আপনি কি ২০২৬ সালের মাধ্যমিক Model Question Paper 13 এর সমাধান খুঁজছেন? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই আর্টিকেলে আমরা WBBSE-এর বাংলা ২০২৬ মাধ্যমিক Model Question Paper 13-এর প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক সমাধান উপস্থাপন করেছি।
প্রশ্নোত্তরগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা সহজেই পড়ে বুঝতে পারে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যবহার করতে পারে। বাংলা মডেল প্রশ্নপত্র ও তার সমাধান মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ও সহায়ক।
MadhyamikQuestionPapers.com, ২০১৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষার সমস্ত প্রশ্নপত্র ও সমাধান সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করে আসছে। ২০২৬ সালের সমস্ত মডেল প্রশ্নপত্র ও তার সঠিক সমাধান এখানে সবার আগে আপডেট করা হয়েছে।
আপনার প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে এখনই পুরো প্রশ্নপত্র ও উত্তর দেখে নিন!
Download 2017 to 2024 All Subject’s Madhyamik Question Papers
View All Answers of Last Year Madhyamik Question Papers
যদি দ্রুত প্রশ্ন ও উত্তর খুঁজতে চান, তাহলে নিচের Table of Contents এর পাশে থাকা [!!!] চিহ্নে ক্লিক করুন। এই পেজে থাকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর Table of Contents-এ ধারাবাহিকভাবে সাজানো আছে। যে প্রশ্নে ক্লিক করবেন, সরাসরি তার উত্তরে পৌঁছে যাবেন।
Table of Contents
Toggle১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:
১.১ ‘তা ওরকম একটি লেখক মেসো থাকা মন্দ নয়।’ একথা বলেছেন
(ক) তপনের ছোটোমাসি,
(খ) তপনের মেজোকাকু,
(গ) তপনের বাবা,
(ঘ) তপনের ছোটোমামা
উত্তর: (গ) তপনের বাবা
১.২ ‘বহুরূপী’ গল্পে বাসের ড্রাইভারের নাম ছিল
(ক) অনাদি,
(খ) কাশীনাথ,
(গ) ভবতোষ,
(ঘ) জগদীশ
উত্তর: (খ) কাশীনাথ
১.৩ কতক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ‘মেঘের যেন নূতন শক্তি সঞ্চিত হইয়াছে’?-
(ক) দু’ঘণ্টা,
(খ) ঘণ্টা তিনেক,
(গ) আধ ঘণ্টা,
(ঘ) ঘণ্টা চারেক
উত্তর: (খ) ঘণ্টা তিনেক
১.৪ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি কবির কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) ‘নিহিত পাতাল ছায়া’,
(খ) ‘পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ’,
(গ) ‘দিনগুলি রাতগুলি’,
(ঘ) ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’
উত্তর: (ঘ) ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’
১.৫ “নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ ।”-শূন্যস্থানে বসবে-
(ক) অমানবিকতা,
(খ) অমানুষিকতা,
(গ) অমানুষতা,
(ঘ) অরাজকতা
উত্তর: (গ) অমানুষতা
১.৬ ইন্দ্রজিৎ রামচন্দ্রকে পরাজিত করেছিলেন-
(ক) একবার,
(খ) দু-বার,
(গ) তিনবার,
(ঘ) চারবার
উত্তর: (খ) দু-বার
১.৭ “অক্ষর কাটাকুটি করতে গিয়ে আনমনে রচিত হয়েছিল ছন্দোবদ্ধ সাদা-কালো ছবি।” এই চিত্রশিল্পী হলেন।
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,
(খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়,
(গ) সত্যজিৎ রায়,
(ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর: (ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১.৮ লেখক শ্রীপান্থের ছেলেবেলায় দেখা দারোগাবাবুর কলম থাকত
(ক) কলারের ভাঁজে আঁটা,
(খ) কোমরের বেল্টে আটকানো,
(গ) কাঁধের ছোট্ট পকেটে সাজানো,
(ঘ) পায়ের মোজায় গোঁজা
উত্তর: (ঘ) পায়ের মোজায় গোঁজা
১.৯ ‘অতিশয়োক্তি’ অলংকার বলতে বোঝায়
(ক) উপমান ও উপমেয়ের অভেদ কল্পনা,
(খ) উপমেয়ের উল্লেখ না করে উপমানকে উপমেয় রূপে নির্দেশ করা,
(গ) উপমানের উল্লেখ না করে উপমেয়কে উপমান রূপে নির্দেশ করা,
(ঘ) উপমান ও উপমেয়ের ব্যঞ্জনা
উত্তর: (খ) উপমেয়ের উল্লেখ না করে উপমানকে উপমেয় রূপে নির্দেশ করা
১.১০ “সূর্য উঠলে পদ্ম ফোটে।” ‘সূর্য’ হল-
(ক) অনুক্ত কর্তা,
(খ) উক্ত কর্তা,
(গ) নিরপেক্ষ কর্তা,
(ঘ) উপবাক্যীয় কর্তা
উত্তর: (গ) নিরপেক্ষ কর্তা
১.১১ “ভূমিকম্পে ঘরগুলি দুলছে” ‘গুলি’ হল-
(ক) বিভক্তি,
(খ) অনুসর্গ,
(গ) নির্দেশক,
(ঘ) সংখ্যাবাচক শব্দ
উত্তর: (গ) নির্দেশক
১.১২ সমাসে প্রাধান্য পায়
(ক) ধ্বনি,
(খ) পরপদ,
(গ) অর্থ,
(ঘ) পূর্বপদ
উত্তর: (গ) অর্থ
১.১৩ ‘শাপমুক্ত’ সমস্তপদটির সমাসের নাম-
(ক) করণ তৎপুরুষ,
(খ) অপাদান তৎপুরুষ,
(গ) অধিকরণ তৎপুরুষ,
(ঘ) কর্ম তৎপুরুষ
উত্তর: (খ) অপাদান তৎপুরুষ
১.১৪ “পন্ডিত হরপ্রসাদ বিপদে-আপদে গরিবদের সাহায্য করেন।” এই বাক্যে উদ্দেশ্য সম্প্রসারক হল-
(ক) গরিবদের,
(খ) পন্ডিত,
(গ) বিপদে-আপদে,
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (খ) পন্ডিত
১.১৫ “এ দেশের বুকে শান্তি আসুক নেমে” অর্থানুসারে এই বাক্যটি হল-
(ক) শর্তসাপেক্ষ বাক্য,
(খ) আবেগসূচক বাক্য,
(গ) নির্দেশক বাক্য,
(ঘ) প্রার্থনাসূচক বাক্য
উত্তর: (ঘ) প্রার্থনাসূচক বাক্য
১.১৬ “ও পাহাড়ে তো আমাকে প্রায়ই উঠতে হয়”- এটি-
(ক) কর্তৃবাচ্য,
(খ) কর্মবাচ্য,
(গ) ভাববাচ্য,
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য-এর দৃষ্টান্ত
উত্তর: (গ) ভাববাচ্য
১.১৭ যে বাচ্যে ক্রিয়াপদ কর্মের অনুগামী হয়, তা হল
(ক) কর্তৃবাচ্য,
(খ) কর্মবাচ্য,
(গ) ভাববাচ্য,
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর: (খ) কর্মবাচ্য
২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.১.১ ‘তোর যে দেখি পায়া ভারী হয়ে গেল। ‘বক্তার একথা বলার কারণ কী?
উত্তর: “জ্ঞানচক্ষু” গল্পের নায়ক তপন পত্রিকায় প্রকাশিত নিজের লেখা গল্পটি সবার কাছে পড়ে শোনাতে উদ্যত হয়। কিন্তু পড়তে গিয়ে সে বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করে যে, তার লেখক মেসোমশাই গল্পটি সংশোধনের নামে প্রায় সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। এই ঘটনায় হতবাক তপনের অভিমানে গলা ভারী হয়ে আসে। এদিকে, গল্প পড়া শুরু না হওয়ায় সবাই অধীর হয়ে ওঠে। তপন গল্প পড়ছে না দেখে তপনের মা তখন প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেন।
২.১.২ ‘গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা। ‘হরিদার শোনা গল্পটি কী?
উত্তর: হরিদার শোনা গল্পটি হল – লেখক ও তাঁর বন্ধুরা হরিদাকে জানান যে, জগদীশবাবুর বাড়িতে এক সন্ন্যাসী সাতদিন অবস্থান করেছিলেন। তিনি বছরে মাত্র একটি হরীতকী ফল খান এবং তাঁর বয়স হাজার বছরেরও বেশি। উল্লেখ্য, সন্ন্যাসী কাউকেই নিজের পায়ের ধুলো দিতেন না। জগদীশবাবু একজোড়া কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে তা সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরতেই, তিনি সেটি পড়তে এগিয়ে গেলে, জগদীশবাবু সুযোগ নিয়ে তাঁর পায়ের ধুলো নিয়ে নেন।
২.১.৩ রামদাসের স্ত্রী অপূর্বকে ‘সনির্বন্ধ অনুরোধ’ করে কী বলেছিলেন?
উত্তর: রামদাসের স্ত্রী অপূর্বকে একদিন ‘সনির্বন্ধ অনুরোধ’ করে বলেছিলেন যতদিন তাঁহার মা কিংবা বাটীর আর কোনো আত্মীয়া নারী এদেশে আসিয়া বাসার উপযুক্ত ব্যবস্থাদি না করেন ততদিন এই ছোটো বহিনের হাতের তৈরি যৎসামান্য মিষ্টান্ন প্রত্যহ তাঁহাকে গ্রহণ করিতেই হইবে।
২.১.৪ অমৃত নতুন জামা পাওয়ার জন্য কী কী কৌশল অবলম্বন করেছিল?
উত্তর: অমৃত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিল নতুন জামা পাবার আশায়, খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিল, আর রাতে বাড়ি ফিরতেও রাজি হল না।
২.১.৫ কীভাবে নদেরচাঁদের মৃত্যু হয়েছিল?
উত্তর: স্টেশনের দিকে অন্ধকারে লাইন ধরে যাওয়ার সময়, এক অন্যমনস্ক মুহূর্তে ট্রেনের ধাক্কায় নদেরচাঁদের মৃত্যু ঘটে।
২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.২.১ ‘ঘাস জন্মালো রাস্তায়’ কখন রাস্তায় ঘাস জন্মাল?
উত্তর: পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কবি তাঁর প্রিয়জনদের সান্নিধ্য ছেড়ে বিপ্লবের পথে পা বাড়িয়েছিলেন। যে পথে তিনি হাঁটলেন, সে পথে ফিরে আসার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। সময়ের প্রবাহে বৃষ্টিধোয়া পথে তাঁর পায়ের ছাপ মুছে যায়, আর সেই পথটিতে পরে জন্মায় নতুন ঘাস।
২.২.২ “কাঁপিল লঙ্কা,” লঙ্কা কেন কেঁপে উঠল?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ -এর অন্তর্গত ‘অভিষেক’ কবিতায় ইন্দ্রজিতের ধনুকের প্রচণ্ড টংকারে লঙ্কাপুরী কেঁপে উঠেছিল।
২.২.৩ ‘এবার মহানিশার শেষে’– মহানিশার শেষে কী ঘটবে বলে কবি আশা প্রকাশ করেছেন?
উত্তর: কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা অনুসারে মহানিশার শেষে সভ্যতার নতুন সূর্যোদয় ঘটবে, কবি এরকমটাই প্রত্যাশা করেছেন।
২.২.৪ “নাহি তথা দুঃখ ক্লেশ” কোথায় দুঃখ, ক্লেশ নেই?
উত্তর: সৈয়দ আলাওল রচিত ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত একটি দিব্য পুরীর বর্ণনা করেছেন। সেই স্থানটি অত্যন্ত মনোহর,এখানে দুঃখ, ক্লেশ নেই। এখানে সদাচারী মানুষের বাস, স্থানটি স্বর্গের মতোই সুন্দর।
২.২.৫ ‘হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই’ বুলেট তাড়াতে কবি আর কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?
উত্তর: জয় গোস্বামীর লেখা ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কবি হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়ানোর জন্য গানের বর্ম গায়ে পরিধান করেছেন।
২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.৩.১ ‘এই নেশা পেয়েছি আমি শরৎদার কাছ থেকে।’ কোন্ নেশার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: শ্রীপান্থের লেখা ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে প্রশ্নোউধৃত অংশে বিখ্যাত লেখক শৈলজানন্দ-এর ফাউন্টেন পেন সংগ্রহ করার যে নেশা তার কথায় বলা হয়েছে।
২.৩.২ ‘স্টাইলাস’ কী?
উত্তর: প্রাচীন রোমে ব্রোঞ্জের সরু শলাকা লেখার কাজে ব্যবহৃত হতো, যার পোশাকি নাম ‘স্টাইলাস’।
২.৩.৩ ‘পারিভাষিক শব্দ’ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পারিভাষিক শব্দ হলো সেই সকল শব্দ যা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সমাজ-বাস্তবতার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বা বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
২.৩.৪ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে কী ত্রুটি ছিল?
উত্তর: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, এমন পণ্ডিতরা পরিভাষা প্রণয়নে আত্মনিয়োগ করলেও তাঁরা কোনো যৌথ প্রক্রিয়ায় নয়, বরং পৃথক পৃথকভাবেই এই কাজ সম্পাদন করেছিলেন।
২.৪ যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.৪.১ সম্বন্ধপদ ও সম্বোধন পদের পার্থক্য কী?
উত্তর:
| সম্বন্ধপদ | সম্বোধনপদ |
|---|---|
| বাক্যে একটির নামের সাথে অন্যটির সম্পর্ক বা অধিকার বোঝাতে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকে সম্বন্ধপদ বলে। এটি সাধারণত কারক বিভক্তির ‘এর’, ‘র’, ‘দের’ ইত্যাদি দ্বারা গঠিত হয়। | বাক্যে কাউকে ডাকতে, সম্বোধন করতে বা আহ্বান করতে ব্যবহৃত শব্দ বা পদকে সম্বোধন পদ বলে। এটি সাধারণত স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয় এবং এর পরে কমা (,) বা বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) বসে। |
২.৪.২ সমধাতুজ কর্তা কাকে বলে?
উত্তর: “সমধাতুজ কর্তা” বলতে বোঝায় যে বাক্যে ক্রিয়া এবং কর্তা একই ধাতু বা মূল থেকে গঠিত। অর্থাৎ, কর্তাপদটি ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্কিত ধাতু থেকেই তৈরি হয়েছে।
২.৪.৩ ‘নির্দেশক’ বলতে কী বোঝো? একটি বাক্যে নির্দেশকের প্রয়োগ দেখাও।
উত্তর: নির্দেশক হলো এমন শব্দ বা পদ যা কোনো ব্যক্তি, প্রাণী, বস্তু বা স্থানকে নির্দিষ্ট করে বুঝায়। এটি নির্দিষ্টতা বা চিহ্নিতকরণের কাজ করে। যেমন – এই, সেই, ওই, যেই, এটি, তিনি, তাঁরা ইত্যাদি। একটি বাক্যে নির্দেশকের প্রয়োগ হল – এই বইটি আমার প্রিয়।
২.৪.৪ ‘দুশ্চিন্তাগ্রস্ত’ ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।
উত্তর: ‘দুশ্চিন্তাগ্রস্ত’ শব্দের ব্যাসবাক্য হল দুশ্চিন্তায় আগ্রস্ত এবং সমাসের নাম হল বহুব্রীহি সমাস।
২.৪.৫ ‘বহুব্রীহি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘বহুব্রীহি’ শব্দের অর্থ হল যার অনেক ধান আছে বা যে ব্যক্তি ধনী।
২.৪.৬ উপপদ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে?
উত্তর: একটি বাক্যে ক্রিয়াপদের সাথে যে পদটি (কর্ম) যুক্ত থাকে, সেটিই যদি সমাসের পূর্বপদ হয় এবং পরপদটি কোনো বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ হয়, তাহলে সেটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস। সাধারণত ‘কী’ বা ‘কেমন’ প্রশ্ন করলে উত্তর হিসেবে এই সমাসটি পাওয়া যায়।
২.৪.৭ ‘কলম তাদের কাছে আজ অস্পৃশ্য।’ – জটিল বাক্যে পরিবর্তন করো।
উত্তর: ‘কলম তাদের কাছে আজ অস্পৃশ্য।’ বাক্যটিকে জটিল বাক্যে পরিবর্তন করলে হবে – কলম আজ এমন এক বস্তু, যা তাদের কাছে অস্পৃশ্য।
২.৪.৮ ‘দেখিনু সেদিন রেলে’ এটি বাক্য নয় কেন?
উত্তর: ‘দেখিনু সেদিন রেলে’ – এটি একটি বাক্য নয়, কারণ এটির মধ্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এর সঠিক ও সম্পূর্ণ সংযোগ নেই।
২.৪.৯ কর্তৃবাচ্য কাকে বলে?
উত্তর: বাক্যে ক্রিয়াপদটি যে রূপে ব্যবহৃত হয়, তাতে কর্তা (যে কাজটি করে) প্রধান হিসেবে প্রকাশ পায়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
২.৪.১০ ‘এবিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের।’ কর্তৃবাচ্যে পরিণত করো।
উত্তর: এবিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের।’ এটিকে কর্তৃবাচ্যে পরিণত করলে হবে – এবিষয়ে তপন সন্দেহ করত।
৩। প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০ শব্দে উত্তর দাও:
৩.১ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৩.১.১ “অস্বাভাবিক হোক, নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।” নদেরচাঁদ কে? নদেরচাঁদের নদীকে ভালোবাসিবার কারণ কী?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদ হলেন একজন স্টেশনমাস্টার।
নদেরচাঁদ নদীকে ভালোবাসার কারণ ছিল এই যে, তার শৈশব, কৈশোর আর যৌবন—সবই ওই নদীর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। নদীর তীরেই তার জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে, তাই সে নদীকে চিরকাল ভালোবেসে এসেছে।
৩.১.২ ‘রাগ নামে কোনো রিপু আমার নেই।’ – বক্তা কে? তার একথা বলার কারণ কী?
উত্তর: আলোচ্য অংশটি সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। গল্পে প্রশ্নোউধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন বহুরূপী ছদ্মবেশধারী হরিদা।
একজন প্রকৃত সন্ন্যাসী হচ্ছেন তিনি, যিনি তাঁর সমস্ত জৈবিক প্রবৃত্তিকে জয় করেছেন। ফলে কাম, ক্রোধ, লোভ ইত্যাদি ষড়রিপু আর তাকে বশীভূত করতে পারে না। বিরাগী হরিদা এই কথাই বলতে চেয়েছিলেন।
৩.২ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৩.২.১ “সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।” কোন্ মেয়েটি? তার অপেক্ষার কারণ লেখো।
উত্তর: পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় উল্লিখিত সেই মেয়েটি হলেন কবির প্রিয়তমা, যাঁকে রেখে কবি চলে গিয়েছিলেন বহু দূরে।
দরজায় অপেক্ষারত মেয়েটি কবির চলে যাওয়ার পরও তার লক্ষ্যে অবিচল রয়ে গেছে। সে কখনোই বুঝতে পারেনি কবির ফিরে না আসার মানসিকতাকে। তাই তার অপেক্ষা বছরের পর বছর পাথরের মতো গুরুভার বোঝায় পরিণত হয়। দেশে যুদ্ধ আসে, সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যুদ্ধ, ধ্বংস ও মৃত্যুকে অতিক্রম করে গেছে মেয়েটির অপরিসীম ধৈর্য ও অটল অপেক্ষা—কারণ ভালোবাসার কখনো মৃত্যু হয় না, তা যুগ থেকে যুগান্তরে, কাল থেকে কালান্তরে চিরন্তনভাবে বহমান। তাই সে তার ভালোবাসার মানুষের ফিরে আসার প্রত্যাশায় পথপানে তাকিয়ে বসে ছিল।
৩.২.২ “তোরা সব জয়ধ্বনি কর।” কার জয়ধ্বনি করতে কবির এই আহ্বান? কেন তার ‘জয়ধ্বনি’ করতে হবে?
উত্তর: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে। কবিতায় মহাকালের জয়ধ্বনি করতে কবি আহ্বান জানিয়েছেন।
তোরা সবাই জয়ধ্বনি কর — এই স্লোগানের পেছনের কারণ হলো, কবি তাঁর কবিতায় আসন্ন মহাপ্রলয় বা ধ্বংসাত্মক শক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এই প্রলয়কে ধ্বংসের চিহ্ন হিসেবে না দেখে বরং নতুন সৃষ্টির সূচনাকারী একটি অনিবার্য, ভয়াবহ অথচ মঙ্গলময় আগমন বলে বর্ণনা করেছেন। এই প্রলয় একদিকে পুরাতন ও পাপিষ্ঠ শক্তিগুলোকে ধ্বংস করবে, অন্যদিকে নিয়ে আসবে নতুন সমাজ ও স্বাধীনতার এক যুগ, যার জন্য কবি জয়ধ্বনি করে বরণ করে নেওয়ার ডাক দিয়েছেন।
৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৪.১ “এমন সৌভাগ্যকেও অপূর্বর মন যেন গ্রাহ্যই করিল না।” এখানে কোন্ ঘটনার ইঙ্গিত করা হয়েছে? তাকে ‘সৌভাগ্য’ বলা হল কেন?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসে অপূর্ব থানায় যায় তার ঘরে সংঘটিত চুরির ঘটনা রিপোর্ট করতে এবং ডায়েরি লিখতে। কিন্তু সেখানে পৌঁছে সে দেখে যে, তার কাকা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিমাইবাবু এবং তার পুলিশ বাহিনী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে গ্রেপ্তারের নামে এক অদ্ভুত নাটক মঞ্চস্থ করছে। এই অস্বাভাবিক ঘটনারই ইঙ্গিত এখানে রয়েছে।
পুলিশ স্টেশন থেকে বাড়ি ফিরে আসার পর, অপূর্বর সমস্ত মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয় তখনকার ঘটনাগুলোর দিকে। তার মনে দৃঢ় ধারণা জন্মায় যে গিরীশ মহাপাত্রই আসলে ছদ্মবেশী সব্যসাচী মল্লিক। দেশের প্রতি সব্যসাচীর অপরিসীম ভালোবাসা এবং মাতৃভূমির জন্য তাঁর আত্মত্যাগের কারণে অপূর্বর হৃদয়ে জেগে ওঠে এক গভীর সমর্থন। গিরীশ মহাপাত্রের রূপে থাকা সব্যসাচীকে অপূর্ব অন্তরের গভীর থেকে শ্রদ্ধা করতে থাকে, কারণ সে উপলব্ধি করে যে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সব্যসাচীকে ধরা থেকে বাঁচানো তার নিজের জন্য এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। এই কারণেই, পুলিশের যা দুর্ভাগ্য, তা-ই অপূর্বর কাছে পরিণত হয় সৌভাগ্যে। অপূর্ব মনে করত, সব্যসাচী মল্লিকের হাতে দেশবাসীর লজ্জা ও অপমোচন—এটাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ পরিস্থিতিকেই ‘সৌভাগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছিল অপূর্ব।
৪.২ ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প অবলম্বনে তপন চরিত্রটির পরিচয় দাও।
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপন। গল্পে তার চরিত্রের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। লেখকদের সম্পর্কে তপনের মনে ছিল গভীর বিস্ময়। সে মনে করত, লেখকরা যেন অন্য কোনো জগতের মানুষ; সাধারণ মানুষের সাথে তাদের কোনো মিল নেই। কিন্তু ছোটোমাসির বিয়ের পর তার এই ধারণা সম্পূর্ণ বদলে যায়। কারণ, তার নতুন মেসো নিজেই ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক, যার অনেকগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে। একজন লেখককে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে তপনও অনুপ্রাণিত হয় এবং একটি গল্প লিখে ফেলে। তার নতুন মেসো গল্পটির প্রশংসা করলে তপন লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। পরবর্তীতে, ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তার গল্পটি প্রকাশিত হলে তপন বিস্মিত হয়ে যায়। কিন্তু এই বিস্ময় আনন্দের বদলে হতাশায় পরিণত হয় যখন সে দেখে যে, মেসো গল্পটি সংশোধন করতে গিয়ে মৌলিক রচনাটিকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছেন। তপন নিজের লেখায় নিজেকেই খুঁজে পায় না। এই পরিবর্তন সে মেনে নিতে পারে না। এর ফলে তপন গভীরভাবে হতাশ হয়। তবে এই হতাশা থেকেই সে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। সে সংকল্প করে যে, ভবিষ্যতে তার লেখা সে নিজেই পত্রিকা অফিসে জমা দেবে, সেটি প্রকাশিত হোক আর নাই হোক। এই আত্মসম্মানবোধ ও স্বাধীনচেতা মনোভাবই তপনকে একজন দৃঢ়সংকল্প ব্যক্তিতে পরিণত করে।
৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৫.১ ‘আমাদের ইতিহাস নেই’ কাদের, কেন ইতিহাস নেই?’ -এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে সভ্যতার কোন্ কলঙ্কিত ইতিহাসকে বোঝাতে চাওয়া হয়েছে?
উত্তর: “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতায় কবি বিশ্বব্যাপী খেটে খাওয়া সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহাসিক স্বীকৃতিবিহীন অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। বিশ্ব ইতিহাস রচিত হয় শাসক ও সাম্রাজ্যবাদীদের ইচ্ছা ও পরিকল্পনায়। তাই সেখানে দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের প্রকৃত অবস্থানের কখনও সঠিক প্রতিফলন ঘটে না। ক্ষমতাধরদের দম্ভ ও দাপটে শিকড়হারা মানুষের যে সম্পূর্ণ বিস্মৃত দারিদ্র্য ও দৈন্য, তা ‘আমাদের ইতিহাস নেই’ এই বাক্যের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
বর্তমান সময়ে হিংসা ও রণরক্তে বিধ্বস্ত সাধারণ মানুষের দুরবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে কবি ইতিহাসের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন। কোনো দেশ বা জাতির সমাজ, সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিবর্তনের ধারাবাহিক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মধ্য দিয়েই মানুষের ইতিহাস গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রচলিত ইতিহাস কিংবা ক্ষমতাবানদের সৃষ্ট ইতিহাসে প্রধানত স্থান পায় শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থ। সেখানে বিকৃতি, বিভ্রান্তি ও মিথ্যার প্রসারে প্রকৃত ইতিহাস তার স্বকীয়তা হারায়। সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে ভুলে যেতে থাকে তাদের ঐতিহ্য, শিকড়, স্বপ্ন ও সংগ্রামের বাস্তব কাহিনী। তারা দিশাহীন বিচ্ছিন্নতার স্রোতে পথ হারিয়ে ফেলে। তাই কবি, যখন সাধারণ মানুষের ইতিহাসের উপস্থিতি-অনুপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইতিহাস রচনা করেন, তখন মানুষের মধ্যে সৃষ্ট বিভ্রান্তির চিত্রও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শাসকগোষ্ঠীর উদ্দেশ্য সফল করতে চাপিয়ে দেওয়া এই মিথ্যা ইতিহাসের কলঙ্কিত রূপই কবির ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের লক্ষ্য হয়েছে।
৫.২ ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: জয় গোস্বামী তাঁর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় অস্ত্র ও পেশিশক্তির বিরুদ্ধে মানুষের সুস্থ রুচি ও নান্দনিকতার প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলেছেন। অস্ত্রের মোকাবিলায় মানুষদের গান-কে হাতিয়ার করে তুলতে দেখি আমরা। গান-কে অবলম্বন করেই কবি অর্জন করেছেন এক অসাধারণ শক্তি, যা তাঁকে বুলেট প্রতিহত করার ক্ষমতা দিয়েছে। গান তাঁকে বেঁধেছে এক আশ্চর্য একাত্মবোধে। তাই তাঁর হাতে হাত মিলিয়েছে হাজার হাজার মানুষ, পায়ে পা মিলিয়েছে হাজার হাজার পা। দৃঢ়চিত্তে তিনি বলতে পেরেছেন— “অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে।” পৃথিবীর ইতিহাসে অস্ত্র কখনো চূড়ান্ত কথা বলেনি। মানুষের শুভবুদ্ধি, ঐক্য ও সৃজনশীলতাই জয়লাভ করেছে। এই কবিতায় গান তারই প্রতীক। গানই কবিকে মানুষের কাছেই নিয়ে গেছে, রক্ত মুছে দিয়ে তাকে সুন্দরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। গানের রয়েছে নানা রূপ, নানা বিষয়, তার সুরের অফুরান বৈচিত্র্য। কখনো তা ঋষিবালকের মতোই কোমল, নিষ্পাপ; আবার কখনো তার ছোঁয়ায় জড়িয়ে থাকে কোকিলের মোহনীয় সুর। যখন যুদ্ধপিপাসু মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়ে মনুষ্যত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখন গানের বর্ম পরেই কবি সহজেই অস্ত্রকে পরাজিত করেন।
৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৬.১ ‘কলমকে বলা হয় তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর।’ বহিরঙ্গভাবে একথার ভিত্তি কী? বক্তব্যের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ স্মৃতি-নিবন্ধে লেখক-সাংবাদিক শ্রীপান্থ ঝরনা কলম বা ফাউন্টেন পেনের বর্ণনা করতে গিয়ে একটি প্রশ্নের অবতারণা করেছেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে ‘ব্যারেল’, ‘কার্টিজ’-এর মতো শব্দ ফাউন্টেন পেন এবং বন্দুক – দুক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।
মূল বক্তব্য – কলমের শক্তি হল বিচারবোধ, সত্য ও ন্যায়ের শক্তি, যা শারীরিক বল বা হিংসার চেয়ে অনেক বেশি স্থায়ী ও গভীর প্রভাব রাখে। এটি মনের উপর কাজ করে, সমাজ ও ইতিহাস বদলে দেয়।
স্থায়িত্ব ও নৈতিক জয় – তলোয়ার ক্ষণস্থায়ী ভয় ও ধ্বংস সৃষ্টি করে, কিন্তু কলমের লেখনী চিন্তা, আদর্শ ও সত্যকে চিরন্তন করে তোলে। এটি মানুষের চেতনাকে নাড়া দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনে।
সৃজনশীলতার শক্তি – রবীন্দ্রনাথ বা সত্যজিৎ রায়ের উদাহরণে দেখা যায়, কলম বা হাতের লেখা কেবল তথ্য বহন করে না, তা শিল্পসৃষ্টিরও বাহন। এটি মানবিক আবেগ ও সৌন্দর্যবোধের প্রকাশ, যা যান্ত্রিক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও উচ্চমার্গীয়।
নৈতিক দায়বদ্ধতা – কলমের এই শক্তি লেখকের কাছে এক দায়িত্বও বটে। কারণ, এটির অপব্যবহার সমাজে বিভেদ ও মিথ্যা ছড়াতে পারে। তাই এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা লেখকের কর্তব্য।
সারমর্ম – কলমের শক্তি হল মূল্যবোধ, সত্য ও সৃজনশীলতার শক্তি। এটি মানবিক চেতনার রূপান্তর ঘটায়, ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করে এবং একই সাথে শিল্প ও সৌন্দর্যের ধারক হয় – যা কোনো যন্ত্র বা অস্ত্রের পক্ষে সম্ভব নয়।
৬.২ “গোড়া থেকে না লিখলে বোধগম্য হয় না।” -কী বোধগম্য হয় না? কেন বোধগম্য হয় না? বোধগম্য হওয়ার জন্য কী করতে হবে বলে প্রাবন্ধিক মনে করেন?
উত্তর: কোনো বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ বা রচনা বোধগম্য হয় না।
বোধগম্য না হওয়ার পিছনে মূলত দুটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে –
প্রাথমিক বিজ্ঞান জ্ঞানের অভাব – পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় এদেশের জনসাধারণের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ভিত্তি দুর্বল। ফলে, প্রাথমিক ধারণা না জানায় জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তু তারা বুঝতে পারে না।
লেখকের রচনাপদ্ধতির দোষ – অনেক বাংলা বিজ্ঞান লেখক যথাযথ রচনাপদ্ধতি আয়ত্ত করতে পারেননি। তাদের ভাষা প্রায়শই আড়ষ্ট ও ইংরেজি বাক্য গঠনের আক্ষরিক অনুবাদ হয়, যা স্বাভাবিক বোঝার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
প্রাবন্ধিকের মতে, বৈজ্ঞানিক রচনা বোধগম্য করতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা প্রয়োজন –
গোড়া থেকে লেখা – জনসাধারণের জন্য লেখার সময় প্রাথমিক বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণাগুলো গোড়া থেকে ব্যাখ্যা করতে হবে।
লেখকদের সচেতনতা – বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা যাঁরা লিখবেন তাঁদেরকে পাঠকের প্রাথমিক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবহিত হতে হবে।
সঠিক রচনাপদ্ধতি ও ভাষার ব্যবহার – লেখকদেরকে বিজ্ঞান আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সহজ-সরল রচনাশৈলী আয়ত্ত করতে হবে। ইংরেজি বাক্য গঠন ও শব্দের আক্ষরিক অনুবাদ পরিহার করে প্রাঞ্জল বাংলা ব্যবহার করতে হবে।
প্রাসঙ্গিক ও স্বাভাবিক শব্দচয়ন – ইংরেজি শব্দের অর্থব্যাপ্তির সাথে মিল রেখে বাংলা প্রতিশব্দ ব্যবহারের জটিলতা ত্যাগ করে, প্রসঙ্গ অনুযায়ী সহজবোধ্য ও স্বতন্ত্র বাংলা শব্দ (যেমন- ‘সুগ্রাহী কাগজ’) ব্যবহার করতে হবে।
৭। কমবেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৭.১ “আমরা নবাবের নিমক বৃথাই খাই না, এ কথা তাঁদের মনে রাখা উচিত।” কোন্ প্রসঙ্গে বক্তার এই উক্তি? নিমক খাওয়ার তাৎপর্য কী? উক্তিটি থেকে বক্তার চরিত্রের কী পরিচয় পাওয়া যায়?
উত্তর: উদ্ধৃতিটি সিরাজউদ্দৌলার দরবারে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মীরজাফর ও অন্যান্য আমির-ওমরাহদের বিরুদ্ধে মোহনলালের তীব্র প্রতিবাদের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। যখন মীরজাফর নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হুমকি দেন যে, তিনি যদি মানী-লোকদের (অভিজাত শ্রেণী) অপমান করেন তবে মীরজাফর আর নবাবের পক্ষে অস্ত্র ধারণ করবেন না, তখন মোহনলাল তাকে জবাব দেন। মোহনলাল মীরজাফরের সেই ভণ্ডামি ও নবাবের প্রতি তার বিশ্বস্ততার অভাব তুলে ধরে বলেন যে, মীরজাফর ইতিপূর্বেই নবাবের স্বপক্ষে কার্যত কোন সাহায্য করেননি। এই প্রেক্ষাপটে মোহনলাল নবাবের প্রতি তার নিজের ও প্রকৃত বিশ্বস্তদের আনুগত্যের কথাটি স্মরণ করিয়ে দিতে গিয়ে উপরোক্ত উক্তিটি করেন।
মীরমদন ছিলেন সিরাজউদ্দৌলার বেতনভুক কর্মচারী। তাই তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনই যে তাঁর কর্তব্য, এই কথাটি বোঝাতেই এই উক্তিটির অবতারণা। মীরমদন তাঁর চারিত্রিক মজ্জাগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই কোনও ষড়যন্ত্রের অংশ হননি। তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
সততা – তিনি ছিলেন একজন সৎ ও চরিত্রবান সৈনিক। তাই রাজদরবারের সংখ্যাগরিষ্ঠের দুর্নীতিপরা পরিবেশও তাঁকে দূষিত করতে পারেনি।
দৃঢ়তা – তিনি অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও পরিশীলিত হলেও প্রয়োজন হলে কঠোরতা দেখাতেও পিছপা হতেন না। তাই সর্বসমক্ষে মীরজাফরকে অপ্রিয় সত্য কথা বলতে তিনি দ্বিধাবোধ করেননি। এটি তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তারই পরিচয়।
অনুগত্য – নবাবের প্রতি মীরমদনের আনুগত্য ছিল নিরঙ্কুশ। এই বীর ব্যক্তি নিজের ক্ষমতা ও অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন। তাই নবাবের অন্যান্য সভাসদরা যখন নবাবের প্রতি দুর্ব্যবহার ও স্পর্ধা দেখাতেন, মীরমদন আত্মবিশ্বাসের সাথে তাদের প্রতিহত করতেন। কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও আনুগত্য – এই তিনটি গুণই মীরমদনের চরিত্রে নম্রতা, দৃঢ়তা ও অটুট বিশ্বস্ততার এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছিল।
৭.২ “এইবার হয়ত শেষ যুদ্ধ।” কোন্ যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে? বক্তা এই যুদ্ধকে ‘শেষ যুদ্ধ’ বলেছেন কেন?
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা আসন্ন পলাশির যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।
নবাব বাংলার সিংহাসনে আরোহণের পরই সিরাজ কাশিমবাজার কুঠি দখল করেন এবং চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রাক্কালে কলকাতা আক্রমণ করে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন। কিন্তু মাদ্রাজ থেকে রবার্ট ক্লাইভের প্রত্যাবর্তন ও কলকাতা পুনর্দখলের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষ আলিনগরের সন্ধি স্বাক্ষরে বাধ্য হয়। এটা ছিল কেবলই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি। ইংরেজরা উপলব্ধি করেছিল যে স্বাধীনচেতা সিরাজকে সিংহাসনচ্যুত না করলে বাংলায় তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। ফলে তারা মীরজাফরকে নতুন নবাব বানানোর পরিকল্পনায় রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ ও জগৎশেঠদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। এই লক্ষ্যেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনী আবারও কাশিমবাজারের দিকে অগ্রসর হয়। অসমঝোতাপ্রিয় সিরাজ সকল হিন্দু-মুসলিম সভাসদকে নিয়ে একত্রিত হয়ে শত্রুমোকাবিলার চেষ্টা চালান, কারণ তিনি বুঝেছিলেন যে পলাশির যুদ্ধে পরাজয় মানেই স্বাধীন বাংলার পতন। এই কারণেই শেষ যুদ্ধ ধ্বনিত হয়েছে ষড়যন্ত্রে জর্জরিত সিরাজের কণ্ঠে।
৮। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৮.১ কোনির ভালো নাম কী? তার জীবনসংগ্রামের কাহিনি সংক্ষেপে বিবৃত করো।
উত্তর: প্রখ্যাত লেখক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ গল্পের প্রধান চরিত্র কোনির ভালো নাম হল কনকচাঁপা পাল।
গল্পের প্রধান চরিত্র হলেন কনকচাঁপা পাল, ওরফে কোনি। এই রচনায় লেখক কোনির জীবনসংগ্রামের এক বাস্তব চিত্র এঁকেছেন। কোনি তার জীবনে একদিকে যেমন দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, অন্যদিকে তেমনি নানা বঞ্চনার শিকার হয়েছে; তবুও নিজের দক্ষতা ও অদম্য মনোবল দিয়ে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছে। কোনি জন্মগতভাবেই এক অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাই তাকে জীবনের শুরুর দিন থেকেই দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করতে হয়েছে। সাত ভাইবোন ও মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়ার অক্ষমতায় তার দাদা তাকে মাত্র পনেরো টাকার বিনিময়ে এক চায়ের দোকানে কাজে লাগিয়ে দেন। ক্ষিতীশ সিংহ যদি কোনিকে সাঁতার শিখিয়ে ভরণপোষণের দায়িত্ব না নিতেন, তাহলে তাকে সুতোয়ার কারখানায় কাজ করতে হতো। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম দাদাও যখন মারা যান, কোনি সম্পূর্ণ অর্থকষ্টে পড়ে যায়। পরে অবশ্য ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতীর দর্জির দোকানে কাজ করে মাসে চল্লিশ টাকা আয় করতে শুরু করে, যার মাধ্যমে সে সংসার কোনোমতে চালাতে থাকে। কোনির জীবন যেন বঞ্চনার আরেক নাম। ক্ষিতীশ সিংহ তাকে জুপিটার ক্লাবে নিয়ে গেলে সেখানেও সে বঞ্চনার সম্মুখীন হয়। পরবর্তীতে তাকে অ্যাপেলো ক্লাবে ভর্তি হতে হয়। সাঁতারু জীবনে তাকে অনেক অপমানজনক কথা শুনতে হয়। জুপিটার সুইমিং ক্লাবের বার্ষিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় তার প্রবেশাধিকার পর্যন্ত গৃহীত হয়নি। মাদ্রাজের জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে নানা ভাবে বঞ্চনার শিকার হতে হয়। পরে বালিগঞ্জ ক্লাবের ট্রেনার প্রাণবন্ধুর সুপারিশে তাকে দলের সাথে মাদ্রাজে নিয়ে গেলেও কোন প্রতিযোগিতায় তাকে নামানো হয়নি; বরং অকারণে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে অপমানিত ও প্রহার করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, ভাগ্যের পরিহাসে, অসুস্থ আমিয়ার পরিবর্তে আকস্মিকভাবে সে সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং দেশের সেরা সাঁতারু হয়ে বাংলার হাতে ট্রফি তুলে দেয়। এভাবেই কোনি দারিদ্র্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছায়। তবে এই সাফল্যের পেছনে ক্ষিতীশ সিংহের অনুপ্রেরণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একজন প্রকৃত চ্যাম্পিয়নের মতো সকল বাধা অতিক্রম করে কোনি নিজের এবং তার গুরু ক্ষিতীশ সিংহের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়।
৮.২ “আপনি আমার থেকে চার হাজার গুণ বড়োলোক, কিন্তু চার লক্ষ টাকা খরচ করেও আপনি নিজে শরীরটাকে চাকর বানাতে পারবেন না।” বক্তা কাকে, কেন একথা বলেছিলেন?
উত্তর: ‘কোনি’ উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ে ক্ষিতীশ সিংহ বিষ্টুচরণ ধরকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্যটি করেছিলেন।
কথনটির প্রেক্ষাপট – ধনী ব্যবসায়ী বিষ্টুচরণ ধর ছিলেন সাড়ে তিন মণ ওজনের দেহের অধিকারী। তাঁর দৈত্যাকার দেহটি নানান ভঙ্গিতে মালিশ হতে দেখে ক্ষিতীশ সিংহ বিদ্রূপ করে তাঁকে হাতি বা গণ্ডারের সাথে তুলনা করেন। এছাড়া তিনি বিষ্টুচরণকে ‘চাঁটি মেরে পালানো’র ইঙ্গিতও দেন। “খাওয়ায় আমার লোভ নেই” দাবি করলেও বিষ্টুচরণের ডায়েটের তালিকা শুনে ক্ষিতীশ বিদ্রুপের সুরে বলেন, “এত কেচ্ছাসাধন করেন!” তিনি বিষ্টুচরণের ওজনকে হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেন। শরীরকে চাকর বানানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন যে মন বা ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে শারীরিক কামনা-বাসনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। নিয়মিত ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে সুস্থ থাকার গুরুত্ব বোঝান ক্ষিতীশ। নিজের দৈহিক ও মানসিক শক্তি দিয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে, বিষ্টুচরণের চেয়ে বয়সে বড় হওয়া সত্ত্বেও তিনি উভয় দিক থেকেই অনেক বেশি শক্তিশালী। ক্ষিতীশের হাত পুরো শক্তি দিয়েও নড়াতে না পেরে শেষমেষ বিষ্টুচরণ যখন হেরে যান, তখনই ক্ষিতীশ এই উক্তিটি করেন।
৮.৩ “ঘুমের মধ্যেই কোনির মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।” কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি করা হয়েছে? উক্তিটির মর্মার্থ পরিস্ফুট করো।
উত্তর: : ঘুমের মধ্যেই কোনির মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।” — এই উক্তিটি করা হয়েছে কোনির ঘুমের মধ্যেকার ক্ষিতীশের সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গে। ক্ষিতীশ কোনির ঘুম ভাঙাননি, বরং তার মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন। ঘুমের আবেশে কোনি ক্ষিতীশকে নিজের দাদা বলে ভেবে নিয়েছিল। দাদা তাকে দিল্লি, মুম্বাই, লন্ডন, নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন—এই কল্পনায় কোনি অশেষ আনন্দ অনুভব করেছিল। সেই আনন্দেই তার মুখে অপার্থিব উজ্জ্বলতা ফুটে ওঠে। জাগ্রত অবস্থায় যে গভীর ভালোবাসা ও দাদার প্রতি মমতা কোনি মনের গভীরে লুকিয়ে রাখত, তা ঘুমের অচেতন অবস্থায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ পায়। ক্ষিতীশের স্নেহময় স্পর্শ ও সেই কল্পিত আনন্দের ফলে কোনির মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। উক্তিটির মাধ্যমে লেখক কোনির অন্তরের স্নেহ, ভালোবাসা ও আকুলতার নিঃস্বার্থ প্রকাশকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন
৯। চলিত বাংলায় অনুবাদ করো:
Wealth is no doubt necessary for happiness in life. But it has a tendency to concentrate in the hands of few. The result is the rich become richer and the poor poorer. This is certainly a misuse of wealth. It should be fairly distributed among all. So that it may bring happiness to the greatest number of people in the society.
১০। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
১০.১ প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
উত্তর:
প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
রবি: আরে সুমন, আজকাল দেখছি সর্বত্র প্লাস্টিকের জিনিসের ব্যবহার বেড়েই চলেছে।
সুমন: হ্যাঁ রে, প্লাস্টিক ছাড়া এখন কিছুই চলে না—বাজারের ব্যাগ থেকে শুরু করে বোতল, প্যাকেট—সবই প্লাস্টিকের।
রবি: ঠিক বলেছিস, কিন্তু জানিস তো, এই প্লাস্টিকই এখন পরিবেশের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠছে।
সুমন: একদম ঠিক। নদী, সমুদ্র, মাটি—সব জায়গায় প্লাস্টিকের বর্জ্য জমে যাচ্ছে। এতে প্রাণী ও উদ্ভিদজগৎ ভয়ানক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
রবি: আমরাও তো এতে দায়ী। অযথা প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করতে পারলে অনেকটাই সমস্যা কমবে।
সুমন: হুম, আমাদের উচিত কাপড়ের ব্যাগ বা কাগজের প্যাকেট ব্যবহার করা, যাতে প্রকৃতি বাঁচে।
রবি: একদম! প্লাস্টিক রিসাইকেল করাও জরুরি। সবাই যদি সচেতন হয়, তবে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব।
সুমন: ঠিক বলেছিস বন্ধু, ছোট ছোট উদ্যোগই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
১০.২ বিদ্যালয়ের শতবর্ষের অনুষ্ঠান বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
উত্তর:
বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠান
নিজস্ব সংবাদদাতা, ১২জানুয়ারি ২০২৫: আমাদের বিদ্যালয় বিদ্যাসাগর উচ্চ বিদ্যালয় তার শতবর্ষ উদ্যাপন করে। এই ঐতিহাসিক দিনটি উদ্যাপন করতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবের রূপ নেয়। সকাল আটটায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রধান শিক্ষক স্বাগত ভাষণ দেন এবং বিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরেন। এরপর প্রধান অতিথি, মাননীয় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক মহাশয়, বিদ্যালয়ের সাফল্যের প্রশংসা করে ছাত্রছাত্রীদের আরও মনোযোগী ও আদর্শ নাগরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা গান, কবিতা, নাটক ও নৃত্য উপস্থাপন করে। প্রাক্তন শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে সভাপতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
বিদ্যালয়ের শতবর্ষ অনুষ্ঠানটি সকলের মনে এক স্মরণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
১১। কমবেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো:
১১.১ বিশ্ব উন্নায়ন।
উত্তর:
বিশ্ব উন্নয়ন
বিশ্ব উন্নয়ন বলতে বোঝায় সমগ্র পৃথিবীর মানুষের জীবনমানের সামগ্রিক অগ্রগতি। অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে যখন কোনো দেশ বা বিশ্ব এগিয়ে যায়, তখনই তাকে উন্নয়ন বলা হয়। বর্তমান যুগে বিশ্ব উন্নয়ন একটি বহুল আলোচিত বিষয়। উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত—এই তিন শ্রেণির দেশ মিলেই আজকের পৃথিবী। তবে বিশ্বে প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সব দেশের মানুষ সমান সুযোগ ও অধিকার ভোগ করতে পারবে।
প্রথমেই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বলা যায় বিশ্ব উন্নয়নের মূলভিত্তি। শিল্প, কৃষি, বাণিজ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির মাধ্যমে দেশগুলির উৎপাদনশীলতা বাড়ছে। উন্নত দেশগুলো যেমন আমেরিকা, জাপান, জার্মানি ইত্যাদি শিল্প ও প্রযুক্তির মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়েছে, তেমনি উন্নয়নশীল দেশগুলোও আজ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিজ্ঞানচর্চার বিস্তার বিশ্ব উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
শিক্ষা ও জ্ঞানের বিস্তারও বিশ্ব উন্নয়নের অন্যতম শর্ত। শিক্ষিত সমাজই উন্নত সমাজ গড়ে তোলে। আজকের বিশ্বে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি শিক্ষা ও গবেষণার ফল। ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানুষ আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে। ফলে বিশ্বের দেশগুলির মধ্যে সম্পর্কও সুদৃঢ় হচ্ছে।
তবে বিশ্ব উন্নয়ন শুধু অর্থনীতি বা প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দারিদ্র্য, ক্ষুধা, বেকারত্ব, অসাম্য, যুদ্ধ—এসব সমস্যা আজও বহু দেশে বিরাজমান। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বশান্তি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য” (Sustainable Development Goals – SDG) এর মাধ্যমে তারা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত ও সমতাভিত্তিক পৃথিবী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষাও জরুরি। নির্বিচারে বনধ্বংস, দূষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় আমাদের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলছে। তাই বিশ্ব উন্নয়নকে অবশ্যই পরিবেশবান্ধব ও মানবকল্যাণমূলক হতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, প্রকৃত বিশ্ব উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ—সবকিছুর সমন্বয় ঘটবে। একে অপরের সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমেই পৃথিবী হতে পারে সত্যিকারের শান্তি ও সমৃদ্ধির নীড়।
১১.২ একটি নদীপথের আত্মকথা।
উত্তর:
একটি নদীপথের আত্মকথা
আমি একটি নদী। আমার জন্ম বহু দূরের পাহাড়ের কোলে, ঝরনার বুকে। প্রথমে আমি ছিলাম ছোট্ট একটি ধারা, কুলকুল শব্দে পাহাড়ি পথ বেয়ে নেমে এসেছিলাম সমতলের দিকে। তখন আমার জল ছিল স্বচ্ছ, ঠান্ডা, আর আমার দু’ধারে ছিল সবুজ গাছপালা আর পাখির কূজন। মানুষের বসতি খুব কম ছিল, তাই আমার জলে কেউ ময়লা ফেলত না, আমিও আনন্দে বয়ে চলতাম।
ধীরে ধীরে আমি বড় হয়েছি। ছোট ছোট ঝর্ণা ও খাল এসে আমার সঙ্গে মিলেছে। আমার তীরে মানুষ বসতি গড়েছে, চাষবাস শুরু করেছে। আমার জল তাদের জমিতে প্রাণ দিয়েছে। আমার জলে ভেসে চলত নৌকা, জেলেরা জাল ফেলত, শিশুরা জলে স্নান করত, আর তীরের ধারে বসে কবিরা গান লিখত। আমি গর্বিত ছিলাম, কারণ আমি মানুষের জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি এনে দিতাম।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বদলে গেল। এখন আমার জল আর আগের মতো স্বচ্ছ নেই। মানুষ আমার তীরে কারখানা গড়েছে, ময়লা-আবর্জনা আর বিষাক্ত পদার্থ আমার জলে ফেলে দিচ্ছে। আমার বুকের মাছগুলো মরছে, আর আমার জলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আগে যেসব মানুষ আমার তীরে স্নান করত, তারা এখন দূরে থাকে। আমি কষ্ট পাই, কারণ আমি তো তাদের মঙ্গলেই সৃষ্টি হয়েছিলাম।
বর্ষাকালে এখন আমি ভয়ঙ্কর রূপ নেই। বন ধ্বংসের কারণে পাহাড় থেকে নেমে আসে কাদা, পাথর, বন্যা। আমি তখন উচ্ছ্বসিত রোষে উপচে পড়ি, ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিই—কিন্তু সেটাও আমার ইচ্ছা নয়। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণেই আমাকে আজ মানুষ ভয় পায়।
তবু আমি আশা হারাইনি। যদি মানুষ আবার প্রকৃতিকে ভালোবাসে, যদি তারা আমার তীরে গাছ লাগায়, ময়লা ফেলা বন্ধ করে, তবে আমি আবার আগের মতো সুন্দর হয়ে উঠব। আমার জলে আবার ফুটবে শাপলা-শালুক, উড়বে বক আর কোকিল গান গাইবে আমার তীরে।
আমি নদী—মানুষের বন্ধু, প্রকৃতির স্রোতধারা। মানুষ যদি আমায় বাঁচায়, আমি চিরকাল তাদের জীবনকে বাঁচিয়ে রাখব।
১১.৩ দেশাত্মবোধ ও জাতীয় অগ্রগতি।
উত্তর:
দেশাত্মবোধ ও জাতীয় অগ্রগতি
দেশাত্মবোধ এমন একটি মহৎ অনুভূতি, যা একজন মানুষকে তার দেশ, সমাজ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করে। দেশাত্মবোধ মানে কেবল নিজের দেশকে ভালোবাসা নয়, বরং দেশের উন্নতি, ঐক্য ও অগ্রগতির জন্য ত্যাগ স্বীকার করাও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যেসব জাতি তাদের দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ অনুভব করেছে, তারাই বিশ্বের দরবারে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পেরেছে।
একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক কখনও নিজের স্বার্থকে দেশের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না। সে দেশের সম্পদ রক্ষা করে, আইন মানে, সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং দেশের উন্নয়নে নিজের শ্রম ও মেধা উৎসর্গ করে। যেমন—মহাত্মা গান্ধী, সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ দেশাত্মবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও অগ্রগতির জন্য অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাদের দেশপ্রেম আজও আমাদের প্রেরণার উৎস।
জাতীয় অগ্রগতি বলতে বোঝায়—দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক উন্নয়ন। একটি দেশের প্রকৃত অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন দেশের নাগরিকেরা দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে একযোগে কাজ করে। যদি প্রত্যেক নাগরিক নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে—দুর্নীতি না করে, পরিশ্রম করে, শিক্ষা গ্রহণ করে এবং অন্যের কল্যাণে কাজ করে—তাহলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সহজেই সম্ভব।
বর্তমানে আমাদের দেশ দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও শিল্পক্ষেত্রে নানা সাফল্য অর্জিত হচ্ছে। কিন্তু এই অগ্রগতিকে টেকসই করতে হলে দেশাত্মবোধ জাগ্রত থাকা প্রয়োজন। যদি আমরা দেশকে নিজের পরিবারের মতো ভালোবাসি, তার জন্য কাজ করি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সুতরাং বলা যায়, দেশাত্মবোধই জাতীয় অগ্রগতির মূল ভিত্তি। দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত নাগরিকই পারে দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে। তাই আমাদের সকলের কর্তব্য—দেশকে ভালোবাসা, তার মর্যাদা রক্ষা করা এবং সর্বদা তার অগ্রগতির জন্য কাজ করে যাওয়া।
১১.৪ অতিমারি কোভিড-১৯।
উত্তর:
অতিমারি কোভিড–১৯
কোভিড–১৯ একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ অতিমারি। এটি এক ধরনের সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যার উৎপত্তি চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালের শেষের দিকে। খুব দ্রুত এই ভাইরাস সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক গভীর সংকট সৃষ্টি করে।
এই রোগের মূল কারণ হলো “করোনা ভাইরাস” নামক এক ক্ষুদ্র জীবাণু। এটি বাতাসের মাধ্যমে বা স্পর্শের দ্বারা একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়। গুরুতর অবস্থায় ফুসফুসের সংক্রমণ ও মৃত্যুও ঘটতে পারে।
কোভিড–১৯ এর প্রভাবে গোটা পৃথিবী থমকে যায়। স্কুল–কলেজ, অফিস–আদালত, পরিবহন—সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। মানুষ ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হয়। অর্থনীতি ভেঙে পড়ে, অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক ব্যবহার, ঘন ঘন হাত ধোয়া ও টিকাকরণই হয়ে ওঠে এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
তবে এই ভয়াবহ সময়েও মানবজাতি হাল ছাড়েনি। চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ, পরিচ্ছন্নতা কর্মী—সবাই নিজেদের জীবন বিপন্ন করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা নিরলস পরিশ্রম করে টিকা আবিষ্কার করেছেন, যা অনেক দেশেই মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছে।
এই অতিমারি আমাদের শিখিয়েছে, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা জরুরি। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের গুরুত্বও আমরা বুঝেছি।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, কোভিড–১৯ শুধু একটি রোগ নয়, এটি মানবজীবনের এক কঠিন শিক্ষা। এই অতিমারি আমাদের ঐক্য, সহমর্মিতা এবং আত্মনির্ভরতার পাঠ দিয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ রকম সংকট আবার না আসে, সে জন্য আমাদের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করতে হবে।
MadhyamikQuestionPapers.com এ আপনি অন্যান্য বছরের প্রশ্নপত্রের ও Model Question Paper-এর উত্তরও সহজেই পেয়ে যাবেন। আপনার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কেমন লাগলো, তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আরও পড়ার জন্য, জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য MadhyamikQuestionPapers.com এর সাথে যুক্ত থাকুন।
