল-জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা এবং মানুষের অসচেতনতা। এসব কারণে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং মানুষের জীবনও হুমকির মুখে পড়ছে।
পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা –
- বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা – ছাত্রছাত্রীরা স্কুল, বাড়ি ও আশপাশে বেশি বেশি গাছ লাগাতে এবং সেগুলোর পরিচর্যা করতে পারে। এতে পরিবেশ সবুজ হবে এবং বায়ুদূষণ কমবে।
- প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো – একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাপড় বা পাটের ব্যাগ ব্যবহার করা উচিত। ছাত্রছাত্রীরা নিজেরা এটি মেনে চলার পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহিত করতে পারে।
- পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা – স্কুল, বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর দায়িত্ব। ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলা এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করা উচিত।
- জল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় – অপ্রয়োজনীয়ভাবে লাইট, ফ্যান বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালিয়ে না রাখা এবং অযথা জল অপচয় না করার অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। এতে প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
- পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি – পোস্টার, র্যালি, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিবেশ দিবস পালন করে ছাত্রসমাজ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে।
- প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলা – পরিবেশ বিষয়ক বই পড়া, শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা এবং বিভিন্ন পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পায়।
উপসংহার –
পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সকলের কর্তব্য। ছাত্রসমাজ যদি ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলে এবং অন্যদের সচেতন করে, তবে পরিবেশ দূষণ অনেকটাই কমানো সম্ভব। একটি সবুজ, সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১১.২ সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
উত্তর:
ভূমিকা –
প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলো প্রকৃতির এমন আকস্মিক ও ভয়াবহ ঘটনা, যা মানুষের জীবন, সম্পদ, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং মানুষের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের ফলে ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বেড়েছে।
সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধরন –
- ঘূর্ণিঝড় – আম্ফান (২০২০), ইয়াস, ফণী ও গুলাবের মতো ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়েছে এবং বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
- ভূমিকম্প – সিকিম, মণিপুর, জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তরাখণ্ডে একাধিক ভূমিকম্পে প্রাণহানি এবং ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে।
- বন্যা – আসাম, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে প্রতিবছর বন্যার ফলে কৃষিজমি নষ্ট হয়, মানুষ গৃহহীন হয় এবং জলবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- ভূমিধস – হিমাচল প্রদেশ, সিকিম ও উত্তরাখণ্ডে অতিবৃষ্টি ও বনচ্ছেদের কারণে ভূমিধসের ঘটনা বেড়েছে, যার ফলে প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে।
- খরা – মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও কর্ণাটকে জলাভাবের কারণে কৃষি উৎপাদন কমে যায় এবং কৃষকদের দুর্দশা বৃদ্ধি পায়।
- তাপপ্রবাহ ও দাবানল – উত্তর ও মধ্য ভারতে তীব্র তাপপ্রবাহে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উত্তরাখণ্ডসহ বিভিন্ন অরণ্যে দাবানলে বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হয়েছে।
- প্রধান কারণ
- সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হলো জলবায়ু পরিবর্তন, বৃক্ষচ্ছেদ, পরিবেশ দূষণ, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন এবং মানুষের অসচেতন কর্মকাণ্ড।
প্রতিকার ও মোকাবিলা –
- দুর্যোগের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
- এনডিএমএ (NDMA), প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য পরিচালনা।
- স্কুল-কলেজে দুর্যোগ প্রস্তুতির প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
- উপগ্রহ, রাডার, জিপিএস ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আগাম তথ্য প্রচার।
- বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি।
উপসংহার –
সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভারতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষা, বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
১১.৩ একটি রেলস্টেশনের আত্মকথা।
উত্তর:
ভূমিকা –
আমি একটি ব্যস্ত রেলস্টেশন। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের পদচারণা, ট্রেনের আসা-যাওয়া, হাসি-কান্না, বিদায় ও পুনর্মিলনের নীরব সাক্ষী আমি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আমি মানুষের জীবনযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে থাকি। আমার বুকের ওপর দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন, আশা ও প্রয়োজনের যাত্রা শুরু হয়।
সকালের কর্মব্যস্ততা –
ভোরের আলো ফোটার আগেই আমার দিন শুরু হয়। কর্মজীবী মানুষ, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা আমার প্ল্যাটফর্মে ভিড় জমায়। ট্রেনের হুইসেল, ঘোষণার শব্দ এবং মানুষের ব্যস্ত পদচারণায় চারদিক মুখর হয়ে ওঠে। প্রতিটি সকাল নতুন উদ্যমে আমাকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
হকার ও যাত্রীদের কোলাহল –
আমার প্ল্যাটফর্মে চা, কফি, খাবার, বই, সংবাদপত্র ও খেলনা বিক্রেতাদের ব্যস্ততা সারাদিন চলতে থাকে। যাত্রীরা কেউ ট্রেনের অপেক্ষায়, কেউ প্রিয়জনকে বিদায় জানাতে বা বরণ করতে আসে। তাদের আনন্দ, উৎকণ্ঠা, প্রত্যাশা ও আবেগের নীরব সাক্ষী আমি।
ট্রেনের চলাচল ও দিনের পরিবেশ –
সারাদিন ট্রেনের আসা-যাওয়া, হুইসেলের শব্দ এবং ঘোষণার মধ্যেই আমার জীবন প্রবাহিত হয়। দূরপাল্লার ও লোকাল ট্রেন আমার প্ল্যাটফর্মকে সবসময় কর্মচঞ্চল রাখে। বিকেলের দিকে কিছুটা ভিড় কমলেও যাত্রীদের আনাগোনা থেমে থাকে না।
রাতের নিস্তব্ধতা –
রাত গভীর হলে আমার কোলাহল অনেকটাই কমে আসে। অধিকাংশ ট্রেন গন্তব্যে চলে যায় এবং যাত্রীর সংখ্যাও কমে যায়। তবুও কয়েকজন অপেক্ষমাণ যাত্রী, কুলি, নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে আমি সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ হই না। পরদিনের নতুন সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় আমি নীরবে দাঁড়িয়ে থাকি।
আমার গুরুত্ব –
আমি শুধু একটি যাতায়াতের স্থান নই; আমি মানুষের জীবনের অসংখ্য স্মৃতির ধারক। আমার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়। বাণিজ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পর্যটনের বিকাশেও আমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
উপসংহার –
আমি একটি রেলস্টেশন—প্রতিদিন মানুষের মিলন ও বিচ্ছেদের, আশা ও স্বপ্নের, সুখ ও দুঃখের নীরব সাক্ষী। আমার প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে জীবনের নতুন গল্পের সূচনা হয়। মানুষের নিরন্তর যাত্রার সঙ্গী হয়ে আমি আজও একইভাবে কর্মব্যস্ত, প্রাণবন্ত এবং অপরিহার্য হয়ে আছি।
১১.৪ সমাজজীবনে মেলার প্রয়োজনীয়তা।
উত্তর:
ভূমিকা –
মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজে মিলেমিশে বসবাস করার মধ্যেই মানুষের প্রকৃত আনন্দ নিহিত। সমাজজীবনে মানুষের মিলন, ভাবের আদান-প্রদান ও আনন্দের অন্যতম মাধ্যম হলো মেলা। প্রাচীনকাল থেকেই ধর্মীয়, সামাজিক, ঋতুভিত্তিক ও ঐতিহাসিক নানা উপলক্ষকে কেন্দ্র করে ভারতে মেলার প্রচলন রয়েছে। আধুনিক যান্ত্রিক জীবনেও মেলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
সামাজিক মিলন ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি –
মেলা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও অঞ্চলের মানুষকে একত্রিত করে। দূর-দূরান্তের মানুষের মধ্যে পরিচয়, ভাবের আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর ফলে সামাজিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায়।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ –
মেলা আমাদের লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। যাত্রাপালা, পালাগান, লোকসংগীত, পুতুলনাচ, বাউলগান, লোকনৃত্য ইত্যাদি মেলার মাধ্যমে সংরক্ষিত ও প্রচারিত হয়। নতুন প্রজন্মও এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব –
মেলা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর ও হস্তশিল্পীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার সৃষ্টি করে। তাঁরা নিজেদের তৈরি সামগ্রী বিক্রি করে আয় করতে পারেন। এর ফলে কুটির শিল্পের বিকাশ ঘটে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।
বিনোদন ও মানসিক প্রশান্তি –
ব্যস্ত ও একঘেয়ে জীবনে মেলা আনন্দ ও বিনোদনের এক অনন্য ক্ষেত্র। নাগরদোলা, সার্কাস, খাবারের স্টল, খেলনা, বই, পোশাক ও বিভিন্ন প্রদর্শনী মানুষের মনকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি দূর হয়ে মানসিক প্রশান্তি লাভ হয়।
শিক্ষামূলক গুরুত্ব –
বর্তমান সময়ে অনেক মেলায় বইমেলা, বিজ্ঞান প্রদর্শনী, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক স্টল থাকে। এগুলির মাধ্যমে মানুষ নতুন জ্ঞান অর্জন করে এবং সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
উপসংহার –
পরিশেষে বলা যায়, মেলা কেবল আনন্দ-বিনোদনের স্থান নয়; এটি সামাজিক ঐক্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই মেলার ঐতিহ্য বজায় রাখা এবং সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
MadhyamikQuestionPapers.com-এ আপনি অন্যান্য বছরের মাধ্যমিক প্রশ্নপত্র এবং বিভিন্ন Model Question Paper-এর সমাধানও সহজেই পেয়ে যাবেন। এই প্রশ্নপত্র ও সমাধানগুলি আপনার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কতটা সাহায্য করছে, তা আমাদের কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নপত্র, সমাধান ও পড়াশোনার উপকরণ পেতে এবং মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করার লক্ষ্যে নিয়মিত MadhyamikQuestionPapers.com-এর সঙ্গে যুক্ত থাকুন।
