Madhyamik Question Papers

বাংলা Model Question Paper 2 (2027) এর উত্তর – Class 10 WBBSE

Bengali
Bengali Model Question Paper 2 (2027) Answer

আপনি কি ২০২৭ সালের মাধ্যমিক Model Question Paper ২ এর সমাধান খুঁজছেন? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই আর্টিকেলে আমরা WBBSE-এর বাংলা ২০২৭ মাধ্যমিক Model Question Paper ২-এর প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও বিস্তৃত সমাধান উপস্থাপন করেছি।

প্রশ্নোত্তরগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা সহজেই পড়ে বুঝতে পারে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যবহার করতে পারে। বাংলা মডেল প্রশ্নপত্র ও তার সমাধান মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ও সহায়ক।

MadhyamikQuestionPapers.com, ২০১৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষার সমস্ত প্রশ্নপত্র ও সমাধান সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করে আসছে। ২০২৭ সালের সমস্ত মডেল প্রশ্নপত্র ও তার সঠিক সমাধান এখানে সবার আগে আপডেট করা হয়েছে।

আপনার প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে এখনই পুরো প্রশ্নপত্র ও উত্তর দেখে নিন!

Download 2017 to 2026 All Subject’s Madhyamik Question Papers

View All Answers of Last Year Madhyamik Question Papers

যদি দ্রুত প্রশ্ন ও উত্তর খুঁজতে চান, তাহলে নিচের Table of Contents এর পাশে থাকা [!!!] চিহ্নে ক্লিক করুন। এই পেজে থাকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর Table of Contents-এ ধারাবাহিকভাবে সাজানো আছে। যে প্রশ্নে ক্লিক করবেন, সরাসরি তার উত্তরে পৌঁছে যাবেন।

Table of Contents

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো: ১×১৭ = ১৭

১.১ “বুড়োমানুষের কথাটা শুনো।” – ‘বুড়োমানুষ’ কে? –

(ক) জগদীশবাবু
(খ) রামদাস তলওয়ারকর
(গ) নিমাইবাবু
(ঘ) তেওয়ারি

উত্তর: (গ) নিমাইবাবু

১.২ বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার হয়

(ক) আট টাকা দশ আনা
(খ) আট টাকা আট আনা
(গ) দশ টাকা চার আনা
(ঘ) দশ টাকা দশ আনা

উত্তর: (ক) আট টাকা দশ আনা

১.৩ নদেরচাঁদ কর্মস্থলের নিকটবর্তী নদীটিকে কত বছর ধরে চেনে? –

(ক) তিন বছর
(খ) চার বছর
(গ) পাঁচ বছর
(ঘ) ছয় বছর

উত্তর: (খ) চার বছর

১.৪ “যেখানে ছিল শহর / সেখানে ছড়িয়ে রইল…” – কী ছড়িয়ে রইল?

(ক) পায়ের দাগ
(খ) কাঠকয়লা
(গ) গোলাপি গাছ
(ঘ) প্রাচীন জলতরঙ্গ

উত্তর: (খ) কাঠকয়লা

১.৫ বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে –

(ক) শংকর
(খ) ভয়ংকর
(গ) দিগম্বর
(ঘ) শুভংকর

উত্তর: (খ) ভয়ংকর

১.৬ “গান বাঁধবে সহস্র উপায়ে” – কে গান বাঁধবে? –

(ক) চিল
(খ) কোকিল
(গ) শকুন
(ঘ) ময়ূর

উত্তর: (খ) কোকিল

১.৭ চারখন্ড রামায়ণ কপি করে একজন লেখক অষ্টাদশ শতকে কত টাকা পেয়েছিলেন?

(ক) সাত টাকা
(খ) আট টাকা
(গ) ন-টাকা
(ঘ) দশ টাকা

উত্তর: (ক) সাত টাকা

১.৮ পপুলার সায়েন্স লেখা সুসাধ্য –

(ক) ইওরোপ ও ইতালিতে
(খ) ইংল্যান্ড এবং আমেরিকায়
(গ) ইংল্যান্ড ও ইওরোপে
(ঘ) ইওরোপ ও আমেরিকায়

উত্তর: (ঘ) ইওরোপ ও আমেরিকায়

১.৯ ‘পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় এদেশের জনসাধারণের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান’ –

(ক) তুচ্ছ
(খ) নগণ্য
(গ) মন্দ
(ঘ) ভালো

উত্তর: (খ) নগণ্য

১.১০ অনুসর্গের অপর নাম –

(ক) অনুপ্রাস
(খ) কর্মকারক
(গ) অনুমান
(ঘ) কর্মপ্রবচনীয়

উত্তর: (ঘ) কর্মপ্রবচনীয়

১.১১ মেসি কী খেলাই না খেলল – কী জাতীয় কর্ম? –

(ক) উহ্য কর্ম
(খ) সমধাতুজ কর্ম
(গ) কর্মের বীপ্সা
(ঘ) উপবাক্যীয় কর্ম

উত্তর: (খ) সমধাতুজ কর্ম

১.১২ ‘গ্রামান্তর’ কোন সমাস হবে? –

(ক) দ্বন্দ্ব
(খ) দ্বিগু
(গ) নিত্য
(ঘ) তৎপুরুষ

উত্তর: (গ) নিত্য

১.১৩ পরস্পর সম্বন্ধবিশিষ্ট একাধিক পদ মিলিত হয়ে যে নতুন সমাসবদ্ধ পদ গঠিত হয় তাকে বলে –

(ক) পূর্বপদ
(খ) পরপদ
(গ) সমস্তপদ
(ঘ) ব্যাসবাক্য

উত্তর: (গ) সমস্তপদ

১.১৪ “আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে” – এটি একটি –

(ক) সন্দেহবাচক বাক্য
(খ) ইচ্ছাসূচক বাক্য
(গ) প্রার্থনাসূচক বাক্য
(ঘ) আবেগসূচক বাক্য

উত্তর: (ঘ) আবেগসূচক বাক্য

১.১৫ ‘সে সারাদিন খুব পরিশ্রম করে গভীর রাতে ফিরল।’ – এই বাক্যের নিম্নরেখ অংশটি হল –

(ক) উদ্দেশ্য
(খ) বিধেয়
(গ) উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক
(ঘ) বিধেয়ের সম্প্রসারক

উত্তর: (ঘ) বিধেয়ের সম্প্রসারক

১.১৬ যে বাক্যে কর্তা অনুপস্থিত থাকে এবং কর্মই কর্তা রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বলে –

(ক) কর্মবাচ্য
(খ) কর্তৃবাচ্য
(গ) কর্মকর্তৃবাচ্য
(ঘ) ভাববাচ্য

উত্তর: (গ) কর্মকর্তৃবাচ্য

১.১৭ ‘আমার খাওয়া হয়েছে’ – বাক্যটির কর্তৃবাচ্যের রূপ হল –

(ক) আমি খাব
(খ) আমি খাচ্ছি
(গ) আমি খেয়েছি
(ঘ) আমাকে খেতে হবে

উত্তর: (গ) আমি খেয়েছি

২। কমবেশি ২০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও: ১×১৯ = ১৯

২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ১×৪ = ৪

২.১.১ “সূচিপত্রেও নাম রয়েছে।” – সূচিপত্রে কী লেখা ছিল?

উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে সন্ধ্যাতারা পত্রিকার সূচিপত্রে তপন কুমার রায়ের লেখা ‘প্রথম দিন’ গল্পটির নাম প্রকাশিত হয়েছিল। 

২.১.২ “নইলে আমি শান্তি পাব না।” – বক্তা কী না হলে শান্তি পাবেন না?

উত্তর: বক্তা জগদীশবাবুর একান্ত ইচ্ছা ছিল, বিরাগী যেন তাঁকে কিছু উপদেশ দিয়ে যান। বিরাগী তাঁকে উপদেশ দিয়ে প্রস্থান না করলে জগদীশবাবু শান্তি পাবেন না। 

২.১.৩ “অপূর্ব রাজি হইয়াছিল।” – কোন্ কথায় অপূর্ব রাজি হয়েছিল?

উত্তর: রামদাসের স্ত্রীর হাতে তৈরি সামান্য খাবার গ্রহণ করার কথায় অপূর্ব রাজি হয়েছিল। যতদিন না অপূর্বর মা বা কোনো আত্মীয় রেঙ্গুনে এসে তার খাওয়া-থাকার উপযুক্ত ব্যবস্থা করেন, ততদিন সে রামদাসের স্ত্রীর রান্না করা খাবার গ্রহণ করবে—এই প্রস্তাবেই অপূর্ব সম্মত হয়েছিল। 

২.১.৪ ‘উনি ঘোষণা করলেন,’ – গ্রাম প্রধান কী ঘোষণা করেছিলেন?

উত্তর: গ্রামপ্রধান ঘোষণা করেছিলেন যে, আজ থেকে সকলেই অমৃতকে ‘অদল’ এবং ইসাবকে ‘বদল’ নামে ডাকবে।

২.১.৫ “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।” – নদেরচাঁদের ভয় করার কারণ কী?

উত্তর: বর্ষার জলে নদী ভয়ংকরভাবে ফুলে উঠেছিল এবং তার রূপ ছিল রাগ ও ক্ষোভে পাগলপ্রায়। নদেরচাঁদের বাড়ি নদীর পাড় থেকে মাত্র এক হাত উঁচুতে হওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে উন্মত্ত নদী তার বাড়ি ও জীবনকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে—এই আশঙ্কাতেই নদেরচাঁদের বড়ো ভয় করেছিল। 

২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ১×৪ = ৪

২.২.১ “হায়, বিধি বাম মম প্রতি।” – বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী?

উত্তর: লঙ্কারাজ রাবণ বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর ভাগ্য তাঁর অনুকূলে নেই। বিরম্বিত ভাগ্যের কারণেই সোনার লঙ্কা পরাজয়ের পথে এগিয়ে চলেছে—এই উপলব্ধি থেকেই নিজের দুর্ভাগ্যের জন্য দুঃখ করে তিনি বলেছিলেন, “হায়, বিধি বাম মম প্রতি।” 

২.২.২ “এল মানুষ-ধরার দল” – কবি কাদের ‘মানুষ-ধরার দল’ বলেছেন?

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শক্তিগুলিকে ‘মানুষ-ধরার দল’ বলেছেন। এরা আফ্রিকার মানুষদের ওপর অত্যাচার ও শোষণ চালিয়ে তাদের স্বাধীনতা হরণ করেছিল। 

২.২.৩ ‘নিপতিতা চেতন রহিত।।’ – কে, কোথায় নিপতিতা হয়ে চেতনা হারিয়েছিল?

উত্তর: ‘নিপতিতা চেতন রহিত’ হয়েছিলেন রাজা রত্নসেনের দ্বিতীয়া স্ত্রী পদ্মাবতী। প্রবল সমুদ্রের ঢেউয়ে ভাসতে ভাসতে মান্দাসে শুয়ে তিনি সমুদ্রতীরবর্তী এক স্থানে এসে পড়ে চেতনা হারিয়েছিলেন। 

২.২.৪ “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।” – একথা বলার কারণ কী?

উত্তর: ‘বেঁধে বেঁধে থাকা’ বলতে কবি ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ হয়ে থাকার কথা বলেছেন। মানুষের ওপর নেমে আসা বিভিন্ন বিপদ, অত্যাচার ও সংকটের মোকাবিলা করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। তাই বিপদের সময় একে অপরের পাশে থেকে শক্তভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাতেই কবি বলেছেন—“আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।” 

২.২.৫ “তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।” – কারা, কেন ‘স্বপ্ন দেখতে পারল না’?

উত্তর: ‘তারা’ বলতে কবি শান্ত হলুদ দেবতাদের বুঝিয়েছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ধ্বংসযজ্ঞের ফলে তাদের শান্ত পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই যুদ্ধের আতঙ্ক ও ধ্বংসের কারণে তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারেনি।

২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ১×৩ = ৩

২.৩.১ “যার পোশাকি নাম স্টাইলাস,” – ‘স্টাইলাস’ কী?

উত্তর: ‘স্টাইলাস’ হল ব্রোঞ্জের তৈরি সরু কাঠি বা শলাকা, যা প্রাচীন রোমে লেখার কাজে কলম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। 

২.৩.২ প্রয়োজনমতো বাংলা শব্দ পাওয়া না গেলে কী করা উচিত বলে লেখক মনে করেছেন?

উত্তর: লেখকের মতে, প্রয়োজনমতো উপযুক্ত বাংলা শব্দ পাওয়া না গেলে ইংরেজি শব্দকেই বাংলা হরফে লিখে ব্যবহার করা উচিত। এতে ভাব প্রকাশে অসুবিধা হবে না এবং বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক বিষয় সহজে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

২.৩.৩ “এর মানে বুঝতে বাধা হয়নি,” – ‘এর মানে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ‘এর মানে’ বলতে বোঝানো হয়েছে—একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের সরলরেখার ওপর একটি সমবাহু ত্রিভুজ অঙ্কন করতে হবে। ব্রহ্মমোহন মল্লিকের জ্যামিতির বইয়ের এই নির্দেশটির অর্থ বুঝতে প্রাবন্ধিকের কোনো অসুবিধা হয়নি।

২.৩.৪ দু-জন সাহিত্যিকের নাম করো যাঁদের নেশা ছিল ফাউন্টেন পেন সংগ্রহ করা।

উত্তর: ফাউন্টেন পেন সংগ্রহের নেশা ছিল এমন দু-জন সাহিত্যিক হলেন— শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

২.৪ যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ১×৮ = ৮

২.৪.১ ‘আগে পূজ ইষ্টদেবে।‘ নিম্নরেখ শব্দটির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো।

উত্তর: ‘আগে পূজ ইষ্টদেবে।’ – এখানে ‘ইষ্টদেবে’ পদটির কারক – কর্মকারক এবং বিভক্তি – সপ্তমী বিভক্তি।

২.৪.২ সম্বোধন পদকে অ-কারক বলা হয় কেন?

উত্তর: সম্বোধন পদ দ্বারা কাউকে ডাকা বা আহ্বান করা বোঝায়। এটি বাক্যের ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তা বা কর্মের কোনো সম্পর্ক প্রকাশ করে না। তাই সম্বোধন পদকে কারক বলা হয় না; অর্থাৎ সম্বোধন পদকে অ-কারক বলা হয়।

উদাহরণ – হে বন্ধু, তুমি কোথায় যাচ্ছ? এখানে ‘হে বন্ধু’ সম্বোধন পদ, তাই এটি অ-কারক।

২.৪.৩ অলোপ দ্বন্দ্ব বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।

উত্তর: বইয়ের ভাষায়যে দ্বন্দ্ব সমাসে ব্যাসবাক্যের কোনো পদেরই লোপ হয় না, তাকে অলোপ দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

উদাহরণ – দেশ ও জাতি = দেশ-জাতি।

২.৪.৪ ‘চরণ কমলের ন্যায়’ – ব্যাসবাক্যটি সমাসবদ্ধ করে সমাসের নাম লেখো।

উত্তর: ব্যাসবাক্য – চরণ কমলের ন্যায়।

  • সমাসবদ্ধ পদ – চরণকমল।
  • সমাসের নাম – উপমিত কর্মধারয় সমাস।
২.৪.৫ যৌগিক বাক্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে বাক্যে দুই বা ততোধিক সরল বাক্য অব্যয় বা অব্যয়সূচক পদের সাহায্যে যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

উদাহরণ – সূর্য উঠল এবং পাখিরা ডাকতে শুরু করল।

২.৪.৬ “ছেলেটি বাড়ির শুকনো উঠানে সাঁতার কাটছে” – বাক্যের কোন্ শর্তটি পূরণ হয়নি?

উত্তর: ‘ছেলেটি বাড়ির শুকনো উঠানে সাঁতার কাটছে।’— এই বাক্যে যোগ্যতা শর্তটি পূরণ হয়নি। কারণ, শুকনো উঠানে সাঁতার কাটা সম্ভব নয়। তাই ‘সাঁতার কাটছে’ ক্রিয়াটির সঙ্গে ‘শুকনো উঠানে’ পদের যোগ্যতাগত সামঞ্জস্য নেই।

২.৪.৭ কর্মবাচ্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে কর্মবাচ্যে কর্মপদই প্রধান হয়ে ওঠে এবং ক্রিয়ার সঙ্গে কর্মের সম্পর্ক প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।

উদাহরণ – রাম চিঠি লেখে। রামের দ্বারা চিঠি লেখা হয়।

২.৪.৮ ‘গল্পটা সবাই জানে’ – ভাববাচ্যে পরিণত করো।

উত্তর: গল্পটা সবাই জানে ভাববাচ্যে পরিণত করলে হবে – গল্পটা সবার জানা আছে।

২.৪.৯ ‘মৌমাছি’ পদটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।

উত্তর: ব্যাসবাক্য – মৌ সংগ্রহকারী মাছি

  • সমস্তপদ – মৌমাছি।
  • সমাসের নাম – মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

এখানে ‘মৌ সংগ্রহকারী যে মাছি’—এর মধ্যপদ ‘সংগ্রহকারী’ লোপ পেয়ে ‘মৌমাছি’ হয়েছে। তাই এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

২.৪.১০ কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তরের প্রধান শর্ত কী?

উত্তর: কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তরের প্রধান শর্ত হলো—কর্তাকে গৌণ করে ক্রিয়ার ভাবকে প্রধান করতে হবে। অর্থাৎ, বাক্যে কর্তার পরিবর্তে কাজ বা ক্রিয়ার ভাবই মুখ্য হবে এবং ক্রিয়াপদ সাধারণত ‘হওয়া’ ক্রিয়ার সাহায্যে গঠিত হবে।

উদাহরণ –

  • কর্তৃবাচ্য – আমি আজ যাব।
  • ভাববাচ্য – আমার আজ যাওয়া হবে।

৩। প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০ শব্দে উত্তর দাও: ৩+৩ = ৬

৩.১ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৩×১ = ৩

৩.১.১ “ছেলেদুটোর সবই একরকম, তফাত শুধু এই যে,” – ছেলেদুটি কে কে? তাদের মধ্যে তফাত কোথায়? ১+২

উত্তর: পান্নালাল প্যাটেল রচিত এবং অর্থকুসুম দত্তগুপ্ত অনুদিত ‘অদল বদল’ গল্পে ছেলে দুটি বলতে দুই অন্তরঙ্গ বন্ধু অমৃত ও ইসাবকে বোঝানো হয়েছে।

আলোচ্য দুই বন্ধুর আচার-আচরণ, পোশাক পরিচ্ছদ ইত্যাদির মধ্যে বহু মিল থাকলেও তফাত ছিল- (i) সম্প্রদায়গত পরিচয়ে এবং (ii) অমৃতের মা, বাবা ও তিন ভাই থাকলেও, বাবা ছাড়া ইসাবের আর কেউ ছিল না।

৩.১.২ “এটা খুব ভালো।” বক্তা কোন্ বিষয়টিকে ‘ভালো’ বলেছেন?

উত্তর: তপনের লেখা গল্পটি পড়ে তার লেখক মেসো গল্পের বিষয় নির্বাচনকে ‘ভালো’ বলেছেন। তপন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একজন লেখকের জীবনকে কেন্দ্র করে গল্পটি লিখেছিল। মেসোর মতে, এই বিষয়টি ছিল আকর্ষণীয় ও উপযুক্ত। তাই গল্পের বিষয় নির্বাচনের প্রশংসা করে তিনি বলেছিলেন, “এটা খুব ভালো।”

৩.২ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৩×১ = ৩

৩.২.১ “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ।।” – কন্যা কে? কন্যা কোথায় সর্বক্ষণ থাকে? ১+২

উত্তর: ‘কন্যা’ বলতে সিংহলরাজ গন্ধর্বসেনের কন্যা তথা রাজকন্যা পদ্মাবতীকে বোঝানো হয়েছে। পদ্মাবতী তাঁর নিজের হাতে নির্মিত সুন্দর উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত রত্নখচিত উচ্চ টঙ্গি বা রাজপ্রাসাদে সর্বক্ষণ থাকেন। অর্থাৎ, প্রাসাদটি ছিল তাঁর বাসস্থান, যা মনোরম উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত ছিল এবং রত্নখচিত সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ ছিল।

৩.২.২ “নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।” – এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের ‘নির্লজ্জ অমানুষতা’-র পরিচয় দাও।

উত্তর: এখানে আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপনকারী ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলির কথা বলা হয়েছে।

ইউরোপীয়রা আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করে এবং সেখানকার আদিম জনজাতিদের ওপর শোষণ, অত্যাচার ও নির্যাতন চালায়। নিজেদের স্বার্থে তারা আফ্রিকাবাসীর স্বাধীনতা ও অধিকার হরণ করে তাদের নির্মমভাবে শোষণ করেছিল।

৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫×১ = ৫

৪.১ ‘বহুরূপী’ গল্প অনুসরণে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীর চরিত্রবৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তর: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীর চরিত্রের মধ্যে নানা বৈপরীত্য ও অসংগতি লক্ষ করা যায়। তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

আত্মগর্বী ও অহংকারী – নিজেকে হাজার বছরেরও বেশি বয়স্ক এবং হিমালয়ের গুহাবাসী বলে প্রচার করা হয়। সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আচরণেও আত্মগরিমা ও অহংকার প্রকাশ পায়।

লোকদেখানো সন্ন্যাসী – তিনি প্রকৃত সন্ন্যাসীর মতো সর্বস্বত্যাগী ছিলেন না। সাধারণ মানুষকে তাঁর পদধূলি নেওয়ার অনুমতি না দিলেও নিজের খ্যাতি ও মর্যাদা সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত সচেতন ছিলেন।

লোভী ও অর্থপ্রিয় – জগদীশবাবুর কাঠের খড়মে সোনার বোল দেখে তিনি আকৃষ্ট হয়ে তাঁর দিকে পা বাড়িয়ে দেন। এমনকি জগদীশবাবুর দেওয়া একশো টাকা প্রণামিও তিনি হাসিমুখে গ্রহণ করেন। এতে তাঁর অর্থলোভ স্পষ্ট হয়।

ভণ্ড ও অসংগতিপূর্ণ – সারাবছর একটি হরীতকী ছাড়া কিছু খান না বলে যে-সন্ন্যাসীর পরিচয় দেওয়া হয়, তাঁর আচরণ সেই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর কথিত সন্ন্যাসজীবন ও বাস্তব আচরণের মধ্যে প্রবল বৈপরীত্য রয়েছে।

উপসংহার – অতএব, বাহ্যিক বেশভূষায় তিনি সন্ন্যাসী হলেও তাঁর আচরণে অহংকার, অর্থলোভ ও ভণ্ডামি প্রকাশ পেয়েছে। তাই তাঁকে প্রকৃত সন্ন্যাসী না বলে একজন ভণ্ড ও লোকদেখানো সন্ন্যাসী বলাই যথার্থ।

৪.২ “নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে।” – কার পাগলামির কথা বলা হয়েছে? তার পাগলামির পরিচয় দাও। ১+৪

উত্তর: উদ্ধৃত অংশে নদেরচাঁদের পাগলামির কথা বলা হয়েছে।

পাগলামির পরিচয় – নদেরচাঁদ নদীকে অত্যন্ত ভালোবাসত। নদীর ধারে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠার কারণে নদীর সঙ্গে তার গভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। নদী যেন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল। ত্রিশ বছর বয়সে রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার হওয়ার পরও নদীর প্রতি তার আকর্ষণ একটুও কমেনি। স্টেশনের কাছেই নদী থাকায় সে প্রতিদিন নদীটির দেখা পাওয়ার জন্য উৎসুক হয়ে থাকত। নদীকে না দেখে সে থাকতে পারত না। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও সুযোগ পেলেই সে নদীর কাছে ছুটে যেত এবং নদীর রূপ, স্রোত ও সান্নিধ্য উপভোগ করত। নদীর প্রতি তার এই গভীর ও অস্বাভাবিক আকর্ষণকেই তার ‘পাগলামি’ বলা হয়েছে। নদেরচাঁদের এই নদীপ্রেম অন্যদের কাছে ছেলেমানুষি বা পাগলামি মনে হলেও সে নিজে এতে কোনো অস্বস্তি বোধ করত না। বরং নিজের এই পাগলামির মধ্যেই সে এক ধরনের নির্মল আনন্দ খুঁজে পেত। 

৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫×১ = ৫

৫.১ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা? কবিতায় এই আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে কেন? ১+৪

উত্তর: আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি কবি শঙ্খ ঘোষের ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’—এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে কবি শঙ্খ ঘোষ বিপন্ন মানুষের ঐক্যবদ্ধ হয়ে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। কবিতায় কবি এমন এক ভয়াবহ সময়ের কথা বলেছেন, যখন মানুষের চারপাশে নানা বিপদ ও ধ্বংসের আশঙ্কা। একদিকে “ধ্বস”, অন্যদিকে “গিরিখাদ”, মাথার ওপর “বোমারু” এবং পায়ের কাছে “হিমানীর বাঁধ”—এই চিত্রগুলির মাধ্যমে মানুষের অসহায় ও বিপন্ন অবস্থাকে তুলে ধরা হয়েছে।

এই সংকট শুধু একজন মানুষের নয়, সমগ্র সাধারণ মানুষের। যুদ্ধ, হিংসা, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও সামাজিক অস্থিরতার ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। তাদের নিজস্ব ইতিহাসও যেন নেই—“আমাদের ইতিহাস নেই” কথাটির মধ্য দিয়ে কবি সাধারণ মানুষের অবহেলিত অবস্থার কথা বলেছেন।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে একা একা টিকে থাকা কঠিন। তাই কবি মানুষকে হতাশ না হয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে, হাতে হাত রাখতে এবং সংঘবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছেন। কবির বিশ্বাস, বিপদের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি একতার মধ্যেই নিহিত। তাই তিনি বলেছেন—“আয় আরো হাতে হাত রেখে / আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।”

অর্থাৎ, সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে মানুষে মানুষে ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলাই এই আহ্বানের মূল উদ্দেশ্য।

৫.২ “তবে কেন তুমি, গুণনিধি, / ত্যজ কিঙ্করীরে আজি?” – ‘কিঙ্করী’ কে? তার চরিত্রবৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দাও। ১+৪

উত্তর: উদ্ধৃত অংশে ‘কিঙ্করী’ বলতে প্রমীলাকে বোঝানো হয়েছে। তিনি রাবণের পুত্রবধূ এবং মেঘনাদের পত্নী।

চরিত্রবৈশিষ্ট্য

প্রমীলা ছিলেন গভীর পতিপ্রেমে কাতর এক নারী। তিনি স্বামী মেঘনাদকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাই মেঘনাদ যুদ্ধে যাওয়ার কথা বললে তিনি তাঁকে বিদায় দিতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েন। স্বামীর সাময়িক বিচ্ছেদও তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। তাঁর কথায় স্বামীকে হারানোর আশঙ্কা ও বিরহের বেদনা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

প্রমীলা ছিলেন মেঘনাদের যোগ্য পত্নী। তাঁর গভীর ও সর্বজয়ী প্রেমের কাছে বীর মেঘনাদও আবদ্ধ হয়েছিলেন। মেঘনাদের উক্তি থেকেই বোঝা যায় যে, প্রমীলা তাঁর হৃদয়ে দৃঢ় স্থান করে নিয়েছিলেন। তিনি শুধু স্বামীর প্রতি অনুরক্ত স্ত্রীই ছিলেন না, তাঁর মধ্যে ছিল প্রবল ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদাবোধ। একজন বীরাঙ্গনার মতোই তিনি প্রেমের শক্তিতে দুর্ধর্ষ মেঘনাদকেও জয় করেছিলেন। একইসঙ্গে তাঁর মধ্যে ছিল কোমলতা, আবেগ ও স্বামীর প্রতি গভীর আনুগত্য। তাই প্রমীলার চরিত্রে পতিপ্রেম, অনুরাগ, কোমলতা, ব্যক্তিত্ব ও দৃঢ়তার সুন্দর সমন্বয় দেখা যায়।

৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫×১ = ৫

৬.১ ‘ফাউন্টেন পেন’ বাংলায় কী নামে পরিচিত? নামটি কার দেওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে? ফাউন্টেন পেনের জন্ম ইতিহাস লেখো। ১+১+৩

উত্তর: ফাউন্টেন পেন বাংলায় ‘ঝরনা কলম’ নামে পরিচিত।

বাংলায় ফাউন্টেন পেনের ‘ঝরনা কলম’ নামটি দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

ফাউন্টেন পেনের জন্ম ইতিহাস

ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক ছিলেন লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। একদিন তিনি একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে গিয়েছিলেন। চুক্তিপত্র লেখার সময় হঠাৎ তাঁর দোয়াত উলটে গিয়ে কাগজে কালি ছড়িয়ে পড়ে। নতুন করে কালি আনতে তিনি বাইরে যান। ফিরে এসে দেখেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য একজন ব্যবসায়ী চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে চুক্তিটি সম্পন্ন করে ফেলেছেন।

এই ঘটনায় ওয়াটারম্যান অত্যন্ত দুঃখিত ও হতাশ হন। তিনি বুঝতে পারেন, দোয়াতের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড়ো সমস্যা হতে পারে। তাই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার জন্য তিনি সংকল্পবদ্ধ হন। এরপর দীর্ঘদিনের চেষ্টা, চিন্তা ও নিরলস পরিশ্রমের ফলে তিনি এমন একটি কলম তৈরি করেন, যাতে আলাদা করে দোয়াত বহন করার প্রয়োজন হয় না। এভাবেই তাঁর প্রচেষ্টায় জন্ম নেয় ফাউন্টেন পেন বা ঝরনা কলম।

৬.২ ‘এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত।’ – কোন্ কথাটি মনে রাখা উচিত? লেখকদের কোন্ কোন্ ত্রুটির কথা প্রাবন্ধিক তুলে ধরেছেন? ১+৪

উত্তর: প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে “এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত” – কথাটি হল “বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের ভাষা অত্যন্ত সরল ও স্পষ্ট হওয়া আবশ্যক”

প্রাবন্ধিক বাংলায় বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনায় লেখকদের যেসব ত্রুটির কথা তুলে ধরেছেন, সেগুলো নিম্নরূপ –

ভাষাগত জটিলতা ও অনুবাদনির্ভরতা

অনেক লেখক বৈজ্ঞানিক বিষয় ইংরেজিতে ভেবে তার আক্ষরিক অনুবাদ করেন, ফলে বাংলা রচনা আড়ষ্ট ও প্রকৃতিবিরুদ্ধ হয়। ইংরেজি বাক্য গঠন ও শব্দের অর্থব্যাপ্তি বাংলায় সরাসরি প্রয়োগের চেষ্টা করেন, যা বাংলা ভাষার স্বাভাবিক প্রবাহকে বিঘ্নিত করে।

পরিভাষা সংক্রান্ত ভ্রান্তি

অনেক লেখক ইংরেজি শব্দের সমতুল্য বাংলা পরিভাষা তৈরিতে অদ্ভুত ও উৎকট শব্দ ব্যবহার করেন। ইংরেজি শব্দের বিভিন্ন অর্থের জন্য একই বাংলা শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা থাকে, যা অর্থের স্পষ্টতাকে ক্ষুণ্ণ করে।

অলংকারের অতিরিক্ত প্রয়োগ – 

বৈজ্ঞানিক রচনায় লক্ষণা, ব্যঞ্জনা, উৎপ্রেক্ষা প্রভৃতি অলংকারের ব্যবহার অনাবশ্যক; এতে বক্তব্য অস্পষ্ট হয়। কাব্যিক উপমা বা রূপক ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক তথ্য উপস্থাপন করা অনুচিত।

পরিভাষা পরিহারের ভুল ধারণা – 

অনেক লেখক মনে করেন পরিভাষা বাদ দিলে রচনা সহজবোধ্য হয়, কিন্তু এটি ভ্রান্ত ধারণা। পরিভাষার উদ্দেশ্য ভাষাকে সংক্ষিপ্ত ও অর্থ সুনির্দিষ্ট করা; অহেতুক ব্যাখ্যা বা পরিবর্তন রচনাকে দুর্বোধ্য করে তোলে।

অপর্যাপ্ত জ্ঞান ও ভুল তথ্য প্রদান – 

অনেক লেখকের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অপর্যাপ্ত থাকায় তারা ভুল তথ্য বা ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করেন, যা সাধারণ পাঠকের জন্য ক্ষতিকর। সম্পাদকদের উচিত অপরিচিত লেখকের রচনা প্রকাশের আগে বিশেষজ্ঞ দ্বারা যাচাই করা। প্রাবন্ধিকের মতে, বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হলে লেখকদের উপরোক্ত ত্রুটিগুলো পরিহার করে সরল, স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল ভাষায় রচনা করতে হবে।

৭। কমবেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৪×১ = ৪

৭.১ “বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয় মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা।” – কাদের উদ্দেশ করে একথা বলা হয়েছে? এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বক্তার কী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে? ১+৩

উত্তর:

উক্তিটির উদ্দেশ্য – “বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয়—মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি, গুলবাগ এই বাংলা”—উক্তিটি নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর সভায় উপস্থিত রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, মীরজাফর, উমিচাঁদ প্রমুখ সভাসদদের উদ্দেশে বলেছিলেন।

বক্তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য – এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নবাব সিরাজদ্দৌলার উদারতা, অসাম্প্রদায়িকতা, দেশপ্রেম ও দূরদর্শিতার পরিচয় পাওয়া যায়। সিরাজ বুঝেছিলেন, বাংলা কোনো একটি বিশেষ ধর্মের মানুষের নয়; হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মিলিত দেশই বাংলা। তাই বাংলার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ঐক্য থাকা অত্যন্ত জরুরি।

সিরাজদ্দৌলা ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ চাননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, বাংলার ওপর বহিরাগত ইংরেজদের আক্রমণ প্রতিহত করতে হলে হিন্দু-মুসলমান সকলকে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। তাঁর কাছে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে দেশের স্বার্থ ও মাতৃভূমির স্বাধীনতা ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশ্বাস করতেন, ঐক্যবদ্ধ জাতিই বহিরাগত শক্তির বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

তাই তাঁর এই বক্তব্যে একজন অসাম্প্রদায়িক, উদারচেতা, মানবিক, দূরদর্শী এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিক শাসকের চরিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

৭.২ “আমার এই অক্ষমতার জন্যে তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।” – বক্তা কাদের কাছে, কোন্ বিষয়ে তাঁর অক্ষমতার কথা বলেছেন?

উত্তর: “আমার এই অক্ষমতার জন্যে তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।”—উক্তিটি নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলা ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে লা-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন।

ইংরেজরা যখন ফরাসিদের উপনিবেশ চন্দননগর দখল করে নেয়, তখন ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে লা নবাবের দরবারে উপস্থিত হয়ে ফরাসিদের সাহায্য করার জন্য তাঁর কাছে আবেদন জানান। সিরাজদ্দৌলা ফরাসিদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং ইংরেজদের আগ্রাসনের বিরোধীও ছিলেন। কিন্তু সেই সময় তাঁর নিজের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটপূর্ণ ছিল।

কলকাতা জয় করতে গিয়ে এবং পরে পূর্ণিয়ায় শওকত জঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সিরাজের বিপুল সৈন্যক্ষয় ও অর্থব্যয় হয়েছিল। ফলে নতুন করে আর একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মতো সামর্থ্য তাঁর ছিল না। উপরন্তু তাঁর মন্ত্রীপরিষদও নতুন কোনো যুদ্ধের পক্ষে ছিল না। তাই ফরাসিদের প্রতি সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁদের সামরিক সাহায্য করতে পারেননি।

এই পরিস্থিতিতেই মঁসিয়ে লা-র কাছে নিজের অসহায়তার কথা প্রকাশ করে সিরাজদ্দৌলা বলেন—“আমার এই অক্ষমতার জন্যে তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।” অর্থাৎ, ফরাসিদের সাহায্য করতে না পারার অক্ষমতার জন্যই তিনি তাঁদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যে তাঁর সহানুভূতিশীল, মানবিক ও দায়িত্বশীল চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যায়।

৮। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫× ২ = ১০

৮.১ “চার বছরের মধ্যেই ‘প্রজাপতি’ ডানা মিলে দিয়েছে।” – ‘প্রজাপতি’ কী? তার ডানা মেলে দেওয়ার আগের ও পরের অবস্থার পরিচয় দাও। ১+৪

উত্তর:

‘প্রজাপতি’-র পরিচয় – মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে ‘প্রজাপতি’ ছিল ক্ষিতীশ সিংহ ও লীলাবতীর টেলারিংয়ের দোকান। প্রথমে দোকানটির নাম ছিল ‘সিনহা টেলারিং’। পরে লীলাবতী দোকানের দায়িত্ব নিয়ে মেয়েদের ও শিশুদের পোশাক তৈরির ব্যবস্থা করেন এবং নতুন নাম দেন ‘প্রজাপতি’।

ডানা মেলার আগের ও পরের অবস্থা – ‘প্রজাপতি’ সমৃদ্ধ হওয়ার আগে দোকানটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। সাঁতার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ক্ষিতীশ দোকানে নিয়মিত সময় দিতেন না। ফলে দোকানের আলমারির অর্ধেকেরও বেশি কাপড় উধাও হয়ে যায় এবং চার মাসের ভাড়া বাকি পড়ে। ব্যবসায় লাভের পরিবর্তে লোকসান হতে থাকে।

এই অবস্থায় লীলাবতী দোকানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি নিজের গহনা বন্ধক রেখে দুজন মহিলাকে কাজে নিযুক্ত করেন এবং মেয়েদের ও শিশুদের পোশাক তৈরি শুরু করেন। তাঁর পরিশ্রম, বিচক্ষণতা ও সাংসারিক বুদ্ধিতে ব্যবসা ধীরে ধীরে উন্নতি লাভ করে। লীলাবতী বন্ধক রাখা গহনার অর্ধেকও ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। কাজের পরিমাণ ও ব্যবসার প্রসার ক্রমশ বাড়তে থাকে। অবশেষে চার বছরের মধ্যেই ‘প্রজাপতি’ একটি সমৃদ্ধ ও সফল ব্যবসায় পরিণত হয়।

৮.২ ‘ক্ষিতীশের একটা হাত তোলা। চোয়াল শক্ত।’ – ক্ষিতীশ সিংহের এই রকম প্রতিক্রিয়ার কারণ কী?

উত্তর: জুপিটার ক্লাবে কোনিকে ভর্তি করাতে গিয়ে অপমানিত হওয়ার পর ক্ষিতীশ বাধ্য হয়ে অ্যাপোলো ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রিয় জুপিটার ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার যন্ত্রণা তিনি কিছুতেই ভুলতে পারছিলেন না। সারারাত তাঁর মনে দ্বন্দ্ব চলছিল—অ্যাপোলোয় যোগ দিয়ে তিনি ঠিক কাজ করেছেন কি না, তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তিত ছিলেন।

এই অবস্থায় ভেলো এসে অ্যাপোলোয় যোগ দেওয়ার জন্য তাঁকে প্রশংসা করে এবং জুপিটারকে ‘শায়েস্তা’ করার কথা বলে। একই সঙ্গে সে ক্ষিতীশকে জুপিটারের প্রতি তাঁর পুরোনো ‘নাড়ির টান’ ভুলে যেতে বলে। ভেলোর এই কথায় ক্ষিতীশের মনে জমে থাকা দুঃখ, অপমান, ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কারণ জুপিটার ক্লাবের প্রতি তাঁর ছিল গভীর ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তাই সেই সম্পর্ককে প্রতিশোধের বিষয় হিসেবে দেখানো তিনি মেনে নিতে পারেননি।

ফলে ভেলোর কথায় ক্ষিতীশের সংযম ভেঙে যায়। তাঁর এক হাত উঠে যায় এবং চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। অর্থাৎ জুপিটারের প্রতি গভীর টান, মানসিক দ্বন্দ্ব, অপমানবোধ এবং ভেলোর উসকানিমূলক কথার সম্মিলিত প্রতিক্রিয়াতেই ক্ষিতীশের এই তীব্র শারীরিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায়।

৮.৩ বিষ্ণুচরণ চরিত্রটির মধ্যে হাস্যরস ও সততার যে পরিচয় রয়েছে, তা ‘কোনি’ উপন্যাস অবলম্বনে লেখো।

উত্তর: মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে বিষ্টুচরণ ধর একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাঁর চরিত্রে যেমন হাস্যরস, তেমনই সততার পরিচয় পাওয়া যায়।

হাস্যরসের পরিচয় – সাড়ে তিন মন ওজনের বিষ্টুচরণের শরীর এবং তাঁর বিচিত্র জীবনযাপন পাঠকের মনে হাস্যরসের সৃষ্টি করে। গঙ্গার ঘাটে মালিশ করানোর সময় তিনি ‘তানপুরো ছাড়’, ‘তবলা বাজা’, ‘সারেগামা কর’ ইত্যাদি সাংকেতিক নির্দেশ দেন। তাঁর ডায়েটিংও হাস্যকর—আধ কিলো ক্ষীর কমিয়ে তিনশো গ্রাম, কুড়িটি লুচি কমিয়ে পনেরোটি, আড়াইশো গ্রাম ভাত, বারোটি রুটি, চার চামচ ঘি, মিছরির শরবত ও চারটি সন্দেশ তাঁর খাদ্যতালিকায় থাকে। নিজের এই ‘সংযম’ নিয়ে তাঁর গর্বও হাস্যরসের সৃষ্টি করে। আবার এক অপরিচিত ব্যক্তি তাঁকে হাতি বা হিপোর সঙ্গে তুলনা করলে তাঁর অসহায় ক্রোধও অত্যন্ত কৌতুককর হয়ে ওঠে।

সততার পরিচয় – বিষ্টুচরণ মূলত একজন সরল ও সৎ ব্যবসায়ী। ক্ষিতীশের সঙ্গে কথাবার্তায় তিনি নিজের কথা অকপটে প্রকাশ করেন। ক্ষিতীশ যখন তাঁকে অ্যাপোলো ক্লাবের প্রেসিডেন্ট করার প্রলোভন দেখান, তখন তিনি রাজি হন। কিন্তু লীলাবতী যে ক্ষিতীশের স্ত্রী, তা জানতে পেরে তিনি অত্যন্ত অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। ক্ষিতীশ যখন তাঁর দেওয়া পাঁচ হাজার টাকা সেলামি ফেরত চান, তখন বিষ্টুচরণ তা নিয়ে কোনো অসততার আশ্রয় নেন না। ফলে তাঁর চরিত্রে হাস্যরসের পাশাপাশি সরলতা ও সততার পরিচয়ও স্পষ্ট।

৯। চলিত বাংলায় অনুবাদ করো: 8

One day a dog stole a piece of meat from a butcher shop. He was crossing over a bridge. Suddenly, he saw his own shadow in the water. He thought that there was another dog and he had a bigger piece of meat.

উত্তর: একদিন একটি কুকুর কসাইয়ের দোকান থেকে এক টুকরো মাংস চুরি করল। সে একটি সেতুর ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ সে জলে নিজের ছায়া দেখতে পেল। সে ভাবল, জলে আর একটি কুকুর আছে এবং তার কাছে আরও বড় এক টুকরো মাংস রয়েছে।

১০। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫×১ = ৫

১০.১ ‘প্লাস্টিক দূষণ’ পরিবেশের কতখানি ক্ষতি করছে সেই নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।

উত্তর:

প্লাস্টিক দূষণ ও পরিবেশের ক্ষতি

সৌরভ – আদিত্য, আজ বাজারের পাশের নালাটা দেখেছিস? পুরো নালাটা প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট আর ক্যারিব্যাগে ভরে গেছে।

আদিত্য – হ্যাঁ, আমিও দেখেছি। গতকাল বৃষ্টি হওয়ার পর নালার জল রাস্তায় উঠে গিয়েছিল।

সৌরভ – আগে তো এমন হতো না। এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই জল জমে যাচ্ছে।

আদিত্য – এর একটা বড় কারণ প্লাস্টিক দূষণ। মানুষ যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের প্যাকেট, বোতল আর খাবারের মোড়ক ফেলে দিচ্ছে।

সৌরভ – কিন্তু এই প্লাস্টিকগুলো পরিবেশের এত ক্ষতি করে কীভাবে?

আদিত্য – প্লাস্টিক সহজে মাটির সঙ্গে মিশে যায় না। বছরের পর বছর একইভাবে পড়ে থাকে। ফলে মাটির গুণ নষ্ট হয় এবং নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে জল জমে যায়।

সৌরভ – শুধু মাটিরই ক্ষতি হয়?

আদিত্য – না, জলও দূষিত হয়। নদী, পুকুর বা সমুদ্রে প্লাস্টিক গেলে মাছ, কচ্ছপ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী সেগুলো খাবার ভেবে খেয়ে ফেলে। এতে তাদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

সৌরভ – সত্যি! আর প্লাস্টিক পোড়ালে তো ধোঁয়া বের হয়, যা বাতাসেরও ক্ষতি করে।

আদিত্য – ঠিক বলেছিস। তাই আমাদের প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে হবে। বাজারে গেলে কাপড়ের বা পাটের ব্যাগ ব্যবহার করা উচিত।

সৌরভ – আর একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল ও প্যাকেট যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলব।

আদিত্য – শুধু নিজেরা করলেই হবে না। বাড়ির লোকজন ও বন্ধুদেরও সচেতন করতে হবে।

সৌরভ – ঠিক বলেছিস। আজ থেকে আমরা যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক ফেলব না এবং অন্যদেরও ফেলতে দেব না।

আদিত্য – তাহলেই আমাদের ছোট্ট চেষ্টা একদিন বড় পরিবর্তন আনতে পারবে। পরিবেশকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

১০.২ যত দিন যাচ্ছে ততই হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাস এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

উত্তর:

বই পড়ার অভ্যাসে ভাটা, বাড়ছে মোবাইলের নেশা

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ৯ আগস্ট: দিন যত এগোচ্ছে, ততই কমছে মানুষের বই পড়ার অভ্যাস। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। কলকাতার যাদবপুর ও সংলগ্ন এলাকার কয়েকটি স্কুল ও পাঠাগারে সম্প্রতি করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ পড়ুয়া অবসর সময়ে বই পড়ার পরিবর্তে মোবাইল ফোন, সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে সময় কাটায়।

একসময় অবসর সময়ে গল্পের বই, উপন্যাস, পত্রপত্রিকা কিংবা জীবনী পড়া ছিল বহু মানুষের প্রিয় অভ্যাস। কিন্তু বর্তমানে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে সেই অভ্যাস দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। অনেক পড়ুয়া পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য কোনো বই পড়তে আগ্রহী নয়। ফলে তাদের জ্ঞানভাণ্ডার, কল্পনাশক্তি ও ভাষাজ্ঞানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা।

যাদবপুরের একটি স্থানীয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক সুব্রত ঘোষ জানান, কয়েক বছর আগের তুলনায় নিয়মিত পাঠকের সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। তবে বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে স্কুল ও গ্রন্থাগারগুলির পক্ষ থেকে পাঠচক্র, বইমেলা, গল্পপাঠ ও বই পড়ার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

শিক্ষকদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুললে পড়ুয়াদের জ্ঞান ও চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটবে। তাই মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে বইকে জীবনের সঙ্গী করে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

১১। কমবেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো: ১০×১ = ১০

১১.১ বিশ্ব উষ্ণায়ন ও পৃথিবীর ভবিষ্যৎ।

উত্তর:

বিশ্ব উষ্ণায়ন ও পৃথিবীর ভবিষ্যৎ

ভূমিকা

পৃথিবী আমাদের একমাত্র বাসস্থান। কিন্তু মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের ফলে আজ পৃথিবীর স্বাভাবিক পরিবেশ ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়ছে। তার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা হল বিশ্ব উষ্ণায়ন। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়াকেই বিশ্ব উষ্ণায়ন বলা হয়। এই সমস্যা শুধু বর্তমান পৃথিবীকেই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ

বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হল বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি। কলকারখানা, যানবাহন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা, পেট্রোল ও ডিজেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। এছাড়া বনভূমি ধ্বংস, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অতিরিক্ত শিল্পায়ন এবং বিভিন্ন ধরনের দূষণও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলছে। গাছপালা কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে উষ্ণায়নের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পরিবেশের উপর প্রভাব

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সমুদ্র উপকূলবর্তী বহু অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়তে পারে। আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দও বদলে যাচ্ছে। কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা, আবার কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা ও তীব্র দাবদাহ দেখা দিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপও অনেক ক্ষেত্রে ভয়াবহ হয়ে উঠছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বহু প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে। জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

মানুষের ভবিষ্যৎ

বিশ্ব উষ্ণায়ন চলতে থাকলে মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, পানীয় জলের সংকট দেখা দিতে পারে এবং বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বহু মানুষকে নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে খাদ্য, জল ও বাসস্থানের জন্য মানুষের মধ্যে সংঘাতও সৃষ্টি হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়

এই বিপদ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে হলে এখনই সচেতন হতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। কয়লা ও পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। গণপরিবহণের ব্যবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোও জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিটি দেশকে পরিবেশ রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

উপসংহার

বিশ্ব উষ্ণায়ন শুধু কোনো একটি দেশের সমস্যা নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির সমস্যা। আজ আমরা পরিবেশের প্রতি যে আচরণ করছি, তার ফল ভোগ করতে হবে আগামী প্রজন্মকে। তাই পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে হলে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের কথাও ভাবতে হবে। পৃথিবীকে রক্ষা করা মানেই নিজেদের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা।

১১.২ ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

উত্তর:

ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য

ভূমিকা

ছাত্রজীবন মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়েই ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরি হয়। ছাত্রছাত্রীরা আজকের সমাজের ভবিষ্যৎ নাগরিক। তাই শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়াই ছাত্রজীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সৎ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল মানুষ হয়ে ওঠাও ছাত্রজীবনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এজন্য ছাত্রজীবনে কিছু বিশেষ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা প্রয়োজন।

শিক্ষালাভ

ছাত্রের প্রধান কর্তব্য হল মন দিয়ে পড়াশোনা করা। নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া, শিক্ষকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করা উচিত। শুধু বইয়ের মুখস্থ বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন বই, পত্রপত্রিকা ও জ্ঞানমূলক লেখা পড়ে নিজের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্যও সময় রাখা দরকার। সুস্থ শরীরেই সুস্থ মন বাস করে।

শৃঙ্খলা ও সময়ের মূল্য

ছাত্রজীবনে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। সময় একবার চলে গেলে তা আর ফিরে আসে না। তাই সময় নষ্ট না করে একটি নিয়ম মেনে চলা উচিত। মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অপ্রয়োজনীয় বিনোদনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, বিশ্রাম, খেলাধুলা ও অন্যান্য কাজের জন্য সময় ভাগ করে নিলে জীবন সুন্দর ও নিয়মিত হয়। শৃঙ্খলাবোধ একজন ছাত্রকে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল মানুষ হতে সাহায্য করে।

নৈতিক দায়িত্ব

ছাত্রের চরিত্র গঠনও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। সত্য কথা বলা, অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকা, বড়দের সম্মান করা এবং ছোটদের স্নেহ করা উচিত। সহপাঠীর বিপদে তার পাশে দাঁড়ানো, দুর্বল ছাত্রকে পড়াশোনায় সাহায্য করা এবং সকলের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা একজন আদর্শ ছাত্রের পরিচয়। হিংসা, অহংকার, মিথ্যা ও অসততার মতো খারাপ অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে।

পরিবার ও সমাজের প্রতি কর্তব্য

ছাত্রছাত্রীদের পরিবার ও সমাজের প্রতিও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। বাবা-মায়ের কথা মেনে চলা, তাঁদের কাজে সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করা এবং পরিবারের সম্মান বজায় রাখা উচিত। বিদ্যালয় ও নিজের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, গাছ লাগানো, জল অপচয় না করা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতন হওয়াও ছাত্রদের কর্তব্য। বিভিন্ন সামাজিক ও জনসচেতনতামূলক কাজে অংশ নিয়ে তারা সমাজের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারে।

উপসংহার

ছাত্রজীবন ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতির সময়। এই সময়ে যে ছাত্র নিয়মিত পড়াশোনা করে, সময়ের মূল্য বোঝে, শৃঙ্খলা মেনে চলে এবং নৈতিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়, সে ভবিষ্যতে একজন আদর্শ নাগরিক হয়ে উঠতে পারে। তাই ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করলেই ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের উন্নতির পথ সুগম হবে। আজকের সৎ ও দায়িত্বশীল ছাত্রই আগামী দিনের সুন্দর সমাজের নির্মাতা।

১১.৩ তোমার বিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন।

উত্তর:

আমার বিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন

ভূমিকা

জীবনের কিছু ঘটনা কখনও ভোলা যায় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক স্মৃতি মুছে গেলেও কিছু স্মৃতি মনের মধ্যে চিরকাল থেকে যায়। আমার বিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটিও তেমনই একটি স্মরণীয় ঘটনা। আজ অনেক বছর কেটে গেলেও সেই দিনের কথা মনে পড়লে এখনও আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিদ্যালয়ের গেট, নতুন বইয়ের গন্ধ, অপরিচিত মুখ এবং মায়ের হাত ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সেই সকালটি।

বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি

দিনটি ছিল সোমবার। আগের রাত থেকেই আমার মধ্যে এক অদ্ভুত উত্তেজনা কাজ করছিল। নতুন জামা, নতুন জুতো, নতুন ব্যাগ এবং বই-খাতা সবকিছু আগেই গুছিয়ে রেখেছিলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে গেলাম। মা আমাকে স্নান করিয়ে নতুন পোশাক পরিয়ে দিলেন। তারপর নতুন ব্যাগটি কাঁধে নিয়ে মায়ের হাত ধরে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। মনে আনন্দ থাকলেও অপরিচিত পরিবেশের কথা ভেবে একটু ভয়ও লাগছিল।

বিদ্যালয়ে প্রথম প্রবেশ

কিছুক্ষণ পর আমরা বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালাম। বিশাল গেটের সামনে অনেক ছোট ছোট ছেলে-মেয়েকে দেখে আমার ভয় কিছুটা বেড়ে গেল। কেউ মায়ের হাত ধরে আছে, কেউ কাঁদছে, আবার কেউ নতুন বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছে। বিদ্যালয়ের প্রার্থনাসভার ঘণ্টা বাজতেই সবাই ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে গেল। আমিও মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শিক্ষিকার নির্দেশ অনুযায়ী অন্যদের সঙ্গে দাঁড়ালাম। মাকে ছেড়ে আসার সময় বুকটা কেমন যেন করে উঠেছিল।

শ্রেণিকক্ষে প্রথম দিন

প্রার্থনা শেষ হলে আমাদের শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যাওয়া হল। শ্রেণিকক্ষটি ছিল আমার কাছে একেবারেই নতুন। বেঞ্চে বসে চারদিকে তাকিয়ে দেখছিলাম। কিছুক্ষণ পর আমাদের শ্রেণিশিক্ষিকা এলেন। তাঁর মুখে ছিল মিষ্টি হাসি। তিনি আমাদের নাম জিজ্ঞাসা করলেন এবং খুব সহজভাবে নিজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তাঁর সুন্দর কথায় আমার ভয় অনেকটাই কেটে গেল। পাশের বেঞ্চে বসা একটি ছেলের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বও হয়ে গেল। সেদিন পড়াশোনার চেয়ে নতুন বন্ধু ও শিক্ষিকার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আনন্দই বেশি ছিল।

প্রথম দিনের বিশেষ স্মৃতি

টিফিনের সময় মা আমার জন্য যে খাবার দিয়েছিলেন, তা বন্ধুর সঙ্গে ভাগ করে খেয়েছিলাম। প্রথম দিনেই বুঝতে পেরেছিলাম, বিদ্যালয় শুধু পড়াশোনা করার জায়গা নয়; এখানে বন্ধুত্ব, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও সহযোগিতার শিক্ষাও পাওয়া যায়। ছুটির ঘণ্টা বাজতেই সবাই আনন্দে বাড়ির দিকে ছুটল। আমিও মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরলাম। বাড়ি ফেরার পথে মাকে সারাদিনের সব ঘটনা উৎসাহের সঙ্গে বলতে লাগলাম।

উপসংহার

আমার বিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটি ছিল আনন্দ, কৌতূহল ও সামান্য ভয়ে মেশানো এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা। সেই দিনই বিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে বিদ্যালয় আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তাই জীবনের অসংখ্য স্মৃতির ভিড়েও বিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটির স্মৃতি আজও আমার কাছে বিশেষ ও চিরস্মরণীয়।

১১.৪ বিবেকানন্দ ও যুবসমাজ।

উত্তর:

বিবেকানন্দ ও যুবসমাজ

ভূমিকা

স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ, ধর্মপ্রচারক ও সমাজসংস্কারক। তাঁর জীবন ও বাণী শুধু ভারতবাসীকেই নয়, সমগ্র বিশ্বের মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে যুবসমাজের প্রতি তাঁর ছিল গভীর আস্থা। তিনি বিশ্বাস করতেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তরুণদের শক্তি, সাহস, চরিত্র ও কর্মপ্রচেষ্টার উপর। তাই আজও যুবসমাজের কাছে স্বামী বিবেকানন্দ এক উজ্জ্বল আদর্শ।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

স্বামী বিবেকানন্দের পূর্বাশ্রমের নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১২ জানুয়ারি কলকাতার সিমলায় এক শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বিশ্বনাথ দত্ত ছিলেন আইনজীবী এবং মাতা ভুবনেশ্বরী দেবী ছিলেন ধর্মপ্রাণ ও স্নেহশীলা। ছোটবেলা থেকেই নরেন্দ্রনাথ ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সাহসী ও অনুসন্ধিৎসু। তিনি কলকাতার মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন এবং পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ ও জেনারেল অ্যাসেম্বলি’স ইনস্টিটিউশনে পড়াশোনা করেন। সংগীত, খেলাধুলা, দর্শন ও নানা বিষয়ে তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল।

রামকৃষ্ণের সান্নিধ্য ও বিবেকানন্দ

ঈশ্বর সম্পর্কে সত্য জানার আকাঙ্ক্ষায় নরেন্দ্রনাথ পরবর্তীকালে দক্ষিণেশ্বরের সাধক শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সান্নিধ্যে আসেন। রামকৃষ্ণের আদর্শ তাঁর জীবনে গভীর পরিবর্তন আনে। গুরুর মৃত্যুর পর নরেন্দ্রনাথ সন্ন্যাস গ্রহণ করে স্বামী বিবেকানন্দ নাম গ্রহণ করেন। তিনি সারা ভারত ঘুরে সাধারণ মানুষের দুঃখ, দারিদ্র্য ও দুরবস্থা প্রত্যক্ষ করেন এবং দেশবাসীর, বিশেষত যুবকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও জাগরণের বাণী ছড়িয়ে দেন।

যুবসমাজ সম্পর্কে তাঁর ধারণা

বিবেকানন্দ মনে করতেন, তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের মধ্যে থাকে অফুরন্ত প্রাণশক্তি, সাহস ও নতুন কিছু করার ইচ্ছা। কিন্তু এই শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে না পারলে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই তিনি যুবকদের আত্মবিশ্বাসী, চরিত্রবান, কর্মঠ ও দেশপ্রেমিক হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর বিখ্যাত আহ্বান— “উঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না”—আজও তরুণদের কর্মের প্রেরণা দেয়।

দেশ ও সমাজের প্রতি কর্তব্য

১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে শিকাগোর বিশ্বধর্ম মহাসভায় তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতা ভারতীয় সংস্কৃতি ও ধর্মের মহত্ত্বকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে। দেশে ফিরে তিনি মানুষের সেবাকে জীবনের অন্যতম প্রধান আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর মতে, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবা করাই প্রকৃত মানবসেবা। তাই যুবসমাজেরও উচিত সমাজের দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের উন্নতির জন্য কাজ করা।

বর্তমান যুবসমাজ ও বিবেকানন্দ

বর্তমান যুগে প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব যুবসমাজের উপর অত্যন্ত বেশি। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জ্ঞান ও সাফল্যের দরজা খুলে দিতে পারে, আবার অপব্যবহার সময় নষ্ট করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিবেকানন্দের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায়, মানবসেবা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে তরুণরা নিজেদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবে।

উপসংহার

স্বামী বিবেকানন্দ মাত্র ৩৯ বছর বয়সে, ১৯০২ খ্রিস্টাব্দের ৪ জুলাই বেলুড় মঠে দেহত্যাগ করেন। তাঁর জীবনকাল সংক্ষিপ্ত হলেও তাঁর কর্ম ও বাণীর প্রভাব আজও অমলিন। তিনি চেয়েছিলেন এমন এক তরুণ প্রজন্ম, যারা হবে সাহসী, সৎ, কর্মঠ ও মানবপ্রেমী। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে যুবসমাজ যদি নিজের চরিত্র গঠন করে এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে, তবে ভারত আরও শক্তিশালী ও উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। তাই বিবেকানন্দ শুধু অতীতের একজন মহান মানুষ নন; তিনি আজও ভারতের যুবসমাজের পথপ্রদর্শক ও অনুপ্রেরণার উৎস।


MadhyamikQuestionPapers.com এ আপনি অন্যান্য বছরের প্রশ্নপত্রের ও Model Question Paper-এর উত্তরও সহজেই পেয়ে যাবেন। আপনার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কেমন লাগলো, তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আরও পড়ার জন্য, জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য MadhyamikQuestionPapers.com এর সাথে যুক্ত থাকুন।

Tag Post :
Share This :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *