Madhyamik Question Papers

ইতিহাস Model Question Paper 9 (2026) এর উত্তর – Class 10 WBBSE

History
History Model Question Paper 9 2026 Answer Thumbnail

আপনি কি ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ইতিহাস Model Question Paper 9 এর সমাধান খুঁজছেন? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই আর্টিকেলে আমরা WBBSE-এর ইতিহাস ২০২৬ মাধ্যমিক ইতিহাস Model Question Paper 9-এর প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও বিস্তৃত সমাধান উপস্থাপন করেছি।

প্রশ্নোত্তরগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা সহজেই পড়ে বুঝতে পারে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যবহার করতে পারে। ইতিহাস মডেল প্রশ্নপত্র ও তার সমাধান মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ও সহায়ক।

MadhyamikQuestionPapers.com, ২০১৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষার সমস্ত প্রশ্নপত্র ও সমাধান সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করে আসছে। ২০২৬ সালের সমস্ত মডেল প্রশ্নপত্র ও তার সঠিক সমাধান এখানে সবার আগে আপডেট করা হয়েছে।

আপনার প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে এখনই পুরো প্রশ্নপত্র ও উত্তর দেখে নিন!

Download 2017 to 2024 All Subject’s Madhyamik Question Papers

View All Answers of Last Year Madhyamik Question Papers

যদি দ্রুত প্রশ্ন ও উত্তর খুঁজতে চান, তাহলে নিচের Table of Contents এর পাশে থাকা [!!!] চিহ্নে ক্লিক করুন। এই পেজে থাকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর Table of Contents-এ ধারাবাহিকভাবে সাজানো আছে। যে প্রশ্নে ক্লিক করবেন, সরাসরি তার উত্তরে পৌঁছে যাবেন।

Table of Contents

বিভাগ-ক

১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো:

১.১ মোহিনীঅট্টম নৃত্যটি যে প্রদেশের-

(ক) অন্ধ্রপ্রদেশের
(খ) কেরলের
(গ) তামিলনাড়ুর
(ঘ) ওড়িশার

উত্তর: (খ) কেরলের

১.২ র‍্যাচেল কারসন যুক্ত ছিলেন-

(ক) আঞ্চলিক ইতিহাসে
(খ) নারী ইতিহাসে
(গ) পরিবেশের ইতিহাসে
(ঘ) শহরের ইতিহাসে

উত্তর: (গ) পরিবেশের ইতিহাসে

১.৩ ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সরকার প্রবর্তিত ‘তিন আইন’-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল না-

(ক) বাল্যবিবাহ
(খ) বহুবিবাহ
(গ) বিধবাবিবাহ
(ঘ) সতীদাহ

উত্তর: (ঘ) সতীদাহ

১.৪ ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-

(ক) হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
(খ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) মধুসূদন রায়
(ঘ) মহাত্মা গান্ধি

উত্তর: (ক) হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়

১.৫ ‘স্ত্রীশিক্ষা না হলে আমাদের পশুজন্ম ঘুচবে না’- একথা বলেছেন-

(ক) স্বামী বিবেকানন্দ
(খ) রামমোহন রায়
(গ) বিদ্যাসাগর
(ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর: (ক) স্বামী বিবেকানন্দ

১.৬ বাংলাদেশের প্রথম কৃষক বিদ্রোহ হল-

(ক) নীল বিদ্রোহ
(খ) মুন্ডা বিদ্রোহ
(গ) রংপুর বিদ্রোহ
(ঘ) সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ

উত্তর: (ঘ) সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ

১.৭ নীল বিদ্রোহের দুজন উল্লেখযোগ্য নেতা দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষুচরণ বিশ্বাস চৌগাছা গ্রামে বাস করতেন, এটি ছিল-

(ক) পাবনা জেলায়
(খ) খুলনা জেলায়
(গ) নদিয়া জেলায়
(ঘ) ফরিদপুর জেলায়

উত্তর: (গ) নদিয়া জেলায়

১.৮ সমসাময়িক যে সংবাদপত্রটি সিপাহি বিদ্রোহীদের সমর্থন করেছিল, তা হল-

(ক) সংবাদ প্রভাকর
(খ) সমাচার সুধাবর্ষণ
(গ) বঙ্গদূত
(ঘ) অরুণোদয়

উত্তর: (খ) সমাচার সুধাবর্ষণ

১.৯ হিন্দুমেলার সম্পাদক ছিলেন-

(ক) নবগোপাল মিত্র
(খ) গণেন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) রাজনারায়ণ বসু
(ঘ) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর: (ঘ) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

১.১০ ভারতসভার মুখপত্র ছিল কোন্ পত্রিকা?-

(ক) বেঙ্গল স্পেকটেটর
(খ) বেঙ্গলি
(গ) হিন্দু প্যাট্রিয়ট
(ঘ) পার্থেনন

উত্তর: (খ) বেঙ্গলি

১.১১ বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় –

(ক) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর: (খ) ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে

১.১২ ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কলকাতায় কতগুলি ছাপাখানা গড়ে ওঠে?-

(ক) ১৭টি
(খ) ১৮টি
(গ) ২৭টি
(ঘ) ৩৭টি

উত্তর: (ক) ১৭টি

১.১৩ বাবা রামচন্দ্র কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন-

(ক) বিহারে
(খ) যুক্তপ্রদেশে
(গ) রাজস্থানে
(ঘ) মহারাষ্ট্রে

উত্তর: (খ) যুক্তপ্রদেশে

১.১৪ সর্বপ্রথম বয়কট আন্দোলনের ডাক দেন-

(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) কৃষ্ণকুমার মিত্র
(গ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
(ঘ) অরবিন্দ ঘোষ

উত্তর: (খ) কৃষ্ণকুমার মিত্র

১.১৫ গিরনি-কামগড় ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল-

(ক) ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর: (গ) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে

১.১৬ ‘মাস্টারদা’ নামে পরিচিত ছিলেন-

(ক) বেণীমাধব দাস
(খ) সূর্য সেন
(গ) কৃষ্ণকুমার মিত্র
(ঘ) হেমচন্দ্র ঘোষ

উত্তর: (খ) সূর্য সেন

১.১৭ ‘মনুস্মৃতি’ পুড়িয়ে জাতিভেদ প্রথার প্রতিবাদ করেন-

(ক) জ্যোতিরাও ফুলে
(খ) রামস্বামী নাইকার
(গ) নারায়ণ গুরু
(ঘ) বি আর আম্বেদকর

উত্তর: (ঘ) বি আর আম্বেদকর

১.১৮ দীপালি সংঘের মুখপত্র ছিল-

(ক) জয়শ্রী
(খ) ভারতী
(গ) প্রবাসী
(ঘ) সুপ্রভাত

উত্তর: (ক) জয়শ্রী

১.১৯ ভারতের রাজনীতিতে ‘লৌহমানব’ বলে পরিচিত ছিলেন-

(ক) মহাত্মা গান্ধি
(খ) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
(গ) মহম্মদ আলি জিন্না
(ঘ) রাজেন্দ্র প্রসাদ

উত্তর: (খ) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল

১.২০ সরকারি ভাষা কমিশন গঠিত হয়-

(ক) ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর: (খ) ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে

বিভাগ-খ

২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত ১টি করে মোট ১৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও)

উপবিভাগ ২.১ একটি বাক্যে উত্তর দাও :

২.১.১ কোন্ বছর ‘সোমপ্রকাশ’-এর প্রকাশনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়? 

উত্তর: ১৮৭৮ সালে সোমপ্রকাশ পত্রিকার প্রকাশনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

২.১.২ হিন্দু কলেজের উদ্যোক্তা কারা ছিলেন?

উত্তর: হিন্দু কলেজের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন রাজা রামমোহন রায়, রাধাকান্ত দেব, রসময় দত্ত, ডেভিড হেয়ার, বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় এবং স্যার এডওয়ার্ড। 

২.১.৩ ‘বিদ্যাহারাবলী’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন? ME-22

উত্তর: বিদ্যাহারাবলী গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন ফেলিক্স কেরি।

২.১.৪ ঊষা মেহতা কোন্ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন? ME-’19

উত্তর: ঊষা মেহতা ভারত ছাড়ো আন্দোলন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।

উপবিভাগ ২.২ ঠিক বা ভুল নির্ণয় করো:

২.২.১ স্কুল বুক সোসাইটি (১৮১৭) প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের জন্য বাংলায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করা।

উত্তর: ঠিক 

২.২.২ বিরসা মুন্ডার অনুগামীরা তাঁকে ‘ধরতি আবা’ নামে অভিহিত করতেন।

উত্তর: ঠিক 

২.২.৩ বাংলা মুভেবল টাইপ বা চলনশীল হরফ আবিষ্কার করেন চার্লস উইলকিনস।

উত্তর: ঠিক 

২.২.৪ ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে রাসবিহারী বসু সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন।

উত্তর: ভুল 

উপবিভাগ ২.৩ ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও:

‘ক’ স্তম্ভ‘খ’ স্তম্ভ
২.৩.১ জীবনস্মৃতি(১) পাশ্চাত্যবাদী
২.৩.২ ট্রেভেলিয়ান(২) অসহযোগ আন্দোলন ΜΕ-’18
২.৩.৩ ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি(৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২.৩.৪ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল(৪) উইলিয়ম অ্যাডাম

উত্তর: 

‘ক’ স্তম্ভ‘খ’ স্তম্ভ
২.৩.১ জীবনস্মৃতি(৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২.৩.২ ট্রেভেলিয়ান(৪) উইলিয়ম অ্যাডাম
২.৩.৩ ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি(১) পাশ্চাত্যবাদী
২.৩.৪ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল(২) অসহযোগ আন্দোলন

উপবিভাগ ২.৪ প্রদত্ত ভারতবর্ষের রেখা মানচিত্রে নিম্নলিখিত স্থানগুলি চিহ্নিত করো ও নামাঙ্কিত করো:

২.৪.১ সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের এলাকা,
২.৪.২ লখনউ,
২.৪.৩ ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের কংগ্রেস অধিবেশনের কেন্দ্র – সুরাট,
২.৪.৪ প্রথম ভাষাভিত্তিক রাজ্য – অন্ধ্রপ্রদেশ

উত্তর: 

উপবিভাগ ২.৫ নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলির সঙ্গে সঠিক ব্যাখ্যাটি নির্বাচন করো:

২.৫.১. বিবৃতি: ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের আদিবাসী সমাজ বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদী হয়েছিল।

ব্যাখ্যা ১: ব্রিটিশ সরকার আদিবাসীদের জোর করে ধর্মান্তরিত করেছিল।

ব্যাখ্যা ২: ইংরেজ সরকার অরণ্য সম্পদের ওপর আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল ও ভূমি-রাজস্বের হার বৃদ্ধি করেছিল।

ব্যাখ্যা ৩: ব্রিটিশ সরকার আদিবাসীদের জীবনযাত্রার ওপর বাধ্যতামূলক আইনের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিল।

উত্তর: ব্যাখ্যা ২: ইংরেজ সরকার অরণ্য সম্পদের ওপর আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল ও ভূমি-রাজস্বের হার বৃদ্ধি করেছিল।

২.৫.২ বিবৃতি: স্বামী বিবেকানন্দ ‘বর্তমান ভারত’ বইটি লিখেছিলেন।

ব্যাখ্যা ১: ভারতবাসীকে দেশের অতীত সম্বন্ধে সচেতন করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।

ব্যাখ্যা ২ : ভারতবাসীর সামনে ইংরেজ শাসনের নেতিবাচক দিকগুলি তুলে ধরা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।

ব্যাখ্যা ৩: উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।

উত্তর: ব্যাখ্যা ১: ভারতবাসীকে দেশের অতীত সম্বন্ধে সচেতন করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।

২.৫.৩ বিবৃতি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর শ্রমিক আন্দোলন জোরদার হয়।

ব্যাখ্যা ১: শ্রমিকরা জাতীয় কংগ্রেসের সদস্যপদ লাভ করে।

ব্যাখ্যা ২: শ্রমিকরা চরমপন্থায় বিশ্বাসী হয়ে ওঠে।

ব্যাখ্যা ৩: যুদ্ধের পর আর্থিক মন্দার কারণে শ্রমিক শ্রেণি চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।

উত্তর: ব্যাখ্যা ৩: যুদ্ধের পর আর্থিক মন্দার কারণে শ্রমিক শ্রেণি চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।

২.৫.৪ বিবৃতি: ভারত ছাড়ো আন্দোলনের (১৯৪২) সময়ে ভোগেশ্বরী ফুকোননী পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন। ME-’20

ব্যাখ্যা ১: ভোগেশ্বরী ফুকোননী পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র সংগ্রামে মারা যান।

ব্যাখ্যা ২ : পলাতকা বিপ্লবী ভোগেশ্বরী ফুকোননী আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃত হলে পুলিশ তাঁকে গুলি করে।

ব্যাখ্যা ৩: ভোগেশ্বরী ফুকোননী অসমের নওগাঁ জেলার পুলিশ থানায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে মারা যান।

উত্তর:  ব্যাখ্যা ৩: ভোগেশ্বরী ফুকোননী অসমের নওগাঁ জেলার পুলিশ থানায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে মারা যান।

বিভাগ-গ

৩. দুটি অথবা তিনটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (যে-কোনো ১১টি)

৩.১ সামাজিক ইতিহাস কী? ΜΕ -’17

উত্তর: সামাজিক ইতিহাস হলো এমন একটি ইতিহাসচর্চা যেখানে রাজা-রাজড়া বা দরবারকেন্দ্রিক ইতিহাসের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, ধর্ম-সংস্কৃতি ইত্যাদির বিশ্লেষণ করা হয়। এডওয়ার্ড থমসন, এরিক হবসবম, লুসিয়েন ফেবর ও মার্ক ব্লখ এই ধারার সূচনা করেন, পরবর্তীতে রণজিৎ গুহ, পার্থ চ্যাটার্জি ও শাহিদ আমিন প্রমুখ ইতিহাসবিদ একে আরও সমৃদ্ধ করেন।

৩.২ বিশ্বায়ন কীভাবে মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদকে প্রভাবিত করে?

উত্তর: বিশ্বায়ন মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি, বাজার ও গণমাধ্যম পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে যাওয়ায় এক দেশের ফ্যাশন খুব দ্রুত অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে পোশাক-পরিচ্ছদে একটি আন্তর্জাতিক ধাঁচের মিশ্রণ গড়ে উঠেছে।

মানুষ এখন সহজেই জিন্স, টি-শার্ট, হুডি, ফরমাল স্যুটের মতো বৈশ্বিক পোশাক গ্রহণ করছে, যা আগে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে সীমিত ছিল। বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডের প্রভাব বিশেষভাবে যুবসমাজকে ট্রেন্ড অনুসরণে আরও উৎসাহিত করছে।

এর ফলে অনেক সময় স্থানীয় বা ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ব্যবহার কমে গেলেও অন্যদিকে অনেক সংস্কৃতি আবার তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাককে আধুনিক রূপে উপস্থাপন করে পুনর্জীবিত করছে। অর্থাৎ, বিশ্বায়ন পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে একদিকে বৈশ্বিক একরূপতা সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকেও নতুনভাবে সামনে আনছে।

৩.৩ সমাজসংস্কারে নব্যবঙ্গদের ভূমিকা কী ছিল? ME-’18

উত্তর: নব্যবঙ্গ বা ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার সমাজসংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর নেতৃত্বে তারা ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার ও কুপ্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সমাজে যুক্তিবাদী ও আধুনিক চিন্তাধারার প্রসার ঘটায়।

৩.৪ প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দ্বন্দু বলতে কী বোঝো?

উত্তর: প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব বলতে পূর্বের (এশীয়/ভারতীয়) ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও জীবনধারার সঙ্গে পাশ্চাত্যের (ইউরোপীয়) আধুনিকতা, বিজ্ঞানচিন্তা ও সামাজিক ধারণার সংঘাতকে বোঝায়। শিক্ষাব্যবস্থা, সংস্কৃতি, পোশাক, ভাষা ও চিন্তাধারায় এই দ্বন্দ্ব দেখা যায়। একদিকে পূর্বের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করার চেষ্টা, অন্যদিকে পাশ্চাত্যের আধুনিক আদর্শ গ্রহণ করার আকাঙ্ক্ষা—এই টানাপোড়েনকেই প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব বলা হয়।

৩.৫ বিপ্লব বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: বিপ্লব বলতে সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি বা অর্থব্যবস্থায় আকস্মিক ও মৌলিক পরিবর্তনকে বোঝায়। সাধারণত অন্যায়, শোষণ বা অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে এই বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। বিপ্লবের মাধ্যমে পুরনো ব্যবস্থা ভেঙে নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

৩.৬ সাঁওতাল বিদ্রোহের লক্ষ্য কী ছিল?

উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিল জোতদার, মহাজন, জমিদার ও ব্রিটিশ সরকারের শোষণ থেকে মুক্তি লাভ করা। সাঁওতালরা তাদের জমি, বনভূমি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অধিকার ফিরে পেতে চেয়েছিল। শোষণ, অত্যধিক কর ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাঁওতাল সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিদ্রোহে অংশ নেয়।

৩.৭ বিংশ শতকে জাতীয়তাবাদের উন্মেষে ‘ভারতমাতা’ চিত্রটির কীরূপ ভূমিকা ছিল? ME-’19

উত্তর: ‘ভারতমাতা’ চিত্রটি বিংশ শতকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের এক শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়। এটি দেশের বিশুদ্ধতা, শক্তি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে ভারতীয়দের মনে ভক্তি ও দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এর ফলে জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ও বিকাশ ঘটে।

৩.৮ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহে হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের কী পরিচয় পাওয়া যায়?

উত্তর: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে হিন্দু ও মুসলমানের সুস্পষ্ট ঐক্য দেখা যায়। বিদ্রোহের সময় দুই সম্প্রদায়ের সৈন্যরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। পরস্পরের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে তারা সম্মান করে। দিল্লিতে হিন্দু ও মুসলমান উভয়ে বাহাদুর শাহ জাফরকে সম্রাট হিসেবে স্বীকার করে। বহু অঞ্চলে বিদ্রোহী দলে হিন্দু-মুসলমানের যৌথ নেতৃত্বও দেখা যায়।

৩.৯ ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল কেন? ME-’20

উত্তর: ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল কারণ এটি ছিল পুঁথিগত ও বাস্তবমুখী শিক্ষার অভাবে ভোগা। ইংরেজি ছিল শিক্ষার মাধ্যম, ফলে শহরের অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীই এর সুযোগ পেত, কিন্তু গ্রামীণ জনগণ বঞ্চিত থাকত। এছাড়াও প্রাথমিক ও নারী শিক্ষার প্রসারে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

৩.১০ বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে বৈজ্ঞানিক মনোভাবের বিকাশ ঘটানো এবং বিজ্ঞানচর্চায় তরুণ সমাজকে উৎসাহিত করা। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিজ্ঞান গবেষণাকে জনপ্রিয় করা এবং দেশের উন্নতির জন্য বিজ্ঞানকে ব্যবহার করাই ছিল জগদীশচন্দ্র বসুর লক্ষ্য।

৩.১১ মাদারি পাসি কে ছিলেন? ME-’19

উত্তর: মাদারি পাশি ছিলেন অসহযোগ আন্দোলনকালের যুক্ত প্রদেশের একজন বিশিষ্ট কৃষক নেতা। তিনি হরদই, বারাবাকি, সীতাপুর ও বারাইচ প্রভৃতি জেলার কৃষকদের সংঘবদ্ধ করে অতিরিক্ত কর আদায়, অত্যাচার ও বেগারশ্রমের বিরুদ্ধে ‘একা’ বা ‘একতা’ আন্দোলন শুরু করেছিলেন।

৩.১২ মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় (১৯২৯) অভিযুক্ত দুজন বিদেশির নাম লেখো।

উত্তর: মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় (১৯২৯) অভিযুক্ত দুইজন বিদেশি ছিলেন—

  1. ফিলিপ স্প্র্যাট
  2. বেন ব্র্যাডলি
৩.১৩ ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর বাংলার নারীসমাজ কেন অরন্ধন পালন করে? ME-20

উত্তর: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর বাংলার নারীসমাজ বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদ জানাতেই অরন্ধন পালন করে কারণ, তারা রান্না ও আহার থেকে বিরত থেকে ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ ও জাতীয় ঐক্যের প্রকাশ করতে চেয়েছিল। এই অরন্ধন ছিল নারীদের দেশপ্রেম, আত্মসম্মান ও প্রতিবাদের এক দৃঢ় প্রকাশ।

৩.১৪ বিভাজন ও শাসননীতি বলতে কী বোঝো?

উত্তর: বিভাজন ও শাসননীতি বলতে ইংরেজদের সেই নীতিকে বোঝায়, যেখানে তারা ভারতীয়দের মধ্যে হিন্দু–মুসলমান, জাতি–বর্ণ, গোষ্ঠী ও প্রদেশভিত্তিক বিভেদ সৃষ্টি করে নিজেদের শাসনকে দৃঢ় করত। মানুষকে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে তারা ঐক্য নষ্ট করত এবং সেই সুযোগে দেশ শাসন করত।

৩.১৫. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন (১৯৫৩) কেন গঠিত হয়েছিল? ΜΕ- ’23, ’18

উত্তর: ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে ফজল আলির নেতৃত্বে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হওয়ার উদ্দেশ্য ছিল রাজ্য পুনর্গঠন প্রয়োজন কি না তা নির্ধারণ করা এবং ভাষাভিত্তিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের উপযুক্ত ভিত্তি স্থির করা।

৩.১৬ দেশীয় রাজ্য বলতে কী বোঝো?

উত্তর: দেশীয় রাজ্য বলতে ব্রিটিশ ভারতের সেই সমস্ত রাজ্যকে বোঝায়, যেগুলোতে দেশীয় রাজা-মহারাজারা শাসন করতেন। তারা ব্রিটিশ সম্রাটের অধীনস্থ ছিলেন এবং ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে তারা চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। এই রাজ্যগুলো সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ছিল না; নিজেদের অভ্যন্তরীণ শাসন পরিচালনা করত, তবে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা ব্রিটিশ সরকার নিয়ন্ত্রণ করত।

বিভাগ-ঘ

৪. সাত বা আটটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে)

উপবিভাগ ঘ.১

৪.১ নারীশিক্ষা প্রসারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলায় নারীশিক্ষার অগ্রদূত হিসেবে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে সমাজের উন্নতি নারীশিক্ষা ছাড়া অসম্ভব। সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি প্রথমে মেয়েদের জন্য উপযুক্ত পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন এবং পরে নারীশিক্ষা বিস্তারের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাঁর প্রচেষ্টায় কলকাতায় ও বিভিন্ন জেলায় বহু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় (পরবর্তীতে বেথুন স্কুল)। সমাজের রক্ষণশীল অংশের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি অভিভাবকদের বোঝাতে ঘরে ঘরে গিয়েছেন, মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি মেয়েদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষিকার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বিদ্যাসাগরের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলায় নারীশিক্ষার ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং পরবর্তী নারীজাগরণ ও সমাজ সংস্কারের পথ উন্মুক্ত হয়।

৪.২ পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে রাধাকান্ত দেবের অবদান লেখো।

উত্তর: পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে রাধাকান্ত দেবের অবদান

উনিশ শতকে বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে রাধাকান্ত দেব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। যদিও তিনি হিন্দু সমাজের রক্ষণশীলতার প্রতীক ছিলেন, তবু পাশ্চাত্য শিক্ষার বিকাশে তিনি বাস্তববাদী সমর্থন জানিয়েছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল— প্রাচ্য শিক্ষার ভিত্তির ওপর পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটানো

প্রথমত, রাধাকান্ত দেব ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে উদ্যোগ নেন এবং নিজের পরিবারের মহিলাদের ইংরেজ শিক্ষিকা দিয়ে শিক্ষা প্রদান করান।
দ্বিতীয়ত, তিনি হিন্দু কলেজ (১৮১৭) প্রতিষ্ঠায় ডেভিড হেয়ার, বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় প্রমুখের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে তিনি এই কলেজের পরিচালকমণ্ডলীর সদস্য, অধিকর্তাকর্মাধ্যক্ষ হন।

তৃতীয়ত, তিনি স্কুল বুক সোসাইটি (১৮১৭)ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটি (১৮১৮)-র সঙ্গে যুক্ত থেকে পাশ্চাত্য শিক্ষার পাঠ্যপুস্তক সংকলন ও শিক্ষাবিস্তারে সহায়তা করেন।

নারীশিক্ষার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ‘স্ত্রীশিক্ষা বিধায়ক’ পুস্তিকা (১৮২২) প্রকাশ করেন এবং ১৮২১ সালে ডব্লিউ. এইচ. পিয়ার্সকে নারীশিক্ষা প্রসারে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানান।

চিকিৎসাশিক্ষায়ও তিনি প্রগতিশীল মনোভাব দেখান। কলকাতা মেডিকেল কলেজে হিন্দু ছাত্রদের দ্বারা শবব্যবচ্ছেদকে তিনি সামাজিক বাধা সত্ত্বেও সমর্থন করেন।

এ ছাড়া তিনি হিন্দু কলেজের ছাত্রদের ইংরেজি সাহিত্যে ও পাশ্চাত্য বিজ্ঞানবিষয়ক বই বাংলা ভাষায় অনুবাদে উৎসাহিত করেন।

উপসংহারে, রাধাকান্ত দেব রক্ষণশীল হয়েও পাশ্চাত্য শিক্ষা, নারীশিক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই তিনি বাংলার শিক্ষাচর্চার ইতিহাসে স্মরণীয়।

উপবিভাগ ঘ.২

৪.৩ হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল? ΜΕ-’19

উত্তর: উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে জাতীয় চেতনার জাগরণ ও স্বদেশি ভাবধারার বিকাশ ঘটানোর উদ্দেশ্যে নবগোপাল মিত্র রাজনারায়ণ বসুর সহযোগিতায় ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ‘হিন্দুমেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঠাকুর। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় গৌরব জাগিয়ে তুলতে এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে এই সংগঠন গঠিত হয়েছিল।

হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যগুলো ছিল —

  • শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে হিন্দুধর্মের অতীত গৌরব ও সংস্কৃতি প্রচার করা।
  • দেশীয় ভাষা, বিশেষত বাংলা ভাষার চর্চা ও জাতীয় প্রতীকগুলির মর্যাদা বৃদ্ধি করা।
  • দেশপ্রেম, স্বাধীনতার আদর্শ ও আত্মনির্ভরতার চেতনা জাগানো।
  • দেশীয় শিল্প, কারুশিল্প ও খেলাধুলার বিকাশে উৎসাহ দেওয়া।
  • হিন্দু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং জাতীয় ঐক্য ও সৌভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা।
  • শরীরচর্চা, সাহিত্য, সংগীত ও শিক্ষার উন্নতির মাধ্যমে জাতীয় শক্তি গঠন করা।

রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না হলেও, ‘হিন্দুমেলা’ দেশাত্মবোধ প্রচার, দেশীয় পণ্য ব্যবহার ও সংস্কৃতির বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাত্র ১৪ বছর বয়সে এখানে তাঁর কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’ আবৃত্তি করে এই আন্দোলনের ভাবধারা আরও সমৃদ্ধ করেন।

৪.৪ শ্বেতাম্বর বিদ্রোহ কী?

উত্তর: ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইউরোপীয় সৈন্যদের মধ্যে যে অসন্তোষ ও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে তাকে শ্বেতাঙ্গ বিদ্রোহ (White Mutiny) বলা হয়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে কোম্পানির ইউরোপীয় সৈন্যদের ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু নতুন পরিষেবা-শর্তে তাদের ভাতা, অধিকার ও সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় সৈন্যরা এতে রাজি হয়নি। ফলে কলকাতাসহ বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে তারা বিক্ষোভ ও বিদ্রোহ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেয়—অনেকে বরখাস্ত হয় এবং অনেককে ব্রিটেনে ফেরত পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহ দমন করা সম্ভব হয়। এই ঘটনা ব্রিটিশ সেনাবাহিনী গঠনের দুর্বলতা ও উপনিবেশ শাসনের সমস্যাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।

উপবিভাগ ঘ.৩

৪.৫ বারদৌলি সত্যাগ্রহের প্রতি জাতীয় কংগ্রেসের কীরূপ মনোভাব ছিল? ME-’20

উত্তর: বারদৌলি সত্যাগ্রহ (১৯২৮) ছিল ব্রিটিশ সরকারের অন্যায় রাজস্ব বৃদ্ধি ও কৃষকদের উপর অতিরিক্ত করের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক ঐতিহাসিক অহিংস আন্দোলন, যার প্রতি জাতীয় কংগ্রেসের মনোভাব ছিল সম্পূর্ণ সমর্থনমূলক ও সহানুভূতিশীল।

মনোভাবগুলি ছিল —

  • কংগ্রেস নেতারা বারদৌলির কৃষকদের আন্দোলনের পক্ষে জনগণকে সংগঠিত ও সচেতন করে তোলেন।
  • সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে আন্দোলনের সাংগঠনিক দিক সুদৃঢ় করতে কংগ্রেস সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
  • মিঠুবেন প্যাটেল, মনিবেন প্যাটেল, সারদা মেহতা প্রমুখ নারী কংগ্রেস কর্মীরা আন্দোলনে যোগ দিয়ে কংগ্রেসের জনভিত্তি আরও মজবুত করেন।
  • মহাত্মা গান্ধী আন্দোলনের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন এবং বল্লভভাই প্যাটেল গ্রেফতার হলে স্বয়ং নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
  • সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে করের হার হ্রাস পেলে কংগ্রেস এই সমঝোতাকে ন্যায়সঙ্গত ও কৃষকস্বার্থে বলে ঘোষণা করে।
  • কংগ্রেস আন্দোলনটিকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরে এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো করে।
  • বোম্বে আইনসভার সদস্য কে.এম. মুন্সি ও লালজি নারানজি প্রতিবাদস্বরূপ পদত্যাগ করেন, যা কংগ্রেসের ঐক্য ও প্রতিজ্ঞার প্রতিফলন।
৪.৬ ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কৃষকদের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর: ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ভারতের গ্রামীণ কৃষকসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কংগ্রেসের ডাকে তারা ব্যাপকভাবে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে যোগ দেয়। গ্রামের কৃষকেরা নিজেদের এলাকায় মিছিল, সভা ও প্রতিবাদ সংগঠিত করে আন্দোলনকে জনমুখী করে তোলে। অনেক স্থানে তারা সরকারি দপ্তর—যেমন থানা, পোস্ট অফিস, টেলিগ্রাফ অফিস এবং রেললাইন—আক্রমণ বা অচল করে দেয়, যাতে ব্রিটিশ প্রশাসনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

কৃষকেরা ভূমি-কর প্রদান বন্ধ করে দেয় এবং বহু গ্রামে “জাতীয় সরকার” গঠনের উদ্যোগ নেয়। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র এবং বাংলার কিছু অঞ্চলে কৃষকদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলি, লাঠিচার্জ ও গ্রেফতারি সত্ত্বেও কৃষকেরা আন্দোলন চালিয়ে যায়।

তাদের এই সাহসী ও সংগঠিত প্রতিরোধ ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক সমর্থন দেয়। কৃষকদের বৃহৎ অংশগ্রহণ জাতীয় আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তোলে এবং ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে অস্থির করে তোলে।

উপবিভাগ ঘ.৪

৪.৭ বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনে অনুশীলন সমিতির অবদান লেখো।

উত্তর: অনুশীলন সমিতি ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও সত্যেন বসুর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লবী সংগঠন। বাংলার সশস্ত্র জাতীয়তাবাদের বিকাশে এ সমিতির অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

এই সমিতির প্রধান লক্ষ্য ছিল তরুণদের শারীরিক ও মানসিকভাবে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা এবং ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করা। বাল্যব্যায়াম, শরীরচর্চা ও গোপন রাজনৈতিক শিক্ষা ছিল তাদের কার্যক্রমের মূল অংশ।

স্বদেশি আন্দোলনের সময়ে অনুশীলন সমিতির সদস্যরা ব্রিটিশবিরোধী প্রচার, বয়কট প্রচার ও জনসচেতনতা বাড়াতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। পরবর্তীতে তারা বিপ্লবী কর্মসূচি পরিচালনা করতে শুরু করে। ক্ষুদিরাম বসু, বারীন ঘোষ, অরবিন্দ ঘোষ, উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

মুজনগর বোমা কারখানা স্থাপন, আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলার সূত্রপাত এবং বিভিন্ন সশস্ত্র কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনকে তারা তীব্রতর করে তোলে।

অনুশীলন সমিতি বাংলার বিপ্লবী চেতনা জাগ্রত করতে এবং জাতীয় আন্দোলনে যুবকদের যুক্ত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

৪.৮ বিংশ শতকে ভারতে কেন দলিত আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তর: বিংশ শতকে ভারতে দলিত বা অস্পৃশ্য সম্প্রদায়ের উপর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় বঞ্চনা চরমভাবে বেড়ে যাওয়ায় দলিত আন্দোলনের উদ্ভব হয়। বহু যুগ ধরে জাতিভেদ প্রথার কারণে দলিতরা শিক্ষা, চাকরি, মন্দির-প্রবেশ, পানীয়জল ও ভূমি-অধিকারের মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। সমাজে তাদের প্রতি বৈষম্য ও অপমান ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।

উনিশ ও বিংশ শতকের সামাজিক সংস্কার আন্দোলন দলিতদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার ও আত্মপ্রতিষ্ঠার চেতনা জাগিয়ে তোলে। ড. বি. আর. আম্বেদকর, মহাত্মা ,পেরিয়ার প্রমুখ নেতার নেতৃত্বে দলিতরা নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য সংগঠিত হতে শুরু করে।

সমানাধিকার, শিক্ষার সুযোগ, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি এবং অস্পৃশ্যতা-নিরসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠন গড়ে ওঠে। এইসব কারণেই বিংশ শতকে দলিত আন্দোলন একটি শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে ওঠে।

বিভাগ-ঙ

৫. পনেরো বা ষোলোটি বাক্যে যে-কোনো ১টি প্রশ্নের উত্তর দাও :

৫.১ ঊনবিংশ শতককে কেন ‘নবজাগরণের যুগ’ বলা হয়? এই জাগরণকে নবজাগরণ বলা কতটা যুক্তিযুক্ত তা আলোচনা করো।

উত্তর: ঊনবিংশ শতকে ভারতবর্ষে বিশেষত বাংলায় যে ব্যাপক সামাজিক, ধর্মীয়, শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটেছিল, তাকে ‘নবজাগরণ’ বলা হয়। ব্রিটিশ শাসনের ফলে পাশ্চাত্য শিক্ষা, আধুনিক বিজ্ঞানচেতনা ও যুক্তিবাদ ভারতীয় সমাজে প্রবেশ করে। এর প্রভাবেই সমাজের বহু কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা ও সামন্তীয় প্রথা সমালোচনার মুখে পড়ে।

এই সময় রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ইত্যাদি কুপ্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন (১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলোপ হয়)। ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা পুনর্বিবাহ আইন (১৮৫৬) এবং নারীশিক্ষার প্রসারে কাজ করেন। পাশাপাশি দীনবন্ধু মিত্র, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ বাংলা সাহিত্যকে নতুন দিশা দেন। ব্রাহ্মসমাজ, আর্যসমাজ, যং বেঙ্গল—এসব আন্দোলন মানুষের চিন্তাভাবনায় আধুনিকতার বীজ বপন করে।

নবজাগরণ শব্দটি কতটা যুক্তিযুক্ত?

এ সময়ের আন্দোলনকে ‘নবজাগরণ’ বলা যথার্থ, কারণ—

  • সমাজে যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির উন্মেষ ঘটে।
  • নারীশিক্ষা, বিদ্বাবিবাহ, অধিকারচেতনা—এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়।
  • সাহিত্য, শিল্প, বিজ্ঞান ও শিক্ষায় এক নতুন সৃজনধারা জন্ম নেয়।
  • মানুষ পুরনো কুসংস্কার ভেঙে নতুন মূল্যবোধ গ্রহণ করতে শুরু করে।

তবে এই জাগরণ মূলত শহরভিত্তিক ও মধ্যবিত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় এটি সর্বজনীন ছিল না—এ অভিযোগ কিছুটা সত্য।

তবুও সামগ্রিকভাবে বিচার করলে, ঊনবিংশ শতকের পরিবর্তন ভারতীয় সমাজে নতুন আলোর সঞ্চার করেছিল। তাই এটিকে ‘নবজাগরণ’ বলা সম্পূর্ণভাবে যুক্তিযুক্ত।

৫.২ মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) পর ভারতের ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় কী কী পরিবর্তন করা হয়?

উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশরা তাদের ভারত শাসনব্যবস্থায় বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনে। নিম্নে সেগুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো –

কোম্পানি শাসনের অবসান ও সরাসরি ব্রিটিশ রাজের অধীনস্থ শাসন – ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইন (Government of India Act, 1858) পাসের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ রাজার হাতে ন্যস্ত হয়। রানি ভিক্টোরিয়া ভারতের সম্রাজ্ঞী (Queen-Empress) হিসাবে ঘোষিত হন। গভর্নর জেনারেলের পদবী পরিবর্তন করে ভাইসরয় (Governor-General and Viceroy) করা হয়।

শাসন কাঠামোর পুনর্গঠন – লন্ডনে ভারত সচিব (Secretary of State for India) নামে একজন নতুন মন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করা হয়। তিনি ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার সদস্য হতেন এবং ভারত শাসনের দায়িত্বে থাকতেন। ভারত সচিবকে সহায়তা করার জন্য একটি ১৫ সদস্যবিশিষ্ট ইন্ডিয়া কাউন্সিল (Council of India) গঠন করা হয়।

সামরিক নীতি ও কাঠামোতে সংস্কার – সেনাবাহিনীতে ইউরোপীয় সৈন্যের সংখ্যা ও অনুপাত বাড়ানো হয়। গোলন্দাজ বাহিনী সম্পূর্ণরূপে ইউরোপীয় সৈন্যের নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়।

“বিভেদ ও শাসন” নীতি প্রয়োগ করা হয়। যেসব গোষ্ঠী বা জাতি বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিল তাদের “অসামরিক” হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং সেনাবাহিনীতে তাদের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয় অন্যদিকে, যেসব গোষ্ঠী (যেমন- শিখ, গোর্খা, পাঠান) বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশদের সাহায্য করেছিল, তাদের “সামরিক জাতি” হিসেবে চিহ্নিত করে সেনাবাহিনীতে তাদের নিয়োগ বাড়ানো হয়।

দেশীয় রাজ্যগুলির প্রতি নীতি – ১৮৫৮ সালের রানির ঘোষণাপত্রে (Queen’s Proclamation) দেশীয় রাজ্যগুলির অস্তিত্ব ও মর্যাদা স্বীকার করে নেওয়া হয়। “রাজ্যজয়ের নীতি” (Doctrine of Lapse) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। দেশীয় রাজাদের দত্তক পুত্র গ্রহণের অধিকার মঞ্জুর করা হয়।

আইনসভায় ভারতীয়দের অংশগ্রহণের সূচনা – ১৮৬১ সালের ইন্ডিয়ান কাউন্সিলস অ্যাক্ট (Indian Councils Act, 1861) পাস করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল (ভাইসরয়) এবং প্রাদেশিক গভর্নরদের আইনসভায় কিছু ভারতীয় সদস্য নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। এইভাবে আইন প্রণয়নে ভারতীয়দের (সীমিত) অংশগ্রহণের সূত্রপাত ঘটে।

উপসংহার – এই সমস্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ভারতের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করে এবং সরাসরি তাদের শাসনক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করে। একদিকে যেমন দেশীয় রাজাদের সাথে আপস করা হয়, অন্যদিকে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনিক কাঠামোকে পুনর্গঠিত করে ভবিষ্যতে কোনো অনুরূপ বিদ্রোহ যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করা হয়।

৫.৩ অসহযোগ আন্দোলনে কৃষকদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-১৯২২) ছিল ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে মহাত্মা গান্ধি কর্তৃক শুরু করা এক সর্বভারতীয় অহিংস আন্দোলন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের অন্যায় আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড (১৯১৯) ও রাওলাট আইন (১৯১৯)-এর বিরুদ্ধে সারাদেশে প্রতিবাদ গড়ে তোলা। এই আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ ছিল ভারতের কৃষক সমাজ, যারা ঔপনিবেশিক অর্থনৈতিক নীতির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

কৃষকদের ভূমিকা:

১. শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ: ব্রিটিশ সরকারের উচ্চ করনীতি, জমিদারদের অত্যাচার ও খাদ্যশস্যের মূল্যহ্রাসে কৃষকেরা চরম দুর্দশায় পড়েছিল। গান্ধিজির ‘অসহযোগ’ আহ্বানে তারা ব্যাপক সাড়া দেন। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পাঞ্জাব, এবং বাংলার কৃষকরা কর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন — যা ব্রিটিশ অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তোলে।

২. উত্তরপ্রদেশে কৃষক আন্দোলন ও বাবা রামচন্দ্রের নেতৃত্ব: উত্তরপ্রদেশের আওধ অঞ্চলে বাবা রামচন্দ্রের নেতৃত্বে কৃষকেরা জমিদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের সংগঠন ছিল ‘ওধ কিসান সভা’ (Awadh Kisan Sabha), যা ১৯২০ সালের শেষ দিকে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হয়।

তারা জমির কর কমানো, বিনা সুদে ঋণ, ও জমিদারদের লাঠেল বাহিনীর বিরুদ্ধে রক্ষা দাবি করেন। গান্ধিজির ‘চৌরি-চৌরা’ ঘটনার আগে পর্যন্ত এই অঞ্চল ছিল আন্দোলনের কেন্দ্র।

৩. বিহারের কৃষকদের আন্দোলন: বিহারে কৃষকেরা রাজেন্দ্রপ্রসাদ ও ব্রজকিশোর প্রসাদের নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। চাম্পারণ অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ১৯১৭ সালে গান্ধিজির নেতৃত্বে নীলচাষিদের আন্দোলন সফল হয়েছিল। এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বিহারের কৃষকেরা সরকারি স্কুল, আদালত, ও ব্রিটিশ অফিস বর্জন করেন।

৪. বাংলায় কৃষকদের ভূমিকা: বাংলার চাষি আন্দোলন ও তেভাগা আন্দোলনের প্রাথমিক প্রভাব অসহযোগ আন্দোলনের সময়েই দেখা যায়।

চিত্তরঞ্জন দাশ, সুবোধচন্দ্র মল্লিক, এবং কিরণশঙ্কর রায় প্রমুখ নেতার নেতৃত্বে কৃষকেরা কৃষক প্রজা পার্টির মাধ্যমে জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। ১৯২১ সালে কৃষকেরা রায়গঞ্জ, দিনাজপুর, ও নদীয়া অঞ্চলে কর প্রত্যাখ্যান সভা করেন।

৫. কর-প্রত্যাখ্যান ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন: মহাত্মা গান্ধি কৃষকদের আহ্বান জানান ‘কর দিও না, ভয় পেয়ো না’। এর ফলে পাঞ্জাব, গুজরাট (খেদা জেলা) এবং উত্তর ভারতের গ্রামীণ এলাকায় কৃষকেরা সরকারি জমির রাজস্ব দিতে অস্বীকার করেন।

গুজরাটের খেদা আন্দোলনে (১৯১৮-১৯২০) কৃষকদের নেতৃত্ব দেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, যা অসহযোগ আন্দোলনের প্রাক্কালে এক বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হয়।

৬. চৌরি-চৌরা ঘটনা ও তার প্রভাব: উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর জেলার চৌরি-চৌরায় কৃষকেরা পুলিশের দমননীতির প্রতিবাদে থানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ২২ জন পুলিশ মারা যায়।

এই ঘটনার পর গান্ধিজি অহিংস আদর্শের পরিপন্থী মনে করে ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
তবু কৃষকদের মধ্যে জাতীয় চেতনা ও সংগঠনের বীজ স্থায়ীভাবে রোপিত হয়।

৭. ব্রিটিশ প্রতিক্রিয়া ও কৃষকদের ত্যাগ: ব্রিটিশ সরকার কৃষকদের উপর দমননীতি চালায়—হাজারো কৃষক গ্রেফতার হন, অনেকের জমি বাজেয়াপ্ত হয়।

তবু তারা ভয় না পেয়ে জাতীয় আন্দোলনে সক্রিয় থাকেন। এই ত্যাগ ভবিষ্যতে নমক সত্যাগ্রহ (১৯৩০) ও কিসান সভা আন্দোলন (১৯৩৬)-এর ভিত্তি স্থাপন করে।

অসহযোগ আন্দোলনে কৃষকদের ভূমিকা ছিল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।

তারা শুধু জমিদার ও ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নয়, বরং স্বরাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনের অগ্রদূত হয়ে ওঠেন। তাদের ত্যাগ ও সাহস ভারতের স্বাধীনতার ভিতকে মজবুত করেছে। সুতরাং, বলা যায় —

“অসহযোগ আন্দোলনের প্রাণশক্তি ছিল ভারতীয় কৃষক সমাজ।


MadhyamikQuestionPapers.com এ আপনি অন্যান্য বছরের প্রশ্নপত্রের ও Model Question Paper-এর উত্তরও সহজেই পেয়ে যাবেন। আপনার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কেমন লাগলো, তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আরও পড়ার জন্য, জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য MadhyamikQuestionPapers.com এর সাথে যুক্ত থাকুন।

Tag Post :
Share This :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *